ইনটেলেকট্রন

রচনা  : সত্যজিৎ রায় ও সুদীপ দেব

অলঙ্করণ : অনিরুদ্ধ বসাক

এপ্রিল ৩

     অনেকদিন পরে একটা নতুন জিনিস তৈরি করলাম। একটা যন্ত্র, যাতে মানুষের বুদ্ধি মাপা যায়। বুদ্ধি বলতে অবশ্য অনেক কিছুই বোঝায়। জ্ঞান, পাণ্ডিত্য, সাধারণ বুদ্ধি বা কমনসেন্‌স, ভাল মন্দ বিচার করার ক্ষমতা ইত্যাদি সবই এরমধ্যে পড়ে। আমার অন্যান্য যন্ত্রের মতো এটাও খুবই সরল। যার বুদ্ধির পরিমাপ হবে তাকে একটা চেয়ারে বসিয়ে মাথার দুপাশে হেডফোনের মতো দুটো ইলেকট্রোড লাগিয়ে দিতে হয়। সেই ইলেকট্রোডের তার একটা বাক্স জাতীয় জিনিসের গায়ে লাগানো হয়। সেই বাক্সের সামনেটা কাচে ঢাকা, সেই কাচের পিছনে দাগ কাটা আছে একশো থেকে এক হাজার পর্যন্ত। যন্ত্রটা মস্তিষ্কের সঙ্গে লাগিয়ে একটা বোতামে চাপ দিলেই একটা কাঁটা একটা বিশেষ নম্বরে গিয়ে দাঁড়ায়। সেই নম্বরটাই হল বুদ্ধির পরিমাপ রীতিমতো বুদ্ধিমান লোকেদের সাতশো থেকে হাজারের মধ্যে নম্বর ওঠা উচিত, পাঁচশো থেকে সাতশো হল চলনসই বুদ্ধি, আর পাঁচশোর নীচে হলে আর সে লোককে বুদ্ধিমান বলা চলে না। আমি যন্ত্রটা স্বভাবতই প্রথমে নিজের উপর পরীক্ষা করে দেখি। নম্বর উঠল ৯১৭। তারপর বিকেলের দিকে অবিনাশবাবু এলেন। তাঁকে চেয়ারে বসিয়ে ইলেকট্রোড লাগিয়ে বোতাম টিপতে নম্বর উঠল ৩৭৭। ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলেন, ওতে কী হিসেব পেলেন?’ বললাম, আপনার বুদ্ধির হিসেব

     কেমন বুঝলেন?’

     মোটামুটি যেমন ভেবেছিলাম তেমনই

     তার মানে বোকা?’

     না না, বোকা হতে যাবেন কেন? আপনার বইপড়া পাণ্ডিত্য যে নেই, সেটা নিশ্চয়ই আপনিও স্বীকার করবেন। তবে আপনার সাধারণ বুদ্ধি মোটামুটি আছে। আর সবচেয়ে যেটা বড় কথা, সেটা হল আপনি সৎ লোক সেটা কম গুণ নয়

     এই সৎ লোকের হিসেবগুলি ওই যন্ত্রে পাওয়া যাচ্ছে?’

     না। ওটা আমার সঙ্গে আপনার বিশ বছর পরিচয়ের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি

     যন্ত্রটার নাম দিয়েছি ইনটেলেকট্রন। জুন মাসে হামবুর্গে আবিষ্কারক সম্মেলন বা ইনভেনটরস কনফারেন্স আছে, তাতে যন্ত্রটা নিয়ে যাব। তবে মুশকিল হবে এই যে অনেকেই নিজের বুদ্ধির পরিমাপ জানতে দ্বিধা করবে। একেবারে অঙ্কের সাহায্যে বুঝিয়ে দেওয়া কার কতটা বুদ্ধি আছে, এটা সকলে খুব ভাল চোখে দেখবে না। আর আমার যন্ত্র ঠিকমতো কাজ করে কি না সেই নিয়েও অনেকে নিশ্চয়ই সন্দেহ প্ৰকাশ করবে। কিন্তু আমি জানি, এ যন্ত্রে কোনও ভুল নেই। আমার সব আবিষ্কারই এ পর্যন্ত ঠিকমতো কাজ করে এসেছে; এটাও না করার কোনও কারণ নেই।

     বিকেলে হঠাৎ নকুড়বাবু—নকুড়চন্দ্ৰ বিশ্বাস—এসে হাজির ভদ্রলোকের সঙ্গ আমার বেশ ভালই লাগে। আর মাঝে মাঝে সব অলৌকিক ক্ষমতার প্রকাশ এখনও বিস্ময়ের উদ্রেক করে। যেমন বসবার ঘরের সোফাতে বসেই বললেন, আপনি তো জুন মাসে আবার বাইরে চললেন

     তা যাচ্ছি বটে, আপনার গণনায় ভুল নেই

     এবার কিন্তু আমাকেও সঙ্গে নিতে হবে

     কেন বলুন তো?’

     না হলে আপনার বিপদ আছে

     ভদ্রলোকের কথায় কখনও ভুল হতে দেখিনি, তাই চিন্তায় পড়ে গেলাম। অবিশ্যি ওঁকে সঙ্গে নিয়ে যেতে আমার আপত্তি নেই, অসুবিধাও নেই—কারণ কনফারেন্সের তরফ থেকে সেক্রেটারির একটি করে টিকিট পাঠায়। সেটা আমার আর ব্যবহার করা হয় না—কিন্তু এবার নাহয় করব।

     আপনার বুদ্ধিনির্ধারণ যন্ত্রটা একবার দেখতে পারি কি?’

     এই প্রশ্নও ভদ্রলোকের ক্ষমতার একটা পরিচয়, কারণ ওঁকে আমি যন্ত্রটা সম্বন্ধে কিছুই বলিনি। বললাম, নিশ্চয়ই—তবে সেটা আমি না এনে আপনি সেটার কাছে গেলে আরও সুবিধে হয়

     নকুড়বাবু অবশ্যই রাজি। তাঁকে নিয়ে আমার ল্যাবরেটরিতে গেলাম। যন্ত্রটা নানা দিক থেকে দেখে ভদ্রলোক বললেন, আমি একবার চেয়ারে বসব নাকি?’

