জেমস পটার অ্যান্ড দ্য হল অফ এল্ডারস ক্রসিং – পার্ট ১২

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ

ভিসাম-ইনেপ্সিও

জ্যাক্সনের ব্রিফকেসটা হাতানোর জন্য জেমসদের সামনে প্রথম যে বাধা টপকানো দরকার সেটা হলো একটা প্রায় একইরকম দেখতে ব্রিফকেস জোগাড় করা। জ্যান যেমনটা বলেছিল ঠিক তেমনই ওটা একটা সাধারণ চামড়ার ব্যাগ। ব্রিফকেসের তুলনায় অনেক বেশী পরিমাণে ডাক্তারি ব্যাগের মতো দেখতে।  সোমবার রাতে ডিনার করার সময় ফ্যাকাল্টিদের টেবিলে বসা প্রফেসরের পায়ের কাছে রাখা ব্যাগটাকে ওরা ভাল করে দেখে নিলো। ওপরে কাঠের হাতল, পেতলের চেন লাগানো এবং গোটা গায়ে অজস্র আঁচড়ের দাগ। একটা জিনিস দেখে ওদের হতাশা আরো বাড়লো। সেটা হলো একটা পেতলের পাত,যা লাগানো আছে কেসটার গায়ে। যার ওপর খোদাই করা আছে “টি.এইচ. জ্যাক্সন”। বুঝতে অসুবিধা নেই এটার মতো দেখতে আর একটা ব্রিফকেস খুঁজে পাওয়া মুশকিল। অনেক ছাত্র ছাত্রীর কাছেই চামড়ার কেস বা পোর্টফোলিও আছে কিন্তু ওটার মতো একটাও নয়। হয় ওর থেকে রোগা বা সরু, রঙ আলাদা। মঙ্গলবার রাত অবধি ওরা এমন কোনো ব্রিফকেস খুঁজে পেল না যেটার সঙ্গে অদলবদল করা যেতে পারে। র‍্যালফ আর একটা সপ্তাহ অপেক্ষা করার কথা বললো কিন্তু জেমস এ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে আগ্রহী।

‘আমরা জানিনা ওরা কবে তিনটে রেলিককে একত্র করার দিন স্থির করেছে। আমরা যদি অপেক্ষাতেই সময় কাটিয়ে দিই, ওরা ওটা হয়তো করে ফেলবেন। আর কিছুই পাবো না। কারণ যখন ওঁরা বুঝতে পারবেন ওগুলো কোন কাজের নয় তখন হয় ওঁরা রেলিকগুলোকে নষ্ট করে দেবেন অথবা আবার লুকিয়ে রেখে দেবেন।’

র‍্যালফ আর জ্যান কথাটা মেনে নিলো। কিন্তু তাতে তো ব্রিফকেস খুঁজে পাওয়ার সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। বুধবার অর্থাৎ যেদিন টেকনোম্যান্সির ক্লাস সেদিন র‍্যালফ ব্রেকফাস্ট টেবিলে এলো চোখে মুখে একটা অদ্ভুত ভাব নিয়ে। জ্যান আর জেমসকে আগাপাস্তালা দেখলো চেয়ে চেয়ে।

জেমস জানতে চাইলো, ‘কি ব্যাপার রে?’

‘আমার মনে হচ্ছে আমি একটা কেস খুঁজে পেয়েছি যেটা আমরা ব্যবহার করতে পারি।’

জেমসের মুখ হাঁ হলো আর জ্যান সজোরে শব্দ করে বাকি কফিটা এক চুমুকে খেয়ে নিলো।

‘সত্যি? কোথায়?’ জেমস চাপা ফিসফিসানির স্বরে জানতে চাইলো। ও সিদ্ধান্ত নিয়েই নিয়েছিল যে অপেক্ষা করা ছাড়া গতি নেই।  যেটা একই সঙ্গে ওকে উদ্বিগ্ন করছিল এবং স্বস্তি দিচ্ছিল। কিন্তু এখন আবার শুরু হলো আ্যড্রেনালিনের নাচানাচি। র‍্যালফের ফ্যাকাশে মুখ আর বিস্ফারিত চোখ দেখে বোঝা যাচ্ছিলো যে সেও উত্তেজনায় ভুগছে।

‘তোরা আমার বন্ধু রুফাস বারটনকে চিনিস?’

জেমস মাথা নেড়ে বললো, ‘হ্যাঁ, স্লিদারিন প্রথম বর্ষ। তেল চটচটে চুলওয়ালা ছেলেটা তো?’

‘হ্যাঁ। ওর নুড়ি পাথর জাতীয় বস্তু সংগ্রহের শখ আছে। নিজেকে বলে “রক হাউন্ড’। ওর বিছানার কাছের শেলফে চকচকে পালিস করা অনেক ছোটো ছোটো পাথর সাজানো আছে। সেখানে ক্রিস্টাল আছে কোয়ার্টজ আছে আবার মুন-স্যাফায়ারও আছে। কাল রাতে প্রায় একঘণ্টা এসব নিয়ে ওর বকবক শুনেছি। রক হান্টিং এর সব সরঞ্জাম ও সঙ্গে করেস্কুলে নিয়ে এসেছে। ওর কাছে একটা হাতুড়ি আছে যার অন্য দিকটায় রকমারি যন্ত্রপাতি আটকানো আছে। সঙ্গেই আছে ছোট ছোট অজস্র কাপড়ের টুকরো আর পালিস করার জিনিস।’

জ্যান বললো, ‘বুঝলাম, বুঝলাম।  ছেলেটা যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করার মাস্টার, বুঝে গেছি আমরা। আর বলতে হবে না। কিন্তু আসল কথাটা কি?’

“হ্যাঁ মানে বলছি যে ওই সব জিনিসপত্র ও একটা কেসে করে বয়ে নিয়ে বেড়ায়। কাল রাতে ওটা বের করেছিল…’

জেমস বলে উঠলো, ‘ওটা কি একেবারে আমাদের দরকারের মত দেখতে?’

র‍্যালফ চোখ বড় বড় রেখেই মাথা ঝোঁকালো। ‘প্রায় নিখুঁত বলা যায়। এমন কি ছোট্ট পেতলের পাত ও লাগানো আছে! যার ওপর অবশ্য কোম্পানির নাম লেখা আছে যারা ওটা বানিয়েছে। কিন্তু আছে একেবারে সেই জায়গায় যেখানে জ্যাক্সনের পাতটা লাগানো আছে। রংটা আলাদা, হাতলগুলো হাতির দাঁতের, কিন্তু বাকি সব এক্কেবারে একরকম…’

জেমস দম বন্ধ করা কণ্ঠে বললো, ‘তা ওটা আমরা পাবো কি ভাবে?’

‘আমি ওটা পেয়ে গিয়েছি,’ র‍্যালফ উত্তর দিলো, নিজের প্রতি একটু গর্বের ভাব রেখে। ‘আমি ওকে বললাম আমার একটা বড় ব্যাগ দরকার বই আর পারচমেন্ট নিয়ে যাওয়ার জন্য। আরো বললাম আমার ব্যাকপ্যাকটা ঠিকঠাক স্লিদারিনের মতো নয়। ও বললো বুঝতে পেরেছে আমি কি বলতে চাইছি। ও এই ক্রিসমাসে একটা নতুন যন্ত্রপাতি রাখার ব্যাগ উপহার পেয়েছে। চাইলে আমি ওর পুরানোটা নিতে পারি। ওর নতুন ব্যাগটা নাকি   বেশ বড় এবং ড্রাগনের চামড়া  দিয়ে তৈরি। ওটাতেই সব কিছু ঢুকিয়ে রাখবে বলেই ও পুরানোটাকে ফাঁকা করছে। এমন কি জল নিরোধক পর্যন্ত, ওই বলেছে।’ র‍্যালফ প্রসঙ্গ থেকে সরে যাচ্ছিলো।

জ্যান জানতে চাইলো, ‘হঠাৎই ও বলে দিলো যে তুই ওটা নিতে পারিস?’

