জেমস পটার অ্যান্ড দ্য হল অফ এল্ডারস ক্রসিং – পার্ট ২১ (অন্তিম পর্ব)

জি নরম্যান লিপার্ট, ভাষান্তরঃ প্রতিম দাস

অলংকরণ:মূল প্রচ্ছদ, সুদীপ দেব

একবিংশ অধ্যায়

 সবুজ বাক্সের উপহার

স্কুলে প্রথম বছরের শেষ সপ্তাহটা জেমসের চোখের সামনে দিয়ে গড়গড়িয়ে চলে গেল যেন। কোন চাপ নেই, নেই কোন ভয়ানক রকমের অ্যাডভেঞ্চার বা মরণপণ প্রচেষ্টার চিন্তা।  তুলনামূলকভাবে অনেক কম চিন্তাভাবনার দরকার এমন কিছু নিবন্ধ লিখতে হলো। আর তার সঙ্গে চললো জাদুদন্ড ব্যবহারের শিক্ষা। হল অফ দ্যা এল্ডারস ক্রসিং এর উত্থানের পর যা ঘটে গেল তার তুলনায় এগুলো তো কিছুই না। হাফলপাফরা এবারের হাউস কাপ জিতল। এতে কেউ অবাক হলো না কারণ মারলিনের প্রত্যাবর্তনের ষড়যন্ত্র আটকানোর পথে যে সমস্ত ব্যাপার স্যাপার ঘটেছে তাতে ওই হাউসের সদস্যরা সবচেয়ে কম পয়েন্ট খুইয়েছে। করসিকার ঝাড়ুকাণ্ডে গ্রিফিন্ডোর আর র‍্যাভেনক্লদের পঞ্চাশ করে পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়েছে।

স্কুলের শেষদিনের সকালে জেমস যখন নিজের বই খাতা আর অতিরিক্ত পোশাকআশাক ট্রাঙ্কে ঢোকাচ্ছে,  নোয়ার গলা ভেসে এলো সিঁড়ি থেকে ওকে ডাকছে।

‘রন ওয়েস্লী ফায়ার প্লেসে উপস্থিত। তোর সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন।’

জেমস হেসে বললো, ‘দারুণ। বলে দে আমি এক্ষুনি যাচ্ছি ওখানে!’

মিনিটখানেক বাদে পড়িমরি করে ছুটে জেমস যখন ওখানে পৌঁছাল টাই বাঁধা হয়নি পুরো। ওকে দেখেই আঙ্কল রন চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘আরে এইতো জেমস এসে গেছে! সব ঠিকঠাক?  বছরটা ভালো কাটল তো?’

জেমস সম্মতির সুরে বললো, ‘আমার তো তাই মনে হয়। মনে হচ্ছে পাশ করে যাব। জানো, পুরো সোমবার রাতটা ফ্র্যাঙ্কলিনের ডার্ক আর্ট প্রতিরোধের প্র্যাকটিস করে গেলাম। আর পরীক্ষা দেওয়ার পাঁচ মিনিট আগে বুঝতে পারলাম এক ভয়ানক ব্যাপার  … আমি সব ভুলে গিয়েছি।’

‘ওরে পাগল আমি তোকে স্কুলের পড়াশোনার কথা জিজ্ঞেস করছি না,’ মুচকি হেসে আগুনের ভেতর থেকে মুখটা বললো। ‘শোন, তোর ড্যাড আমায় বলেছে তুই কিভাবে মারলিন ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দিয়েছিস। দারুণ ব্যাপার রে, তোর ভাবনায় একটুও ভুল ছিলনা।’

জেমস মুচকি হেসে বললো, ‘হ্যাঁ, ওই … ব্যাপারটা বেশ চমকপ্রদই ছিল তবে অদ্ভুত রকমের উলটোপালটা ব্যাপার যাকে বলে। তারপর পাঁচ সপ্তাহ ধরে স্কুলের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকা। এখন তো মনে হয় ওই ঘটনাগুলো অন্য কারোর সঙ্গে ঘটেছিল।’

রন সম্মতির সুরে বললেন, ‘হ্যাঁ সেরকমই মনে হয়, ঠিকই বলেছিস। জীবনের চলার পথের উত্তেজনাময় অংশগুলো খুব তাড়াতাড়ি মন থেকে মুছে যায়। আর একঘেয়ে ব্যাপারস্যাপার গুলোই জমে বসে থাকে। আমার মনে হয় এটাই আমাদের মস্তিস্কের কার্যপদ্ধতি। ও হ্যাঁ যেটা জানতে চাইছিলাম, প্রফেসর জ্যাক্সন কেমন আছেন?’

জেমস চোখ বড় বড় করে বললো, ‘আরে কোনোকিছুই ওই স্টোনওয়ালকে বেশি দিন আটকে রাখতে পারে না। আসল জাদুদন্ডটা ভেঙে যাওয়ার পর যেটা নিয়ে উনি লড়েছিলেন সেটা খুব একটা ভালো ছিল না আগেরটার মতো। তবুও মাদাম ডেলাক্রয়ের সঙ্গে দ্বৈত যুদ্ধে উনি খুব বেশি আহত হননি। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে জ্যাক্সন তাড়া করে গিয়েছিলেন মাদামকে তারপর একটা ফাঁকা জায়গায় ওকে ধরে ফেলেন । যদিও ওখানে ডেলাক্রয় একটা শয়তানি চাল চালেন। ওর হয়ে লড়াই করার জন্য আহ্বান জানান শত্রুপক্ষের ড্রায়াড আর নায়াডদের। গাছগুলো পেছন থেকে আঘাত করে জ্যাক্সনকে ছিটকে ফেলে দেয়। তাতেই ওনার কপাল কেটে যায়। প্রেস্কট চলে যাওয়ার পরের দিন থেকেই শুরু করে দিয়েছেন ক্লাস নেওয়া । সঙ্গেই আমার আর জ্যানের ওপর যত রকম ভাবে পারছেন চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন।’

রন ভ্রু কপালে তুলে বললেন, ‘এর জন্য বোধহয় মানুষটাকে খুব একটা দোষ দেওয়া যায় না কি বলিস?’

‘আমরা ওনার ব্রিফকেস ফেরত দিয়ে দিয়েছি এবং যতরকম ভাবে সম্ভব ক্ষমা চেয়েছি। মানে বলতে চেয়েছি যে আমরা ওনার সারা জীবনের প্রচেষ্টায়, মারলিনের পোশাকটা সামলে রেখে সবচেয়ে ভয়ানক জাদুকরের প্রত্যাবর্তন আটকানো, জল ঢেলে দিয়েছি। কিন্তু দ্যাখো, মারলিনের ফিরে আসাটা ইতিবাচক হয়েছে। ডেলাক্রয়কে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে আমেরিকায়। ওনার বিচার হবে আমেরিকান উইজারডিং আদালতে। সব তো শেষ পর্যন্ত ঠিকঠাকই হয়েছে তাই না?’

‘আমি শুধু এটাই বলতে পারি আমি যদি ওনার জায়গায় থাকতাম আমি এমন ব্যবস্থা করতাম যাতে তুই যতবার ড্রয়ার খুলতিস মাকড়সা তোর গায়ে লাফিয়ে পড়তো’ রন বললেন দুষ্টুমির স্বরে। ‘তবে এটা একান্ত আমার ভাবনা। আমার মন সবসময় এরকম কিছুই করতে চায়।’

‘আঙ্কল রন, একটা সত্যি কথা বলি তাহলে। ইদানীং আমার প্রফেসর জ্যাক্সনকে খুবই ভালো লাগছে।’

‘জেমস, তোর কথাতেই বোঝা যাচ্ছে তুই বড় হচ্ছিস, অভিজ্ঞ হচ্ছিস, কাজেই তার প্রমাণ পাওয়া যায়। ক্ষমা চাওয়াটা খুব ভালো একটা ব্যাপার কিন্তু “সরি” শব্দটায় মোটেই কোন জাদু নেই। তুই শুধুমাত্র প্রফেসর জ্যাক্সনের পরিকল্পনাটাই বানচাল করে দিয়েছিলি তাই না, তুই ওনার গর্বের জায়গাটাতেই ধাক্কাটা মেরেছিলি। তুই সফল হয়েছিলি ওকে ধোঁকা দেওয়ার ব্যাপারে। ওর মনে সবসময় এটা থেকেই যাবে যে তুই ওকে বোকা বানিয়েছিলি।ওর মতো মানুষের পক্ষে এটা মন থেকে মুছে ফেলা বেশ কঠিন। এর জন্য ওকে তুই দায়ী করতে পারিস না, ঠিক কিনা বল?’

‘না, পারি না,’ জেমস মেন নিল। ‘জানো, উনি আমাদের টেকনোম্যান্সীতে কিন্তু ফেল করিয়ে দেন নি। যেটা করতেও পারতেন।’

‘একজন খাঁটি মানুষ। আশা করছি ক্লাসওয়ার্কের চাপ আর নেই। আরে জীবনের অন্যান্য দিকেও যে তুই আছিস সেটাও তো দেখাতে হবে।’

কাছ থেকে নোয়ার গলা ভেসে এলো, ‘অথবা জীবনের স্রোতে ভাসতে হবে।’

রন গম্ভীর ভাবে বললেন, ‘আমি শুনতে পেয়েছি মেটজকার। এটা একটা দারুণ রকম পটার ঐতিহ্য, স্কুলে কোনরকমে উতরে যাওয়া। যার শুরু হয়েছিল প্রথম জেমস পটারকে দিয়ে। তা আপনার খবর কি, মিঃ গ্রেমলিন?’

নোয়া জানালো, ‘সব জায়গার বোর্ড অনুসারে এবছরের সব চেয়ে বেশী মার্কস পেয়েছি।’

রন হাসলেন। ‘এর জন্য ধন্যবাদটা, সন্দেহ নেই পেট্রার প্রাপ্য। গ্রেমলিনদের কাছে ওর গুরুত্ব   ঠিক ততটাই যতটা আমার আর হ্যারির কাছে হারমায়োনির ছিল। একটু দাঁড়া। জেমস মাই ডিয়ার ওয়াইফ তোকে কিছু বলবে বোধ হয়।’

জ্বলন্ত কয়লা থেকে মুখটা অদৃশ্য হলো। একটু বাদেই ওখানে স্মিত হাসি এবং এক মাথা ঘন চুলের অধিকারিনী হারমায়োনির মুখ দেখা গেল। উচ্ছাসের সঙ্গে বললেন, ‘আররে জেমস! তোকে তো দারুণ হ্যান্ডসাম দেখাচ্ছে। শোন তোর আঙ্কলের কথা একদম শুনবিনা। ও নিজে যথেষ্ট পড়াশোনা করতো । সঙ্গেই বাকি পাঁচজনের মতই ও নিজেও ভালো মার্কস না পাওয়ার দুশ্চিন্তায় ভুগতো।’

আর একটা কন্ঠস্বর ভেসে এলো, ‘এগুলো মোটেই সত্যি না!’ হারমায়োনি মুখ ব্যাঁকালেন।

‘কোনও বদল হয়নি, একই থেকে গেছে। তোর বাবা মা খুব খুশী হবেন। আমরা তো খুশী হয়েছিই। বিশ্বাসই করতে পারছিনা কি তাড়াতাড়ি সময়টা চলে গেল। মনে হচ্ছে গতকালই আমরা স্কুলে ক্লাস করেছি,’ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কমনরুমের চারদিকটা দেখলেন। ‘একেবারে আমাদের সময়ের মতই আছে। আগামী বছরে  সময় করে একবার যাবো। পুরনো দিনের জায়গায় ফিরে যেতে ভালোই লাগে।’ কয়লার আগুনেও স্পষ্ট দেখা গেল হা্রমায়োনির চোখের কোনা চিকচিক করে উঠলো। বার দুয়েক চোখ পিট পিট করে জেমসের দিকে তাকালেন। ‘হ্যাঁ যা বলছিলাম জেমস। রন তোর ড্যাডের সঙ্গে কথা বলেছে, ওরা কিছু জানতে চান তোর কাছে। আমার যদিও মনে হয়েছিল ব্যাপারটা ওদের দুজনের মধ্যে কেউ একজন বললেই ভালো হয়। কিন্তু ওরা দুজনেই এতটা চিন্তিত বিষয়টা নিয়ে যে ওরা তোর মতামত জানতে চেয়েছেন।’

জেমস ফায়ার প্লেসের দিকে নীচু  হয়ে ঝুঁকে জানতে চাইলো, ‘কি ব্যাপার?’

‘আরে নীলডাউন হওয়ার দরকার নেই,’ হারমায়োনি ধমকের স্বরে বললেন। ‘তোর প্যান্টে ছাই লেগে যাবে। কথাগুলো তোদের হেডমিস্ট্রেসকে নিয়ে।  জানিস, উনি অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন।’

জেমস জানতো না। ‘তাই নাকি? কিন্তু…এরপর উনি কি করবেন?’

হারমায়োনি জেমসের দিকে এমন ভাবে তাকালেন বোঝাই গেল চেষ্টা করছেন এটা বোঝার যে, কথাগুলো জেমসের বয়সের উপযুক্ত হবে কিনা। ‘ব্যাপারটা হয়তো তোর পক্ষে বোঝা বেশ শক্ত কিন্তু এটা বলতে পারি হগওয়ারটস স্কুলের চার দেওয়ালের বাইরে ওর জন্য একটা আলাদা জীবন হয়তো অপেক্ষা করে আছে। উনি হয়তো, আমার মনে হচ্ছে, মিঃ ফিনির দেওয়া আমন্ত্রণ রক্ষা করতে লন্ডনে যাবেন।’

‘তাই নাকি?’ জেমস ককিয়ে উঠলো বলা যায়।

‘তাই নাকি?’ বই থেকে মুখ তুলে কাছেই কাউচে বসে থাকা নোয়াও পুনরাবৃত্তি করলো কথাটা।

হারমায়োনি চোখ পাকিয়ে বললেন, ‘আমি তোদের দুজনকেই নিশ্চিত করতে পারি ওটা হবে একটা অফিশিয়াল সাক্ষাৎকার। উনি যাবেন মিঃ ফিনির কিছু মেমোরী মডিফিকেশনের জন্য। যদিও এখানে ওনার ঘুরে যাওয়াটা পুরো ভুলিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে ম্যাকগনাগলের নেই, কিছু অদল বদল করে দেবেন। এর সবটাই মিঃ ডলোহভের তৈরী করা প্রোগ্রামের অংশ- “ক্লিন” – এই নামেই ডাকা হচ্ছে ওটাকে—স্কুলের   সিকিউরিটি রেকর্ড পরিষ্কার রাখার জন্য। তবুও,’ হারমায়োনি গলার স্বর নামালেন, ‘উনি মিঃ ফিনির ব্যাপারে একটু বেশী উচ্চ ধারণা পোষন করছেন। ব্যাপারটাকে এ ভাবে ভাবা যেতেই পারে যে উনি হয়তো, যাকে বলে, ইয়ে নিজের একজন জীবনসঙ্গী  খুঁজে পেয়েছেন। যতই হোক …’

রনের উচ্চকৃত গলা ভেসে এলো ফায়ার প্লেসের ভেতর থেকে, ‘হারমায়োনি!’

‘যাই হোক,’ হারমায়োনি, আসল কথায় ফিরলেন। ‘হ্যাঁ, হেড মিস্ট্রেস অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন, সম্ভবত এই সামারেই। আপাতত ওই পদটার জন্য উপযুক্ত মানুষ পাওয়া যাবে আশা করছি। খুব সম্ভবত উনি ট্র্যান্স ফিগারেশনের ক্লাসগুলো নেবেন এবং নতুন যিনি ওই পদে আসীন হবেন তাকে সাহায্য করবেন, তা সে যেই হোন না কেন। কেউ কেউ নেভিল লংবটমের নাম উত্থাপন করেছেন। কিন্তু মন্ত্রক মনে করে, ও এই পদের তুলনায় অনেক কম বয়সী, যেটা মোটেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। এটাকেই বলে রাজনীতির খেলা…’

‘মারলিন!’ জেমস বলে উঠলো। ‘তোমরা কি ওনাকে নতুন হেডমাস্টার করার কথা ভাবছো!’

একটা আনন্দ সূচক উল্লাস ধ্বনি শোনা গেল ফায়ার প্লেসের ভেতর থেকে। হারমায়োনি কাশলেন।

‘এই যে শোনো , আমি কিন্তু এসবের ভেতরে নেই, মনে রেখো। এসব তোমার ড্যাড আর আঙ্কলের আইডিয়া। কিন্তু আমার তো মনে হচ্ছে তুমিও এ ব্যাপারে ওদের মতোই উৎসাহী।’

‘কিন্তু উনি কি করে হেডমাস্টার হবেন?’ নোয়া কাউচ থেকে লাফিয়ে উঠে এলো ফায়ার প্লেসের সামনে। ‘সরি,’ কথাটাও বললো একই সঙ্গে। ‘ তোমাদের কথার মাঝে নাক গলানোর জন্য এবং সব কথা শোনার জন্য।’

‘আরে তাই নাকি?’ হারমায়োনি একটু ব্যঙ্গের স্বরে। ‘আমি তো ভাবছিলাম তুমি ওই অ্যারিথম্যান্সির বইটার মধ্যে ডুবে গিয়েছিলে। কি বোকা আমি। এটাকে সিক্রেট হিসেবেই রেখো, তোমরা দুজনেই। ওহো কি সব বলছি আমি? রন আমার মনে হয় এবার তোমার বলা দরকার।’ একটা বড় নিঃশ্বাস ফেলে এমন একটা মুখের ভাব করলো যেটা দেখে জেমসের আগেকার আন্ট হারমায়োনির  কথা মনে পড়ে গেল। হারমায়োনি হাসলেন। ‘জেমস, ফিরে আসার সফর ভালো হোক এই কামনা করি । সপ্তাহখানেকের ভেতরেই দেখা হবে। রোজ আর হুগো তোমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে আর ট্রেন থেকে কিছু কলড্রন কেক কিনে নিয়ে আসতে বলেছে। গুড ডে নোয়া।’

ফায়ারপ্লেস থেকে সরে যেতেই আবার ভেসে উঠলো আঙ্কল রনের মুখ। ‘দারুণ আইডিয়া কি বলিস?’ কথাটা বলে উদগ্রীবভাবে নোয়া আর জেমসের দিকে তাকালেন।

‘কিন্তু কিভাবে এটা সম্ভব?’ নোয়া আবার জানতে চাইলো। ‘মানে বলতে চাইছি, কিছুদিন আগে পর্যন্ত ওই মানুষটাকে এই গ্রহের সবচেয়ে সাঙ্ঘাতিক জাদুকর বলে মনে করা হতো, তাই নয় কি? আর এখন তুমি মনে করছো মন্ত্রক একদল ছোটো ছেলে মেয়ের দায়িত্ব ওনার হাতে তুলে দেবেন?’

‘সে ব্যাপারটা যে আমরা ভাবিনি তা নয়,’ রন বললেন দ্রুত। নিশ্চিত উনি নিজেও এসব নিয়ে ভেবেছেন। ‘ আর সে জন্য ম্যাকগনাগল আর নেভিল তো আছেনই। যারা ওর দিকে লক্ষ্য রাখবেন এবং খানিকটা বোর্ড অফ ডাইরেক্টর এর মতই ভুমিকা পালন করবেন। ম্যাকগনাগল এ ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছেন। অবশ্য বলা যেতে পারে আমরাই ওনাকে এব্যাপারে কিছুটা বাধ্য করেছি। উনি ভয় পাচ্ছেন আগামীদিনে হয়তো সব কাজ ওঁকেই করতে হবে আর তার ক্রেডিটটা পাবেন মারলিন। এরকম যে হতেও পারে সেটাও অনুমান করতে পারছি। কিন্তু তোর ড্যাড আর আমি এটা নিয়ে ভাবছি না। মারলিনের জন্মই হয়েছে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য, বুঝতে পারছিস আশা করি?’

‘হ্যাঁ,’ জেমস সম্মতি জানালো। ‘কিন্তু তবুও, উনি এমন একটা সময় থেকে এসেছেন যখন নেতৃত্ব দেওয়ার অর্থ ছিল মানুষকে বোঝানো কি করলে  গিলোটিনের কাছে যাওয়া থেকে বাঁচা যাবে। আমার তো মনে হয় না মন্ত্রক ওনাকে হগওয়ারটসের দায়িত্ব দিতে রাজি হবেন ।’

‘তোর মারলিন অবাক করে দেওয়ার মতো প্রভাব সৃষ্টিকারি মানুষ, বুঝলি জেমস,’ রন বললেন  সিরিয়াস কন্ঠে। ‘মিনিস্ট্রির প্রায় সবার সঙ্গেই দেখা করেছেন উনি। অনেক অনেক সময় ধরে আলোচনা করেছেন এই সময়ে এবং যুগে কিভাবে কাজকর্ম হয় সে ব্যাপারে। আমি বলতেই পারি এই কাজটার জন্য উনি কাজ শুরু করে দিয়েছেন!’

‘নোয়া বললো, ‘তাহলে তুমি ওকে অন্য কোথাও বসানোর কথা কেন ভাবছো না? বলতে চাইছি যে, বিশ্বের সবচেয়ে ফেমাস উইজার্ড উনি। আর কিছু যদি না থাকে মিনিস্টার অফ ম্যাজিক হতেই পারেন।’

রন হাসলেন দুষ্টুমির ভঙ্গীতে। ‘আমার মনে হয় তোরা দুজনেই খুবই ছোট ‘ওভার কোয়ালিফায়েড এবং আন্ডার এক্সপেরিয়েন্স’ কথা দুটোর সঠিক মানে বোঝার জন্য। সত্যি কথা বলতে কোন ডিপার্টমেন্টই ওনাকে চাইবেন না। মারলিনের মতো মানুষ ডেস্কের পেছনে বসে কাজ করার মানুষ মোটেই নন, এটাও একটা ব্যাপার। সঙ্গেই এটাও ঘটনা যে, কোন ডিপার্টমেন্টের প্রধান আধিকারিক ওকে সঙ্গে নিয়ে বেশিদিন  কাজ করতে পারবেন বলে আমার মনে হয় না।’

‘মানে তুমি বলতে চাইছো উনি নিজেই আধিকারিক হয়ে বসবেন?’ জেমস জানতে চাইলো।

‘সেটাও কম বলা হবে। উনি যাকে বলে ছুঁড়ে দেওয়া বন্দুকের গুলির মতো। নিশ্চিতভাবেই এই সময়ের অন্যতম সেরা জীবন্ত উইজার্ড। কিন্তু কাজের অভিজ্ঞতায় হাজার বছরের একটা ফাঁক আছে। উনি যত তাড়াতাড়ি কাজ করতে পছন্দ করেন তাতে এখনকার দিনের লালফিতের ফাঁসের মন্ত্রকের জগতে উনি বেমানান। জেমস তোর বাবাও ওর সঙ্গে তাল মেলাতে পারবেন কিনা সন্দেহ। ভেবে দ্যাখ এমন একজন মানুষের কথা যে কেবলমাত্র একটা চাহনি দিয়েই তার শত্রুপক্ষের লোকদের ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। আসল কথাটা হল মন্ত্রক, ওই লোকটাকে কোন রকম ঝামেলা বাঁধাতে পারবে না এরকম জায়গায় আটকে রাখতে চাইছে। এমন একটা জায়গা যেটা ওই মানুষটার পক্ষে সম্মানের কিন্তু সেখান থেকে কাউকে হুমকি দেওয়া যাবেনা। এর চেয়ে পরিষ্কার ভাবে বলা আর আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কেউ বলতে পারবে বলেও মনে হয় না।’

‘আর ঠিক এই মুহূর্তে হগওয়ারটসে একজন হেড মাস্টারের দরকারও আছে’, নোয়া বললো মুচকি হেসে।

‘তাহলে?’ রন বললেন নোয়ার হাসি লক্ষ্য করে। ‘ব্যাপারটা আশা করছি বোধগম্য হয়েছে, কি তাইতো?’

জেমস বললো, ‘যদি মন্ত্রক রাজি নাও হয় উনি ওদের রাজি করিয়েই ছাড়বেন বলেই ভাবছ তো তুমি?’

ফায়ার প্লেসে রন কাঁধ উঁচু করে বললো, ‘ কিন্তু কথাটা কে বলবে? এখনো কেউ ওকে এ ব্যাপারে কিছু বলেননি । তবে যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে।’ রন খানিকক্ষণ জেমসের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। ‘জেমস, তুইতো ওনাকে সবচেয়ে ভালো বুঝিস। উনি যখন অতীত থেকে ফিরে আসেন তুই ছিলি ওখানে। তুই সেই মানুষ যে ওর সঙ্গে কথা বলে হগওয়ারটস এবং জাদু দুনিয়াকে বাঁচানোর ব্যবস্থা করেছিস। এখন তোর ভাবনা কি? তুই কি মনে করিস উনি একজন ভালো হেডমাস্টার হতে পারবেন? তোর কি মনে হয় আমাদের ওনার সঙ্গে কথা বলা উচিত?’

নোয়া কাউচে হেলান দিয়ে জেমসের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করতে থাকল জেমস কি বলে সেটা শোনার। জেমস জানে ওর উচিত এটা নিয়ে একটু ভাবার, কিন্তু এটাও ঠিক উত্তরটা ও জানে। মারলিন একজন জটিল প্রকৃতির মানুষ। এবং মোটেই একজন “ভালো” মানুষ বলতে যা বোঝানো হয় বা মানুষ বোঝে, যেমনটা ছিলেন আল্বাস ডাম্বলডোর বা মিনারভা ম্যাকগনাগল, তা নন। কিন্তু জেমস এটাও জানে, নিশ্চিতভাবে জানে যে মারলিন ভালো হতে চাইছেন। এটা বলা কঠিন সেই হেডমাস্টার ভালো- যিনি আচার আচরণে সত্যিই ভালো, নাকি সেই মানুষ ভালো – যিনি প্রত্যহ ভালো হওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু জেমসের এটা বোঝার মতো ক্ষমতা হয়েছে যে এই ঝুঁকি নেওয়াটা ক্ষতিকর হবে না। তাছাড়াও, জেমসের গ্রেমলিন সত্তা মাথার মধ্যে বলে উঠল – এরকম একটা হেডমাস্টার পাওয়া বেশ মজার যিনি টাবিথা করসিকার মতো উৎপাতদের এক চাহনীতে নেই এর জগতে পাঠিয়ে দিতে পারেন।

‘জিজ্ঞেস করো ওনাকে,’ জেমস বেশ জোরের সঙ্গেই বলল। ‘যদি মন্ত্রক রাজি থাকে তাহলে জিজ্ঞেস করো। আমার মনে হয় উনি রাজি হয়ে যাবেন।’

‘উউউউ হুউউউ!’ নোয়া উল্লাস ধ্বনি ছাড়লো, শূন্যে হাত ছুঁড়ে।

‘আপাতত কথাটা নিজেদের ভেতরেই থাক,’ রন বললেন গম্ভীর স্বরে। ‘যদি কোনোভাবে জানাজানি হয়ে যায় যে তোর ড্যাড আর হারমায়োনি ব্যাপারটা নিয়ে মন্ত্রকে গোছগাছ করছেন তাহলে সব ঘেঁটে ঘ হয়ে যাবে। বুঝতে পারলি?’

নোয়া হাসলো। জেমসও সম্মতির হাসি ফোটালো মুখে।

কথা ঘুরিয়ে রন জানতে চাইলেন, ‘তোর ড্যাড ক্লোক আর ম্যাপটা ফেরত নিয়ে নিয়েছেন নাকি?’