     বসুন না।—তবে আপনার অলৌকিক বুদ্ধির পরিমাপ এতে পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ

     নকুড়বাবু বসলেন। কাঁটা উঠে ৫৫৭তে থেমে গেল। বললাম, আপনি মোটামুটি বুদ্ধিমানদের দলেই পড়েন

     ভদ্রলোক একপেয়ালা কফি খেয়ে উঠে পড়লেন।

     আমার ঠিকানা তো আপনার জানাই আছে। হামবুর্গ যাবার আগে খবরটা দেবেন। আমি সঙ্গে গেলে আপনার মঙ্গল হবে

এপ্রিল ২৫

     আমার বন্ধু উইলহেল্‌ম ক্রোল থাকে ম্যুনিখেহামবুর্গের সম্মেলনে আমার যাওয়ার কথা তাকে আজ একটা চিঠি লিখে জানিয়ে দিলামসঙ্গে অবশ্যই যাচ্ছেন আমার সেক্রেটারি নকুড়চন্দ্র বিশ্বাস। ক্রোল ইতিপূর্বে নকুড়বাবুর অলৌকিক ক্ষমতার সঙ্গে পরিচিত হয়েছে। সে বরাবরই অতিপ্রাকৃত ঘটনা সম্বন্ধে উৎসাহী। অবিশ্যি নকুড়বাবুর টেলিপ্যাথি, থটরিডিং, ভূতভবিষ্যৎ দর্শনএমন কী মনগড়া ঘটনাও অন্য লোককে দেখিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা দেখে চূড়ান্ত অবিশ্বাসী সন্ডার্সেরও চক্ষু ছানাবড়া হয়ে গিয়েছিল। ক্রোলকে চিঠি লেখার অন্যতম কারণ হল সম্মেলনে ইনটেলেকট্রনের ডিমনস্ট্রেশনের জন্য ওদেশে বসবাসকারী একজনের সহযোগীতা আমার একান্তই দরকার ছিল। আর এ ব্যাপারে আমার দীর্ঘদিনের বন্ধু ক্রোলকেই সবথেকে বেশী ভরসা করা যায়। তাকে সংক্ষেপে আমার যন্ত্রের বিবরণ আর আমার প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে দিলাম। নকুড়বাবু বলেছেন বটে এবারের যাত্রায় আমার বিপদ আছে; কিন্তু এ পর্যন্ত তেমন কোনও বিপদের পুর্বাভাস পাইনি।

জুন ৬

     আজ সকালে হামবুর্গে এসে পৌঁছেছি। উত্তর জার্মানির প্রধান বন্দর নগরী হামবুর্গ এলবে নদী দিয়ে উত্তর সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত। শতাধিক ক্যানাল এই শহরের মধ্যে নকশা কেটেছে। আমার খুব পছন্দের শহর হামবুর্গ। কনফারেন্সের কর্তৃপক্ষকে বলে শহরের কেন্দ্রস্থলে ইনার অ্যায়েস্তা হ্রদের কাছে একই হোটেলে পাশাপাশি তিনটি ঘর ঠিক করে রেখেছিল ক্রোল। নকুড়বাবু নিজের ঘরে ঢুকে যাওয়ার আগে বিড়বিড় করে একবার বলে গেলেন ‘ডেন্টিস্ট’।

     ক্রোলের হতভম্ব মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘তোমার কি দাঁত দেখানোর প্রয়োজন হয়ে পড়েছে?’

     হ্যাঁ, কয়েকদিন থেকে কষের দাঁতে অসহ্য ব্যাথা শুরু হয়েছে। যে ডেন্টিস্টএর কাছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছিলাম তিনি হঠাৎ বেপাত্তা। তাই আপাতত পেইন কিলার খেয়ে সামলে আছি।’ একটু থেমে সে বলল, ‘ভদ্রলোকের আর কী কী ক্ষমতা আছে বলো তো শঙ্কু!’

     বেপাত্তা মানে?’ আমি জিজ্ঞেস করলাম।

     মানে নিখোঁজ। এই নিয়ে গত কয়েক মাসে আমাদের ওখানে তিনচারজন সম্ভ্রান্ত ঘরের লোক হঠাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে গেছেন। আশ্চর্যের ব্যাপার, তাঁদের মধ্যে আরও একজনকে আমি চিনি। স্থানীয় কলেজের অধ্যাপক। তোমার সার্ভের কাজে তিনি একজন মডেল ছিলেন।’

     এই প্রসঙ্গে ক্রোলের কাছে আমার নতুন যন্ত্র ডিমনস্ট্রেশনের আয়োজন সম্পর্কে জানতে চাইলাম। আসলে আমার দরকার ছিল সমাজের বিভিন্ন স্তরের এবং পেশার কয়েকজন মানুষের ওপর একটা মনস্তাত্বিক সমীক্ষা করামানুষের বুদ্ধির পরিমাপ করার কিছু সাবেকি পদ্ধতি আছে, যেমন স্ট্যানফোর্ডবিনে টেস্ট বা ওয়েসলার স্কেল। একজন প্রথম শ্রেণীর মনোবিদকে দিয়ে এরকম একটা রিপোর্ট বানিয়ে রাখতে বলেছিলাম। অধিবেশনে আমার যন্ত্র সেইসব মানুষের ওপর প্রয়োগ করে তার ফলাফল এই রিপোর্টের সঙ্গে মেলানো হবে। বলা বাহুল্য, এই সমীক্ষাগুলি বুদ্ধি পরিমাপক কোনও সংখ্যা নির্দেশ করে দেয় নাতবে আমার যন্ত্র যে সঠিক কাজ করছে তার একটা তুলনামূলক ধারণা তো অবশ্যই পাওয়া যাবে।

     ক্রোলের সঙ্গে আলোচনা করে দেখলাম সে একদম আমার মনের মত কাজ করে রেখেছে। ক্রোল নিজে একবার যন্ত্রটা দেখতে চাইল। এখানে বলে রাখা ভাল এই তিন মাসে আমি যন্ত্রটার আয়তনের কিছু উন্নতিসাধন করেছি। চেয়ার সমেত যন্ত্রটা বয়ে নিয়ে আসা খুবই অসুবিধাজনক ছিল। পোর্টেবল যন্ত্রটা দেখতে হয়েছে একটা হেলমেটের মত। ইলেকট্রোডদুটি হেলমেটের সঙ্গেই জোড়া লাগানো আছে। বোতামে চাপ দিলে কপালের ওপরে বুদ্ধি নির্ণায়ক কাঁটাটি নির্দিষ্ট নম্বরে গিয়ে দাঁড়াবে। ক্রোলের নম্বর উঠল ৮২৬।

জুন ৯

     আমার বৈজ্ঞানিক জীবনের আজ একটি কলঙ্কময় দিন। এর আগে নিজের আবিষ্কার নিয়ে আর কখনও এমন অপদস্থ হতে হয়েছে বলে মনে পড়ে না।

     ইনভেনটরস কনফারেন্সের তৃতীয় দিনে আমার বক্তৃতা ছিল। সারা জীবন আমি কী কী আবিষ্কার করেছি তার একটা সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে আমি চলে এসেছিলাম আমার নতুন আবিষ্কার ইনটেলেকট্রনকে সর্বসমক্ষে প্রকাশ করার পর্যায়ে। প্রথমে এই যন্ত্রের বর্ণনা ও কার্যকারিতা বোঝানোর পর একে একে মডেলদের ডাকা হল। এঁদের কেউ বা পেশায় ডাক্তার, কেউ শিক্ষক, আবার কেউ শ্রমিক।

     রিপোর্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হল সমীক্ষায় যাদের বুদ্ধি কম বলে প্রকাশিত হয়েছে আমার যন্ত্রের পরিমাপও সেইরকমই দেখাচ্ছে। মোটামুটি আড়াইশো থেকে সাতশোর মধ্যে কাঁটা ঘোরাফেরা করল সব ক্ষেত্রেই। সবার শেষে আমি কনফারেন্সে উপস্থিত বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানালাম তাঁদের মধ্যে ইচ্ছুক যদি কেউ থাকেন তবে তিনি এসে নিজের বুদ্ধি যাচাই করে নিতে পারেন। প্রত্যাশা মতোই সভায় একটা মৃদু গুঞ্জন উঠল, তবে কেউই সর্বসমক্ষে নিজের বুদ্ধির প্রকাশ করতে এগিয়ে এলেন না।

