জানলাম রণেন ঘোষ আর নেই। কল্পবিজ্ঞানের অক্লান্ত লেখণী, সমস্ত জীবন এই কাজে ঢেলে দিয়ে নিজের প্রকাশনা করেছেন কল্পবিজ্ঞানকে ঘিরে৷ কল্পবিশ্ব গ্রুপের নতুন ছেলেমেয়েদের ডেকে নিয়েছেন সাদরে, আশ্রয় দিয়েছেন। একবার মাত্র ফোনে কথা হয়েছিল, কত স্নেহ ঝরে পড়েছিল তাঁর গলায়। তিনি থেকে যাবেন আমাদের সবার মনে তাঁর অসংখ্য সৃষ্টি আর নবীন প্রজন্মের মাধ্যমে।

কঙ্কাবতী কল্পবিজ্ঞান লেখেনি? লিখেছে তো!

(১)

[আরো পড়ুন]

লাল শৈবাল
মঙ্গল গ্রহ: সন ২১১৮
     চারপাশে সুনসান নিরবতা মাঝেমাঝে ভেঙে দিয়ে যাচ্ছে যানবাহনের মৃদু বা তীব্র গুঞ্জন। আজকাল সবাই যান্ত্রিক কোলাহল শুনেই অভ্যস্ত। স্টেডিয়ামের ওপাশটায় বিদঘুটে সব মিউজিক বাজানোর জিনিসপত্র এনে
বীজ
শবনম্‌ খুব ভালো আদর করে। আনন্দ এই আদরের সময় সব কিছু ভুলে যায়। ওর কাজ, ওর হেরে যাওয়া, রেজাল্ট ভালো না হওয়া, মায়ের মানসিক দুর্বলতা, বাবার বীভৎস মৃত্যু... সব কিছু। কিন্তু বিয়েটা ওদের দুজনের কিছুতেই করা হবে না। শবনম্‌
অ-শূন্য সম্ভাবনা
সৈনিক যেমন যুদ্ধে যাওয়ার আগে প্রস্তুতি নেয়, প্রতিদিন সকালবেলা অ্যাডেল কাজে যাওয়ার জন্য ঠিক সেইভাবেই যেন তৈরি হয় । প্রথমে একটু ঠাকুর দেবতার নাম করে নেয়, তার আইরিশ পূর্বপুরুষের আরাধ্য ক্রিশ্চান ঈশ্বর ও
নীল গিনিপিগ
(১)
গ্রীষ্মের দাবদাহে শহরবাসীর প্রাণ ওষ্ঠাগত। কিছু বছর আগেও কলকাতায় এত গরম শোনা যেত না। টেম্পারেচারের পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে। ঘরে এসি লাগানো এখন আর বিলাসিতা নয়। কৃষ্ণেন্দুদের দমদমের কলোনি এলাকাতেও
কলাবতী
পর্ব এক
অনেকক্ষণ ধরে বাড়ির সামনে পায়চারি করছে একটা লোক। তিনবার কলিং বেল বাজিয়েছে। ভেতরে আওয়াজ গেছে কি না বোঝার উপায় নেই। বাইরে এত হাওয়া চলছে যে কান-মাথা সব মোটা টুপিতে বন্ধ। কিন্তু ওপাশের বাড়ির জানলা দিয়ে ইতিমধ্যেই
ফর্মুলা ১৬
ভানুদার ধনকাকার বিস্ময়কর গবেষণার কথা যদিও যাকে বলে প্রকাশিতব্য নয়, তবু এমন মূল্যবান তথ্য থেকে জনগণকে বঞ্চিত করা কত বড় অন্যায় কাজ হবে, শুধু সেই কথা ভেবেই পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে না হলেও, মোটামুটি সব কথা ফাঁস করে
আইসবার্গ
‘সেই ভদ্রলোকের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল জানিস?’ সাইকেলের স্পিড একটু না কমিয়ে কথা গুলো আমাদের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে গেল বুবলাই।
     আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে হাওয়া। লম্বা চক্কর কাটতে পাড়ি দিয়েছে পার্কের ওই প্রান্তে। ঠিক
এণাক্ষী চট্টোপাধ্যায়ের কল্পজগত
বিখ্যাত শিল্পপতি শ্রী ঘনশ্যাম রামের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকারের প্রশ্ন নিয়ে এক বিরাট মামলা হয় যেখান থেকে উঠে এসেছিল গভীর একটা ইতিহাস যেখানে জিন প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি আগামীর হিমশিশুরা
আকাশ-গঙ্গার মুলুকের তিনটি গল্প - তারার থেকে তারায় ঘুরে বেড়ানোর যুগের উপকথা
টিপি-পাখি হেঁকে উঠল, ‘শোনো!’
কুম্বজা তারামন্ডলের, জেহানা গ্রহের সারস মানুষের একটি লোককথা।
সে অনেক দিন আগের কথা। মানুষ তখন সারস সমতলের উর্বর

অসামান্য প্রচ্ছদ এঁকে সংখ্যাটিকে সর্বাঙ্গসুন্দর করে তুলেছেন শ্রীমতী পম্পা প্রধান।

রণেন ঘোষ (১৯৩৬-২০১৯) – বাংলা কল্পবিজ্ঞানের এক অন্যতম শেষ মোহিকান

রণেন ঘোষ (১৯৩৬-২০১৯)

রণেন ঘোষ আর নেই। রবিবারের সকালে মৃত্যু হয়েছে এই অশীতিপর তরুণের। দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে অসুখের সঙ্গে লড়তে লড়তে অবশেষে হার মানতে হল আমাদের অত্যন্ত প্রিয়, কাছের মানুষটিকে। তবে রণেনবাবুর মতো সৃষ্টিশীল মানুষ তাঁর কর্মকাণ্ডের ভিতর দিয়ে জীবনের কাছে চিরবিজয়ী হয়ে থাকবেন। মৃত্যুর সাধ্য নেই সেখানে নাক গলায়।

     বাংলা কল্পবিজ্ঞানের প্রবাদপুরুষ [আরো পড়ুন]

Read more →

বঙ্গনারীর কল্পবিজ্ঞান: একটি পর্যবেক্ষণ

মেয়েদের লেখা কল্পবিজ্ঞান। কথাটার মধ্যে কেমন যেন একটা তাচ্ছিল্য রয়েছে, না? ঠিক যেমন মাধ্যমিক বা অন্যান্য পরীক্ষায় ‘মেয়েদের মধ্যে প্রথম’ শুনলে মনে হয়। বলা যেতে পারে, লেখা শেষ পর্যন্ত লেখা। তাকে মেয়ের লেখা, ছেলের লেখা, বয়স্ক মানুষের লেখা, কমবয়সির লেখা এভাবে ভাগ করে কী লাভ? কথাটা একদিক দিয়ে হয়তো ঠিক। কিন্তু আরও একটু তলিয়ে ভাবলে বোঝা যায় এর পিছনে লিঙ্গ বৈষম্য, [আরো পড়ুন]

Read more →

যযাতিয় লালসায়…

সকালের প্রায় সমস্ত কাগজগুলোতেই জ্বলন্ত শিরোনাম।

     ‘বলিউডের লাস্যময়ী অভিনেত্রী ভিষ্মিকা অগ্নিদগ্ধ। তিনি একটি চলচ্চিত্রের দৃশ্যের শুটিং এর সময় অগ্নিদগ্ধ হন এবং ঐ চলচ্চিত্রের নায়ক তাকে শ্যুটিং কক্ষ থেকে উদ্ধার করেন। উল্লেখ্য ওই দৃশ্যের শুটিং-এর জন্য যাবতীয় সুরক্ষার ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এতদ সত্ত্বেও অভিনেত্রী ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হলেন।’

  [আরো পড়ুন]

Read more →

গ্রীন কার

কাহিনি সূত্র

স্বার্থলোলুপ মানুষগুলোর হাত এড়িয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে অপর্ণা। যে করেই হোক তাকে রক্ষা করতে হবে বিজ্ঞানী আশিস বসুর অবিস্মরনীয় আবিষ্কার ‘গ্রীন কার’। গ্রীন কার একটি নতুন ধরনের গাড়ির মডেল। যে গাড়ি পেট্রোলে নয়, চলবে হাইড্রোজেন গ্যাসে। হাইড্রোজেন-কার যদিও নতুন কোনও আবিষ্কার নয়, তবে আশিসের আবিষ্কারের অভিনব বিষয় হল, হাইড্রোজেন পেতে আশিস ব্যবহার [আরো পড়ুন]