‘হ্যাঁ। এখান থেকে ফিরে গিয়ে  আমাকে দু সপ্তাহ মাটিতে চলাফেরা করতে হবে। দু সপ্তাহ ঝাড়ু ব্যবহার করা মানা।’

রন চুক চুক করে শব্দ করলেন টাকড়ায় জিভ ঠেকিয়ে। ‘ ঠিক যে সময়টাতে তুই আরো দক্ষ হয়ে উঠছিস ওটা ব্যবহারে সেই সময় এমন শাস্তি । আহা রে। যাক গে। জানিসই তো তোর ড্যাড সবদিকে নজর রাখেন, তোদের শাস্তিও দেন। কিন্তু তোর জন্য খুব গর্বও করেন।  তুই আমারটা ব্যবহার করিস।’

জেমসে হাসি বিস্তৃত হলো, গালে পড়লো লাল ছোপ।

রন বললেন হাসি থামিয়ে, ‘তবে মনে রাখিস, আমি কিন্তু বারবার এটা করবো না। একবার ঠিক আছে। আবার যদি তুই ওরকম কিছু করিস, জিন্নি তোকে বেসমেন্টের স্কুলে ভর্তি করে দেবে। এটা ভুলে যাবি না, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। ওকে সামলানো কিন্তু খুব কঠিন জেমস।’

 

***********

 

ওইদিন বিকেলে, জ্যান আর র‍্যালফের সঙ্গে জেমস আলমা আলেরনের অতিথিদের বিদায় নেওয়া দেখতে গেল। দেখতে পেল সেই উড়ন্ত গাড়ি তিনটে গ্যারাজের বাইরে এনে রাখা হয়েছে। গ্যারাজটার কাঠামো খুলে নিয়ে ট্রাঙ্কে ঢুকিয়ে রেখে দেওয়া হয়েছে ডজ হরনেটে।

জ্যান বললো চিন্তার স্বরে, ‘ওখানে বেশ জটিল এবং রহস্যময় কিছু ব্যাপার ছিল কিন্তু আমি ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারিনি।’

‘কোনটা ? কিছুক্ষণ আগে যেটা একটা বাড়ির মতো ছিল সেটাকে প্যাক করে ঢুকিয়ে নেওয়ার ব্যাপারটা?’

‘না। যত ফিরে যাওয়ার দিন এগিয়ে আসছিল প্রফেসর ফ্র্যাঙ্কলিনের জনপ্রিয়তা ছাত্রীদের মধ্যে ততই বেড়ে যাচ্ছিলো।’ এটা খুব সত্যি কথা। ফ্র্যাঙ্কলিন স্কুলের বয়স্কা মেট্রন থেকে শুরু করে প্রথম বর্ষের ছাত্রী সকলেই ফ্র্যাঙ্কলিনকে খুব পছন্দ করতো। উনি হেঁটে যাওয়ার সময় প্রত্যেকের মাথায় হাত ছোঁয়াতেন আর ওরা খিলখিলিয়ে হেসে উঠতো। দুজনের ওপর ওঁর কোনও প্রভাব পড়েনি । এক হেডমিস্ট্রেস আর দুই ভিক্টরি, যে মনে করতো উনি একজন অতিরিক্ত মাত্রায় বুড়ো হাবড়া। টেড বলেছিল একটু বেশী বয়সী হওয়ার একটা সুবিধা আছে যে কোন বয়সের মেয়েদের সঙ্গে সহজেই আলাপ জমানো যায়, কারন একজন বয়স্ক মানুষের কথাবার্তায় খুব একটা গুরুত্ব কেউ দেয় না। জ্যানের এই কথাটা বেশ মনপুতঃ হয়েছিল।

দুষ্টুমির স্বরে বলেছিল, ‘আমি যখন বুড়ো হয়ে যাব আমার একটাই কাজ হবে, একের পর এক মেয়েদের সঙ্গে আলাপ করা আর মিষ্টি মিষ্টি কথা বলা।’

জেমস চোখ কুঁচকে বললো, ‘উনি কিন্তু কোন কথাই বলেন না। কেবলমাত্র হাসেন আর নিজে যেন কিছুই না এমন একটা ভাব মুখে ফুটিয়ে তোলেন। যেটা অবশ্য উনি সব সময়েই করে থাকেন।’

‘এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে মেয়েদের সঙ্গে আলাপ করার ক্ষেত্রে তোর জ্ঞানের বহর।’

র‍্যালফ বড় বড় চোখ করে বললো, ‘আমি তো অবাক হয়ে যচ্ছি এটা দেখে যে তুই কিছু শেখার চেষ্টাই করছিস না এ ব্যাপারে।’

‘ওনার উচিত ছিল এ বিষয়ে একটা ক্লাস নেওয়ার,’ জ্যান বললো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে, প্রফেঃ ফ্রাঙ্কলিন পেট্রার হাতে বিদায় কালীন চুম্বন করছেন, দেখতে দেখতে। পেট্রা হাসল, ওর গালে লালের আভা সুস্পষ্ট। ফ্রাঙ্কলিন সোজা হয়ে দাঁড়াতেই পেট্রা ঝুঁকে প্রফেসরের গালে হাল্কা করে ঠোঁট ছোঁয়ালো ।

‘লেডিজ অ্যান্ড জেন্টলম্যান অফ হগওয়ারটস,’ ঘুরে উপস্থিত জনতার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘একটা বছর ধরে তোমাদের জন্য কিছু করতে পারাটা একটা অনন্য অভিজ্ঞতা আমাদের কাছে। এটা আমাদের কাছে ছিল একটা মনে রাখার মতো ঘটনাবহুল বছর। ইউরোপীয়ান ম্যাজিক্যাল কমিউনিটির সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে আমরা বিশ্ববাসীর সামনে একটা নজির স্থাপন করলাম । যার প্রভাব  কেবলমাত্র জাদু জগতেই নয় একই সঙ্গে সমস্ত মানব জগতের ওপর পড়েছে।’ কথা থামিয়ে একবার তাকিয়ে নিলেন সবার দিকে তারপর চশমা খুলে হাতে নিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। ‘আমার মনে হয়, আমরা এক দারুণ রকমের চ্যালেঞ্জে ভরা সময়ের শুরুতে দাঁড়িয়ে আছি। বদলের বাতাস বইতে শুরু করেছে। সাগরের উভয় পারে আমরা সেই সমস্ত শক্তিদের দেখতে পাচ্ছি যারা আমাদের সংস্কৃতির গোঁড়া ধরে নাড়া দিচ্ছেন। কিন্তু এখন আমাদের মধ্যে একটা বন্ধুত্বের সেতু গড়ে উঠেছে । আমরা এক হয়ে দাঁড়ালেই টিকে থাকতে পারবো তা সে যে আক্রমণই আসুক না কেন। আমি দীর্ঘদিন ধরে এই পৃথিবীতে আছি। সেই সূত্রে পাওয়া আত্মবিশ্বাস থেকে বলতে পারি সব সময়ের হাওয়াতেই একটা বদলের ইঙ্গিত থাকে। ভালো মানুষদের কাছে একটাই চ্যালেঞ্জ আর সেটা হল সেই বদলে বদলে না গিয়ে বদলটাকে নিজের মতো করে সাজিয়ে নেওয়া, তাহলেই  ধ্বংসের বদলে লাভের মুখটাকে দেখা যাবে। এই বছরটার পর, আমি নিশ্চিত এবং আত্মবিশ্বাসী যে আমরা সেই কাজটা করতে সক্ষম হব।’

একটা উচ্ছ্বাসের আওয়াজ গুনগুন করে উঠলো চারদিকে, যদিও সেটা জেমসের কাছে কিছুটা সাজানো বলেই মনে হল। উপস্থিত সকলে মোটেই ফ্র্যাঙ্কলিনের সঙ্গে একমত নয় বা সবাই একই কারণে এটা মেনে নেবে। তবুও এটা বলতেই হবে খুব ভালো কিছু কথা বললেন প্রফেসর, যার জন্য জেমসের খুব ভালো লাগছে।  উপস্থিত জনতার বিদায়সূচক ধ্বনির শুনতে শুনতে ভক্স ওয়াগন বীটলে চড়লেন ফ্র্যাঙ্কলিন। খোলা দরজা দিয়ে শেষবারের মতো হাত নাড়লেন।

কেউ একজন জেমসের কাঁধে টোকা দিলো। ও ঘুরে দেখলো প্রফেসর জ্যাক্সন ওর পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন। লম্বা কালো পোষাকে সজ্জিত মানুষটাকে আজ আগের চেয়ে অনেক তাজা দেখাচ্ছে। ঝুলো ভুরু নিচু করে নাক বরাবর জেমসের দিকে তাকালেন উনি।

‘আমার মনে হয় এটা তোমার ভালোই লাগবে,’ জ্যাক্সন বললেন। জেমস দেখলো উনি একটি ছোটো কাঠের বাক্স হাতে ধরে আছেন। জ্যাক্সন একবার ওটার দিকে তাকালেন তারপর জেমসের   দিকে এগিয়ে ধরলেন। ‘এটা পাওয়া গেছে মাদাম ডেলাক্রয়ের ঘরে। আমার মনে হয়েছে এটা অন্য যে কারুর তুলনায় তোমার পাওয়ার অধিকার বেশি। যেভাবে সুবিধা হবে এটা ব্যবহার কোরো।’

জেমস নিলো বাক্সটা, খুবই হাল্কা। অদ্ভুত ধরনের সবুজ রঙের, দারুণ খোদাই করা কাজে ভর্তি গোটা গা। যেটা ওকে মনে করিয়ে দিলো লুক্কায়িত দ্বীপের লতাপাতা জড়ানো দরজাটার কথা। মুখ তুলে জিজ্ঞেস করতে যাবে এটা কি দেখলো প্রফেসর এগিয়ে চলে গেছেন স্টুটজ ড্রাগনফ্লাই গাড়িটার কাছে। গাড়ির কাছে পৌছে উনি থামলেন, ঘুরে একহাত তুললেন জনতার উদ্দেশ্যে, মুখটা সেই আগের মতোই পাথর সদৃশ। এবার যে উচ্ছাস ধ্বনিত হল তা ফ্র্যাঙ্কলিনের তুলনায় অনেক অনেক বেশি। অবাক করা ব্যাপার এটাই যে হগওয়ারটসে জ্যাক্সন সকলের পছন্দের একজন মানুষে পরিণত হয়ে গিয়েছিলেন, যেটা কিন্তু তার খিটখিটে বদমেজাজী স্বভাব এর সঙ্গে খাপ খায় না।

জ্যাক্সন গাড়িতে চেপে পড়া মাত্র, বাকি যারা ছিল তারাও দ্রুত উঠে গেল গাড়িগুলোতে। ধুসর পোশাক পড়া আমেরিকান ডিপার্টমেন্ট অফ ম্যাজিক্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সদস্যরা আগের দিনই এখানে এসে গিয়েছিলেন লন্ডন থেকে। আমেরিকা ফিরে যাওয়ার সময় এদের সঙ্গে থাকার জন্য। ওরাও উঠে পড়লেন গাড়িতে, বিদায় সম্ভাষণ জানিয়ে। একেবারে শেষে সব বাক্স প্যাঁটরা গাড়িগুলোর অন্তহীন মালপত্র রাখার জায়গায় চাপিয়ে দিয়ে পোর্টাররাও ড্রাইভিং আসনে গিয়ে বসলো।

আস্তে আস্তে খুলে গেল গাড়িগুলোর পাখনা। ধীরে ধীরে শুরু হল হাওয়ায় সেগুলো ঝাপ্টানো। ডজ হরনেটটা উড়ে গেল সবার আগে। স্প্রিং এর চাপ আর ধাতব কিছু শব্দের একটা রেশ রেখে ওটা ভেসে গেল হাওয়ায়। পিছু পিছু আকাশে উঠলো স্টুটজ ড্রাগনফ্লাই আর ভক্সওয়াগন বীটল। ওদের পাখনা ঝাপ্টানোর ফলে সৃষ্ট হাওয়ায় নড়ছিল মাঠের ঘাস। তারপরই সহসা এক ঝটকায় প্রচন্ড গতিতে মুখ তুলে ওগুলো উঠে গেল আকাশে। আর এক মিনিট যেতে না যেতেই শব্দ সহ সব কিছু মিলিয়ে গেল পাহাড়ের ওপর দিয়ে ভেসে আসা বসন্তের হাওয়ায়।

র‍্যালফ, জ্যান আর জেমস গিয়ে বসলো মাঠের একটা বেঞ্চে।

র‍্যালফ কৌতূহলের চোখে বাক্সটার দিকে তাকিয়ে বললো, ‘জ্যাক্সন কি দিয়ে গেল ওটা তোকে?’

জ্যান সাবধান করার মতো করে বললো, ‘আমি তোর জায়গায় থাকলে কিন্তু ওটা খুলে দেখতাম না। ভুলে গেছিস নাকি উনি বলেছিলেন কিন্তু আমাদের জীবনটাকে খুব উত্তেজনাকর করে ছেড়ে দেবেন? উনি অপেক্ষাতেই ছিলেন এই চলে যাওয়ার। ঠিক তার আগে প্রতিশোধ নেওয়ার ব্যবস্থাটা করে গেলেন। যাতে উনি চলে যাওয়ার পর গন্ডগোলগুলো পাকে।’ বুদ্ধিমানের ভঙ্গীতে নিজের মাথায় টোকা মারলো।

জেমস ভ্রু কুঁচকে মাথাটা একবার নাড়লো। কোলের ওপর রাখা বাক্সটার দিকে তাকালো। সামনের দিকে একটা পেতলের ল্যাচ লাগানো, আপাতত আটকানো। কিছু না বলে, ওটা খুলে ফেললো জেমস। জ্যান আর র‍্যালফ ঝুঁকে এলো দেখার জন্য। বাক্সের ভেতরটা বেগুনী ভেলভেটে মোড়ানো। একটা জিনিস রাখা আছে ওখানে, শোয়ানো আছে ভাঁজ করা পার্চমেন্টের ওপর।

র‍্যালফ সোজা হয়ে বসে বললো, ‘এ কি রে বাবা। কিছুইতো বুঝতে পারছি না। এটা তো একটা পুতুল।’

জেমস ওটাকে হাতে তুলে নিলো। সত্যিই খুব ছোট্ট একটা আকৃতি, কোনরকমে বানানো হয়েছে সুতো আর চট দিয়ে। সঙ্গেই দুটো আলাদা রকমের বোতাম দিয়ে চোখ।

জ্যান ভালো করে তাকালো, মুখ গম্ভীর। ‘এটাতো …এটাতো তুই, জেমস।’

নিশ্চিত করেই বলা যায় হ্যাঁ যথেষ্টই মিল আছে। কালো সুতো দিয়ে বানানো চুল জেমসের অগোছালো চুলের সঙ্গে একই রকম দেখতে। এমন কি মাথার আকৃতি, মুখের কাছের সেলাই এবং বোতামের চোখ বেশ ভালো ভাবেই জেমস কে চিনিয়ে দিচ্ছে।

জেমস কেঁপে উঠলো। ‘এটা একটা ভুডু পুতুল,’ বললো। এবার ভেতরের পারচমেন্টটার দিকে নজর গেল ওদের। ওটার ভাঁজ খুলে পড়তে শুরু করলো তিন জনে।

মিঃ পটার

আশা করি তুমি বুঝতে পারছো এটা কি বস্তু। এবছরে আর সময় হলোনা রিপ্রেজেন্টেশন্যাল হারমনিক্স এর প্রাচীন বিদ্যা নিয়ে টেকনোম্যান্সীর ক্লাসে আলোচনা করার। তবে আমার মনে হয় তুমি ব্যাপারটা বুঝে নিতে পারবে। এটা পাওয়া যায় মাদাম ডেলাক্রয়ের ঘরে। হেডমিস্ট্রেস এবং সেভেরাস স্নেপ ও ডাম্বলডোরের পোরট্রেটের সঙ্গে- জানো বোধহয় ওরা তোমার দিকে বিশেষ নজর রাখেন- আলোচনার পর আমরা মনে করি মাদাম ডেলাক্রয় যে এটা তোমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতেন এটা জানাটা তোমার দরকার। মানুষকে ব্যবহার করার উনার এই ক্ষমতা সত্যিই তারিফ করার মতো। এই পুতুলটা রাখা ছিল আর একটা বড় পুতুলের পাশে, যেটা তোমার বাবা হ্যারি পটারের। অন্যদিকে রাখা ছিল একটা মোমবাতি। যা মনে হচ্ছে তাতে উনি সব সময় ওই মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখতেন। যার ফলে সব সময় তোমার বাবার পুতুলের ছায়ায় তোমার পুতুলটা থাকতো।

ভুডু পদ্ধতিতে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে একটা সত্যের অংশ থাকে। ডেলাক্রয় জানতেন তুমি তোমার খ্যাতনামা বাবার চাহিদার কথা ভেবে একটা দ্বন্দ্বে ভুগছো। এখান থেকে একটা শিক্ষা গ্রহণ কোরো মিঃ পটার, সেটা হলো ইমোশন ব্যাপারটা খারাপ নয়, কিন্তু তাকে যাচাই করার আবশ্যকতা আছে। নিজে ভালো করে জানো, বোঝো। অনুভব সবসময়ে দরকারি কিন্তু তা আমাদের বিভ্রান্তও করে দেয়। আর সেগুলোই, যেমনটা বুঝতে পারছ, তোমার বিরুদ্ধেই ব্যবহার করার সুযোগ তৈরী হয়। আমি আবার বলছি, তোমার চেয়ে একজন বয়সে বড় মানুষ এবং শিক্ষকরূপে, নিজের অনুভূতিকে যাচাই করতে শেখ। যদি তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারো তাহলে ওরাই তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করবে।

থিওডোর হিরসাল জ্যাক্সন

‘ওয়াও!’ র‍্যালফ নিঃশ্বাস নিয়ে বললো, ‘তাহলে আমাদের ভুডু কুইন ডাকাটা শুধু শুধু ছিল না !’

জ্যান জানতে চাইলো, ‘এটা নিয়ে তুই কি করবি জেমস? মানে বলতে চাইছি যে যদি তুই এটাকে নষ্ট করতে চাস, হয়ত তোকেও শেষ হয়ে যেতে হবে, সে যেভাবেই হোক না কেন?’

জেমস ছোট্ট বদখৎ নিজের মূর্তিটার দিকে তাকাল। ‘আমার সেটা মনে হয়না,’ উত্তর দিল ভাবনা গম্ভীর স্বরে। ‘আমার মনে হয়না কারণ তাহলে জ্যাক্সন এটা আমাকে দিতেন না। আমার মনে হয় উনি এটা দিয়েছেন কি ঘটেছিল সেই কথাগুলো মনে রাখার এবং আবার যেন এরকম না ঘটে সেটা নিশ্চিত করার জন্য।’

‘তাহলে, তুই কি করবি এটাকে?’ জ্যান আবার জানতে চাইলো।

জেমস উঠে দাঁড়িয়ে পুতুলটাকে জিন্সের পকেটে ঢোকাল। ‘আমি জানি না। মনে হচ্ছে এটাকে রেখেই দেব। অন্তত কিছুদিনের জন্য তো বটেই।’

এর পরেই তিন বন্ধু চলল স্কুলের দিকে, স্কুলের প্রথম বছরের শেষ দিনে আর যা যা করা সম্ভব সেগুলো করার জন্য।

ওই দিন অনেকটা রাতে, পরের দিন এখান থেকে ফিরে যাওয়ার উত্তেজনায় জেমসের ঘুম এলো না,  উঠে পড়লো বিছানা ছেড়ে। সিঁড়ি দিয়ে নেমে এলো কমন রুমে, এই আশায় কেউ হয়তো জেগে আছে উইজার্ড দাবা বা উইঙ্কল অ্যান্ড আউজার খেলার জন্য। ফায়ার প্লেসের ধিকিধিকি আগুনে ঘরটা ফাঁকাই পরে আছে। ঘুরে চলে যাবে এমন সময় জেমসের কিছু একটা চোখে পড়ায় ফিরে তাকালো। আগুনের কাছে বসে আছে সেড্রিক ডিগরির ভূত। রুপালী অবয়ব এখনো স্বচ্ছই আছে তবে জেমসের আগেরবারের দেখার তুলনায় অনেকটাই ঘনত্ব বেড়েছে।

জেমস কাছের একটা কাউচে গিয়ে বসতেই সেড্রিক হেসে বললো, ‘আমি নিজের জন্য একটা নামের কথা ভাবার চেষ্টা করছিলাম।’

জেমস বললো, ‘আপনার তো আগে থেকে একটা নাম আছেই?’

‘হ্যাঁ, তবে সেটা ঠিক ভূতুড়ে নাম নয়। ওই “নিয়ারলি হেডলেস নিক” বা “ব্লাডি ব্যারন” এর মতো তো কিছু নেই। আমিও ওরকম কিছু একটা নাম খুঁজছি।’

জেমস একটু ভেবে বললো, ‘ “দ্য চেজার অফ অ্যানোয়িং মাগল” নামটা কেমন?’

‘একটু বেশী বড়।’

‘তা, আপনি কিছু ভেবেছেন নাকি?’

‘আমি ভাবার চেষ্টা করেছি- হাসবে না কিন্তু,’ জেমসের দিকে তাকিয়ে ভূতটা  বললো। ‘আমি ভেবেছি এই টা “দ্য স্পেকটার অফ সাইলেন্স”।’

‘হুম,’ জেমস সাবধানে বলল। ‘কিন্তু আপনি তো নিস্তব্ধ নন। সত্যি বলতে কি ইদানীং আপনি ভালোই শব্দ করতে পারছেন। আপনার কণ্ঠস্বর শুনে আর মনেই হয়না যে অনেক অনেক দূর থেকে ওটা ভেসে আসছে।’

‘ঠিক,’ সেড্রিক সম্মতি জানালো, ‘ইদানীং আমি একটু বেশি  শব্দ করতে পারছি … শব্দ বলতে যা বোঝায় আর কি। আমি এখন এই স্কুলের আর পাঁচটা ভূতের মতই হয়ে যাচ্ছি আস্তে আস্তে। একটা সময় পর্যন্ত আমি তো চুপচাপই ছিলাম, তাই না?’

‘আমারও তাই মনে হয়। কিন্তু তবুও, “স্পেক্টার অফ সাইলেন্স” এই নামটা নিয়ে, জেমস একটু দ্বিধার সঙ্গে বলল, ‘ আপনি যদি মানুষের সঙ্গে কথা বলে বেড়ান সেটাও তো ঠিক হবে না।’

‘আমাকে হয়তো আরো ধীরস্থির আর শান্ত হতে হবে,’ সেড্রিক ফিসফিস করে বললো। ‘শুধু ভেসে বেড়াতে হবে এখানে সেখানে আর দেখতে হবে যেখানে যা ঘটছে। তারপর একদিন যখন আমি মানুষের পাশ দিয়ে যাবো, জীবিতরা একে অপরকে ফিসফাস করে বলবে, ‘আরে ওই দ্যাখো, যাচ্ছে! দ্য স্পেক্টার অফ সাইলেন্স!’

জেমস কাঁধ উঁচু করে বললো, ‘হ্যাঁ এটা বেশ ভালো হবে। আমার মনে হয় আপনি গোটা গ্রীষ্মটা পাবেন এই চুপচাপ থাকার অভ্যাস করার জন্য।’

‘আমারও তাই মনে হয়।’

জেমস সহসাই সোজা হয়ে বসে বললো, ‘তাহলে আপনি গ্রিফিন্ডোরের নতুন ভূত হতে চলেছেন? মানে নিয়ারলি হেডলেস নিক তো চলে গেছে ভূতেরা যেখানে যায় সেখানে। আমাদের কোন হাউস ঘোস্ট নেই।’

সেড্রিক একটু ভাবলেন। ‘আমার সেটা মনে হয় না। সরি। আমি হাফলপাফ এর সদস্য ছিলাম ভুলে যাওনি নিশ্চয়?’

জেমস আবার গা এলিয়ে দিলো। ‘ও, হ্যাঁ তাই তো। আমি ভুলেই গিয়েছিলাম।’

মিনিট খানিক চুপ থাকার পর সেড্রিক আবার কথা বললো, ‘তুমি কিন্তু একটা দারুণ কাজ করে দেখিয়েছ। আমাদের  সাহায্য করার জন্য জঙ্গলে গিয়ে মারলিনকে ডেকে এনে। আমরা মনে করেছিলাম উনি ভালো সব কিছু ত্যাগ করেছেন।’

জেমস মাথা তুলে ভূতটার দিকে তাকাল। কপাল কুঁচকাল সামান্য। ‘ও ওই ব্যাপারটা। সত্যি বলতে কি ওটা অন্ধকারে একটা ঢিল মেরেছিলাম। এটা আমার দোষ যে মারলিন আমাদের এই সময়ে ফিরে এলেন। আমার মনে হয় ছিল আমি জগতের জন্য একটা ভালো কাজ করছি। জ্যাক্সন আর ডেলাক্রয়ের শয়তানি পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করছি। শেষ অবধি দেখা গেল মাদাম আমায় সমানে ব্যবহার করে গিয়েছেন। অন্যদিকে প্রফেসর জ্যাক্সন একজন সত্যিকারের ভালো মানুষ।’

‘সে যাই হোক, তুমি তো কিছু শিক্ষা লাভ করলে এর থেকে, তাই না?’ সেড্রিক বোঝানোর মতো করে বললো।

‘আমি জানি না,’  বলার পর জেমস  একটু ভেবে বললো, ‘হ্যাঁ আমারও সেটাই মনে হচ্ছে।’

সেড্রিক বললো, ‘ একটা ব্যাপারে তুমি আর তোমার বাবা একদম একইরকম।’

জেমস হাসলো মজা পাওয়ার ভঙ্গীতে। ‘আমি তো বুঝতে পারিনা সেটা কি। আমি শুধু একটাই জিনিস বুঝেছি আমার কাজের পদ্ধতি আমার ড্যাডের মতো হবে না। যদি সেটা করার চেষ্টাও করি সব তালগোল পাকিয়ে যাবে। আর আমি যদি আমার নিজের পথে করি, হয়তো কপালজোরে সব কিছু ঠিকঠাক সামলে নিতে পারবো। ড্যাডের পথটা ছিল নায়কোচিত। আমার পথটা ম্যানেজারের কাজ করার মতো। আমার সেরা ট্যালেন্ট হলো আমি মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে পারি।’

জেমসের দিকে ঝুঁকে সরাসরি চোখের দিকে তাকিয়ে সেড্রিক বললেন, ‘‘না জেমস! তোমার সেরা ট্যালেন্ট হলো তুমি মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারো সাহায্য করার জন্য। তুমি কি মনে করো এটা বিরাট কিছু নয়? এই জগতের তোমার মতো লোকের দরকার, কারণ বেশিরভাগ মানুষের সেই আত্মবিশ্বাস বা প্যাশন নেই নায়ক হওয়ার। ওরা হতে চান, কিন্তু কাজটা কেন করবে ও কিভাবে করবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্যেও লোক দরকার। তোমার ভেতর সেই ক্ষমতাটা আছে জেমস। তোমার বাবা একজন হিরো ছিলেন। কারণ সে ছিলো এমন একজন ছেলে যে বেঁচে থাকবেই এটা নির্দিষ্ট ছিল। দ্য বয় হু লিভড। ওর একটা নিয়তি ছিল। যার জন্য ওর চলার পথটা মোটেই সহজ ছিল না। কিন্তু একটা পথ আগে থেকেই ঠিক করা ছিল ওর জন্য। সে পথে হাঁটা শুরু করেছিল হ্যারি। আবার সেই পথেই ছিল ভল্ডেমরটের যাত্রা। ও জানতো ওর অবস্থানটা কোথায় আর ওকে কি করতে হবে। তার জন্য যদি মরতেও হয় কিছু করার নেই।

আর তুমি …তুমিও একজন হিরো কারণ প্রত্যেকটা দিন তুমি খুঁজে নিচ্ছো, বেছে নিচ্ছো দশের মধ্যে একজন হওয়ার পথটা। সঙ্গে সঙ্গেই তোমার মধ্যে সেই ক্ষমতা আছে যা দিয়ে তুমি উৎসাহিত করছ আর পাঁচজনকে তোমার মতো হওয়ার জন্য।’

জেমস ফায়ার প্লেসের কয়লাগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বললো, ‘আমি কোনও হিরো নই।’

সেড্রিক হাসলেন এবং আগের অবস্থানে ফিরে গেলেন। ‘তুমি এরকম ভাবে ভাবছো তার কারণ  তুমি মনে করো হিরোরা সব সময়েই জয়ী হয়। জেমস এই একটা বিষয়ে তুমি আমার কথা বিশ্বাস করতে পারো। একজন হিরোকে তার জয় দিয়ে বিচার করা হয় না। অনেক হিরোর মৃত্যু হয়েছে এই জয়ের প্রচেষ্টায়। তাদের মধ্যে অধিকাংশকেই ইতিহাস মনে রাখেনি।  আসল কথা হল হিরো সেইজনই হতে পারে যে সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করে, যখন হয়ত সেটা না করাটাই অনেক অনেক সহজ কাজ বলে বাকিদের মনে হয়।’

জেমস ঘুরে ভূতটার  দিকে তাকাল, মিচকি হাসলো। ‘মনে হচ্ছে আপনাকে আমাদের ডাকা উচিত “দ্য স্পেক্টার অফ চিজিনেশ” নামে, বকতে পারেন বটে ।’

ভূতটা ‘হা, হা,’ করে হেসে উঠল।

জেমস উঠে দাঁড়ালো। ‘ধন্যবাদ , সেড্রিক।  আপনার কথাগুলো…সাহায্য করবে আমাকে।’

সেড্রিক মাথা ঝোঁকালো। জেমস এগিয়ে গেল সিঁড়ির দিকে, থামল প্রথম ধাপের কাছে গিয়ে। ‘একটা ব্যাপার আমাকে ভাবাচ্ছে, সেড্রিক। হয়তো আপনি একজন ভূত এবং ওসবের সঙ্গে থাকার কারণে ব্যাপারটা কিছু জানলেও জানতে পারেন।’

‘বলো কি ব্যাপারে জানতে চাও?’

‘অরণ্যে আমাকে ড্রায়াড বলেছিল এমন একজন আছে যে ভল্ডেমরটের উত্তরাধিকারী । উনি এটাও বলেছিলেন সেই জন জীবিত এবং কাছে পিঠেই আছে, এই স্কুল চত্বরের ভেতরেই।’

সেড্রিক মাথাটা একটু ঝুঁকিয়ে বললো, ‘হ্যাঁ শুনেছি তুমি যখন কথাটা স্নেপকে বলেছিলে।’

‘তা সে যেই হোক, আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এই সেইজন যে র‍্যালফের গেম ডেক চুরি করে অ্যাস্ট্রামাড্ডুক্সের নাম ব্যবহার করেছে। যদিও ব্যাপারটা তা হয়নি, এরকম কাউকেই পাওয়া যায়নি। সে যেই হোক সে তো প্রথম থেকেই মিস সাকারিনার সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করে চলেছে।’

সেড্রিক কাছের এক জানলা দিয়ে দূরে তাকালেন । ‘তোমার কি মনে হয় তুমি জানতে পেরেছো সেটা কে?’

জেমস বললো, ‘টাবিথা করসিকা। স্নেপের সঙ্গে কথা বলার সময়েও এবং এখনো পর্যন্ত আমি মনে করি ওটা ওই হতে পারে। ওর ঝাড়ুটা মারলিনের জাদুলাঠি নয় প্রমাণ হয়ে গেছে। কিন্তু কিছু একটা গণ্ডগোল আছে ওটাতে। আর সঙ্গে সঙ্গেই টাবিথাও যথেষ্ট সন্দেহজনক।’

সেড্রিক উঠে চেয়ারগুলো ভেদ করে এগিয়ে গেল, এবং সেটা যে অজান্তেই করছে বোঝা গেল। ‘জেমস আমার কেমন যেন একটা মনে হচ্ছে। আমি সেটা তোমাকেই বলছি। সেই যার নাম করা উচিত নয় বলে সবাই বলে সে যেন এখানেই আছে। আমার এরকমটাই মনে হয়। সে এই সব হলের ভেতরে ঘুরে ঘুরে বেড়ায়। এটা অনেকটা একটা গন্ধের মতো, একটা পচা উগ্র গন্ধ যার থেকে ভুসভুসিয়ে উঠছে  … বেগুনী রঙা একটা কিছু। হয়তো আমি অন্য ভূতেদের চেয়ে একটু বেশী সেনসিটিভ ।   আমি বুঝতে পারি কারণ সেই তো দায়ী ছিল আমার মৃত্যুর জন্য।’

‘হ্যাঁ,’ জেমস আস্তে করে বললো, ‘আমি সেটা ভুলিনি।’

‘কিন্তু জেমস ঘটনাচক্র খুব কমই আমাদের ভাবনা মতো ঘটে। আমরা যা ভাবি সেরকম সব সময় নয়। বাস্তব জগতে, অন্তত আমার সময়ে, মারলিনের সময়ে নাও হতে পারে, শয়তান অনেক রকমের রূপ নেয় মুখোশ পরে। যা যথেষ্টই বিভ্রান্তিকর। তোমাকে সতর্ক থাকতে হবে। অনেক সময়েই ভালো মানুষদের দেখে খারাপ মনে হয়। আমাদের মধ্যে অনেকেই এই ভুলটা করেছি প্রফেসর স্নেপের ব্যাপারে। যার মধ্যে তোমার বাবাও আছেন।’

‘আর আমিও করেছি সেটাই,’ জেমস স্বীকার করলো। ‘প্রফেসর জ্যাক্সনের ক্ষেত্রে।’

সেড্রিক মাথা নোয়ালো।

‘প্রথম থেকেই আমার মনে হয়েছিল টাবিথা মারলিন ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। আপনার কি মনে হয় ওর আর ওর ঝাড়ুটার আসল গল্পটা কি?’

জেমসের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন সেড্রিক, মনে হল যেন ওকে বোঝার চেষ্টা করছেন। ‘আচ্ছা তোমার কি একবারও মনে হয়নি যে ও যেটা বলছে আসলে ওর ঝাড়ুটা আসলে তাই?’

‘মানে?’ জেমস অবিশ্বাসের স্বরে বললো। ‘একটা মাগল সৃষ্ট শিল্পকলা? এটাতো একটা মিথ্যে এটা মনে হচ্ছে না আপনার ?’

সেড্রিক কাঁধ ঝাঁকালেন, কিন্তু ভঙ্গীতে মনে হলো আসলে উনি যা জানেন সেটা পুরোটা বলছেন না। ‘জেমস, যারা শয়তানের পক্ষ নিয়ে কথা বলে তারাই কিন্তু এই জগতের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মানুষ হয় না। কখনো কখনো তারাই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে যারা নিজেদের ভেবে নেওয়া মিথ্যেটাকে সত্যির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে।’

জেমস চোখ পি পিট করে বললো, ‘ তার মানে আপনি বলতে চাইছেন … টাবিথা করসিকা বিতর্ক সভায় যা যা বলেছে তার সব কিছুই ও নিজে বিশ্বাস করে? ভল্ডেমরট আসলে একজন ভালো মানুষ ছিলেন? ওকে মন্ত্রক এবং জাদুজগতের শাসনতন্ত্র ধ্বংস করেছিল নিজেদের স্বার্থে আঘাত লাগবে বলে?  এই কথাগুলো টাবিথা সত্যি সত্যি বিশ্বাস করে?’

সেড্রিক জেমসের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন। ‘ অনেষ্টলি যদি বলতে হয় তাহলে আমি সত্যিই জানি না। কিন্তু এটা ভালো করে জানি যে ওই কথাগুলো অনেক মানুষ বিশ্বাস করেন। সেটা টাবিথা ভালো করেই জানে। হতে পারে ওর ঝাড়ুটা বিশেষ ধরনের কিছু শক্তি সম্পন্ন। কিন্তু তার সঙ্গে একটা মিথ্যেকে সত্যি বলে বিশ্বাস করানোর প্রচেষ্টা ডার্ক ম্যাজিকের তুলনায় অনেক অনেক সাঙ্ঘাতিক একটা ব্যাপার।’

জেমস ধীরে ধীরে চুপচাপ নিজের বিছানায় ফিরে এলো, ওর মন ছুটে বেড়াচ্ছে ভাবনার জগতে। ও সত্যিই কখনো ভাবেনি যে টাবিথা যা বলে সেগুলো মনে প্রাণে বিশ্বাসও করে। ওর মনে হয়েছিল যেহেতু টাবিথা প্রোগ্রেসিভ এলিমেন্ট প্রোপাগান্ডাকে সমর্থন করে সেহেতু ওদের চূড়ান্ত শয়তানি লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করার জন্য এসব কথা বলেছে। কিছুক্ষনের জন্য ওর দুঃখ হল  টাবিথার জন্য। সত্যিই খুব বিচ্ছিরি একটা ব্যাপার যে ওর মত একটা মেয়ে নীতিগত ভাবে এটা বিশ্বাস করে যে ও যা ভাবছে সেটাই ঠিক। জেমস পটার আর ওর ড্যাড আসলে শয়তান। ব্যাপারটা ভাবাই যথেষ্ট কষ্টকর, তবে ভাবা যায় না এমনও নয়। বাইরে এখন পূর্ণিমার চাঁদ ঝলমল করছে। জেমস এক সময় ঘুমিয়ে পড়লো, চাঁদের আলো এসে পড়েছে ওর মুখে, ফ্যাকাসে আর শান্ত দেখাচ্ছে মুখটা যদিও মাঝে মাঝেই সামান্য নড়ে উঠছে ওর ভুরু দুটো।

পরের দিন সকালে জেমস, জ্যান আর র‍্যালফ হগওয়ারটস এক্সপ্রেসে চেপে পৌছাল পৌনে দশ নম্বর প্ল্যাটফর্মে । ওখানে ছিলেন জ্যানের বাবা মা আর ওর বোন গ্রীয়ার, যে  অত্যধিক কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে ছিল লাল রঙের বিশালাকায় ইঞ্জিনটার দিকে । জেমস দেখতে পেলো কাছেই দাঁড়িয়ে আছেন মম আর ড্যাড। সঙ্গে আছে অ্যাল্বাস আর লিলি । হেসে হাত নাড়লো জেমস। ওর মনে হচ্ছিল যেন এক সপ্তাহ আগের দিন ছিল ওটা। যেদিন ওরা এসেছিলেন ওকে এই এক্সপ্রেসেই উঠিয়ে দিতে। এক অনিশ্চয়তায় ভরা প্রথম বছরের অজানা স্কুল জীবনের জন্য। এখন  সেই একটা বছর কাটিয়ে ও ফিরে এল ঘরে। হগওয়ারটসের দিনগুলো খুব খুব মজাদার ছিল কিন্তু ও যে ফিরে আসতে পেরেছে এটাই বিরাট ব্যাপার । পরের বার ওর সঙ্গে থাকবে অ্যাল্বাস । যে যাবে প্রথম বছরের অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য। এখন থেকেই অ্যাল্বাসকে ও রাগাবে কোন হাউসে ওর জায়গা হবে এই প্রশ্নটা বার বার করে। এটাই হবে এই সামারের ছুটিতে ওর অন্যতম কাজ। অবশ্য এর জন্য ওর চিন্তার কিছু নেই।  অ্যাল্বাস যদি গ্রিফিন্ডোরে সুযোগ নাও পায় তাতে ওর কোন সমস্যা হবে না। জেমস জানে যদি অ্যাল্বাসকে অন্য কোন হাউসে পাঠানো হয়, তাতে জেমসের একটু ঈর্ষা হবে । কিন্তু সেটা খুবই সামান্য।

ট্রেন থেকে বের হওয়ার জটলায় জেমস দেখল ওর সামনেই টেড। ও ভিক্টরির হাতটা ধরে আছে।

জেমস মুচকি হেসে বললো, ‘বুঝলি, তোকে এর জন্য অনেক ঝামেলা পোয়াতে হবে।’

‘বিতর্কিত হতে পারাটা কিন্তু খুব কঠিন কাজ,’ টেড জবাব দিলো। ‘তবুও আমাদেরকেই নিজেদের বোঝা বহন করতে হয়।’

ভিক্টরি বললো, ‘আমাদের বাবা মা যেন আমাদের একসঙ্গে না দেখতে পান। টেড লুপিন, সব কিছু গোলমাল করে ফেলোনা। ভালো করেই জানো  যে ওরা এটাকে সমর্থন করবেন না। আর জেমস, তুই তোর মুখটা বন্ধ রাখ।’

টেড জেমসকে বললো, ‘ভিক্টরি রেগে মেগে যখন কথা বলে তখন ওর কথাগুলো পরিষ্কার বোঝা যায়, কি বলিস?’

জেমস হাসলো, কথাটা খুবই সত্যি।

জেমস দরজার কাছে থেমে প্ল্যাটফর্মের দিকে তাকাল। ফিরে আসা ছাত্রছাত্রীদের ভিড়, পোর্টার আর বিভিন্ন পরিবারের মানুষদের ব্যস্ততার মাঝেই জ্যানকে জড়িয়ে ধরেছেন ওর মিষ্টি চেহারার ব্লন্ড চুলের অধিকারিনী মা এবং লম্বা গর্বিত বাবা। ওর বোন সেটা মনে হচ্ছে ততটা পছন্দ করছে না। যদিও এখনো লাল রঙের ট্রেন ইঞ্জিন ওর আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। র‍্যালফ ওর ড্যাডের সঙ্গে একটু আড়ষ্ঠ হয়ে আলিঙ্গন করল, দুজনের মুখেই এক অদ্ভুত রকমের হাসি। র‍্যালফ জেমসের দিকে ফিরে হাত নাড়লো।

‘ড্যাড বলেছেন এই সামারটা আমরা লন্ডনেই কাটাবো! তোর সঙ্গে যাব দেখা করতে!’

জেমস উল্লাসের চিৎকার করে বললো, ‘দারুউউণ হবে!’

এবার ও  নিজে নামলো ট্রেন থেকে, দেখলো ওর নিজের পরিবারের সদস্যরা তাকিয়ে আছে ওর দিকে। ওদেরকে সামনা সামনি দেখতে পেয়ে জেমস আর খুশী চেপে রাখতে পারলো না। সত্যিই  এবার ও ফিরে এসেছে নিজের জায়গায়। ছুটে গেল ওদের দিকে, সঙ্গে সঙ্গেই প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে দেখে নিল। মাদাম ডেলাক্রয়ের তৈরী পুতুলটা ওর পকেটেই আছে। যদিও ওটা নিয়ে ভাবনার আর কোন মানেই হয় না। ওটা থেকে আর কোন ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। কোন রকম ক্ষতিরই না।

‘জেমস!’ অ্যাল্বাস ওকে দেখতে পেয়েই চেঁচিয়ে উঠলো । ‘এনেছিস তো ? যেটা আনবি বলে প্রমিস করেছিলি!’

‘আমাকে কি ভাবিস রে? ফাদার ক্রিসমাস?’ অ্যাল্বাস আর লিলির গুঁতো সামলাতে সামলাতে জেমস উত্তর দিলো একরাশ হাসি মুখে নিয়ে ।

‘তুই প্রমিস করেছিলি! লিকোরিস ওয়ান্ড কিনে আনবি ট্রেনের জাদুকরীর কাছ থেকে !’

‘আর কলড্রন কেক রোজ আর হুগোর জন্য,’ হ্যারি বললেন একগাল হেসে।

‘ওয়াও, কথা নিশ্চিত অনেক তাড়াতাড়ি পৌছে যায় । ঠিক আছে ঠিক আছে, আমি সবার জন্য জিনিস এনেছি!’ জেমস বললো। পকেট থেকে লিলি আর অ্যাল্বাসের চাহিদার জিনিস বার করে দিলো ওদের হাতে। তারপর বার করলো ভুডু পুতুলটা তাকিয়ে থাকলো ওটার দিকে অনিশ্চয়তার চোখে।

জিন্নি জানতে চাইলেন, ‘ওটা আবার কি বস্তু জেমস?’ ছেলেকে জড়িয়ে ধরে ওর হাতের জিনিসটার দিকে  তাকিয়ে বললেন, ‘আরে এটা তো দেখতে… প্রায় তোর মতো!’

জেমস হো হো করে হেসে বললো, ‘এটা তোমার জন্য মম। আমার মনে হয় এটা তুমি কাছে রেখে দিতে পছন্দ করবে যখন আগামী বছর আমি আবার স্কুলে ফিরব।

জিন্নি অবাক চোখে ওটাকে দেখে হ্যারির দিকে তাকালেন। হ্যারি কাঁধ উঁচু করে হাসলেন। জিন্নি বললেন, ‘ঠিক আছে, এটা একটু অদ্ভুত রকমের, তবে অসুবিধা নেই।’ পুতুলটা হাতে নিলেন । ‘আচ্ছা আমি যদি এটাকে জড়িয়ে ধরি তুই সেটা অনুভব করতে পারবি?’

জেমস এবার কাঁধ উঁচু করলো । বাকিদের কোন উৎসাহ নেই ব্যাপারটায় ওরা হাঁটতে শুরু করেছেন প্রধান টারমিনালের দিকে। ‘আমি জানি না সেটা। সে যাই হোক। বলছিলাম যে…আমার মনে হয় চেষ্টা করে দেখলে ক্ষতি কিছু হবে না।’

জিন্নি সম্মতির ভঙ্গীতে হেসে মাথা ঝুঁকালেন । তারপর হাসলেন । উনি একবার চেষ্টা তো করবেন অবশ্যই ।

 

 

 

 

[সমাপ্ত]

 

লেখক পরিচিতিঃ  জর্জ নরম্যান লিপার্ট আমেরিকান লেখক এবং কম্পিউটার অ্যানিমেটর। তবে ওনার বর্তমান পরিচয় উনি জেমস পটার সিরিজের লেখক। যে কারনে ওনাকে “আমেরিকান রাউলিং” নামেও ডাকা হয়ে থাকে। এই সিরিজের প্রথম লেখা “জেমস পটার অ্যান্ড দ্য হল অফ এল্ডারস ক্রসিং” প্রকাশিত হয় ২০০৭ সালে। নানান কারনে এটি অনেক বিতর্কে জড়িয়ে যায়। সেসব সমস্যা পেরিয়ে আজ এটি পাঠক পাঠিকাদের চাহিদায় সারা বিশ্বে যথেষ্ট জনপ্রিয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এই সিরিজের সব কটি বই ই-বুক এবং ফ্রি হিসাবেই প্রকাশ করেছেন মাননীয় জর্জ নরম্যান লিপারট। এই সিরিজ ছাড়াও ওনার আরো ১২ টি বই আছে। বর্তমানে উনি এরি, পেনসিল্ভ্যানিয়ার বাসিন্দা।

অনুবাদকের পরিচিতিঃ উপন্যাসটির অনুবাদক প্রতিম দাস মূলত চিত্র শিল্পী, ২০১৩ সাল থেকে ভারতের সমস্ত পাখি আঁকার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছেন। ৭৭৫+ প্রজাতির ছবি আঁকা সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে শুধু পাখি নয় অন্যান্য বিষয়েও ছবি আঁকা চলে একইসঙ্গে। দারুণ রকমের পাঠক, যা পান তাই পড়েন ধরনের। প্রিয় বিষয় রূপকথা, ফ্যান্টাসী, সায়েন্স ফিকশন, অলৌকিক। টুকটাক গল্প লেখার সঙ্গে আছে অনুবাদের শখ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!