     আমি প্রদর্শনে সমাপ্তি টানতে যাচ্ছি এমন সময় বছর চল্লিশেকের সুদর্শন এক জার্মান ভদ্রলোক উঠে এলেন। গতকাল রোবোটিক্সের ওপর এনার বক্তৃতা এবং সাম্প্রতিক কাজের নিদর্শন আমি দেখেছি। সত্যি বলতে কি, সেই সব কাজই অন্তত এক যুগ আগে আমি করে এসেছি। কাজেই খুব একটা উৎসাহ পাইনি।

     উনি আমার সঙ্গে করমর্দন করে নিজের পরিচয় দিলেন, ‘হ্যালো, আই অ্যাম প্যাট্রিক হফমানআমি কি তোমার ওই টুপিটা একবার পরে দেখতে পারি?’

     আমি হেসে বললাম, ‘সানন্দে।’

     ভদ্রলোককে চেয়ারে বসিয়ে মাথায় হেলমেটটা পরিয়ে দিলাম। কানের পাশে বোতামে চাপ দিলাম। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় কাঁটার কোনও নড়াচড়া নেই। একদম একশোর ঘরে দাঁড়িয়ে আছে।

     ইনটেলেকট্রন নিয়ে এমন অভিজ্ঞতা আমার এই প্রথম। আমি গিরিডিতে নিউটনের মাথাতেও ইলেকট্রোড লাগিয়ে দেখেছি কাঁটা কেঁপেছে মনুষ্যেতর প্রাণীর ক্ষেত্রেও বুদ্ধি মিনিমাম একশো হওয়া উচিত, সেইজন্যই আমার যন্ত্রে একশো থেকে দাগ কাটা আছে।

     হয়তো কোনও গণ্ডগোল হয়েছে। হেলমেটটা খুলে পরীক্ষা করে দেখলাম কোনও অস্বাভাবিকতা নেই। তারপর একরকম বাধ্য হয়েই নিজের মাথায় পরে চালু করলাম

     পাশ থেকে আমার সেক্রেটারি নকুড়বাবু বললেন, ‘নাইন হানড্রেড সেভেন্টিন।’

     বুঝলাম যন্ত্র ঠিকই আছে। আবার সেটা মিঃ হফমানের মাথায় পরিয়ে বোতাম টিপলাম। কাঁটা আবার নিশ্চল।

     সভার মধ্যে একটা চাপা হাসির আওয়াজ পাচ্ছিলাম। তবে সেটা ক্ষণস্থায়ী। যেহেতু বিশ্বের প্রথম সারির বিজ্ঞানীদের মধ্যে আমার নাম উচ্চারিত হয় তাই কেউ প্রকটভাবে ব্যঙ্গ করে নি। কিন্তু হফমানের শ্রাগ করে মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়া আমাকে লজ্জায় মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে।

     টেলিফোন বাজছে। ভাল লাগছে না কিছু। লেখা বন্ধ করি।

জুন ৯, রাত এগারটা

     সন্ধে সাতটার সময় টেলিফোনের আওয়াজ শুনে লেখা বন্ধ করেছিলাম। রিসেপশন থেকে ফোন ছিল; মিঃ প্যাট্রিক হফমান আমার দর্শনার্থী। একটু অবাক হলেও আসতে বললাম। ইন্টারকমে ফোন করে ক্রোলকেও এ ঘরে ডেকে নিলাম।

     হফমান এসে কোনরকম ভনিতা না করেই বলল, ‘আমি কি একবার আপনার বুদ্ধি মাপার যন্ত্রটা হাতে নিয়ে দেখতে পারি?’

     দেখাতে আমার কোনও আপত্তি ছিল না। কিন্তু সমাবেশে নিজের ওপর প্রয়োগ করে ইনটেলেকট্রনের ভুল ফলাফল দেওয়ার পরেও হফমানের এমন আগ্রহ দেখে একটু বিস্মিত হলাম।

     আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তুমি কি এই হোটেলেই রয়েছ?’

     না, আমি আছি ফেয়ারমন্টে।’

     ফেয়ারমন্ট আমাদের হোটেল এবং কনফারেন্স হল থেকে অনেকটা দূরে। আমি বললাম, ‘শুধু এটা দেখার জন্য আশা করি তুমি আসোনি। কারণ তা হলে তুমি তো আমাকে কনফারেন্সের পরেই জানাতে পারতে।’

     ঠিক ধরেছেন প্রোফেসর শ্যাঙ্কো’ যন্ত্রটা আমাকে ফেরত দিয়ে বলল হফমান, ‘আপনি তো বুদ্ধি মাপার যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন। কিন্তু বুদ্ধি মেপে হবেটা কী? যদি দেখা যায় একজনের বুদ্ধি কম, তবে সেটা বাড়ানোর কোনও উপায় জানা আছে কী?’

     আমাকে স্বীকার করতেই হল তেমন কোনও উপায় এখনও পর্যন্ত আমি আবিষ্কার করতে পারি নি।

     কিন্তু আমি পেরেছি।’ হফমান একদৃষ্টিতে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল।

     হফমানের চোখের দিকে তাকাতে আমার কেমন অস্বস্তি হচ্ছিল। যদিও কেন সেটা বুঝতে পারলাম না। আমি ক্রোলের দিকে দৃষ্টি ফেরালাম।

     ক্রোল জিজ্ঞাসা করল, ‘তেমন কোনও আবিষ্কার করে থাকলে তো সেটা একটা যুগান্তকারী ঘটনা। আপনি কনফারেন্সে সেটা উপস্থাপন করলেন না কেন?’

     কারণ আমি যা আবিষ্কার করেছি সেটা হাতে কলমে প্রমাণ করার কোনও উপায় আমার কাছে ছিল না।’ হফমান মুচকি হেসে আবার আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘সেই উপায় আছে প্রোফেসর শ্যাঙ্কোর হাতে।’

     হফমানের নজর ইনটেলেকট্রনের দিকে। আমি বললাম, ‘কিন্তু এই যন্ত্র যে ত্রুটিপূর্ণ তার প্রমাণ তো তুমি পেয়েছ হফমানএটা নিয়ে আমার আর কোনও গর্ব নেই।’

     না প্রোফেসর শ্যাঙ্কোআপনার যন্ত্র যে সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত তা সবথেকে ভাল আমিই জানি।’

     এবার আমার বিস্ময়ের পালা, ‘কিভাবে?’

     কারণ ডিমনস্ট্রেশনের সময় আমি আমার বুদ্ধির লেভেল শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে এনেছিলাম। মাঝামাঝি কোনও জায়গায় রাখলে সেই পরিমাপ আপনার যন্ত্র সঠিক দিতে পারছে কি না তা বোঝার কোনও উপায় ছিল না।’

     হোয়াট?’ ক্রোল প্রায় আর্তনাদ করে উঠল, ‘আপনি এভাবে একঘর বিজ্ঞানীদের সামনে শঙ্কুকে অপদস্থ করলেন?’

     তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু সত্যিই প্রোফেসর শ্যাঙ্কো যখন তাঁর আবিষ্কার সম্মন্ধে জানালেন তখন আমার হাতে চাঁদ পাওয়ার মত অবস্থা হয়েছিল। তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে এই ভুলটা আমি করে ফেলি। কারণ আমি পরে এসেও আলাদাভাবে যন্ত্রটা পরীক্ষা করার অনুমতি চাইলে আশা করি আপনি ফেরাতেন না।’

     তা তো বটেই।’ আমার মনের ওপর থেকে একটা ভার নেমে গেল, ‘কিন্তু আমার যে ক্ষতিটা তুমি করলে তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। কারণ আমার নিজের সঙ্গে আমার দেশেরও একটা সম্মান জড়িয়ে ছিল ব্যাপারটায়।’

     আমি সেই ক্ষতিপূরণের জন্যই আপনার কাছে এসেছি প্রোফেসর’, হফমান বলল, ‘বলুন আপনার ওই যন্ত্রের বিনিময়ে কত টাকা আমাকে দিতে হবে।’

     আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানালাম যে আজ পর্যন্ত আমার আবিষ্কৃত কোনও যন্ত্র আমি বিক্রি করি নি। এমন প্রস্তাব আমি প্রচুর পেয়েছি; কিন্তু আপাতত অতিরিক্ত টাকাপয়সার আমার তেমন প্রয়োজন নেই।

     আমার সিদ্ধান্তে যে আমি অনড় সেটা বোঝার পর হফমান আরেকটা বেয়াড়া অনুরোধ করে বসল। সে অন্তত একবার ইনটেলেকট্রন নিয়ে নিজের আবিষ্কার পরীক্ষা করে দেখতে চায়। হোসেনহাইমে তার বাসস্থানে আমাকে আমার যন্ত্রসমেত দু’দিনের আতিথ্য দেওয়ার প্রস্তাব করল। যাওয়া আসার ব্যবস্থাও সে করে দেবে।

     সমাবেশ আরও দু’দিন চলবে। তার পরেও কর্তৃপক্ষ আরও তিনদিন আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে রেখেছেন। ক্রোলকে জিজ্ঞেস করে জানলাম হোসেনহাইম যেতে হলে এখান থেকে প্রথমে ম্যুনিখ যেতে হবে। অর্থাৎ চারদিনে ভালভাবে হফমানের ডেরা থেকে ঘুরে আসা যাবে।

     বুদ্ধি বাড়ানো কমানোর উপায় নিয়ে একটা আকর্ষণ বোধ করছিলাম। তাই হফমানকে শেষে জানালাম, ‘কিন্তু আমি গেলে যে আমার সঙ্গে আরও দু’জন যাবেন।’

     হফমান সানন্দে রাজি হয়ে গেল।

     হফমানকে এগিয়ে দিতে দরজা খুলে করিডরে বেরোতেই পাশের ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন নকুড়বাবু। একটু তটস্থ ভাবে বলতে গেলেন ‘ইয়ে একটু হোটেলের ডাইনিং…’

     আমি লক্ষ করলাম তাঁর দৃষ্টি হফমানের ওপর পড়তেই তিনি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন। এ লক্ষণ আমার চেনা। নকুড়বাবু তাঁর অলৌকিক ক্ষমতাবলে এমন কিছু প্রত্যক্ষ করছেন যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

     পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমিই প্রথম কথা বললাম, ‘ডাইনিংএ যেতে হবে না। ডিনারটা আমার ঘরে আনিয়ে নিচ্ছিতিনজনে একসঙ্গে খাব।’

     খাবার টেবিলে নকুড়বাবুকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘তখন প্যাট্রিক হফমানের দিকে অমন করে তাকিয়েছিলেন কেন? কিছু দেখলেন নাকি?’

     নকুড়বাবু আমার কথার উত্তর না দিয়ে বললেন, ‘আচ্ছা স্যার, অ্যান্ড্রয়েড কী জিনিস?’

     নকুড়বাবুর মুখে এমন একটা শব্দ শুনে আমি একটু অবাক হলাম। বলতে বাধ্য হলাম, অ্যান্ড্রয়েডের সঠিক বাংলা প্রতিশব্দ আমার জানা নেই। তবে যন্ত্রমানব বলা চলে

     এই শব্দটা আপনি কোথায় পেলেন?’

     এখানে আসার দিন দমদম এয়ারপোর্ট থেকে মাকড়দায় ফোন করব বলে টেলিফোন বুথে ঢুকেছি। সেখানে একটা ক্যালেণ্ডার ঝোলানো ছিল। সেদিকে তাকাতেই স্পষ্ট দেখতে পেলুম ক্যালেণ্ডারের ছবি আর সালটা বদলে গেল

     অতীতের দিকে, না ভবিষ্যত?’

     আজ থেকে ঠিক আঠাশ বছর পরে। প্রথমে মনে হল বিদেশের কোনও এয়ারপোর্টের ছবি দেখছি, তারপর দেখলুম বাংলায় লেখা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। আর সামনে যে সব মানুষজন হেঁটে চলে বেড়াচ্ছে তাদের পোশাকআশাকের সঙ্গে এদেশেরই মিল বেশী। আরেকটা চোখে পড়ার মত জিনিস লক্ষ করলুম, সবাই হাতে একটা চারচৌকো জিনিস নিয়ে ঘুরছে। অনেকেই সেটার দিকে তাকিয়ে আঙুল দিয়ে ঘষে ঘষে কিছু করছে। কেউ আবার কানে চেপে ধরে হাঁটছে। জিনিসটা ঠিক কী তা জানি না, তবে কাছাকাছি একটা বিশাল বড় সাইনবোর্ডে ওইরকমই একটা বস্তুর বিজ্ঞাপন দেখলুম। যেখানে লেখা ছিল নিউ অ্যান্ড্রয়েড ফোন।’

     ওই চারচৌকো জিনিসটা মনে হয় সেলুলার ফোন। আজ থেকে আঠাশ বছর পরে বিজ্ঞান অনেকদূর অগ্রসর হবে নকুড়বাবু। মানুষের জীবনযাত্রাও পাল্টাবে। আমরা দেখে যেতে পারব কি না জানি না। আপনি ভাগ্যবান যে সেই উন্নতির এক ঝলক এখনই দেখে ফেললেন।’

জুন ১০, রাত দশটা

     কিছুক্ষণ আগে হোসেনহাইমে এসে পৌঁছেছি। আসলে হোসেনহাইম থেকেও প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে শহরের বাইরে হফমানের বাসস্থান। অবিশ্যি একে বাগানবাড়ি না বলে বাগান অট্টালিকাই বলা চলে। মূল ফটক থেকে বাগান পেরিয়ে প্রায় চারশো মিটার দূরে বিশাল বড় এই প্রাসাদের লোকসংখ্যা কিন্তু সেই তুলনায় বেশ কম। এখনও পর্যন্ত ড্রাইভার চাকর ছাড়া বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের চোখে পড়ে নি। দোতলায় একটা করিডরের একপ্রান্তে আমার ঘর। অন্যপ্রান্তে মুখোমুখি দুটো ঘরে ক্রোল আর নকুড়বাবুর থাকার জায়গা হয়েছে।