‘হ্যাঁ! বললামই তো যে আমি ওটা পেয়ে গেছি। ব্যপারটা আমাকেও একটু ভাবিয়েছিল। মানে বলছি যে, সত্যিই ব্যাপারটা একটু কেমন …আমি ঠিক বলতে পারছি না…’

‘একটু বেশি বেশি রকমের কাকতালীয়,’ জ্যান বললো।

জেমস গম্ভীর ভাবে বললো, ‘কেসটা এখন কোথায় আছে?’

র‍্যালফকে সামান্য অপ্রস্তুত দেখালো। ‘আমি ওটাকে নিচে নিয়ে এসেছি, সিঁড়ির তলার একটা ফোকরে লুকিয়ে রেখেছি। আমি চাইনা ওটা সহ আমাকে কেউ দেখুক। বলা যায় না যদি কোন …’

উঠে দাঁড়িয়ে জেমস বললো, ‘একদম ঠিক ভেবেছিস। চল যাওয়া যাক।’

র‍্যালফ পুনরায় সংশয়ের স্বরে বললো, ‘তুই সত্যিই কাজটা করতে চাইছিস? মানে বলতে চাইছি যে পরের সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করলে হতো…’

‘কিচ্ছু করার নেই কারণ আমাদের সামনে আর কোন পথ নেই।’

র‍্যালফ বিড়বিড় করে বললো, ‘তা হয়তো নয়। সবসময়েই আর একটা কিছু বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা থাকেই। বলতে চাইছি যে, আমাদের কি কাজটা এইভাবেই করতে হবে? আমরা কি কাজটা এইভাবে করতে পারি না? আমাদের মধ্যে কেউ একজন ইনভিজিবল ক্লোকটা পড়ে অদলবদলের কাজটা করে ফেলতে পারি না, জ্যাক্সন যখন অন্যদিকে তাকিয়ে থাকবেন?’

জ্যান মাথা নেড়ে বললো, ‘না পারি না। কারণ জায়গাটা খুব ছোটো। জ্যাক্সন পাইচারী করতে গিয়ে তোর সঙ্গে হোঁচট খেতে পারেন। আমাদের এটা করতে হলে এইভাবেই করতে হবে।‘

‘দ্যাখ, আমার মনে হয় আমরা এটা করতে চাইছি,’ জেমস বললো, দরজার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় র‍্যালফ আর জ্যানের মুখের দিকে তাকিয়ে। ‘যদি নিয়তি বলে কিছু থাকে সেটাই তোকে গতরাতে কেসটা পাইয়ে দিয়েছে র‍্যালফ। আমরা এই সুযোগ ছাড়তে পারি না। এটার অর্থ … নিয়তির মুখের ওপর দরজা লাগিয়ে দেওয়া।’

র‍্যালফ চোখ পিটপিট করে ব্যাপারটা কল্পনার চোখে দেখার চেষ্টা করলো। জ্যান ভাবনাগম্ভীরকন্ঠে বললো, ‘ব্যাপার বেশ গুরুতর।’

জেমস জানতে চাইলো, ‘তোরা দুজন আমার সঙ্গে আছিস কিনা বল?’ দুজনেই সম্মতি সূচক মাথা ঝোঁকালো।

সিঁড়ির তলার ফোকরটাতে দেখা গেল ব্যাগটাকে, র‍্যালফের কথামতোই ওটা জ্যাক্সনের ব্রিফকেসের মতই দেখতে। মরচে লাল রঙের। পাথুরে এলাকায় টেনে হিচড়ে নিয়ে যাওয়ার কারনে সারা গায়ে ঘষা লাগার দাগ। মাপে এবং আকৃতিতে একেবারে দরকার মতো। পেতলের পাতটাও লাগানো আছে সঠিক জায়গাতেই। র‍্যালফ ওর মধ্যে নিজের পোশাকটা ভরেই এনেছিল। জেমস খুলে দেখলো একেবারে একই রকম দেখতে লাগছে ঠিক যেমনটা ও দেখেছিল সেই দিন ফ্রাঙ্কলিনের ক্লাসে।

‘আপার সেলারের বয়েজ বাথরুমে নিয়ে চল এটাকে,’ জেমস বললো, ওদের দুজনের সঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে। ‘ওটা হলের ঠিক নিচে টেকনোম্যান্সি ক্লাস থেকে যাওয়ার পথে। তোর বিশেষ কিছু দরকার আছে জ্যান?’

‘শুধু আমার জাদুদন্ড আর  নোটস,’ জ্যান উত্তর দিলো। হোরাস বারচ উৎসাহের সঙ্গেই জ্যানকে ভিসাম-ইনেপ্সিও ব্যবহার করা শিখিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সুযোগ হয়নি সেটা হাতেকলমে প্র্যাকটিস করে দেখার। তবে এটাও  একটা ব্যাপার যে মন্ত্রটা কাজ করে, যদি আদপেই কাজ করে তবেই, তারই ওপর যে জানে না যে মন্ত্রটা প্রয়োগ করা আছে। যার অর্থ জেমস , র‍্যালফ বা জ্যান বুঝতেই পারবে না ব্যাগটার ওপর মন্ত্রটা আদপেই কোন কাজ করেছে কিনা।  ওদের ভরসা রাখতে হবে জ্যানের জাদুদন্ড ব্যবহারের ওপর এবং অপেক্ষা করতে হবে ততক্ষণ যতক্ষণ না প্রফেঃ জ্যাক্সন নকল কেসটাকে আসল বলে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। একমাত্র এভাবেই, সফলতা বা অসফলতার দ্বারা প্রমানিত হবে মন্ত্রের ক্ষমতা।

বয়েজ বাথরুমে সিঙ্কের ওপর কেসটাকে রাখলো জেমস। জ্যান ব্যাকপ্যাক থেকে নিজের জাদুদন্ড আর নোটস লেখা পারচমেন্ট এর টুকরোটা বার করলো। র‍্যালফকে দিল পারচমেন্টটা।

একটু নার্ভাস ভাবে বললো, ‘এটা এমনভাবে ধর যাতে আমি পড়তে পারি। জাদুদন্ড সহ কেসটার দিকে তাক করা অবস্থায়ওর হাত কাঁপছিল থরথর করে। একটু বাদেই হাতটা নামিয়ে নিয়ে বললো ‘খুবই বিচ্ছিরি ব্যাপার। র‍্যালফতো জাদুদন্ড ব্যবহারে মাস্টার। ও এটা করলে কেমন হয়?’