শ্যাওলা

ঝুরি দিদা ভূত দেখতে পেত। মরে যাওয়া মানুষ, জীবজন্তু, গাছপালা… সব। কতবার বাতাসের গায়ে হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলতে দেখেছি সেজ দাদু, বাগানের শুকিয়ে যাওয়া বনতুলসী বা গাড়ির তলায় চাপা পড়া আমাদের আদরের মেনিটার সঙ্গে। সবাই বলত ঝুরি দিদা নাকি পাগল। চোখে মোটা চশমা আঁটা রাঙাজেঠু ছিল সায়েন্সের টীচার, মাঝে মাঝে ভুরু কুঁচকে উদাস স্বরে বলত, “হয়ত অন্য কোনো তরঙ্গ প্রবাহের [আরো পড়ুন]

শূন্যকাননের ফুল

মারিওভা কফি জয়েন্ট

‘নতুন কফি জয়েন্টটায় গেছিলে কোনওদিন?’

     ‘কোনটা?’

     এরো-স্কুটিটাকে কায়দা করে হাওয়ায় ভাসিয়ে রেখেছিল জারা। নোয়ার ঝুলবারান্দার ঠিক একতলে, একদম নোয়ার মুখোমুখি। কথা বলতে বলতে একটু ছুঁয়ে নিচ্ছে নোয়াকে। ওর চুল, গাল, ঠোঁট। এভাবে ছুঁতে ওর ভালো লাগছে। বিশেষ করে নোয়ার ঠোঁট ছুঁলে ওর শরীরের মধ্যে কী যেন একটা হচ্ছে। এরকম তো আগে কখনও হয়নি। প্রতিদিন [আরো পড়ুন]

বুনিষ বন্ধু

(১)

‘তুই অতদূরে যাবি?’ বলে উঠল মা। অনুষ্কা সমাজসেবা, মানে কমিউনিটি সার্ভিসে, যাচ্ছে। আজকাল ওদের স্কুলে বাচ্চাদের সমাজসেবা করা বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। যে যার ইচ্ছামতো কাজ করতে পারে, যেমন গাছ লাগান, রাস্তা বা বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা, গরিব বাচ্ছাদের পড়ান। কিন্তু অনুষ্কার পছন্দ, সমাজের বয়স্ক মানুষ, যারা একা থাকেন তাঁদের দেখাশোনা করা।  ওদের স্কুল থেকে কয়েকটা [আরো পড়ুন]

অ-শূন্য সম্ভাবনা

সৈনিক যেমন যুদ্ধে যাওয়ার আগে প্রস্তুতি নেয়, প্রতিদিন সকালবেলা অ্যাডেল কাজে যাওয়ার জন্য ঠিক সেইভাবেই যেন তৈরি হয় । প্রথমে একটু ঠাকুর দেবতার নাম করে নেয়, তার আইরিশ পূর্বপুরুষের আরাধ্য ক্রিশ্চান ঈশ্বর ও তার আফ্রিকান পূর্বপুরুষের আরাধ্য ওরিশা – দুই পক্ষকেই মন ভরে ডাকে সে। দ্বিতীয় দলটির সঙ্গে অবশ্য তার খুব একটা পরিচিতি নেই, কিন্তু সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

[আরো পড়ুন]

মেরিলিন

“তুমি হলে গিয়ে একখানা যন্ত্র।” রেইন অরবিসন বলল, বর্মে ঢাকা মুঠোখানা ওর সামনের ল্যাব বেঞ্চের ওপর ঘুঁষিয়ে। “কাজেই আমি যা বলব তাই তোমাকে করতে হবে।”

     ও কিন্তু তখনও নিজের মুখ ঢেকে রাখা হাতদুটি সরায়নি।

     “থামাও এসব!!!”

     “আমি দুঃখিত”, ফুঁপিয়ে উঠে বলল মেরিলিন। চুমকি শলমা দেওয়া পোশাকের নীচে তার নিখুঁত কাঁধদুটি কেঁপে কেঁপে উঠল। “মিস্টার অর্বিসন, আমি সত্যি [আরো পড়ুন]

আকাশ-গঙ্গার মুলুকের তিনটি গল্প – তারার থেকে তারায় ঘুরে বেড়ানোর যুগের উপকথা

টিপি-পাখি হেঁকে উঠল, ‘শোনো!’

কুম্বজা তারামন্ডলের, জেহানা গ্রহের সারস মানুষের একটি লোককথা।

সে অনেক দিন আগের কথা। মানুষ তখন সারস সমতলের উর্বর নদী উপত্যকায় সবে বসবাস করতে শুরু করেছে। সেখানে একটি টিপি পাখি ছিল। সে সময়ে টিপি পাখিরা শুধুমাত্র আজকের মতো কৌতুহলীই ছিল না, তারা কথা বলতেও পারত। তারা মানুষের বাড়ি-ঘর-দোরের কাছাকাছি নদীর তীরে বসে বসে সারাদিন ধরে [আরো পড়ুন]

মাংসজীব

     –ওরা মাংসের তৈরী।

     –মাংস? বলো কী?

     –হ্যাঁ মাংস। মাংস দিয়ে তৈরী করা হয়েছে ওদের।

     –আজব কাণ্ড! মাংস দিয়ে তৈরী হতে পারে এমন জিনিস?

     –তা আর বলছি কী! আমরা ওদের বেশ কয়েকটিকে ধরে নিয়ে এসেছি গ্রহের বিভিন্ন জায়গা থেকে। ল্যাবে নিয়ে তাদের আগাপাশতলা বিস্তর পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখলাম তাদের সমস্তটাই মাংসের তৈরী।

     –অসম্ভব কথা। মাংস থেকে রেডিয়ো সিগন্যাল [আরো পড়ুন]

শিল্পী মাকড়সা

জোম্বি যায় না, যায় না, যদি না তুমি যেতে বলো,

জোম্বি!

জোম্বি!

জোম্বি থামে না, থামে না, যদি না তুমি থামতে বলো,

জোম্বি ঘোরে না, ঘোরে না, যদি না তুমি ঘুরতে বলো,

জোম্বি!

জোম্বি ভাবে না, নিজে ভাবে না, যদি না তুমি ভাবতে বলো

–       [‘জোম্বি’ গানের অংশবিশেষ, লেখক ফেলাকুটি, নাইজিরিয়ার মিউজিশিয়ান ও স্বঘোষিত নিপীড়িত শ্রেণির মুখপাত্র।]

আমার বর আমায় নিয়ম করে পেটাত। যেদিনের কথা, [আরো পড়ুন]

ক্লাউন – আতংক

ঊনত্রিংশ শতাব্দী। ক্লাউনরাই এখন জগৎ শাসন করে। পৃথিবী বর্জন করেছে টেকনোক্রেসিকে। টেকনোক্রেসিই এই পৃথিবীতে মারাত্মক সব প্রাণঘাতী অস্ত্রের জন্ম দিয়েছে যা একসময় এই পৃথিবীকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। দুনিয়া আজ তাই দুটো সমান্তরাল ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। এর একটা অংশ শাসন করে কিং ক্লাউন আর অন্যটা রেক্স করিডন। কিং ক্লাউন তাঁর প্রাণোচ্ছল স্বভাবের জন্য পরিচিত। [আরো পড়ুন]

এণাক্ষী চট্টোপাধ্যায়ের কল্পজগত

বিখ্যাত শিল্পপতি শ্রী ঘনশ্যাম রামের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকারের প্রশ্ন নিয়ে এক বিরাট মামলা হয় যেখান থেকে উঠে এসেছিল গভীর একটা ইতিহাস যেখানে জিন প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি আগামীর হিমশিশুরা অপেক্ষা করে থাকবে সভ্যতার ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। অথবা চলে যাওয়া যাক ত্রয়োবিংশ শতাব্দীতে, যেখানে প্রজেক্ট ঊর্বশীর মাধ্যমে অমরত্বের সন্ধানে বিজ্ঞানের [আরো পড়ুন]

Read more →

জ্যামিতির ইতিহাসের গালিচা

আমরা সবাই জানি যে মানুষের উৎস আফ্রিকায়। তবে আফ্রিকা যে মানুষের গণিত ভাবনারও অন্যতম উৎস, সে কথাটা সবাই হয়তো জানেন না। কঙ্গোর নিবাসী ঐতিহাসিক এবং মিশর বিশেষজ্ঞ থিওফিলিক ওবেঙ্গা লক্ষ্য করেছেন যে প্রাচীন মিশরের জ্যামিতিচর্চার ঐতিহ্যের সঙ্গে সাহারার দক্ষিণে আফ্রিকার আদিম মানুষের জ্যামিতির ঐতিহ্য অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। আফ্রিকার বালি শিল্প আর বোনার কাজে [আরো পড়ুন]

Read more →

লাল শৈবাল

মঙ্গল গ্রহ: সন ২১১৮

     চারপাশে সুনসান নিরবতা মাঝেমাঝে ভেঙে দিয়ে যাচ্ছে যানবাহনের মৃদু বা তীব্র গুঞ্জন। আজকাল সবাই যান্ত্রিক কোলাহল শুনেই অভ্যস্ত। স্টেডিয়ামের ওপাশটায় বিদঘুটে সব মিউজিক বাজানোর জিনিসপত্র এনে জড়ো করা হচ্ছে, কীসের নাকি কনসার্ট হবে। গতানুগতিক ঝক্কি ঝামেলা, ইলেকট্রিক তারের সুরবেদনা আর খানিক লম্ফঝম্প। বাঙালি পাড়ার মাঝ বরাবর দিয়ে টানা [আরো পড়ুন]

পাল্টা

একটা বিশেষ রকমের কাচের জার। গোলাকৃতি। লম্বাটে গলা। অর্ধেক একধরনের প্রিজারভেটিভ ফ্লুইডে ভর্তি। হালকা সবুজ। ঠাহর করে দেখলে বোঝা যায়, সবকটি কাচের জারের মধ্যে রয়েছে একটি করে ভ্রূণ। কোনওটিই মৃত নয়। তরলের মধ্যে ভাসমান ওই হালকা সবুজ রঙের একটি করে ডিম্বাশয়। ভ্রূণগুলি ওই কৃত্রিম ডিম্বাশয়ের মধ্যে চমৎকার বেড়ে উঠছে। তাপমাত্রা অবিকল মানবদেহের এবং অন্যান্য [আরো পড়ুন]

সবুজ

ও আমার দিকে তাকালো। না না, আমি আমার দিকে তাকালাম। ওর চোখে ঘৃণা। আমি আমাকেই ঘৃণা করছি এখন। বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে? চলুন, বরং আমি ওয়ান, আমি টু করে বলি আমাদের। আমার এই দ্বিতীয় আমির বয়স প্রথম আমার থেকে এক ইয়ুথ ইয়ার কম। আমি টু হলাম আমি ওয়ানের ক্লোন। যৌবনে পা দিয়ে আমি নাম্বার ওয়ান প্রথম যখন প্রেমিকাকে আদর করতে করতে জানতে পেরেছিলাম আমার পক্ষে ওকে সুখী করা সম্ভব নয়, [আরো পড়ুন]

বীজ

শবনম্‌ খুব ভালো আদর করে। আনন্দ এই আদরের সময় সব কিছু ভুলে যায়। ওর কাজ, ওর হেরে যাওয়া, রেজাল্ট ভালো না হওয়া, মায়ের মানসিক দুর্বলতা, বাবার বীভৎস মৃত্যু… সব কিছু। কিন্তু বিয়েটা ওদের দুজনের কিছুতেই করা হবে না। শবনম্‌ আনন্দর গলার কাছে নাক ঘসতে ঘসতে বলে, “তোর বাবা যদি বেঁচে থাকত তাহলে আমি কিছুতেই তোকে ছাড়তাম না।” আনন্দ জানে, মা শবনম্‌-এর কথা জানতে পারলেই আবার [আরো পড়ুন]

বনলতা

আবার সেই পিঁ-পিঁ বিপ-বিপ শব্দ। আবার হচ্ছে সেই – মাথার মধ্যে কানের মধ্যে। অসহ্য যন্ত্রণায় যেন ফেটে যাচ্ছে সারা শরীর। রোজ কি একই সময়ে এটা হচ্ছে? এই নিয়ে কদিন যেন হল? তিন দিন, না কি চার দিন? ছুঁচ ফুটছে শরীরের সব নরম জায়গায়।

     সে দম বন্ধ করে থাকলো কয়েক মিনিট। তাও মুক্তি কই! পরের স্টপেই নেমে পড়তে বাধ্য হল না পেরে। আর নামতেই তুমুল বৃষ্টি; এই নভেম্বরে বৃষ্টি! যেন [আরো পড়ুন]

নীল গিনিপিগ

(১)

গ্রীষ্মের দাবদাহে শহরবাসীর প্রাণ ওষ্ঠাগত। কিছু বছর আগেও কলকাতায় এত গরম শোনা যেত না। টেম্পারেচারের পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে। ঘরে এসি লাগানো এখন আর বিলাসিতা নয়। কৃষ্ণেন্দুদের দমদমের কলোনি এলাকাতেও এখন ফিনান্সে লোকে এসি কিনছে। কৃষ্ণেন্দু সামনের মাসে মাইনে পেলে এসি কিনবে। রাতে কোনওরকমে হাঁসফাঁস করতে করতে ঘুমানো। ভোর পাঁচটায় মোবাইলে অ্যালার্ম [আরো পড়ুন]

কলাবতী

পর্ব এক

অনেকক্ষণ ধরে বাড়ির সামনে পায়চারি করছে একটা লোক। তিনবার কলিং বেল বাজিয়েছে। ভেতরে আওয়াজ গেছে কি না বোঝার উপায় নেই। বাইরে এত হাওয়া চলছে যে কান-মাথা সব মোটা টুপিতে বন্ধ। কিন্তু ওপাশের বাড়ির জানলা দিয়ে ইতিমধ্যেই উঁকি দিয়েছে একটা মুখ। এদিকের বাড়ির ঝোলানো বারান্দায় এসে ভৌ ভৌ ডাকে বিরক্তি প্রকাশ করেছে আর্নল্ডের টেরিয়ারটা। কি যেন নাম ছিল, টিয়া বলেছিল। [আরো পড়ুন]

ফর্মুলা ১৬

ভানুদার ধনকাকার বিস্ময়কর গবেষণার কথা যদিও যাকে বলে প্রকাশিতব্য নয়, তবু এমন মূল্যবান তথ্য থেকে জনগণকে বঞ্চিত করা কত বড় অন্যায় কাজ হবে, শুধু সেই কথা ভেবেই পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে না হলেও, মোটামুটি সব কথা ফাঁস করে দিচ্ছি। তবে বলা বাহুল্য, নামধাম ইত্যাদি সমস্তই আমার কল্পনাপ্রসূত। কারণ পাত্রপাত্রীদের কেউ কেউ বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে অমরত্ব দাবি করতে [আরো পড়ুন]

বাতাসে স্বপ্ন ভাসে

মাথায় তীব্র একটা যন্ত্রণা নিয়ে ঘুম ভাঙল মোহরের। কিছু দেখতে পাচ্ছিল না। জমাট নিরেট অন্ধকার। ওঠার চেষ্টা করেও পারল না। হাত পা নড়ছে না। নরম কাদা কাদা কোন জায়গায় ও শুয়ে আছে। আমি কোথায়, কি করে এলাম? ভাবার চেষ্টা করল। নিরেট অন্ধকারের মতো নিরেট নিস্তব্ধতা। অগত্যা মোহর আবার চোখ বুজে ফেলল। যেখানে চেষ্টা করে লাভ নেই সেখানে বিনা চেষ্টায় পড়ে থাকাই ভাল। অযথা শক্তি ক্ষয় করে কী হবে?

[আরো পড়ুন]

ভালোবাসা ডট কম

অনসূয়া দাঁড়িয়েছে এসে আয়নার সামনে। আধো অন্ধকার ঘর। পিছনের জানালায় এক টুকরো আকাশের ছায়া দেখা যাচ্ছে। আয়নাটা দেখতে দেখতে একটা কুয়ো হয়ে যাচ্ছে। দেখলে মনে হবে তার তল নেই। অনসূয়া জানে ওই কুয়োটায় ঘোলা জল, অনেক গভীরে থকথকে কাদা। ওর মধ্যে নিজের প্রতিবিম্ব দেখছে অনসূয়া। নিজের ভাঙাচোরা প্রতিচ্ছবি দেখছে। এখানে বাতাস কম। দম বন্ধ হয়ে আসছে অনসূয়া…!

     ঘুমটা ভেঙে [আরো পড়ুন]

কাঁটাচুয়া

ডক্টর প্রণব নাথ একজন বছর তেত্রিশের এমবিবিএস ডাক্তার, নিজের বিচারেই তিনি সাধারণ। অল্পস্বল্প প্রাইভেট প্র্যাকটিশ আর বেসরকারি হাসপাতালের সহযোগিতায় তার দিনকাল ভালই কাটে। স্ত্রী এবং চার বছরের মেয়ের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া, এক সঙ্গে টিভি দেখা, সময়মতো খাওয়া-দাওয়া, আরাম-বিশ্রামের সুযোগ পান। অধিকতর সফল বন্ধুবান্ধব কি দামি ডাক্তাররা যখন পিঠ-চাপড়ানোর [আরো পড়ুন]

মেমারি চিপ

টিফিনের বাক্সটা খুলে টুপুরের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। শ্রুতি বলল, কীরে, টুপুর কাঁদছিস কেন? টুপুর বলল, কিছু না, এমনি। শ্রুতি ওর ছোট্ট দু-হাতের পাতা জড়ো করে টুপুরের গালটা ধরে বলল, জানিস না, বেস্ট ফ্রেন্ডকে মিথ্যে কথা বলতে নেই। শ্রুতির কথায় টুপুরের আরও কান্না পেল। চোখ দুটো জলে ভেসে গেল। সেই দেখে শ্রুতি বন্ধুকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল। কোনওরকমে কান্নাটা সামলে [আরো পড়ুন]

মৃত্যুদণ্ড

বাইরে ঝড়ো হাওয়া বইছে, কদিন ধরে বঙ্গোপসাগরের উপর যে নিম্ন চাপটা জমে ছিল তা আজ উপকূলে আছড়ে পড়েছে সজোরে। রায়পুরে গঙ্গার ধারে এই বাড়িটা তিনশো বছরের পুরানো। ঝড়ের তাণ্ডবে কড়িবর্গা কেঁপে কেঁপে উঠছে। ডঃ রায় দোতলার বারান্দায় এসে দাঁড়ান। ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে আসছে, কিন্তু দু চোখে রয়েছে এক নতুন আশা। তিন বছর ধরে গবেষণা করে আজ প্রায় সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছেন [আরো পড়ুন]

যন্ত্রিনী

কথাটা কানে যাচ্ছে না?

     রুবু চুপচাপ।

     কি হল? লীনা বলে উঠল।

     রুবু একটু ঘুরে ফিরে থেমে গেল মেঝের ওপর।

     লীনা রিমোটের বাটন নিয়ে দক্ষ যজ্ঞ বাধিয়ে ফেলার আগেই অতনুর ফোন ঘোরাল। এই দেখ, তোমার রোবট মেইড আমার কোনও কথাই শুনছে না। অতনু বলল, পড় ওর গায়ের মিনি এলসিডি স্ক্রিনে কী লিখছে সে।

     লীনা বলল যে প্রথমে স্ক্রিনে ফুটল Error, আমি ম্যানুয়াল খুলে পড়লাম। প্রথমে রেড [আরো পড়ুন]

আইসবার্গ

‘সেই ভদ্রলোকের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল জানিস?’ সাইকেলের স্পিড একটু না কমিয়ে কথা গুলো আমাদের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে গেল বুবলাই।

     আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে হাওয়া। লম্বা চক্কর কাটতে পাড়ি দিয়েছে পার্কের ওই প্রান্তে। ঠিক জানি আবার এই পথেই ফিরে আসবে তাই অপেক্ষা করতে লাগলাম সবাই – মানে আমি, অপু আর টোটোন।

     কয়েক মিনিটের মধ্যেই আবার তার আগমন। প্যাডেল ঘুরছে বাঁই বাঁই, [আরো পড়ুন]

যদি

এক…

আলো ভালো করে ফুটতে না ফুটতেই হালুম-গোলুমকে তাড়া লাগায় দিদুন, “চটপট রেডি হয়ে নে। একজায়গায় নিয়ে যাব।” দাদাভাই অবিশ্যি ওদের পক্ষ নিয়ে বলতে যায়, “আহা, ওদের যে এখনও উড়োজাহাজের খোঁয়ারি কাটে নি। কাল গেলে হত না? মর্ণিং ওয়াক তো পালিয়ে যাচ্ছে না।” হালুম-গোলুম মজা পায়, “দাদাভাই ইজ সো ফানি! হোয়াটস আ খোঁয়ারি? ইউ নো গোলুম?” “নোপ।” গোলুম চাঁচাছোলা, “সাম ল্যাঙ্গোয়েজ [আরো পড়ুন]

যন্ত্রণানিরোধক যন্ত্র

হ্যালো, হ্যালো!

     হ্যাঁ, কে বলছ।

     এই, এই, আমি নন্দিতা বলছি। চাপা গলায় বলল নন্দিতা। মানে স্বাভাবিক গলায় বলবে ভাবল কিন্তু বলাটা হয়ে গেল কেমন ত্রস্ত, ভয়ভীত। চাপা।

     নন্দিতার ভয়, বড় ভয়।

     হ্যাঁ নন্দিতা, বল বল। হাতের আঙুলে লেগে থাকা জ্যামটুকু চেটে নিল সুনেত্রা। এখুনি দুটো বিস্কুটের মাঝখানে জ্যাম লাগিয়ে খাচ্ছিল। বিন্দাস সুনেত্রা খাওয়া দাওয়ায় দিল দরিয়া।

  [আরো পড়ুন]

শুভাকাঙ্খী

বুধবার বিকেল চারটে

আজ প্রায় পাঁচ দিন হয়ে গেল-এত লোক দেখেছে ভিডিয়োটা, প্রায় ভাইরাল হয়ে গেছে। প্রথমদিকে মুকুলকে প্রায় মেরে ফেলার ইচ্ছেটা এখন অনেক প্রশমিত। শুধু একটা প্রচন্ড তিক্ত স্বাদ মুখে। মেট্রোরেলের জানলা থেকে দ্রুত বদলে যাওয়া শহর… আমি দেখতে পাচ্ছিনা আর কিছুই– শুধু ধূসর, বিবর্ণ আর অগুনতি মানুষ। গতকাল বিকেলে টালিগঞ্জ স্টেশনে নামার পর আমার সব [আরো পড়ুন]

সময়চক্র

(১)

পঁচিশ তলা উঁচু বিল্ডিংটার একেবারে উপরের ঘরটিতে একটি অত্যাধুনিক ফ্লাইং চেয়ারে চোখ বন্ধ করে বসে আছেন বছর সাতাত্তরের এক ভদ্রলোক। তাঁর কপালে একটি চেরা দাগ।

     পিছনের স্বচ্ছ কাঁচের দেওয়াল ভেদ করে দেখা যাচ্ছে কিঞ্চিৎ ধূসর রঙের আকাশটা। সেই আকাশের বুকে অনবরত টহল দিচ্ছে কয়েকটি ‘ই.আর.জি ৪৫’। এক্সট্রা অর্ডিনারি রোবোটিক গার্ড। ২০৪৫ সালের সেরা আবিষ্কার। [আরো পড়ুন]

নবজাতক

–সিস্টার, বাচ্চাটা এখনও কাঁদেনি? মিনিট দুয়েক তো হয়ে গেল ডেলিভারীর?

     –না স্যার, এখনও কাঁদেনি। ভালো করে দেখুন তো বাচ্চাটার মুখটা কেমন হাসি হাসি আর পরিণত! আর তাকানোটাও লক্ষ্য করুন, আমার দীর্ঘ বারো বছরের নার্সিং প্রফেশনে এরকম স্পষ্ট চোখের ভাষাওয়ালা বাচ্চা কখনও দেখিনি।আর এমনি তো সব কিছুই স্বাভাবিক দেখছি।

     –হুমম্। কিন্তু, বাড়ির লোকজন তো বাইরে অপেক্ষা [আরো পড়ুন]

আত্মীয়

পূর্ণিমার রাতে একটু আধটু বাড়ির সামনের খোলা জায়গায় পায়চারি করাটা বহুদিনের অভ্যেস। সেদিনও চাঁদের আলো এসে ঘরের জানালা দিয়ে বেডকভারের ফুল লতাপাতার ওপর পড়তেই আমি পায়ে স্যান্ডেল গলাতে গলাতে থমকে গেলাম। কেউ একজন ছুটে আসছে আমার বাড়ির দিকে। কিছু একটা বলতে বলতে আসছে! কে রে বাবা? এমন চাঁদনী সন্ধ্যেটা মাটি করবে! একেই তো জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। ওদিকে অনলাইনে [আরো পড়ুন]

error: Content is protected !!