     আমার ডায়রি লেখা শুরু করার পরই একজন এসে বেল বাজিয়ে রাতের খাবার ঘরে দিয়ে গেল। সারাদিনের পথশ্রমে আমিও বেশ ক্লান্তআশাকরি কাল সকালে হফমানের ল্যাবরেটরি ও কাজকর্ম সব দেখা যাবে। আজ এখানেই লেখা থামাই।

জুন ১১

     অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। অন্তত এটা বলতে পারি যে বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে আমার হেনস্থার দুঃখ অনেকটাই ভুলতে পারি এমন আবিষ্কার চাক্ষুষ করার পর।

     আজ সকালে প্রাতরাশ করার পর হফমান আমাদের নিয়ে গেল তার ল্যাবরেটরিতে। গবেষণাগারটি দেখে আমার মন কিছুটা খারাপই হয়ে গেল। এমন একটি গবেষণাগার যদি আমি পেতাম তাহলে আমার কাজ অন্তত দশ বছর এগিয়ে রাখতে পারতাম।

     প্রথমে হফমান আমাদের দেখাল তার রোবোটিক্স নিয়ে গবেষণার একটি নিদর্শন। একটি খাঁচায় লেমুর প্রজাতির একটি প্রাণী রাখা ছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম স্টাফ করে রাখা; কারণ তার মধ্যে কোনও প্রাণের লক্ষণ দেখতে পাই নি। কিন্তু হফমান একটি রিমোট কন্ট্রোল নিয়ে তাকে সচল করে দিতেই দিব্যি খাঁচার মধ্যে লাফালাফি শুরু করল।

     মাত্র তিনশো তেত্রিশ টাকা সাড়ে সাত আনায় আমার নিজের তৈরি রোবুর কথা মনে পড়ে গেল। দেখনদারিতে সে এরকম নিখুঁত না হলেও বুদ্ধিতে যে এই লেমুরের থেকে অনেক উন্নত প্রজাতির রোবট ছিল তা হলফ করে বলতে পারি।

     তারপর আরও এটা সেটা দেখার পর ক্রোল একসময় ধৈর্য হারিয়ে বলে ফেলল, ‘আসল জিনিসটি কোথায় মশাই? আপনার বুদ্ধি নিয়ন্ত্রক যন্ত্র?’

     আমি বললাম, ‘সেটা আদৌ কি কোনও যন্ত্র না কি রাসায়নিক? সম্মেলন কক্ষে তো কোনও যন্ত্র আপনি নিয়ে যান নি।’

     হফমান আবার আমার দিকে সেই অস্বস্তিকর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল, ‘আপনার অনুমান একদম ঠিক প্রোফেসর শ্যাঙ্কো

     এবার আমাকে বাধ্য হয়েই আমার নামের উচ্চারণটা শুধরে দিতে হল।

     ল্যাবরেটরির একপাশে একটা দরজা খুলে অপেক্ষাকৃত ছোট আরেকটা ঘরে আমাদের নিয়ে প্রবেশ করল হফমান

     এই ঘরে তেমন কিছু যন্ত্রপাতি নেই। এক পাশে একটা লম্বা টেবিল রাখা। আর মাঝখানে একটি গোলাকার টেবিলের ওপরে একটি বিশাল কাচের আচ্ছাদন সেই ঢাকনার ভেতরে কী আছে তা বোঝা যাচ্ছে না কারণ পুরোটাই কমলা ধোঁয়ায় পরিপূর্ণ। কেবল এক পাশে একটি সরু ছোট নল বেরিয়ে আছে, আর তার ওপরে আছে কয়েকটি বিভিন্ন রঙের বোতাম।

     ওয়েল প্রোফেসর শঙ্কু!’ হফমান তার সুন্দর হাসিটি হেসে বলল, ‘বলুন আপনাদের তিনজনের মধ্যে কে নিজের বুদ্ধিবৃদ্ধির পরীক্ষা দিতে চান।’

     নকুড়বাবুই সবার আগে কিছু বলতে চাইছিলেন। আমি তাঁকে থামিয়ে দিলাম। বলা যায় না এসব পরীক্ষা নিরীক্ষার ফলে যদি ভদ্রলোক তাঁর বিশেষ ক্ষমতাটি হারিয়ে ফেলেন।

     আমার কোনও আপত্তি নেই।’

     তুমি খেপেছ শঙ্কু!’ ক্রোল আমার কথা শুনে বিচলিত হয়ে পড়ল, ‘এখনও এই ওষুধের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ হয় নি। যদি তোমার কিছু একটা হয় তাহলে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। এর থেকে আমার ওপর পরখ করা হোক, যদি অস্বাভাবিক প্রভাব কিছু দেখো তাহলে তোমার মিরাকিউরল তো আছেই।’

     ক্রোলের আন্তরিকতাকে সম্মান জানাতে মিরাকিউরল যে আমার ওপরেও একই কাজ দেবে সেটা আর বললাম না।

     হফমান ক্রোলকে একটা চেয়ারে বসিয়ে দিল। তারপর বলল, ‘এইবারে দেখুন প্রোফেসর শঙ্কু। কেন আপনার ওই যন্ত্র ছাড়া আমার আবিষ্কার অচলআমি প্রথমে খরগোশ তারপর বাঁদরের শরীরে ওষুধ প্রয়োগ করে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছিলাম। তাদের আচরণ ও স্বভাবের মধ্যে বুদ্ধি বেড়ে যাওয়ার সুস্পষ্ট লক্ষণ দেখেছি। তারপর নিজের ওপর প্রয়োগ করি। পরিষ্কার বুঝতে পারি নিজের বুদ্ধির উন্নতি। কিন্তু আমার হাতে প্রমাণ ছিল না। ইনটেলেকট্রন সেই প্রমাণ দেবে

     হফমানের নির্দেশ মত ক্রোলের মাথায় হেলমেটটা পরিয়ে বোতাম টিপে দিলাম। ফলাফল জানাই ছিল, ৮২৬।

     এবার হফমান একটা টেস্টটিউব নিয়ে সেই গোল টেবিলের ওপর ঢাকা দিয়ে রাখা বিশাল পাত্রের এক পাশে বেরিয়ে থাকা নলের সামনে ধরল। পরপর কয়েকটা বোতাম টেপার পর সেই নল দিয়ে বেরিয়ে আসা গাঢ় কমলা বর্ণের দ্রবণ টেস্টটিউবে সংগ্রহ করে নিল। তারপর একটা সিরিঞ্জে সেই দ্রবণ ভরে নিল।

     এটা ইনসুলিনের মত নিজে নিজেই নিয়ে নেওয়া যাবে।’ হফমান বলল, ‘আর নেওয়ার পর কুড়ি থেকে বাইশ ঘন্টা একটু ঘুম ঘুম পেতে পারে। এ ছাড়া আর কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।’

     ইনজেকশানটা দেওয়ার সময় ক্রোল চোখ বন্ধ করে ছিল। জানি না ওর ইনজেকশানের প্রতি ভীতি আছে কি না।

     এর ঠিক দশ মিনিট পর হফমান আবার ক্রোলের বুদ্ধি পরিমাপ করার নির্দেশ দিল। মাথায় হেলমেট পরিয়ে বোতাম টিপতে আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করলাম কাঁটা এবার ৮৩৬ এর দাগ নির্দেশ করছে।

     হফমান আনন্দে প্রায় লাফাতে লাগল। ‘বুঝতে পারছেন শঙ্কু, এবার এই ওষুধের উন্নতিসাধনেও আপনার যন্ত্র কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে?’