জেমস অস্থিরস্বরে বললো, ‘হোরাস তোকে শিখিয়ে দিয়েছে মন্ত্রটা কি করে প্রয়োগ করতে হয়। এখন র‍্যালফকে সে সব শেখাতে গেলে অনেক দেরী হয়ে যাবে। ক্লাস শুরু হতে আর পনের মিনিট বাকি।’

‘বুঝতে পারছি,’ জ্যান বললো, ‘কিন্তু আমার মন্ত্র প্রয়োগের পর যদি ওটা কাজ না করে? যদি র‍্যালফ ওটা করতে পারে, বুঝতেই পারছিস অন্যদের বোকাবানাতে ওটা বেশি কার্যকরী হবে।’

জেমস বললো, ‘আর ওর যা সুনাম এসব ব্যাপারে তাতে ওর মন্ত্র প্রয়োগ করাটা যদি ভুল হয়, তাহলে আমাদের এদিকে ওদিকে চামড়ার টুকরোটাকরা খুঁজে বেড়াতে হবে।’

‘আমি কিন্তু এখানেই দাঁড়িয়ে আছি, সেটা ভুলে গেলি নাকিরে?’ র‍্যালফ বললো।

জেমস কথাটায় কান না দিয়ে বললো, ‘জ্যান তোকেই করতে হবে। আমি বলছি তুই পারবি। একবার চেষ্টা করেই দ্যাখ।’

জ্যান গভীর ভাবে একটা শ্বাস নিলো, তুলে ধরলো জাদুদন্ড, তাক করলো ব্যাগটার দিকে। তাকালো র‍্যালফের ধরে থাকা পারচমেন্টটার দিকে। তারপর সুর টেনে টেনে  বললো।

‘চোখের দেখার জন্য দরকার আলোর অমর গতি, যা বাড়িয়ে দেয় আত্মগর্ব। বোকা বানাতে সব হয়ে যাক এলোমেলো, নিশ্চিত হোক ব্যতিক্রমের নিশ্চয়তার পর্ব।’

তিনবার ছোট মাপের বৃত্তাকারে জাদুদন্ডটা ঘুরিয়ে কেসটার ওপর একটা টোকা মারলো জ্যান। একটা পপ ধরনের শব্দ হলো সঙ্গেই হাল্কা আলোর একটা বৃত্ত দেখা গেল জাদুদন্ডের মাথায়। বৃত্তটা আস্তে আস্তে বড় হয়ে কেসটাকে ঘিরে নেমে গেল। ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল বৃত্তটা। জ্যান একটা বড়সড় নিঃশ্বাস ফেললো।

র‍্যালফ জানতে চাইলো, ‘কাজটা হলো কি?’

জেমস বললো, ‘হতেই হবে। আমাদের কাছে এটা একইরকম দেখাবে যদিও কিন্তু কিছু একটতো হলোই, কি বলিস জ্যান? মন্ত্র নিশ্চিত ওটার ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে।’

জ্যান উত্তর দিলো, ‘মনেতো হচ্ছে। চল এবার ক্লাস রুমে যাই। কেউ আসার আগেই আমাদের ওখানে যাওয়া দরকার।’

ওরা দৌড় লাগালো করিডর দিয়ে, জেমস আর জ্যান লক্ষ্য রাখছিল প্রফেঃ জ্যাক্সন আসছেন কিনা সেদিকটায়। র‍্যালফ নিজের শীতকালীন কোটের ভেতর ঢুকিয়ে নিয়েছিল নকল ব্রিফকেসটাকে।

‘বুঝতেই পারছি কি আজব দেখাচ্ছে আমাকে। ছোটোখাটো মাপের গ্র্যাপের মতই দেখাচ্ছে নিশ্চিত,’ র‍্যালফ বললো।

জেমস আশ্বাসের ভঙ্গীতে বললো, ‘ও নিয়ে ভেবে লাভ নেই, আমরা এসে গেছি প্রায়।’

ওরা টেকনোম্যান্সি ক্লাস ঘরের দরজার কাছে এসে থামলো। জ্যান উঁকি মেরে ভেতর দেখে জেমস আর  র‍্যালফের দিকে ঘুরলো।

‘প্ল্যান বি,’ দম আটকানো গলায় বললো, ‘কেউ একজন ভেতরে আছে।  হাফলপাফের কেউ। নামটা মনে করতে পারছি না।’

জেমস দরজার কোনা দিয়ে দেখলো। চিনতে পারলো, মাগল স্টাডির ক্লাসে দেখেছে। নাম টেরেন্স, জেমসের সঙ্গে ওর চোখাচোখি হলো।

‘হেই, টেরেন্স,’ জেমস হেসে ডাকলো।  ঘরেঢুকলো, শুনতে পাচ্ছিল পেছনে র‍্যালফ আর জ্যানের ফিসফিসানি।  চেষ্টা করলো সেই শব্দকে চাপা দেওয়ার। ‘কেমন কাটলো তোমার ছুটির দিনগুলো? খুব ঘুরলে নাকি?’

টেরেন্স আমতা আমতা করে বললো, ‘হ্যাঁ তা বলতে পারো।’

জেমসের মনে হলো এই কাজটা সামলানো বেশ কঠিন হবে। ‘তা, কোথায় কোথায় গিয়েছিলে? আমি তো ট্রেনে চেপে লন্ডনে গিয়েছিলাম। পরিবারের সবার সঙ্গে দেখা করার জন্য। খুব মজা করেছি। তুমি কোথাও গিয়েছিলে নাকি আলাদাভাবে?’

টেরেন্স ঘুরে বসে জবাব দিলো, ‘কর্ক এ গিয়েছিলাম মামের সঙ্গে। যাওয়ার সময়টাতে সমানে বৃষ্টি হয়েছে। একটা ফ্লুট কনসার্টে গেছিলাম।’

জেমস আগ্রহের সঙ্গে মাথা নাড়লো। ভাগ্যক্রমে, টেরেন্স ঘরের মাঝামাঝি জায়গায় বসেছিল, জেমসের দিকে মুখ ঘুরিয়ে। চোখের কোনা দিয়ে জেমস দেখলো, জ্যান জ্যাক্সনের ডেস্কের কাছে নকল ব্রিফকেসটাকে রাখছে। টেরেন্স মুখ ঘুরিয়ে সামনের দিক করে বসার জন্য ঘুরতে গেল।

জেমস প্রায় চিৎকার করে বলে উঠলো, ‘ফ্লুট কনসার্ট! দারুন ব্যাপার!’

টেরেন্স আবার ঘুরে গেল জেমসের দিকে। ‘না, মোটেই না।‘

জ্যান উঠে দাঁড়িয়ে ইঙ্গিত করলো কাজ হয়ে যাওয়ার। জেমস ফোঁস করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো। ‘ওহ তাই বুঝি। আহারে!’  টেরেন্সের কাছে থেকে সরে যেতে যেতে বললো, ‘ও নিয়ে ভেবে লাভ নেই। আবার দেখা হবে কেমন। চলি।’

জ্যান আর জেমস প্ল্যানমতো একেবারে সামনের বেঞ্চে বসলো। ঘরটা ছোট, ওদের বেঞ্চ থেকে জ্যাক্সনের ডেস্ক ফুট দুয়েক  দূরে। জেমস ভাল করে সামনের জায়গাটা দেখে নিলো। না, তেমন কিছু নেই যেটা গোলমাল পাকাতে পারে। অপেক্ষা করলো আরো কিছু ছাত্রছাত্রী আসার। এসেও গেল একে একে। ঘরে গুঞ্জিত হলো হাসিঠাট্টা কথাবার্তার ধ্বনি। জ্যানকে জিজ্ঞেস করলো চাপা স্বরে, ‘ওটা কোথায় রাখলি?’