     সত্যিই হফমানের এলেমের ওপর আমার শ্রদ্ধা অনেকগুণ বেড়ে গেল। মানুষের কল্যানের জন্য এমন গবেষণায় আমি আমার যথাসাধ্য সাহায্য করতে রাজি আছিঠিক করেছি ইনটেলেকট্রনটা হফমানকে দিয়ে যাব।

জুন ১৪

     দেশে ফেরার বিমানে বসে লিখছি। পাশেই বসে আছেন আমার সেক্রেটারি মাকড়দহের নকুড়চন্দ্র বিশ্বাস। ইনি না থাকলে এবার আর আমার দেশে ফেরা সম্ভব হত না। ইনটেলেকট্রন পর্বের যে এইভাবে সমাপ্তি হবে তা আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারি নি।

     প্রথমেই জানিয়ে রাখি আমার ডায়রিটি খুঁজে পাওয়া যায় নি। কেবলমাত্র প্রথম পৃষ্ঠাটি ছেঁড়া অবস্থায় হফমান কাসলে আমার ঘরের ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার করেছিলেন নকুড়বাবু। অর্থাৎ ৩রা এপ্রিলের পর থেকে এই কাহিনীর বাকী অংশটুকু আমার স্মৃতি থেকেই নতুন করে লিখলাম। আশা করি দু’চারটের বেশী শব্দ বাদ যায় নি।

     এবার আসি পরবর্তী ঘটনায় সেদিন দুপুরবেলা লাঞ্চের পর বসে ডায়রি লিখছিলাম আমার দিবানিদ্রার অভ্যাস নেই। তবু লিখতে লিখতে বেশ ঘুম পাচ্ছিল। তাই লেখা শেষ করে বিছানায় শুয়ে পড়লাম। মনে একটা খটকা লাগছিল যে ইনজেকশান নিল ক্রোল, আর ঘুম পাচ্ছে আমার। শোবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়লাম।

     ঘুমটা ভাঙল একটা ঘোরের মধ্যে। এবং বুঝতে পারছিলাম আমি আর বিছানায় শুয়ে নেই। বরং একটা চেয়ারের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা অবস্থায় বসে আছি। ভাল করে তাকিয়ে হাল্কা নীল আলোতে যা দেখলাম তাতে বুঝলাম যে এটা হফমানের সেই ল্যাবরেটরির ছোট ঘরটা। মাঝখানে গোল টেবিলের ওপর বিশালাকৃতির কাচের জার বসানো আর একটা মৃদু হিস হিস শব্দ।

     তারপরই আমার মনে প্রশ্ন জাগল ক্রোল আর নকুড়বাবুর কী অবস্থা! চেয়ারে বসা অবস্থাতেই ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম আরও একটা চেয়ারে নকুড়বাবুকে আমার মত বেঁধে রাখা হয়েছে। আমি তাঁর নাম ধরে দু’একবার ডাকাডাকি করে বুঝলাম এখনও জ্ঞান ফেরেনি ক্রোলকে কোথাও দেখতে পেলাম না।

     কতক্ষণ এভাবে চুপ করে বসে ছিলাম জানি না। হঠাৎ তীব্র আলোয় চোখ ঝলসে গেল। ঘরের দরজা যেমন বন্ধ ছিল তেমনি আছে। বাইরে থেকে ঘরের আলো জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। আলোটা চোখে সয়ে আসতেই আমি চমকে উঠলাম।

     ঘরের এক পাশে একটা লম্বা খালি টেবিল আগেই দেখেছিলাম। এখন দেখলাম তার ওপর চিত হয়ে শুয়ে আছে প্যাট্রিক হফমান

     পুরো ব্যাপারটাই আমার কাছে কেমন ধাঁধার মত লাগল। এতক্ষণ তো ভাবছিলাম হফমানই আমাদের বন্দী করে রেখেছে। কিন্তু আমাদের বন্দী করে রেখে ল্যাবরেটরিতে এভাবে শুয়ে ঘুমিয়ে থাকবে কেন? বেঁচে আছে তো?

     একটু পরে নড়াচড়া দেখে বুঝলাম নকুড়বাবুর জ্ঞান ফিরছে। তারপরেই ভদ্রলোক চোখ মেলে চেয়ে আমাকে দেখে বললেন ‘ঠিক এইরকম চেয়ারে বাঁধা অবস্থায় আপনাকে আমি দেখেছিলুম। সেইজন্যই এবারে আপনার সঙ্গে আমার আসা।’

     বলেই আবার চোখ বন্ধ করলেন। জানি না আবার অজ্ঞান হয়ে গেলেন কি না।

     আমি মনে মনে ভাবছিলাম এই একঘেয়ে দৃশ্যের পরিবর্তন কখন হবে। এমন সময় ল্যাবরেটরির দরজা খুলে গেল। আর তারপর যিনি প্রবেশ করলেন তাঁকে দেখে আমি ভূত দেখার মত চমকে উঠলাম।

     কারণ তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং প্যাট্রিক হফমান

     আমি ক্রমান্বয়ে একবার শায়িত হফমান আর আগন্তুক হফমানের দিকে দেখে নিলাম।

     আগন্তুক হফমান তার সেই সুন্দর হাসিটি হেসে বলল, ‘কী প্রোফেসর শ্যাঙ্কো? বিজ্ঞানী কি তুমি একাই? বুদ্ধি কি তোমার একারই আছে এই পৃথিবীতে? বিজ্ঞানের ম্যাজিক আমিও কিছু জানি।’

     তার হাতে একটি রিমোট কন্ট্রোলের মত জিনিস, এমনটা সকালেই দেখেছিলাম লেমুরের খাঁচার সামনে। শায়িত হফমানের দিকে তাকিয়ে আমি অস্ফুটে বললাম, ‘অ্যান্ড্রয়েড!

     হ্যাঁ যন্ত্রমানব। আমারই প্রতিকৃতি।’ হফমান মুচকি হেসে বলল, ‘তফাৎ একটাই, ওর মাথায় নিজস্ব কোনও বুদ্ধি নেই। ও চালিত হয় আমার বুদ্ধিতে।’

     কী আশ্চর্য সমাপতন! হফমানের রোবট লেমুরকে দেখে আমার রোবুর কথা মনে পড়ে গিয়েছিল। এই জার্মানিতেই রোবুকে নিয়ে এসে গটফ্রীড বোর্গেল্টের তারই চেহারার আদলে তৈরি রোবটের পাল্লায় পড়েছিলাম। সেই রোবট নিজের আবিষ্কর্তাকে কব্জা করে ফেলেছিল। কিন্তু এবার আবিষ্কর্তাই নিজের উদ্ভাবনকে ব্যবহার করেছেন কার্যসিদ্ধি করতে। আর উভয় ক্ষেত্রেই আমার তৈরি যন্ত্র কোনও ভুল বার্তা দেয় নি। অ্যান্ড্রয়েডের তো প্রাকৃতিক বুদ্ধি নেই, কৃত্রিম বুদ্ধি। কাজেই ইনটেলেকট্রন তার বুদ্ধির পরিমাপ দেখাবে কী করে।

     তার মানে কনফারেন্সে তোমার হয়ে একেই পাঠিয়েছিলে তুমি?’

     অবশ্যই। তবে কোথাও কি আমার থেকে একটুও কাজে খামতি রেখেছে? বরং যে কাজটা আমার দ্বারা করা সম্ভব ছিল না সেটাও ওর মধ্যে প্রোগ্রাম করে দেওয়া ছিল।’

     কোন কাজের কথা বলতে চাইছ তুমি?’

     এই যে পৃথিবীর প্রথম সারির একজন বুদ্ধিমান মানুষকে সে নিয়ে এসেছে আমার কাছে। তুমি অবশ্য সহজেই আসতে রাজি হয়ে গেছ। রাজি না হলে জোর করে ধরে আনতে হত। তারও ছক কষা ছিল।’

     কিন্তু আমাকে ধরে রেখে তোমার কী লাভ হফমান?’ আমি ব্যথিত কন্ঠে বললাম, ‘তোমার আবিষ্কার আমায় এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে আমি ঠিক করেছিলাম ইনটেলেকট্রনকে তোমার গবেষণার কাজে দান করে যাব।’

     ইনটেলেকট্রন উপরি পাওনা শ্যাঙ্কোআমার তো লক্ষ্য তুমি – বা তোমার মত বুদ্ধিমান অন্য কোনও বিজ্ঞানী

     মানে?’

     এই তুমি বুদ্ধির বড়াই কর প্রোফেসর! এখনও তুমি ধরতে পারলে না আমার আবিষ্কারের মূল উপাদান কী!’

     আমি বুঝেও বুঝতে চাইছিলাম না, কারণ বিজ্ঞান সাধনার নামে মানুষ যে এত নিচে নামতে পারে তা আমার ধারণার অতীত। মাথা নেড়ে ফিসফিস করে বললাম, ‘হিউম্যান ব্রেন।’

     একজ্যাক্টলি প্রোফেসর শ্যাঙ্কো! যত বেশী ক্ষুরধার মগজ পাবো, আমার ওষুধের কার্যক্ষমতা ততই বৃদ্ধি পাবে। আমার দরকার পৃথিবীর সবথেকে বুদ্ধিমান মানুষদের মস্তিষ্ক। তাই আমার পছন্দের তালিকায় একদম ওপরের দিকেই তোমার নাম ছিল। একদিন আমিই হব এই পৃথিবীর সবথেকে বুদ্ধিমান মানুষআমার ওপরে কেউ থাকবে না।’

     আমি বিচলিত হয়ে বললাম, ‘ক্রোল? ক্রোলকে কোথায় রেখেছ তুমি?’

     চিন্তা করো না প্রোফেসরতাঁর মস্তিষ্কও আমার কাজে লাগবে। তবে তোমার বন্ধুর ঘুম চারদিনের আগে ভাঙবে নাবুদ্ধিমান হতে চাওয়ার সাইড এফেক্ট যা বলেছিলাম তার থেকে একটু বেশিই। তাই তাঁকে আপাতত বেঁধে রাখার প্রয়োজন হয় নি। তিনি যখন ঘুম থেকে উঠবেন ততক্ষণে তুমি এই ধরাধামের মায়া ত্যাগ করেছ’ হফমান এরপর নকুড়বাবুর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তবে তোমার সেক্রেটারি মশাইয়ের ব্রেন আমার কোনও কাজে লাগবে না। তবু তাঁকেও তোমার সঙ্গ নিতে হবে।’

     নকুড়বাবুর এখনও জ্ঞান ফেরে নিচেয়ারে নিশ্চল বসে আছেন। আমার প্রাণ বাঁচাতে এসে বেচারার নিজের প্রাণটাই যেতে বসেছে।

     আমি বললাম, ‘তাহলে বুদ্ধি কমানোর উপায় তোমার জানা নেই? তোমার ওষুধে শুধু বুদ্ধি বাড়ানোই যায়।’

     কে আর নিজের বুদ্ধি কমাতে চাইবে প্রোফেসর? যে আবিষ্কার কোনও কাজে আসবে না তার পেছনে বৃথা সময় নষ্ট করে লাভ কী? সময় খুব অল্প বন্ধু, তোমারও যে সময় ফুরিয়ে এল

     হফমান ধীরে ধীরে আমার দিকে এগিয়ে আসছে। তার হাতে উঠে এসেছে একটা ইনজেকশানের সিরিঞ্জ। নীল রঙের তরলে পরিপূর্ণ। মুখে সেই সুন্দর হাসির সঙ্গে মিশেছে এক পৈশাচিক উচ্ছ্বাস।

     আমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে হফমান বলল, ‘আমি কথা দিচ্ছি প্রোফেসরমৃত্যুটা হবে একদম যন্ত্রনাবিহীন। তুমি বুঝতেই পারবে না—একটা গাঢ় ঘুমে তলিয়ে যাবে। এটা কোনও বিষ নয়। তোমার ব্রেনটা বিষক্রিয়ায় নষ্ট হয়ে যাক সেটা তো আমি হতে দিতে পারি না।’

     মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও আমি অবাক হয়ে লক্ষ করলাম একটা জিনিস বুঝতে পেরে বেশ হাল্কা বোধ করছি। হফমানের চোখের দিকে তাকাতে আমার এখন কোনও অসুবিধা হচ্ছে না। আসলে বাকি সবকিছু হুবহু মানুষের অনুকরণে বানালেও জৈবিক চোখের পাতা পড়ার দ্রুততা আনতে সক্ষম হয় নি হফমান তার রোবটের মধ্যে।

     ঠিক এমন সময় ল্যাবরেটরির দরজা খোলার আওয়াজে আমার আর হফমানের দৃষ্টি চলে গেল সেদিকেদরজা খুলে যে লোকটি প্রবেশ করল তাঁকে দেখে হফমানের দুই চোখ বিস্ফোরিত হয়ে বেরিয়ে এল।

     ইটস ইম্পসিবল! জাস্ট ইম্পসিবল!’

     ধীর পায়ে ঘরে যে ভদ্রলোক প্রবেশ করলেন তিনি আমার আজন্ম পরিচিত এক ব্যক্তি। হাতে অ্যানাইহিলিন পিস্তল নিয়ে—জগদ্বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু!