চক বোর্ডের কাছের ওই কোনাটায়। আমি তোর ইনভিজিবল ক্লোকটাকে একটু ভাঁজ করে রেখেছি যাতে ওটা মেঝেতে না পড়ে থাকে। ওই ব্যাটা বুড়ো স্টোনওয়াল না আবার ওটায় হোঁচট খায় ডেস্কের পেছন দিকে যেতে গিয়ে।’

জেমস তাকলো জ্যানের দেখানো কোনাটার দিকে। দরজার কাছটায় ওটাকে দেখা যাচ্ছে ছোট্ট একটা পুঁটলির মতো। জ্যাক্সন ওটার দিকে নজর দেবেন বলে মনে হয় না তবে সেটা করাটাও অসম্ভব নয়।

জেমস ফিসফিস করে বললো, ‘কোনো কোনো দিন তো উনি ডেস্কের পেছনে যানই না।’ জ্যান কাঁধটা একটু উঠিয়ে আবার নামিয়ে নিলো, অর্থাৎ এরকম কিছুর আশা করা ছাড়া উপায় নেই।

কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রফেঃ জ্যাক্সন ঘরে ঢুকলেন, হাতে চামড়ার ব্রিফকেস। জেমস আর জ্যান একভাবে চেয়ে রইলো ওনার ক্লোক খুলে টেবিলে রাখা থেকে শুরু করে কেসটাকে ডেস্কের পাশে নির্দিষ্ট জায়গায় নামিয়ে রাখার দিকে।

‘স্বাগত সবাইকে,’ বললেন চিরন্তন ভঙ্গীতে। ‘আশা করছি সকলেই দারুন একটা ছুটি উপভোগ করে এসেছো।সঙ্গেই এটাও আশা করছি ছুটিতে যাওয়ার আগে তোমরা যা যা শিখেছিলে সেগুলো এখনো মাথার মধ্যে আছে। শোনো নিজের নিজের লেখা নিবন্ধগুলো তোমার বাঁ পাশেরজনকে এক এক করে দিয়ে দাও, তারপর বাড়িয়ে দাও সামনের বেঞ্চে। মিঃ ওয়াকার সবগুলো তোমার কাছে এসে গেলে আমায় জানাবে আমি নিয়ে নেব তোমার কাছ থেকে।’

জ্যান মাথা নাড়লো, চোখটাও চকচক করে উঠলো একবার। জেমস আর জ্যান দুজনেই নিজেদের জাদুদন্ড নিয়ে এসেছে জামার মধ্যে গুঁজে। যদি জ্যাক্সন দেখে ফেলেন, তাহলে ওরা জানাবে এটা ওরা করেছে ওদের প্রিয় টেকনোম্যান্সি শিক্ষককে সম্মান জানানোর জন্য। কারণ জ্যাক্সন স্বয়ং নিজের জাদুদন্ডটা নিজের জামার সঙ্গে যুক্ত খাপে করে সঙ্গে রাখেন সব সময়। ওরা ভালো করেই জানে জ্যাক্সন একটু তোষামোদ পছন্দ করেন।

‘আজ রাতে আমি তোমাদের নিবন্ধগুলো দেখবো, যেমনটা প্রত্যেকবার দেখি। আপাতত চলো আমরা একবার সব ঝালিয়ে নিই। মিঃ হলিস, যদি সম্ভব হয় তো একবার আমাদের ছোট্ট করে বুঝিয়ে বলো দেখি হেক্টরস ল অফ ডিসপ্লেসড অনারসিয়া বিষয়ে।’

লালছে গালওয়ালা প্রথমবর্ষের হাফলপাফ সদস্য হলিস, গলাটা একবার ঝেড়ে নিয়ে শুরু করলো বলা। জেমস কিছুই শুনছিল না। টান টান হয়ে বসে তাকিয়ে ছিল জ্যাক্সনের ব্রিফকেসটার দিকে। মনে মনে ভাবছিল ঝপ করে ওটাকে  তুলে নিয়ে চলে আসলে কি হবে।  হৃদপিণ্ড লাফাচ্ছিস ধড়াস ধড়াস করে। একই সঙ্গে একটা ভয়ানক শীতল অনুভুতি  ঘিরে ধরছিলোওকে।  ওদের প্ল্যান মনে হচ্ছে সফল হবে না। প্রফেঃ জ্যাক্সনের নাকের ডগার সামনে দিয়ে ওটাকে হাতানো একটা উন্মাদ ভাবনা। আর ওরা সেটাই করতে চলেছে। একটা উদ্বিগ্নভাব ওকে স্বস্তি দিতে অক্ষম হচ্ছিল। জ্যাক্সন শুরু করলেন পাইচারি।

‘অপ্রয়োজনীয় অনেক কথা বলে ফেললে মিঃ হলিস, যদিও ভুল কিছু বলোনি। মিস মরগ্যানস্টারন, তুমি কি বলতে পারবে বিভিন্ন ঘনমাত্রার বস্তুদের মধ্যে ইনারসিয়ার পার্থক্য বিষয়ে?’

‘হ্যাঁ স্যার। বিভিন্ন ঘনমাত্রা ইনারসিয়ার ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা ভাবে সাড়া দেয়। আর সেটা নির্ভর করে তাদের অ্যাটমের মাপের ওপর।’ পেট্রা উত্তর দিলো। ‘একই লক্ষ্যে গমনকারী একটি সিসের বল এর প্রভাবে ফেটে যেতে পারে কিন্তু একটি ঘাসপাতা দিয়ে তৈরি বলের সেটা হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।’

জ্যাক্সন ইতিবাচক মাথা নেড়ে বললেন, ‘টেকনম্যানিয়ার দিক থেকে এর ব্যাখ্যা কি? কেউ বলতে পারবে? ইয়েস, মিস গয়েল!’

ফিলিয়া গয়েল হাত নামালো। ‘ইনারশিয়া ট্রান্সফারেন্স মন্ত্রর বন্ধনশক্তি কম ঘনত্বের জিনিসকে প্রভাবিত করে বেশি ফলে সেটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যেমনকার তেমনি থেকে যায়। আর এই সুবিধার জন্য যেকোন কম ঘনত্বের জিনিস অতি দ্রুত এবং বেশি দুরত্ব অতিক্রম করতে পারে বেশি ঘনত্বের জিনিসের তুলনায়। যেমন মিস মরগ্যানস্টারনের সিসের বল।’

জ্যাক্সন একটু হেসে মজার ছলে বললেন, ‘ঠিক, কিন্তু ব্যাপারটা পুরোপুরি সুবিধাজনক নয়। একটা কামান থেকে একটা পালক যত জোরেই নিক্ষেপ করা হোক না কেন সেটা কাউকে আঘাত করতে পারবে না।’

গোটা ক্লাস হেসে উঠলো। জ্যাক্সন শুরু করলেন তার দ্বিতীয় রাউন্ডের পাইচারী। আর ঠিক সেই সময় দরজার কাছে হাজির হলো র‍্যালফ, দরজার কাছে।

অদ্ভুত রকমের একটা কন্ঠস্বরে বললো, ‘মাফ ক্রব্বেন!’  ক্লাসের সবাই ওর দিকে তাকালো। জেমস আর জ্যান বাদে। ‘আম্বি দুখখিত। আমবার মনে হচ্ছবে আমবার গাঁক দিয়ে গক্ত বের হচ্ছবে।’ সত্যি সত্যিই র‍্যালফের নাক দিয়ে ঝরঝরিয়ে রক্ত পড়ছিলো। ও হাত দিয়ে চেপে ধরেছিলো নাকের কাছটা, হাতটা রক্তে মাখামাখি হয়ে ছিলো। গোটা ক্লাসে উহ আহ ধ্বনি শোনা গেল, কেউ অবাক কেউ আবার বিরক্ত হয়েছে।

জ্যান একটুও সময় নষ্ট করলো না। যেই র‍্যালফের গলা শুনেছে আর দেখেছে জ্যাক্সন ঘুরে তাকিয়েছেন, ও সোজা উঠে এগিয়ে গেছে ক্লাসের ডানদিকটায়। বার করে এনেছে জাদুদন্ড।

‘উইংগারডিয়াম লেভিওসা!’ যতটা সম্ভব তীক্ষ্ণ ফিসফিসে স্বরে বলে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গেই ইনভিজিবল ক্লোকটা দৃশ্যমান হলো। উঠে গেল কোনায় রাখা নকল ব্রিফকেসটার ওপর থেকে। জ্যান ওটাকে ভাসিয়ে রাখতে রাখতেই জেমস নিজের জাদুদন্ডটা বার করলো। পেছনদিকে ওরা শুনতে পাচ্ছিলো জ্যাক্সন র‍্যালফকে বলছেন।

‘আহা, এ তো সাঙ্ঘাতিক ব্যাপার, চেপে ধরে থাকো।’

‘আম্বি দুখখিত,’ র‍্যালফ তোতলানোর মত করে বললো। ‘আম্বি একটা কফ লজেঞ্জ খেতে গিয়ে ভুউল করে ওয়েডলী ডোসব্লীড ডোনাট খেবে ফেলেছি। আম্বার মনে হয় আম্বাকে হোস্পীতালে যেতে হব্বে।’

জেমস ওদিকে নিজের জাদুদন্ড তাক করলো নকল কেসটার দিকে, ফিসফিসিয়ে বললো লেভিটেশন এর মন্ত্র। এতদিন যা যা ভাসিয়েছে তার তুলনায় এটা অনেক বেশি ভারী। আর এই কাজে ওর দক্ষতা খুব একটা বলার মতো নয়। কেসটা পুরো শূন্যে ভেসে উঠলো না একটা কোনা ঠেকে থাকলো মেঝেতে। ও ওটাকে টেনে আনলো আসলটার যতটা কাছে আনা যায়, রাখলো পাশাপাশি। একটা বড় করে দম নিয়ে শ্বাস আটকে রাখলো। পেছনে শিক্ষার্থীদের হাসি ঠাট্টার আওয়াজ শোনা যাচ্ছিলো।

‘আমার মনে হয় না তোমার হাসপাতালে যাওয়ার দরকার আছে,’ জ্যাক্সন কিছুটা বিরক্তির সঙ্গে বললেন। ‘সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকো আর হাতটা সরাও।’

র‍্যালফ কাঁপতে শুরু করে দিলো। কাতরানির সুরে বললো, ‘আম্বার মনে হয় আমি হেমোফেবিয়ান! ‘এটা জ্যানের মাথা থেকে বার হয়েছে।

জ্যাক্সন গরগরে কন্ঠে বললেন, ‘তুমি মোটেই হেমোফিলিয়াক নও। আর এই শেষবারের মতো বলছি সোজা হয়ে দাঁড়াও।’

জেমস এবার জাদুদন্ড নাড়িয়ে আসল কেসটাকে নকলের জায়গায় নিয়ে যেতে চাইলো। যেখানে জ্যান ইনভিজিবল ক্লোকটাকে ভাসিয়ে অপেক্ষায় আছে। আসল কেসটা ডেস্কের একটা কোনাতে আটকে আছে। ওটাকে উঠানোর সঙ্গে সঙ্গেই ডেস্কটার একদিক ওপরে উঠে গেল। জেমস মুখ বিকৃত করে জাদুদন্ড নামালো। একটা শব্দ হলো যদিও সেটা কারো কানে গেল না। জ্যান ভীত চোখে জেমসের দিকে তাকালো। জেমসের মুখে অসহায়তার ছাপ। জ্যান এবার ডেস্কের তলায় আসল কেসটাকেই ক্লোকটা দিয়ে ঢাকার চেষ্টা চালালো। ওদিকে ক্লোকটার একটা অংশ আটকে গেছে চক বোর্ড সংলগ্ন কোট টাঙানোর হুকে। কিছুই প্ল্যানমাফিক হচ্ছে না। এখন কেউ যদি এদিকে ঘুরে তাকায় ওদের সামনে আর কোন পথ খোলা থাকবে না। জেমস ঘুরে তাকানোর ইচ্ছেটাকে দমাতে পারলো না। র‍্যালফের নাক দিয়ে এখনো রক্ত বের হচ্ছে। জ্যাক্সন ওর কাঁধে হাত দিয়ে শরীরের আধখানা আড়াল করে দাঁড়িয়ে আছেন। এক হাত দিয়ে চেষ্টা করছেন র‍্যালফের হাতটা নাক থেকে সরাতে আর দ্বিতীয় হাতে তৈরী ওনার হিকোরী জাদুদন্ড। ক্লাসের সবাই অধীর আগ্রহে নানারকম মুখের ভাব নিয়ে অপেক্ষা করছে প্রফেসর কি করেন দেখার জন্য।

জ্যাক্সন তেড়েমেড়ে বললেন, ‘উফ, তুমি সব গণ্ডগোল পাকিয়ে দিচ্ছো বাপু। আবার বলছি হাতটা সরাও।’

জেমস ওদিক ওদিক নড়িয়ে আসল কেসটাকে ডেস্কের তলা থেকে সরানোর চেষ্টা করলো। ঘেমে নেয়ে গেছে, হাতের তালুর ঘামে পিছলে যাচ্ছে জাদুদন্ড। ওদিক থেকে ভেসে এলো জ্যাক্সনের কন্ঠ ‘আরটিমাসে’ আর এদিকে কেসটাকে জেমস বার করতে পারলো ডেস্কের তলা থেকে।

‘ওহ!’ র‍্যালফ দরকারের চেয়ে অনেক বেশি জোরে চিৎকার করে বললো, ‘এইতো, হ্যাঁ, অনেকটা ভালো বোধ হচ্ছে।’

‘ওটা আরো মিনিটখানেক আগেই হতো যদি তুমি আমার কথা শুনতে,’ জ্যাক্সন বললেন জাদুদন্ড টাকে যথাস্থানে রাখতে রাখতে। গল্প শেষ। জ্যান অন্তিম ঝাঁকুনি দিলো জাদুদন্ডে। ইনভিজিবল ক্লোক ছিটকে এসে পড়ল মেঝেতে, অদৃশ্য হয়ে গেল। জেমসের কাছে সময় নেই ব্রিফকেসটা লুকানোর। বুঝতে পারল যে যার জায়গায় ফিরতে শুরু করেছে।

 ‘যাও এবার হাত মুখ সব ধুয়ে নাও,’ জ্যাক্সন বললেন জোরালো কন্ঠে র‍্যালফের উদ্দেশ্যে। নিজের জায়গায় ফেরার জন্য ঘোরার আগে। ‘তোমায় দেখতে মোটেই ভাল লাগছে না। কেউ দেখলে ভাববে তোমাকে কোন রাক্ষসে আক্রমণ করেছিল।’ বাকিটা চাপা স্বরে বললেন, ‘কেউ জানবেও না রাক্ষসটার নাম নোসব্লীড নউগাট…’

ইতিমধ্যে, জেমস নিজের জাদুদন্ডটা ঢুকিয়ে নিয়েছে জামার ভেতর। জ্যান, অতি দ্রূততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের ডেস্কের তলা দিয়ে পা বাড়িয়ে দিয়েছে। আসল কেসটাকে দুপায়ের গোড়ালি দিয়ে ধরে সটান টেনে নিয়ে চলে এলো নিজের ডেস্কের তলায়। জেমস শুনতে পাচ্ছিলো জ্যানের ওটাকে পা দিয়ে টেনে হিঁচড়ে নিজের চেয়ারের তলায় নিয়ে আসার আওয়াজ। জ্যাক্সন এসে দাঁড়ালেন জ্যানের ঠিক পাশে, গোটা ক্লাস এখন চুপ।

জেমস মুখ তুলছিল না। বুঝতে পারছিল প্রফেসর ওর দিকেই তাকিয়ে আছেন। কিচ্ছু করার নেই বুঝতে পেরে ও মুখ ওঠালো। জ্যাক্সন সত্যিই নাক বরাবর ওর দিকেই তাকিয়ে ছিলেন। কিছু একটা আঁচ করার ভঙ্গীতে একবার ওকে একবার জ্যানকে দেখছিলেন। জেমসের পেটের ভেতর উড়ছিল প্রজাপতি। তারপর একসময় আবার সামনের দিকে হেঁটে গেলেন জ্যাক্সন। জেমসের মনে হল একটা অনন্তকালের অবসান হলো।

‘সত্যি বলছি,’ উনি কাউকে উদ্দেশ্য না করেই বললেন, ‘এসব ঘটনা ঘটলে ক্লাস ছেড়ে পালিয়ে যাওয়াই ঠিক কাজ। আমার মতো মানুষেরও নিজেকে পাগল পাগল বলে মনে হচ্ছে। যাকগে, আমরা কোন জায়গায় ছিলাম যেন তখন? হ্যাঁ মনে পড়েছে…’

ক্লাস চলতে থাকলো। জেমস এড়িয়ে যেতে থাকলো জ্যাক্সনের দিকে তাকানোর প্রয়োজনকে। ওর এখন একটাই চাহিদা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই ক্লাস ছেড়ে বাইরে পালানো। আসল ব্রিফকেস বা ইনভিজিবল ক্লোক কোনোটাই আপাতত নিতে পারার চান্স নেই। অন্তত জ্যাক্সন যতক্ষণ থাকছেন। একটাই প্রার্থনা জ্যাক্সন যেন জ্যানের চেয়ারের তলায় ওনার আসল ব্রিফকেসটা দেখতে না পান। সবটাই এখন নির্ভর করছে জ্যানের ভিসাম-ইনেপ্সিও মন্ত্র কতটা কাজ করে তার ওপর। জেমস তাকালো নকলটার দিক, মোটামুটি সেই জায়গায় যেখানে আসলটা ছিল। ওর চোখে তো নকল ব্যপারটা ধরা পড়ছে, চামড়ার রঙ আলাদা। পেতলের পাতে “টি.এইচ. জ্যাক্সন” এর বদলে লেখা আছে “হিরাম অ্যান্ড ব্ল্যাটুটস লেদারস, ডায়াগন অ্যালি, লন্ডন”। জ্যাক্সন নিশ্চিতভাবে কিছু একটা আঁচ করেছেন। কিন্তু মন্ত্রটা যদি কাজ করে, তাহলে ক্ষীন একটা সম্ভাবনা থাকছে এ যাত্রায় বেঁচে যাওয়ার।

একসময় ফুরালো ক্লাসের মেয়াদ। জেমস ঝপ করে উঠে দাঁড়ালো, জ্যানকে ইশারা করলো এগিয়ে যাওয়ার। জ্যান ওর দিকে তাকালো অবাক হয়ে, চোখের নজর দিয়ে দেখাতে চাইলো চেয়ারের তলাটা। জেমস তবুও ওকে ঠেললো সামনের দিকে যাওয়ার জন্য, নেতিবাচকভাবে মাথা নেড়ে। ক্লাসের সবাই এগিয়ে গেল দরজার দিকে। ধক ধক করে কাঁপতে থাকা শরীর নিয়ে জেমস আর জ্যান আর কিছুক্ষন বসে থেকে বেরিয়ে এলো করিডরে। সাহস হচ্ছিলো না পেছন ফিরে দেখার।

হাঁটতে হাঁটতে জ্যান ফিসফিস করে বললো, ‘এবার আমরা কি করবো?’

অনেক কষ্টে গলার স্বর নিচু ও শান্ত রেখে জেমস বললো, ‘আমরা পরে ফিরে আসবো। হয়তো উনি কিছুই দেখেন নি। আমরা যখন বেরিয়ে আসছিলাম উনি নিবন্ধ লেখা কাগজগুলো গুছিয়ে নিচ্ছিলেন। যদি আমরা এখানে কোনো একটা কোনায় লুকিয়ে থাকি, তাহলে দেখতে পাবো…’

‘মিঃ পটার?’ পেছন থেকে একটা কন্ঠস্বর ভেসে এলো। ‘মিঃ ওয়াকার?’

দুই বন্ধু থমকে দাঁড়াল।আস্তে আস্তে ঘুরলো। টেকনোম্যান্সির ক্লাসঘরের দরজা দিয়ে মাথা বার করেছেন প্রফেসর জ্যাক্সন। ‘আমার মনে হচ্ছে তোমরা দুজন কিছু একটা ফেলে চলে যাচ্ছ আমার ক্লাসে। ওটা নিয়ে যাওয়ার জন্য এখানে এলেই ভালো হয় বোধ হয়?’

কেউ কোনো উত্তর না দিলো না। ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল দরজার দিকে। প্রফেসর ঢুকে গেলেন ভেতরে। অপেক্ষা করতে থাকলেন ওদের।

‘কাছে এসো,’ জ্যাক্সন হাল্কা স্বরে বললেন। ‘এখানে একেবারে ডেস্কের সামনে এসো, আশা করি অসুবিধা হবে না।’ দেখতে পাওয়া গেল ডেস্কের ওপর জ্যাক্সনের ঠিক সামনেই রাখা আছে আসল নকল দুটি ব্রিফকেসই। জ্যান আর জেমস ডেস্কের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই জ্যাক্সন পুনরায় বলা শুরু করলেন, এবার কন্ঠস্বর আরো শীতল এবং চাপা।

‘আমি জানিনা কে তোমাদের কি গল্প শুনিয়েছে আমার অ্যাটাচীতে আমি কি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি সে বিষয়ে। কিন্তু এটা বলতে পারি যে তোমরাই প্রথম নও যারা এটা জানার চেষ্টা করলে বা এটা হাতানোর জন্য একটা দারুন কোন প্ল্যান বার করলে। ’ জেমস ভ্রু কপালে তুলে তাকালো,জ্যাক্সন মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন,  ‘হ্যাঁ, আমি  গল্পগুলো শুনেছি যা আমার ছাত্রছাত্রীরা বানিয়েছে। সেখানে ভয়ানক ধরনের কোন জন্তু বা পৃথিবী ধ্বংস করার অস্ত্র বা কোন অন্য জগতে যাওয়ার চাবির কাহিনী তৈরি হয়েছে। একেকটা তার আগের থেকে বেশী ইন্টারেস্টিং এবং উত্তেজনাকর। তোমাদের প্রচেষ্টা নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমার অতি কৌতূহলী ছোট্ট বন্ধুদ্বয়…’ জ্যাক্সন ঝুঁকে এলেন ডেস্কের ওপর, দুই বন্ধুর থেকে ওনার নাকের দূরত্ব এক ফুটেরও কম এখন। আরো চাপা গলায় বললেন কেটে কেটে, ‘আমার এই ব্রিফকেসে যা আছে সেটা তোমাদের কল্পনার চেয়েও অনেক অনেক বেশী সাঙ্ঘাতিক জিনিস। আর একথাটা আমি মোটেই ইয়ার্কির ছলে বলছি না। আমি কোনো ভাঁওতাবাজির হুমকি দিই না। তোমরা যদি আবার আমার জিনিস হাতানোর চেষ্টা করো, তাহলে সেই কাজ করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করার সুযোগও তোমাদের থাকবে না। আশা করছি আমি আমার কথাগুলো তোমাদের মাথায় ঢোকাতে পেরেছি?’

জেমস আর জ্যান বোবার মতো মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। ফোঁস ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে জ্যাক্সন ওদের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। ‘গ্রিফিন্ডোর আর র‍্যাভেনক্ল এর পঞ্চাশ নম্বর করে কেটে নেওয়া হলো। তোমাদের দুজনাকে শাস্তিও দিতে চাই, কিন্তু সেক্ষেত্রে আমাকে কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে যার উত্তর আমি দিতে চাই না। সেই জন্য শুধু সাবধান করে দিতে চাইছি, আমার তরুণ বন্ধুদ্বয়, দয়া করে আর কোনদিন আমার অ্যাটাচীর দিকে নজর দেওয়ার চেষ্টা কোরো না। তাহলে কিন্তু আমি তোমাদের জীবনটাকে চরম ভাবে …… চিত্তাকর্ষক করে দিতে বাধ্য হবো। এই কথাটা মনে গেঁথে নিও। এবার,’ পিছিয়ে গিয়ে, চোখ নিচু করে, ‘নিজেদের ওই বিচ্ছিরী জিনিসটা নিয়ে বিদায় হও।’

একরাশ বিরক্তিসহ জ্যাক্সন একটা ব্যাগ ওদের দিকে ঠেলে দিলেন। নকল ব্রিফকেসটা থেকে গেল ওনার সামনেই। উনি নিজের মোটা গাঁটওয়ালা আঙুলগুলো দিয়ে হাতির দাঁতের হাতলটা চেপে ধরে উঠিয়ে নিলেন। যেটার পেতলের পাতটায় লেখা আছে “হিরাম অ্যান্ড ব্ল্যাটুটস লেদারস, ডায়াগন অ্যালি, লন্ডন”। চকচক করে উঠলো জ্যাক্সন ডেস্কের পাশ দিয়ে ঘুরে আসতেই। জেমস বা জ্যান কেউই ওদের সামনে থাকা ব্রিফকেসটায় হাত ছোঁয়াল না।

জ্যাক্সন গলা তুলে বললেন, ‘আরে, এখনো দাঁড়িয়ে আছো। ওটা নাও আর ভাগো এখান থেকে।’

‘হ্যাঁ যা-যাচ্ছি স্যার,’ জ্যান বললো, প্রফেসরের ব্রিফকেসটা ডেস্কের ওপর থেকে তুলে নিয়ে। তারপর দুজনেই একসঙ্গে ঘুরে দৌড়ে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।

তিনটে করিডর পেরিয়ে এসে, ওরা ছোটা থামালো। ঢুকে পড়লো একটা ফাঁকা হলঘরে। তাকালো ব্রিফকেসটার দিকে যেটা নিয়ে আসতে জ্যাক্সন ওদের বাধ্য করলেন। কোন দ্বিধাই নেই। এটাই প্রফেসরের নিজের ব্রিফকেস। নাম লেখা পাতটা সেটাই প্রমান দিচ্ছে “টি.এইচ. জ্যাক্সন”। জেমস ঢোক গিললো, অবিশ্বাস্যভাবে ওরা সফল হয়েছে। ছিনিয়ে নিতে পেরেছে মারলিনের জাদু পোশাক।

জ্যান বড় শ্বাস নিয়ে জেমসের দিকে তাকিয়ে বললো, ‘সব ভিসাম-ইনেপ্সিওর কামাল। যা চেয়েছি তাই হয়েছে। জ্যাক্সন বুঝে গিয়েছিলেন আমরা কিছু একটা করতে চলেছি, কিন্তু এটা ওনার মাথায় আসেনি।’

জেমস এর হতচকিত ভাবটা এখনো কাটেনি, ‘কিন্তু এটা সম্ভব হলো কি করে? দুটোই তো ওনার সামনে রাখা ছিল!’

‘আরে, ব্যাপারটা এরকম হয়েছে বুঝলি। জ্যাক্সন ভেবে নিয়েছিলেন আমরা ব্রিফকেস বদল করবো। যেটা করার মতো সুযোগ আমাদের হয়নি। আমার চেয়ারের তলায় ছিল  ওনার আসল কেসটা। যেটাকে উনি ভেবে নেন নকল। ভিসাম-ইনেপ্সিওর জাদু উনাকে ওনার ইচ্ছে মতোই দেখতে সাহায্য করেছে। উনি আসলটাকে নকল ভেবে দেখতে চেয়েছেন আর সেটাই ঘটেছে। আর ঠিক একই ভাবে জাদু করা নকল ব্রিফকেস ভ্রান্তি সৃষ্টি করে ওর চোখে প্রতিভাত হয়েছে আসল রুপে!’

জেমস বুঝতে পারলো। ‘চোখকে বোকা বানাও এর মন্ত্র আসল ব্রিফকেসের ওপরেও প্রভাব বিস্তার করেছে, ওটাকে দেখাচ্ছে নকলের মতন, আর সেটাই দেখতে চেয়েছে জ্যাক্সনের মন! ওয়াও এটা ভাবাই যায়নি!’ জ্যানের কাঁধে চাপড় মেরে বললো, ‘কি করেছিস রে পাগলা! অথচ ওটা যে করতে পারবি নিজের ওপর বিশ্বাসটাই আনতে পারছিলি না!’

জ্যানকে একটু লজ্জিত দেখালো, যেটা ওর স্বভাব বিরুদ্ধ। হাসলো ফিক করে। ‘চল, র‍্যালফকে খুঁজে দেখি। ঠিকঠাক আছে কিনা। ওকে দুটো নোজব্লীড নউগাটস খেতে বলাটা তোর কি ঠিক হয়েছিল?’

‘তুই তো বলেছিলি এমন একটা কিছু করতে হবে যাতে সবার নজর অন্য দিকে চলে যায়।’

জেমস নিজের পোষাকের তলায় জ্যাক্সনের ব্রিফকেসটা ঢুকিয়ে নিলো। ওরা চললো র‍্যালফকে খুঁজে বার করার জন্য। এতক্ষন এখানে সময় কাটানোর কারণ ওরা অপেক্ষা করছিল টেকনোম্যান্সির ক্লাসরুম ফাঁকা হওয়ার। ইনভিজিবল ক্লোকটাকে নিয়ে আসতেও তো হবে।

মিনিট পাঁচেক বাদে তিনবন্ধুকে গ্রিফিন্ডোর কমনরুমের দিকে যেতে দেখা গেল। পরের ক্লাস শুরু হওয়ার আগে ব্রিফকেসটাকে লুকিয়ে রাখার জন্য। জেমস ট্রাঙ্কের একেবারে তলায় ওটাকে ঢুকিয়ে দিলো, জ্যান আবার ওর জাদুদন্ড বার করলো।

‘জেন্নিফারের কাছ থেকে এই মন্ত্রটা সবে শিখেছি। এক ধরনের বিশেষ লকিং স্পেল।’

‘দাঁড়া দাঁড়া,’ জেমস ওকে থামালো, ‘তুই ওটা করে দিলে আমি এটা খুলবো কি করে?’

‘ওহ। সত্যি বলতে সেটা আমি ঠিক জানি না। তবে এটা জানি আ্লোহোমোরা মন্ত্রের প্রভাব কাটানোর মন্ত্র এটা। আমার তো মনে হয় না ট্রাঙ্কের মালিকের বিরুদ্ধে এই মন্ত্রটা কাজ করবে। অন্যদের জন্য এটা সেট করা হয়। এই জন্যই এই সব মন্ত্রগুলো বেশ মজাদার, কি বলিস?’

‘এদিকে তাকা,’ র‍্যালফ ঘরের জানলাটার কাছে গেল। খুললো আবার লাগালো, তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে বললো, ‘জানলার ছিটকিনিটার ওপর আগে মন্ত্রটা সেট কর দেখি। বাইরে এখন যা ঠাণ্ডা ওটা না খুলতে পারলেও চলবে।‘

জ্যান কাঁধ ঝাঁকিয়ে জাদুদন্ড তাক করে বললো, ‘কল্লোপোরটাস।’ ছিটকিনিটা একটা শব্দ হয়ে বন্ধ হয়ে গেল।

র‍্যালফ দেখে নিয়ে বললো, ‘হুম, কাজটা হয়েছে। এবার খোল দেখি।’

জ্যানের জাদু দন্ড ওঠানোই ছিল, বললো, ‘আলোহোমোরা।’ ছিটকিনিটা নড়ে উঠলো কিন্তু খুলে গেল না। জ্যান জাদুদন্ড পকেটস্থ করে বললো, ‘জেমস খুলে দ্যাখ। এই ঘরে তুই থাকিস তাই ওই জানলাটা তোর সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত বলেই আমার ধারনা, কি ঠিক তো?’

জেমস একই মন্ত্র ব্যবহার করতেই ছিটকিনিটা খুলে গেল সঙ্গেই জানলাটাও।

জ্যান হেসে বললো, ‘দেখলিতো? বললাম না মন্ত্রগুলো বেশ মজাদার। আমি নিশ্চিত ওই বুড়ো স্টোনওয়ালকে জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে কি করে এই মন্ত্রগুলো কাজ করে। কিন্তু, আমি বাপু উনাকে আর কোন প্রশ্ন করবো না।এটা আগে থেকেই বলে রাখলাম।’

জেমস ট্রাঙ্কটা লাগানোর পর জ্যান বন্ধন মন্ত্র ছুড়ে দিল ওটার ওপর।

ক্লাসরুমে যাওয়ার পথে র‍্যালফ জিজ্ঞেস করলো, ‘আচ্ছা অন্যদের তো চোখে পড়বে যে জ্যাক্সন একটা অন্য ব্রিফকেস বয়ে বেড়াচ্ছেন?  তাদের ভেতরে কেউ যদি জানতে চায় ব্যাপারটা কি?’

জ্যান আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জবাব দিলো, ‘নারে র‍্যালফিনেটর, সেরকম কিছুই হবে না। উনি এখানে আসার পর থেকে সবসময় ওটা সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এটাসবাই দেখতে অভ্যস্থ হয়ে গেছে। যতক্ষণ মানুষ চাইবে যে ওকে ওই ব্যাগটা সমেত দেখতে ততক্ষণ ভিসাম-ইনেপ্সিও মন্ত্র সেটাই দেখিয়ে যাবে। একমাত্র আমরা তিনজন দেখতে পাবো উনি তোর বন্ধু রক হাউন্ডের ব্যাগটা নিয়ে চলাফেরা করছেন।’

র‍্যালফের সংশয় তবু কাটছিলো না। ‘মন্ত্রের প্রভাব কি একটা সময়ের পর নষ্ট হয়ে যাবে? নাকি এটা ততদিন বজায় থাকবে যতদিন মানুষ নকলটাকে আসল বলে মনে করবে?’

জেমস বা জ্যান কেউ জানে না এর উত্তর। জেমস বললো, ‘আমরা শুধু আশা করতে পারি এটা দীর্ঘস্থায়ী হোক।’

 

 

[চলবে]

লেখক পরিচিতিঃ  জর্জ নরম্যান লিপার্ট আমেরিকান লেখক এবং কম্পিউটার অ্যানিমেটর। তবে ওনার বর্তমান পরিচয় উনি জেমস পটার সিরিজের লেখক। যে কারনে ওনাকে “আমেরিকান রাউলিং” নামেও ডাকা হয়ে থাকে। এই সিরিজের প্রথম লেখা “জেমস পটার অ্যান্ড দ্য হল অফ এল্ডারস ক্রসিং” প্রকাশিত হয় ২০০৭ সালে। নানান কারনে এটি অনেক বিতর্কে জড়িয়ে যায়। সেসব সমস্যা পেরিয়ে আজ এটি পাঠক পাঠিকাদের চাহিদায় সারা বিশ্বে যথেষ্ট জনপ্রিয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এই সিরিজের সব কটি বই ই-বুক এবং ফ্রি হিসাবেই প্রকাশ করেছেন মাননীয় জর্জ নরম্যান লিপারট। এই সিরিজ ছাড়াও ওনার আরো ১২ টি বই আছে। বর্তমানে উনি এরি, পেনসিল্ভ্যানিয়ার বাসিন্দা।

অনুবাদকের পরিচিতিঃ উপন্যাসটির অনুবাদক প্রতিম দাস মূলত চিত্র শিল্পী, ২০১৩ সাল থেকে ভারতের সমস্ত পাখি আঁকার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছেন। ৭৭৫+ প্রজাতির ছবি আঁকা সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে শুধু পাখি নয় অন্যান্য বিষয়েও ছবি আঁকা চলে একইসঙ্গে। দারুণ রকমের পাঠক, যা পান তাই পড়েন ধরনের। প্রিয় বিষয় রূপকথা, ফ্যান্টাসী, সায়েন্স ফিকশন, অলৌকিক। টুকটাক গল্প লেখার সঙ্গে আছে অনুবাদের শখ। 

One thought on “জেমস পটার অ্যান্ড দ্য হল অফ এল্ডারস ক্রসিং – পার্ট ১২

  • June 23, 2018 at 5:41 am
    Permalink

    Porer part kba asba

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!