     নকুড়বাবুর দিকে চেয়ে দেখলাম তিনি এখনও চোখ বন্ধ করে বসে আছেন। বুঝলাম তিনি অজ্ঞান বা ঘুমন্ত নন, ধ্যানস্থ।

     আমি এবার হেসে বললাম, ‘ম্যাজিক যে ভারতীয়রাই ভাল জানে সেটা আশাকরি মানবে হফমানচেয়ে দেখ, আমার হাতে আছে আমারই বিখ্যাত আবিষ্কার—অ্যানাইহিলিন পিস্তল। আমি রক্তপাত পছন্দ করি না। ঘোড়া টিপলেই তুমি একদম নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এই পৃথিবী থেকে।’

     ঘটনার আকস্মিকতায় হফমানের হাত থেকে ইনজেকশানের সিরিঞ্জ আগেই পড়ে চুরমার হয়ে গিয়েছিল। আমি এবার আদেশ করলাম চেয়ারে বসে থাকা আমার হাতের বাঁধন খুলে দিতে।

     বন্ধনমুক্ত হয়েই প্রথমে কোটের পকেটে হাত দিয়ে দেখলাম সেখানে রয়েছে আমার সর্বক্ষনের সঙ্গী আসল অ্যানাইহিলিন পিস্তল। নিজের প্রতি অগাধ বিশ্বাসে এই ভুলটা করেছিল হফমানআমাকে বন্দী করার আগে নিরস্ত্র করার দরকার ছিল। নিমেষে আমার হাতে উঠে এল অ্যানাইহিলিন। আর দরজার সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল দ্বিতীয় প্রোফেসর শঙ্কু।

     নকুড়বাবু পরিষ্কারভাবে চোখ মেলে তাকিয়েছেন।

     এর পরের ঘটনা খুব সামান্য। ক্রোল আমার মিরাকিউরল খেয়ে এখন অনেকটাই সুস্থ। আমার ঘর থেকে ডায়রি সমেত বেশ কিছু গবেষণার কাগজ বেপাত্তা। সেগুলো আশাকরি পরে উদ্ধার করা যাবে পুলিশের সহযোগিতায়। হফমানকে জেরা করে তার বাগানের মধ্যে মাটির তলায় চারজন নিখোঁজ বুদ্ধিজীবীর মৃতদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে—যাঁদের মধ্যে ক্রোলের পরিচিত ডেন্টিস্ট ও প্রোফেসর ভদ্রলোকও ছিলেন

     দমদম বিমানবন্দরে বিমান অবতরণের ঘোষণা হল। লেখা বন্ধ করি, এবার সিটবেল্ট বাঁধতে হবে।

[প্রোফেসর শঙ্কুর এই কাহিনীর শুধুমাত্র ৩রা এপ্রিলের অংশটুকু সত্যজিৎ রায় লিখেছিলেন একটি বাঁধানো রুলটানা কাগজের খাতায়। অসমাপ্ত গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ১৯৯২ তে। পরে আনন্দ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ থেকে প্রকাশিত “সেলাম প্রোফেসর শঙ্কু” ও “শঙ্কুসমগ্র” তে গ্রন্থিত হয়। তবে সন্দীপ রায়ের লেখা ফুটনোট থেকে জানা যায় এটি লেখা হয়েছিল ১৯৮৯ সালের জুন মাসে, অর্থাৎ আজ থেকে ঠিক আঠাশ বছর আগে]

15 thoughts on “ইনটেলেকট্রন

  • September 27, 2017 at 6:12 pm
    Permalink

    দুর্দান্ত

    Reply
  • September 27, 2017 at 7:47 pm
    Permalink

    ভালো লেগেছে।
    মৌলিক গল্প আশা করছি।
    কল্পবিজ্ঞানের।

    Reply
  • September 27, 2017 at 10:40 pm
    Permalink

    অসাধারণ!

    Reply
  • September 28, 2017 at 5:43 am
    Permalink

    সেই নির্মেদ নির্মিতি। আবার ছোটবেলার সেই দিনগুলোতে ফিরে এলাম যখন প্রতিবছর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকতাম শঙ্কুর নতুন গল্পের জন্য। এভাবে একজন অন্য লেখকের লেখন রীতি কে সম্পূর্ণ আত্মস্থ করে তার বিনির্মাণ যথেষ্ঠ মুন্সিয়ানার দাবী রাখে।

    Reply
  • September 28, 2017 at 8:35 am
    Permalink

    BEsh bhalo , 🙂

    Reply
  • September 28, 2017 at 1:56 pm
    Permalink

    অসাধারণ রচনা।

    Reply
  • September 28, 2017 at 2:12 pm
    Permalink

    গল্পটির জোড়ের কাজ এত নিখুত যে এটি অসমাপ্ত লেখার সাথে খাপ খেয়ে গেছে নিখুত ভাবে। অ্যান্ডড্রয়েড একটি অপারেটিং সিস্টেমের নাম বলে জানি । এটিকে প্লাটফর্ম হিসাবে ব্যবহার করে রোবটিক্সের কাজ করা যেতে পারে । তাই রোবটের নাম কি করে অ্যান্ডড্রয়েড হল তাঁর ব্যাখা বা ইঙ্গিত লেখায় থাকলে ভালো হত । প্রফেসর শঙ্কু তাঁর সব কাজ একটা হাতে লেখা ডায়েরি তে রেখে ছিল এটা কিন্তু গল্পের মাত্রার সাথে মানাল না। এক জন ধন কুবের সখ করে সাইকেল চড়ে থাকতে পারেন কিন্তু তাঁর বাহন শুধু মাত্র ওই টি এটা কি মানায়? লেখক যদি আমাকে বুঝিয়ে দেন আমাকে তাহলে খুব ভালো হয় ।

    Reply
  • September 29, 2017 at 5:22 am
    Permalink

    অ্যান্ড্রয়েডের যথার্থ বাংলা প্রতিশব্দ নেই, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমন্বিত যন্ত্রমানব বলা চলে।

    Reply
  • October 1, 2017 at 4:41 am
    Permalink

    বেশ ভালো।

    Reply
  • October 1, 2017 at 7:15 am
    Permalink

    অসাধারণ ,মনে হছ্ছিল প্রয়াত লেখক এর লেখা পড়ছি। অন্য কোন বাধা না থাকলে আপনি প্রোফেসর শংকুর আরো কাহিনী লিখুন।

    Reply
  • October 1, 2017 at 7:17 am
    Permalink

    যেন সত‍্যজিত বাবু র লেখা আবার পড়লাম।

    Reply
  • October 2, 2017 at 4:17 am
    Permalink

    Pray pochis bochorer ekti osompurno chokro purnota pelo sarthok bhabe. Aro fan fiction chai professor sonku er.

    Reply
  • October 2, 2017 at 11:51 am
    Permalink

    majhe smart phoner ullekh ta batulata lege6e..bakita satyajito chito..apni aro likhun masai..seah ta unpredictable chilo..

    Reply
  • October 6, 2017 at 8:05 pm
    Permalink

    Daroon ebaar dreksel. Island. Er. Ghotona eta ke onubaad korun

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *