অদ্রীশ আর্কাইভ

সন্তু বাগ

অদ্রীশ বর্ধন (১৯৩২ – ২০১৯)
গহীন সমুদ্রের নীচে ধেয়ে বেড়ায় নটিলাস। সেই সাগরের নাম কল্পবিজ্ঞান যার ঊর্মিমালা দেশে দেশে নানা অজানা বন্দরে ঢেউয়ের তুফান তুলে তটরেখায় মিলিয়ে যায় আরো অতলান্তিক পাড়ির ডাক দিয়ে। আমাদের আমরি মাতৃভাষা বাংলার অক্ষর সমুদ্রের এক দুঃসাহসিক নাবিক সেই অজানার বন্দরে পাড়ি দেবার ডাক দিয়েছিলেন প্রায় পাঁচ ছয় দশক আগেই যখন ওই অজানা সাগরে ভেসে যাবার মতো স্বপ্নসন্ধানী ছিলেন প্রায় মুষ্টিমেয়। তারপর শুধু ইতিহাস যার প্রকৃত ভাষ্য হয়তো রচনা হবে আগামীতে। ক্যাপ্টেন সাইরাস হার্ডিং, গিডিয়ন স্পিলেট এর সাথে কল্পনার সেই বেলুনে চেপে সত্যি সত্যি আজ দূর অজানার এক মিস্টিরিয়াস আইল্যান্ডে পাড়ি জমালেন বাংলা সাহিত্যে কল্পনার অন্যতম প্রাণপুরুষ অদ্রীশ বর্ধন। কল্পবিশ্ব আজ এক সাগর ব্যাথা বুকে নিয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে তার ক্যাপ্টেন নিমোকে …

বিভিন্ন পত্রপত্রিকাতে প্রকাশিত খবর ও প্রতিবেদন সংকলন 

 

১) রেডিয়োবাংলানেট, ২১ মে ২০১৯

প্রয়াত ‘প্রফেসর নাটবল্টুচক্র’র স্রষ্টা অদ্রীশ বর্ধন

চলে গেলেন ‘প্রফেসর নাটবল্টুচক্র’র স্রষ্টা অদ্রীশ বর্ধন। আজ সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই সাহিত্যিক। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজণিত নানান সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।

কল্পবিজ্ঞানের জগতে হাসির মোড়কে বৈজ্ঞানিক অ্যাডভেঞ্চারের নায়ক ‘প্রফেসর নাটবল্টুচক্র’ তৈরি করেছিলেন অদ্রীশবাবু। ছোটরা ছাড়াও বড়দের মাঝেও সমান জনপ্রিয় ছিল এই চরিত্রটি।

সাধারণ বাঙালি পাঠকের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও অগ্রণী ভূমিকা নেয় অদ্রীশবাবুর কলম।

বিজ্ঞানে বাংলার বা বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার প্রতি সব সময় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অদ্রীশবাবু। সহজ, সরল ভাষায় তাঁর লেখনী আকৃষ্ট করেছে সব বয়সের পাঠককেই। ১৯৬৩ সালে তিনি প্রকাশ করেন কল্পবিজ্ঞান পত্রিকা ‘আশ্চর্য’। এরপর সম্পাদনা করেন ‘ফ্যানটাসটিক’ পত্রিকাটিও। দুটি পত্রিকাই বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বাংলাদেশের সাহিত্য পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন তিনি।

 ‘প্রফেসর নাটবল্টুচক্র’ ছাড়াও ‘ফাদার ঘনশ্যাম’, ‘ইন্দ্রনাথ রুদ্র’, ‘জিরো গজানন’, ‘চাণক্য চাকলা’, ‘রাজা কঙ্ক’ ও ‘নারায়ণী’ তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলির মধ্যে অন্যতম।

বাংলা অনুবাদ সাহিত্যেও অদ্রীশবাবুর অবদান মনে রাখার মত। তাঁর অনূদিত জুল ভার্ন, আর্থার কনান ডয়েলের ‘শার্লক হোমস’ এবং এডগার অ্যালেন পো রচনাসমগ্র বিশেষভাবে উল্লেখ্য।

পড়ার লিঙ্ক 

 

২) নিউজ১৮,  ২১ মে ২০১৯

‘প্রফেসর নাটবল্টুচক্র’-র স্রষ্টা সাহিত্যিক অদ্রীশ বর্ধন প্রয়াত

 ‘প্রফেসর নাটবল্টুচক্র’ ৷ বিজ্ঞানের জগতে ছোটদের মন টানার জন্য এবং হাসির মোড়কে বৈজ্ঞানিক অ্যাডভেঞ্চারের নায়ক ‘প্রফেসর নাটবল্টুচক্র’-কে তৈরি করেছিলেন তিনি ৷ মঙ্গলবার সকালে মৃত্যু হল সেই বিখ্যাত সাহিত্যিক অদ্রীশ বর্ধনের ৷

বার্ধক্যজনিত কারণে গত বেশ কয়েকবছর ধরেই অসুস্থ ছিলেন অদ্রীশ বর্ধন ৷ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর ৷ বাঙালি বৈজ্ঞানিক যে ফেলনা নয়, সেটা বোঝানোই ছিল তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য ৷ হাসি-কৌতুকের মোড়কে প্রফেসর আর দীননাথের কাহিনী শুধু ছোটদেরই নয় ৷ বড়দেরও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ৷ ইন্দ্রনাথ রুদ্র, ফাদার ঘনশ্যাম, প্রফেসর নাটবন্টু চক্র, রাজা কঙ্ক, জিরো গজানন, চাণক্য চাকলারা আজও মানুষের মনের কোণে জায়গা করে নিয়েছে ৷

পড়ার লিঙ্ক 

৩) এই সময়, ২১ মে ২০১৯

বাঙালিকে পড়তে শিখিয়েছিলেন ‘কল্পবিজ্ঞান’, চলে গেলেন অদ্রীশ বর্ধন

দীর্ঘদিন ধরেই বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। বস্তুত বাংলাতেও যে বিজ্ঞানচর্চা হতে পারে কিংবা বিজ্ঞানে বাংলার অবদানের কথা বারবার তাঁর কলমে উঠে এসেছে। অদ্রীশ বর্ধনের লেখার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, বহু কঠিনতম বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাকেও তিনি সাহিত্যগুণের মাধ্যমে অত্যন্ত সরল, সহজ করে তুলতেন পাঠকদের কাছে।

‘কল্পবিজ্ঞান’ শব্দবন্ধটার স্রষ্টাও তিনি। শুধু সাহিত্যের আকারে বাঙালিকে কল্পবিজ্ঞান পড়তে শেখানোই নয়, তিনি বাঙালি পাঠক-পাঠিকার মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা জাগিয়ে তোলার কাজেও অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। সোমবার গভীর রাতে প্রয়াত হলেন অদ্রীশ বর্ধন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
দীর্ঘদিন ধরেই বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। বস্তুত বাংলাতেও যে বিজ্ঞানচর্চা হতে পারে কিংবা বিজ্ঞানে বাংলার অবদানের কথা বারবার তাঁর কলমে উঠে এসেছে। অদ্রীশ বর্ধনের লেখার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, বহু কঠিনতম বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাকেও তিনি সাহিত্যগুণের মাধ্যমে অত্যন্ত সরল, সহজ করে তুলতেন পাঠকদের কাছে।
প্রফেসর নাটবল্টু চক্র তো বটেই, অদ্রীশ বর্ধন জন্ম দিয়েছিলেন কত সব মায়াবী চরিত্রের। ফাদার ঘনশ্যাম, জিরো গজানন, চাণক্য চাকলা, নারায়ণী ও ইন্দ্রনাথ রুদ্রর মতো চরিত্র বাঙালির কাছে হয়ে উঠেছিল হটকেক।
কল্পবিজ্ঞান নিয়েই তাঁর কার্যকলাপ মূলত ঘোরাফেরা করলেও অদ্রীশ বর্ধন কিন্তু গোয়েন্দা চরিত্রও নির্মাণ করেছেন একের পর এক। ইন্দ্রনাথ রুদ্র তার উজ্জ্বল নিদর্শন। এছাড়াও অনুবাদ করেছেন বহু বিদেশী সাহিত্যও।

পড়ার লিঙ্ক

৪) আই-ই বাংলা ওয়েব ডেস্ক, ২১ মে ২০১৯

পরলোকে বাংলার কল্পবিজ্ঞান কিংবদন্তি অদ্রীশ বর্ধন

বাংলায় কল্পবিজ্ঞান লেখা শুধু নয়, সাধারণ বাঙালি পাঠক-পাঠিকার মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা জাগিয়ে তোলার কাজেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে গেছেন অদ্রীশ বর্ধন।

চলে গেলেন প্রফেসর নাটবল্টু চক্র’র স্রষ্টা, এবং বাংলা কল্পবিজ্ঞানের আকাশে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র অদ্রীশ বর্ধন৷ সোমবার রাত দেড়টা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। বার্ধক্যজনিত কারণে গত কয়েক বছর ধরেই অসুস্থ ছিলেন অদ্রীশ বর্ধন৷

বাংলায় কল্পবিজ্ঞান লেখা শুধু নয়, সাধারণ বাঙালি পাঠক-পাঠিকার মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা জাগিয়ে তোলার কাজেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে গেছেন অদ্রীশ বর্ধন। এমনকি ‘কল্পবিজ্ঞান’ শব্দবন্ধের জন্মদাতাও তিনি। তার আগে বাংলায় ছিল স্রেফ ‘বিজ্ঞানভিত্তিক কাহিনী’। বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা বা বিজ্ঞানে বাংলার অবদানের প্রতি বারবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তাঁর কলম। তাঁর লেখায় কঠিনতম বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও হয়ে উঠত সাধারণ মানুষের বোধগম্য, তা তিনি যে বয়সেরই হোন না কেন।

ইন্দ্রনাথ রুদ্র, ফাদার ঘনশ্যাম, প্রফেসর নাটবল্টু চক্র, রাজা কঙ্ক, জিরো গজানন, নারায়ণী, এবং চাণক্য চাকলা তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলির অন্যতম।

কল্পবিজ্ঞান লেখক হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছলেও, অদ্রীশ বর্ধন প্রথম লেখা শুরু করেন গোয়েন্দা কাহিনী। সৃষ্টি করেন যথাক্রমে ইন্দ্রনাথ রুদ্র এবং নারায়ণী নামক পুরুষ ও মহিলা গোয়েন্দা। এরপর ক্রমশ বিস্তৃতি লাভ করতে থাকে তাঁর ক্ষেত্র। বিজ্ঞান, কল্পবিজ্ঞান, অতীন্দ্ৰিয় জগৎ, বা অতিপ্রাকৃত শুধু নয়, অনুবাদ সাহিত্যেও অমূল্য অবদান রয়েছে তাঁর। বিশেষভাবে উল্লেখ্য অদ্রীশ বর্ধন অনূদিত শার্লক হোমস, জুল ভার্ন, এবং এডগার অ্যালেন পো রচনাসমগ্র।

১৯৬৩ সালে অদ্রীশ বর্ধন প্রকাশ করেন ভারতের প্রথম কল্পবিজ্ঞান-পত্রিকা ‘আশ্চর্য’। এর পরে সম্পাদনা করেন ‘ফ্যানটাসটিক’ পত্রিকার। দুটিই বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করলেও পরে বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু একসময় বাংলা ভাষার অসংখ্য নামীদামি সাহিত্যিক এই দুই পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন।

পড়ার লিঙ্ক 

৫) দ্য ওয়াল ব্যুরো, ২১ মে ২০১৯

প্রয়াত হলেন বাংলা ভাষায় ‘কল্পবিজ্ঞান’ চর্চার অন্যতম পথিকৃত অদ্রীশ বর্ধন। প্রয়াণকালে তাঁর বয়েস হয়েছিল ৮৭ বছর। বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সোমবার রাত একটার সময় তিনি তাঁর বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বাংলা ভাষার কিশোর সাহিত্যে বিজ্ঞানের অনুষঙ্গ প্রবেশ করিয়ে কিশোর–কিশোরীদের প্রথম অন্যরকম গল্পের স্বাদ দিয়েছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র। পরবর্তীকালে সেই উত্তরাধিকার বহন করে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছেন সত্যজিত রায়। একই সঙ্গে প্রায় সমান্তরাল ভাবে গত শতকের ছয়ের দশক থেকে ক্ষুদে পাঠক–পাঠিকাকে অনুবাদের মধ্যে দিয়ে সরাসরি বিজ্ঞানভিত্তিক গল্পের মধ্যে টেনে আনতে শুরু করে দিয়েছিলেন অদ্রীশ বর্ধন। জুলে ভার্নে–এর অসামান্য উপন্যাসগুলির সঙ্গে বাংলা ভাষার পাঠকদের প্রথম পরিচয় ঘটেছিল তাঁরই হাত ধরে। এরপর টিভি–ইন্টারনেট বিহীন প্রজন্মের সঙ্গে তিনি পরিচয় ঘটিয়েছিলেন  এডগার অ্যালান পো’র দুনিয়ার। তাঁর অনূদিত কোনান ডয়েলের শালর্ক হোমস আজও পাঠক–পাঠিকাদের কাছে সমান জনপ্রিয় প্রথম প্রকাশের দিনের মতোই। এডগার রাইস বারোজ–এর টারজান ও কোনান ডয়েলের প্রোফেসর চ্যালেঞ্জার–এর অনুবাদের জন্য বাংলার সাহিত্যপ্রেমিকরা দীর্ঘদিন তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ থাকবেন।

তিনি শুধু অনুবাদ সাহিত্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। গোয়েন্দা ইন্দ্রনাথ রুদ্র’র স্রষ্টা ও ‘ফ্যান্টাস্টিক’ পত্রিকার সম্পাদক অদ্রীশ বর্ধন ছিলেন সত্যজিত রায়ের সভাপতিত্বে গড়ে ওঠা ‘সায়েন্স ফিকশন সিনে ক্লাব’–এর প্রথম প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। একটি পাক্ষিক পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত তাঁর কলম ‘আমার মা সব জানে’ এক সময় যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছিল। সায়েন্স ফিকশন–এর বাংলা ‘কল্পবিজ্ঞান’ শব্দটি তাঁরই উদ্ভাবন। অতীন্দ্রিয় ও অতিপ্রাকৃত জগত নিয়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় কাহিনীর এই লেখকের কর্মজীবন ছিল বিচিত্র। বিভিন্ন চাকরি ও ব্যবসা করার পর তিনি পাকাপাকি ভাবে লেখার জগতে চলে আসেন। কল্পবিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার জন্য তিনি যেমন ফিল্ম কাব করেছেন তেমনই সুযোগ পেলেই ব্যবহার করেছেন রেডিও সহ অন্যান্য গণমাধ্যমকেও। তাঁর সাহিত্যকৃতির জন্য তিনি পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার।

অদ্রীশ বর্ধনের প্রয়াণে বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারার প্রারম্ভিক যুগের অবসান হল। যদিও প্রয়াত লেখক রইলেন অজস্র গুণমুগ্ধ পাঠকের স্মৃতিতে ও তাঁর রচিত সুবিপুল রচনা সমগ্রে।

পড়ার লিঙ্ক 

৬) সংবাদ প্রতিদিন, ২১ মে ২০১৯

বিদায় বাংলার জনপ্রিয় কল্পবিজ্ঞান কাহিনিকার অদ্রীশ বর্ধন! শোকস্তব্ধ সাহিত্য জগৎ

ফের নক্ষত্রপতন বাংলার সাহিত্য জগতে। প্রয়াত হলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় সৃষ্টি প্রফেসর নাটবল্টু চক্রর স্রষ্টা অদ্রীশ বর্ধন। সেইসঙ্গে খসে পড়ল বাংলা কল্পবিজ্ঞানের আকাশের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র। সোমবার রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। বার্ধক্যজনিত কারণে বেশ কয়েকবছর ধরেই অসুস্থ ছিলেন অদ্রীশ বর্ধন।

বিজ্ঞানের জগতে ছোটদের মন টানার জন্য হাসির মোড়কে পাঠকগণের কাছে উপস্থাপন করেছিলেন বৈজ্ঞানিক অ্যাডভেঞ্চারের নায়ক ‘প্রফেসর নাটবল্টুচক্র’-কে। বাঙালি বৈজ্ঞানিক যে অবজ্ঞার নন, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, শুধু কল্পবিজ্ঞান লেখাই নয়, সাধারণ বাঙালি পাঠকদের বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলার কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন অদ্রীশ বর্ধন।

অ্যাডভেঞ্চারের টানে জীবনে অনেক পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চাকরি, ব্যবসা করেও মনোনিবেশ করেছিলেন সাহিত্যসাধনায়। এমনকী, কল্পবিজ্ঞান শব্দবন্ধের জন্মদাতাও তিনি। এর আগে বাংলায় ছিল স্রেফ বিজ্ঞানভিত্তিক কাহিনি। তাঁর কলমে একাধিকবার উঠে এসেছে বিজ্ঞানে বাংলার অবদানের কথা। কঠিনতম বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও তাঁর লেখনীতে হয়ে উঠেছে সাধারণের জন্য বোধগম্য। হাসি-কৌতুকের মোড়কে ‘প্রফেসর’ আর ‘দীননাথের কাহিনি’ শুধু খুদে পাঠককুলকেই আকৃষ্ট করেনি, করেছে বড়দেরও৷ ইন্দ্রনাথ রুদ্র, ফাদার ঘনশ্যাম, প্রফেসর নাটবল্টু চক্র, রাজা কঙ্ক, জিরো গজানন, চাণক্য চাকলার মতো চরিত্রগুলো যে আজীবন পাঠকদের মনের মণিকোঠায় থাকবে, তা বলাই বাহুল্য৷

তাঁর লেখালেখি শুরু হয় গোয়েন্দা কাহিনি দিয়ে। সৃষ্টি করেন যথাক্রমে ইন্দ্রনাথ রুদ্র এবং নারায়ণী নামক পুরুষ ও মহিলা গোয়েন্দা। এরপর ক্রমশ বিস্তৃতি লাভ করতে থাকে তাঁর ক্ষেত্র। কল্পবিজ্ঞান, অতীন্দ্ৰিয় জগৎ, অতিপ্রাকৃত, অনুবাদ ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিচরণ করে তাঁর মন। শার্লক হোমস হোক কিংবা জুলে ভার্ন, এডগার অ্যালান পো বাঙালি পাঠকদের অন্দরে জায়গা করে নেওয়াতেও তাঁর অদ্রীশ বর্ধনের অবদান কিছু কম নয় বইকী।

ভারতের প্রথম কল্পবিজ্ঞান-পত্রিকা ‘আশ্চর্য’ প্রকাশ পেয়েছিল তাঁর হাত ধরেই। এরপর ‘ফ্যানটাসটিক’ পত্রিকার সম্পাদনা শুরু করেন। সাহিত্যভিত্তিক এই দু’টি পত্রিকাই একসময়ে প্রবল জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। লিখতেন বহু নামীদামি সাহিত্যিকরা। তবে, সোমবার গভীর রাতে নিভে গেল সেই ‘আশ্চর্য’ প্রদীপশিখা।

পড়ার লিঙ্ক 

৭) খবর অনলাইন, ২১ মে ২০১৯

মারা গেলেন সাহিত্যিক অদ্রীশ বর্ধন। মঙ্গলবার সকালে নীলরতন সরকার হাসপাতালে প্রয়াত হলেন ‘প্রফেসর নাটবল্টুচক্র’-এর স্রষ্টা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮। বার্ধক্যজনিত কারণে বেশ কয়েক বছর ধরেই ভুগছিলেন অদ্রীশ। তাঁর সৃষ্টি ডিকেটটিভ ইন্দ্রনাথ রুদ্র, লেডি ডিটেকটিভ নারায়ণী, ফাদার ঘনশ্যাম, প্রফেসর নাটবন্টু চক্র ইত্যাদি চরিতে শুধু ছোটোদের নয়, বড়োদেরও সমান ভাবে আকর্ষণ করে। সায়েন্স ফিকশনের বাংলা প্রতিশব্দ তিনিই প্রথম আবিষ্কার করেন – কল্পবিজ্ঞান।

সংক্ষিপ্ত জীবনী

বাংলায় কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের পথিকৃৎ ও একাধিক কল্পবিজ্ঞান পত্রিকার সম্পাদক এবং কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের পথিকৃৎ অদ্রীশ বর্ধনের জন্ম কলকাতায়, এক শিক্ষক পরিবারে, ১৯৩২-এর ১ ডিসেম্বরে। বাবা অনিল বর্ধন ছিলেন স্কুলশিক্ষক, ঠাকুরদা চণ্ডীচরণ বর্ধন বউবাজারের সার্পেন্টাইন লেনে ‘হিন্দু বয়েজ স্কুল’ নামে একটি বিদ্যালয় চালাতেন। সেই স্কুলেই বিদ্যারম্ভ অদ্রীশের। পরবর্তী কালে পড়াশোনা বিজ্ঞান নিয়ে।

ছোটোবেলা থেকেই অজানার প্রতি দুর্নিবার টানা। শিব্রাম চক্রবর্তীর ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’ পড়ে কুড়ি বছর বয়সেই বোম্বে (মুম্বই) পলায়ন। হরেক চাকরি করে শেষ পর্যন্ত ‘ক্যালকাটা কেমিক্যাল’-এ। পোস্টিং ব্যাঙ্গালোরে (বেঙ্গালুরু)। কর্মসূত্রে দক্ষিণ ভারতের নানা জায়গা দেখা। অবসর সময়ে লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। এক জায়গায় আটকে থাকার মানসিকতা ছিল না অদ্রীশের। চাকরি পালটাতে পালটাতে নামী কোম্পানির পারচেজ ম্যানেজার ও ডিরেক্টরের বিশেষ সচিব। শেষ পর্যন্ত সেই চাকরিতেও ইস্তফা দিয়ে কলকাতায় ফিরে আসা। আর চাকরি নয়, এ বার দেওয়াল পত্রিকা দিয়ে সাহিত্য সাধনা শুরু। লিখলেন ভূতের গল্প ‘পোড়োবাড়ির খাঁড়া’। এর আগেই অবশ্য ‘উল্টোরথ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল গোয়েন্দা গল্প, ‘আমার বান্ধবী সুনন্দা’, বোম্বে থেকে পাঠানো।

বিদেশে তখন সায়েন্স ফিকশনের স্বর্ণযুগ। বাংলায় তখন ‘বিজ্ঞানভিত্তিক কাহিনি’র তেমন কদর নেই। অদ্রীশের মাথায় এল বিষয়টা। ষাটের দশকের গোড়াতেই কল্পবিজ্ঞানের গল্প লিখতে শুরু করলেন অদ্রীশ। “ভূতের গল্প যেমন ভূতেদের জন্য নয়, ঠিক তেমনি কল্পবিজ্ঞানও বৈজ্ঞানিকদের জন্য নয়” – এমন আপ্তবাক্য মাথায় রেখেই ১৯৬৩-এর জানুয়ারিতে আকাশ সেন ছদ্মনামে অদ্রীশ বর্ধন সূচনা করেন ভারতের প্রথম কল্পবিজ্ঞান পত্রিকা মাসিক ‘আশ্চর্য!’। একই সঙ্গে স্থাপন করেন একটি প্রকাশনা সংস্থাও, ‘আলফা-বিটা পাবলিকেশন্‌স্‌’। অল্প দিনেই পত্রিকা জনপ্রিয় হয়ে উঠল। কিছু দিনের মধ্যে বুঝতে পারলেন, নিজস্ব প্রেস না থাকলে পত্রিকা ঠিক সময়ে প্রকাশ করা সমস্যার। যেমন ভাবা, তেমন কাজ। বাড়ির একতলাতেই বসিয়ে ফেললেন ‘দীপ্তি প্রিন্টার্স’। ‘আশ্চর্য!’ পত্রিকার প্রথম দিন থেকেই প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র, এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন সত্যজিৎ রায়। ‘আশ্চর্য!’ পত্রিকায় কল্পবিজ্ঞানের সাহিত্য ছাড়াও প্রকাশিত হত বিজ্ঞানের নানা খবর, দেশবিদেশের বিচিত্র সব ঘটনার কথা। এক সময় ছদ্মনাম ছেড়ে স্বনামে পত্রিকা সম্পাদনা করতে থাকেন অদ্রীশ।

বিবাহের দু’ বছরের মাথায় ১৯৭২ সালে এক বছরের সন্তানকে রেখে মারা যান অদ্রীশ বর্ধনের স্ত্রী। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন অদ্রীশ। পত্রিকার ভার যায় দাদা ড. অসীম বর্ধনের হাতে। সেই বছরেই অনিয়মিত হয়ে পড়ে পত্রিকা প্রকাশনা। শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায় ‘আশ্চর্য!’। পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেই জুল ভের্নের রচনাবলি অনুবাদের কাজে হাত দেন অদ্রীশ। স্ত্রীবিয়োগের পর থেকেই মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে যেত অদ্রীশবাবুর। বাকি রাতটা ঘুমোতে না পেরে জুল ভের্ন অনুবাদ করে কাটিয়ে দিতেন। এই ভাবেই সমগ্র রচনাবলি অনুবাদ হয়ে গেল।

১৯৭৫ সালে স্বনামেই শুরু করলেন ‘ফ্যানটাসটিক’ পত্রিকা সম্পাদনার কাজ। এই প্রসঙ্গে সম্পাদক গল্পচ্ছলে বলেছিলেন, “‘আশ্চর্য!’র পরে ‘অত্যাশ্চর্য’ বের করার উপদেশ দিয়েছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র। চন্দ্রনাথ দে প্রচ্ছদও এঁকে ফেলেছিলেন। কিন্তু অনুমতি পাওয়া গেল ‘ফ্যানটাসটিক’ নামের।” উপযুক্ত লেখার অভাবে ‘ফ্যানটাসটিক’ অনিয়মিত হয়ে পড়ে। ১৯৮৩ সালে আরও একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশে উদ্যোগী হন অদ্রীশ। কিন্তু বাস্তবায়িত হয়নি। ১৯৮৪ সালের জুলাইয়ে ইত্যাদি প্রকাশনীর ‘কিশোর মন’ পত্রিকা সম্পাদনার কাজে যোগ দেন। ১৯৮৬-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই পত্রিকার ৫০টি সংখ্যা সম্পাদনা করার পর ইস্তফা দিয়ে চলে আসেন ‘ফ্যানটাসটিক’-এর কাজে।

সারা জীবনে দেড়শোরও বেশি বই লিখেছেন ও অনুবাদ করেছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য চার খণ্ডে ‘জুলে ভের্ন সমগ্র’, ১৩ খণ্ডে ‘গোয়েন্দা ইন্দ্রনাথ রুদ্র সমগ্র’, ৩ খণ্ডে ‘আমার মা সব জানে’, ২ খণ্ডে ‘প্রফেসর নাটবল্টুচক্র সংগ্রহ’, ২ খণ্ডে ‘শার্লক হোমস সমগ্র’, ৩ খণ্ডে এডগার অ্যালান পোর রচনা সংগ্রহ’ ইত্যাদি। সারা জীবনে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার আর সম্মান। বয়সের ভারে আজ হারিয়েছিলেন কর্মক্ষমতা, হারিয়েছিলেন স্মৃতিশক্তিও। আজ তিনি চিরতরে চলে গেলেন। তবে যত দিন বাংলা কল্পবিজ্ঞান থাকবে, তত দিন অদ্রীশ বর্ধনের নাম বিনম্র শ্রদ্ধায় উচ্চারিত হবে।

পড়ার লিঙ্ক 

৮) আনন্দবাজার পত্রিকা, ২২ মে ২০১৯

কল্পলোকে প্রয়াণ অদ্রীশ বর্ধনের

জুল ভার্ন, এডগার অ্যালান পো থেকে এইচপি লাভক্র্যাফ্টদের মতো লেখকদের কল্পবিশ্ব মাতৃভাষায় আমবাঙালির কাছে টেনে এনেছিলেন তিনি। বাংলা কল্পবিজ্ঞান-কাহিনির উজ্জ্বল তারকা অদ্রীশ বর্ধন সোমবার রাত ১টা নাগাদ তাঁর বাড়িতে প্রয়াত হয়েছেন। বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। মঙ্গলবার সকালে নিমতলা শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। অদ্রীশবাবুর ছেলে, বৌমা ও নাতি রয়েছেন।

অদ্রীশবাবুর ছেলে অম্বর বর্ধন এ দিন বলেন, ‘‘বাবা দীর্ঘদিন ধরে রক্তে শর্করা, কিডনি, হৃদ্‌রোগের জটিলতায় ভুগছিলেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণও হয়েছিল। শেষের দিকটায় কাউকে চিনতেও সমস্যা হচ্ছিল।’’ বাংলায় কল্পবিজ্ঞান লেখা ও প্রকাশনার মতো ছকভাঙা রাস্তায় হাঁটা সাহসী মানুষটি ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে পড়েছিলেন।

কয়েক বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে অদ্রীশবাবু বলেছিলেন, তাঁর কল্পবিজ্ঞান লেখার শুরু নেহাতই পাগলামি থেকে। বাড়িতেই ছাপিয়ে পত্রিকা প্রকাশ করতেন। তাঁর ‘আশ্চর্য’, ‘ফ্যান্টাসি’র মতো কল্পবিজ্ঞান পত্রিকা ছাপ ফেলেছিল বাংলায়। ‘কিশোর মন’ পত্রিকাটিও সম্পাদনা করেছেন। অনুবাদ ছাড়াও মৌলিক লেখায় তাঁর চরিত্র প্রোফেসর নাটবল্টু চক্রের কাহিনির চাহিদা রয়েছে এখনও। লিখেছেন কল্পবিজ্ঞান, রহস্যকাহিনি। সত্যজিৎ রায়, প্রেমেন্দ্র মিত্র প্রমুখের অশেষ স্নেহ এবং প্রশ্রয় পেয়েছিলেন অদ্রীশবাবু।

পথিক গুহের সংযোজন: কল্পবিজ্ঞান-কাহিনিতে সাহিত্যের প্রসাদগুণে প্রেমেন্দ্র মিত্র আমার চোখে অবশ্যই এগিয়ে থাকবেন। তবে আইজ়্যাক আসিমভ, আর্থার সি ক্লার্কের আদলে পশ্চিমি সায়েন্স ফিকশনের ঘরানাকে বাংলায় আত্তীকরণে অদ্রীশবাবুর অবদান স্মরণীয়। নিছক কল্পনা নয়, বিজ্ঞানের সম্ভাবনাগুলিকে নিয়ে খেলা করে কাহিনির নির্মাণে অদ্রীশবাবুর কাজের ইতিহাস-মূল্যও রয়েছে।

সেই সঙ্গে তাঁর কল্পবিজ্ঞান-নির্ভর পত্রিকা সম্পাদনার কাজ করে যাওয়াটাও আমাকে খুব আকৃষ্ট করেছে। মনে রাখতে হবে, তখন ইন্টারনেট ছিল না। কলকাতায় বসে বিজ্ঞানের বিষয় নিয়ে চর্চা খুব সোজা ছিল না। এ ছাড়া ‘সানন্দা’ পত্রিকায় অদ্রীশবাবুর ধারাবাহিক রচনা ‘আমার মা সব জানে’-ও জনপ্রিয় হয়েছিল। পরে তা তিন খণ্ডে বই হয়ে প্রকাশিত হয়। প্রশ্নোত্তরের মোড়কে রোজকার জীবনে বিজ্ঞানের প্রয়োগ নিয়ে নানা কথা উঠে এসেছিল তাতে।

পড়ার লিঙ্ক 

 

৯) বঙ্গদর্শন, ২১ মে ২০১৯

কল্পলোকে পাড়ি দিলেন অদ্রীশ বর্ধন

চলে গেলেন বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের মহীরুহ অদ্রীশ বর্ধন। ‘কল্পবিজ্ঞান’ শব্দটির জন্ম তিনিই দিয়েছিলেন। এর আগে বাংলা সাহিত্যে সাইন্স ফিকশন পরিচিত ছিল ‘বিজ্ঞানভিত্তিক কাহিনি’ নামে। পাশাপাশি অতিপ্রাকৃত কাহিনি, গোয়েন্দা কাহিনি, অনুবাদ সাহিত্যেও বিশেষ অবদান রেখেছেন তিনি।

বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন অদ্রীশ বর্ধন। গতকাল মধ্যরাতে তিনি প্রয়াত হন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। জীবনে অ্যাডভেঞ্চারের প্রতি এক অমোঘ ছিল তাঁর। একাধিক পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, পরে অবশ্য লেখালেখিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন পাকাপাকিভাবে। সম্পাদনা করেছেন ভারতের প্রথম কল্পবিজ্ঞান পত্রিকা ‘আশ্চর্য’। এর পরে ‘ফ্যানটাসটিক’ পত্রিকার সম্পাদনাও করেছেন। বহু নামি সাহিত্যিক নিয়মিত লিখেছেন এই দুই পত্রিকায়।

গোয়েন্দা গল্প দিয়ে নিজের সাহিত্যিক জীবন শুরু করলেও জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছেছিলেন কল্পবিজ্ঞান লিখে। কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যকে তিনি আন্দোলনের পর্যায়ে নিয়ে গেছিলেন। সত্যজিৎ রায়ের সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘সায়েন্স ফিকশন সিনে ক্লাব’। তাঁর সৃষ্টি করা ইন্দ্রনাথ রুদ্র, ফাদার ঘনশ্যাম, প্রফেসর নাটবন্টু চক্র, রাজা কঙ্ক, জিরো গজানন, চাণক্য চাকলার মতো চরিত্ররা নানা বয়সের পাঠকদের মন জয় করে নিয়েছে৷

পড়ার লিঙ্ক

১০) গণশক্তি, ২১ মে ২০১৯

সাহিত্যিক অদ্রীশ বর্ধন প্রয়াত

প্রয়াত ‘প্রফেসর নাটবল্টুচক্র’র স্রষ্টা অদ্রীশ বর্ধন। হাসির ছলে বিজ্ঞানের প্রতি ছোটদের আগ্রহ বাড়ানোর জন্য সৃষ্টি করেছিলেন বৈজ্ঞানিক অ্যাডভেঞ্চার নায়ক ‘প্রফেসর নাটবল্টুচক্র’কে। মঙ্গলবার সকালে মৃত্যু হলো এহেন সাহিত্যিক অদ্রীশ বর্ধনের। সোমবার গভীর রাতে কলকাতার নীলরতন সরকার হাসপাতালে প্রয়াত হন। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন তিনি। কলকাতার এক শিক্ষক পরিবারে ১৯৩২-এর ১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন অদ্রীশ বর্ধন। বাবা অনিল বর্ধন ছিলেন স্কুল শিক্ষক। ঠাকুরদা চণ্ডীচরণ বর্ধন বৌবাজারের সার্পেন্টাইন লেনে হিন্দু বয়েজ স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। সেই স্কুলেই প্রাথমিকে পড়াশোনা পরে বিজ্ঞান নিয়ে পাশ করেন। তাঁর রচিত কয়েকটি বই হলো আমার মা সব জানে,কল্প বিজ্ঞান অমনিবাস, গোয়েন্দা ইন্দ্রনাথ রুদ্র, প্রফেসর নাটবল্টু ইত্যাদি। তিনি হাসি-কৌতুকের মোড়কে প্রফেসর এবং দীননাথের গল্প যে শুধু ছোটদেরই নয়, বড়দেরও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ৷ ইন্দ্রনাথ রুদ্র, ফাদার ঘনশ্যাম, প্রফেসর নাটবল্টু চক্র, রাজা কঙ্ক, জিরো গজানন, চাণক্য চাকলাদার আজও মানুষের মনের কোণে জায়গা করে নিয়েছে ৷ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর।

পড়ার লিঙ্ক 

১১) দেশেবিদেশে, ২১ মে ২০১৯

পরলোকে বাংলার কল্পবিজ্ঞান কিংবদন্তি অদ্রীশ বর্ধন

চলে গেলেন প্রফেসর নাটবল্টু চক্র’র স্রষ্টা, এবং বাংলা কল্পবিজ্ঞানের আকাশে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র অদ্রীশ বর্ধন৷ সোমবার রাত দেড়টা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। বার্ধক্যজনিত কারণে গত কয়েক বছর ধরেই অসুস্থ ছিলেন অদ্রীশ বর্ধন৷

বাংলায় কল্পবিজ্ঞান লেখা শুধু নয়, সাধারণ বাঙালি পাঠক-পাঠিকার মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা জাগিয়ে তোলার কাজেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে গেছেন অদ্রীশ বর্ধন। এমনকি ‘কল্পবিজ্ঞান’ শব্দবন্ধের জন্মদাতাও তিনি। তার আগে বাংলায় ছিল স্রেফ ‘বিজ্ঞানভিত্তিক কাহিনী’। বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা বা বিজ্ঞানে বাংলার অবদানের প্রতি বারবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তাঁর কলম। তাঁর লেখায় কঠিনতম বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও হয়ে উঠত সাধারণ মানুষের বোধগম্য, তা তিনি যে বয়সেরই হোন না কেন।

ইন্দ্রনাথ রুদ্র, ফাদার ঘনশ্যাম, প্রফেসর নাটবল্টু চক্র, রাজা কঙ্ক, জিরো গজানন, নারায়ণী, এবং চাণক্য চাকলা তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলির অন্যতম।

কল্পবিজ্ঞান লেখক হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছলেও, অদ্রীশ বর্ধন প্রথম লেখা শুরু করেন গোয়েন্দা কাহিনী। সৃষ্টি করেন যথাক্রমে ইন্দ্রনাথ রুদ্র এবং নারায়ণী নামক পুরুষ ও মহিলা গোয়েন্দা। এরপর ক্রমশ বিস্তৃতি লাভ করতে থাকে তাঁর ক্ষেত্র। বিজ্ঞান, কল্পবিজ্ঞান, অতীন্দ্ৰিয় জগৎ, বা অতিপ্রাকৃত শুধু নয়, অনুবাদ সাহিত্যেও অমূল্য অবদান রয়েছে তাঁর। বিশেষভাবে উল্লেখ্য অদ্রীশ বর্ধন অনূদিত শার্লক হোমস, জুল ভার্ন, এবং এডগার অ্যালেন পো রচনাসমগ্র।

১৯৬৩ সালে অদ্রীশ বর্ধন প্রকাশ করেন ভারতের প্রথম কল্পবিজ্ঞান-পত্রিকা ‘আশ্চর্য’। এর পরে সম্পাদনা করেন ‘ফ্যানটাসটিক’ পত্রিকার। দুটিই বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করলেও পরে বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু একসময় বাংলা ভাষার অসংখ্য নামীদামি সাহিত্যিক এই দুই পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন।

পড়ার লিঙ্ক 

১২) সংবাদবিশ্ববাংলা, ২১ মে ২০১৯

সকলের চোখের আড়ালে সোমবার প্রয়াত হয়েছেন প্রখ্যাত কল্পবিজ্ঞান লেখক সাহিত্যিক এবং বাংলায় আর্থার কোনান ডয়েল ও জুলে ভার্ন এর অনুবাদক শ্রী অদৃশ বর্ধন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল 86। পুত্র, পুত্রবধু ও নাতিকে রেখে চলে গেলেন তিনি।
পারলৌকিক বিজ্ঞান বিষয়ক সাহিত্য সৃষ্টিকর্তা সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে সায়েন্স ক্লাব সৃষ্টির পাশাপাশি দীর্ঘদিন “ফ্যান্টাস্টিক” নামে একটি প্রকাশনা সংস্থা চালাতেন। শেষ দিনগুলোয় পাড়ার পুজো সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার সার্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির স্মারক গ্রন্থের সভাপতি ছিলেন। ‘ফ্রান্সিস’, ‘আমার মা সব জানে’, ‘প্রফেসর চ্যালেঞ্জার সমগ্র’, ‘কল্পবিশ্ব’, ‘টারজান’, ‘জুলে ভার্ন সমগ্র’ সহ আরও অনেক সমাহার দিয়ে তিনি পাঠকের মনে চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন।

পড়ার লিঙ্ক 

১৩) English Kolkata, 21 May 2019

Veteran Writer Adrish Bardhan Passes Away

The science fiction writer and prominent translator Adrish Bardhan passes away on Monday night. He had been suffering from disease. At the time of his death, he was 87 years old.

He was associated with Purchase manager at first. Then he took the path of writing. He Started writing with the story of detective. His intruder Indranath Rudra and girl Detective Narayani got huge popularity.

He contributed in the field of Science fiction, supernatural world, supernatural, translation. He has edited India’s first science fiction magazine ‘Ascharya’. He Got multiple awards for his works.

– Advertisement –

He was admitted to to Nilratan Government Medical College Hospital. He was admitted to the hospital on Sunday due to prolonged illnesses. Due to MP Abhishek Bandyopadhyay’s intervention, he was transferred from General Bed to ICCU on Thursday. The family of the writer also expressed gratitude to Abhishek Bandyopadhyay and NRS authorities for medical assistance. But he breathed his last breath on Monday.

পড়ার লিঙ্ক 

১৪) উত্তরবঙ্গ সংবাদ, ২১ মে ২০১৯

পড়ার লিঙ্ক 

১৫) এই সময়, সন্দীপ রায় এবং চিরঞ্জীবের স্মৃতিচারণ

পড়ার লিঙ্ক 

 

১৬) সংবাদ প্রতিদিন, কল্পবিশ্বের দীপ ঘোষ

পড়ার লিঙ্ক 

 

১৭) সৃষ্টির একুশ শতক পত্রিকায় প্রকাশিত কৃষ্ণেন্দু দেবের স্মৃতিচারণ, জুন ২০১৯

 

১৮) কিশোর ভারতী পত্রিকার জুন সংখ্যার সম্পাদকীয়তে শ্রী ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় স্মৃতিচারণ করেছেন অদ্রীশ বর্ধনকে নিয়ে।

 

১৯) শুকতারা পত্রিকা জুন সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে অদ্রীশ বর্ধনকে নিয়ে অনীশ দেব এবং স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় এর স্মৃতিচারণ। এই সংখ্যায় অদ্রীশ বর্ধনের একটি গল্পও পুনঃপ্রকাশিত হয়েছে। গল্পের নাম ‘ইলেকট্রিক জীবাণু’।

 

২০) তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণঃ

 

২১) রমাপদ পাহাড়ীর স্মৃতিচারণঃ তথ্যকেন্দ্র, জুন ২০১৯

 

২২) আনন্দবাজার পত্রিকা, কলকাতার কড়চা , ১০ জুন ২০১৯

 

২৩) আজকাল পত্রিকা 

 

২৪) সংবাদ প্রতিদিন, ১৭ জুন ২০১৯

 

২৫) ঢাকাট্রিব্যুন 

Adrish Bardhan, the forerunner of a sci-fi renaissance in Bangla literature, breathed his last at the age of 86 on May 20, 2019 in Kolkata. 

From translating a plethora of western science fiction to creating iconic fictional characters like Professor Nut-boltu and detective Indranath Rudra, Adrish Bardhan mainstreamed the imaginative world of speculative fiction in Bengal. He was in fact credited for having coined the term kalpabigyan, the Bangla word for science fiction. 

Bardhan’s tales of mystery and crime stand as a testament to his progressive worldview beyond the boundaries of gender stereotypes. On the one hand, he created a mad scientist called Nut-boltu blending humor and science, and on the other, he introduced Narayani, a shining star among a handful of a female detectives in Bangla crime fiction.  

However, his illustrious career did not start off as an author to begin with. After graduation from the University of Calcutta, Bardhan joined a private company as a purchase manager. But his heart genuinely lay in adventures which spurred him on to change his profession frequently. Soon he gave up on traditional jobs and invested his sole concentration on writing detective and science fiction stories. 

Bardhan explored the world of fiction, especially sci-fi, with a kind of versatility that remains unmatched to this day. He organized sci-fi radio dramas back in those days. In his capable hands, the first Indian science fiction magazine Ashcharja began its successful journey spanning for about eight years since 1963. After the magazine was discontinued, he became the editor of another sci-fi magazine called Fantastic. According to an Indian Express report, the veteran author, moreover, founded India’s first ever sci-fi cine club, having Satyajit Ray as its president. The club required a yearly fee of Rs. 6 from its members.  

In his masterful translations, Bardhan laid open the macabre world of Edgar Allan Poe and H. P. Lovecraft for the Bangla readership. He translated the works of notable authors, such as Jules Verne and Isaac Asimov, among many others.  In 1971, the death of his wife had left him in utter torment. The trauma resulted in an irregular sleep pattern that disrupted his sleep every night at 2:30 am. So, he began translating Jules Verne as a coping mechanism in a moment of a great personal loss. His translations of Jules Verne were later published in nine volumes. “I think his biggest impact was as a translator. His Jules Verne and Asimov translations are seminal,” Kalpabiswa member Sandipan Ganguly was quoted as saying in the Indian Express report. 

While Adrish Bardhan’s prolific career allowed him to author bestsellers like Goyenda Indranath Rudra Shamagro (13 volumes), Professor Nut-boltu Chakra Shamagro, Superman Vikramjit, Megh Dwip Atongko, Makorsha Atongko, among many others, he was in fact a proud successor of a number of eminent Bengali science fiction writers from as early as the19th century. 

Bardhan suffered from hearing and memory loss in his twilight years. He passed away due to old age complications.  

পড়ার লিঙ্ক 

 

২৬) স্ক্রল.ইন –  &  , ২ জুন ২০১৯

Adrish Bardhan (1932-2019) single-handedly put science-fiction in the Bengali reader’s imagination

It rarely happens that a genre of literature in a language is completely defined, dominated and nurtured by a single name. And yet, when we pronounce the word “kalpavigyan” – the Bengali term for science fiction, one name usually comes up. It belongs to the man who gave this genre its Bengali identity: Adrish Bardhan. Though his works expanded from writing to editing, even translating and publishing, Bardhan would always be known for his dedication for this genre. Or, as he would put it: “Madness.”

The ’60s were the era of reform – not only for the country but also the Bengali literary world. While the subcontinent was struggling to find its economic sovereignty, Bengali literature was recuperating from the void left by Rabindranath Tagore and his contemporaries. While this wave of the revolution brought the genesis of both anomalous and unscriptural short fiction, it also gave birth to a magazine called Ashchorjo – orAmazing.

It was, of course, the golden age of science fiction in the western world – reigned over by masters like Isaac Asimov, Arthur C Clarke, and Robert Heinlein – but the genre was an alien in this part of the subcontinent. True, writers like Premendra Mitra or Jagadish Chandra Bose had written SF, but their work was not true science fiction. The word “kalpavigyan” or “imagined science” was still to be born.

What Bardhan created as a magazine was no less an ambitious project. Ashchorjo was the first of its kind not only in Bengal but on the entire subcontinent. Bardhan noticed the flourishing of western science fiction and how magazines like Astounding, and Galaxy became the driving force for creating a rich pool of writers. What Bardhan said on this subject explains the origins of Ashchorjo: “I knew this genre was the most forlorn but that only fuelled my persistence. If it was a disregarded genre, I had to write (to save its glory).”

A life in science fiction

Adrish Bardhan was born on December 1, 1932, in North Kolkata. His father Anil Bardhan and grandfather Chandicharan Bardhan founded the Hindu Boys’ School in Serpentine Lane, where Adrish had his primary education. After getting a Bachelor’s degree in science, Bardhan arrived in Bombay with a job, influenced by aspects of Sibram Chakrabarti’s novel Bari Theke Paliye (Running Away From Home). He took up many kinds of jobs, which introduced him to different parts of this country before he returned Kolkata in the early ’60s.

Ashchorjo was born in January 1963, and Bardhan played his editorial role under the nom de plume of Akash Sen (which is why he was once investigated by the Kolkata Police). Prominent writers like Premendra Mitra and Satyajit Ray guided him, while his elder brother, Dr Asim Bardhan, acted as the publisher. At first, many of the stories or articles published in Ashchorjo were written by Bardhan himself under various pseudonyms.

Joining Ray, Mitra and Roychowdhury on the contributors’ list were Kshitindranarayan Bhattacharya, Manabendra Bandyopadhyay, and, later, emerging writers like Ranen Ghosh, Bishu Das, Monoranjan De, Sridhar Senapati, Enakkshi Chattopadhyay, and Samarjeet Kar. But Ashchorjo was more than short stories – it featured articles, serialised novellas, science fiction book and film reviews, and exciting facts about the world. It was truly representative of the golden age of Bengali science fiction.

Apart from original works, the magazine contained translations of science fiction from the West, including the works of Clarke, Asimov, Heinlein, Jules Verne, and HG Wells. Bardhan was the first to translate HP Lovecraft into Bengali. His critically acclaimed translation of “The Case of Charles Dexter Ward” proved he could have won over readers even without science fiction.

To fund Bengali science-fiction, Bardhan also established business like Alpha-Beta Polishers and Dipti Printers on the ground floor of his house. He went on to build a readership and wider interest in science fiction through, among other things, short story anthologies – Mahakashjatri Bangali (Bengalis in Space) and Sabuj Manush (Green Men) – with contributions by, among others, Satyajit Ray, Premendra Mitra, and Dilip Roychowdhury, which were broadcast on All India Radio, read by the authors themselves. Similarly, the Science Fiction Cine Club, set up in 1965, was also Bardhan’s brainchild.

The second innings

A bare two years after his marriage, Bardhan lost his wife in 1972. Being a single parent now to his son Ambar, he had to prioritise his goals. He became more of a father than an editor and writer. Ashchorjo stopped publishing in late 1972. It was the end of a brief yet wonderful era, and no other Bengali magazine had reached the potentials of Ashchorjo. The magazine had established a dedicated reader-base, created a thriving pool of writers, and even succeeded in making steady profits.

Fortunately, it was a brief hiatus. Bardhan returned in 1975 with his new magazine Fantastic (named by Ray), with Ranen Ghosh as co-editor. However, it did not remain a science-fiction-only magazine, expanding to include speculative fiction with its own blend of science fiction, fantasy, and horror. Well-known authors like Sunil Gangopadhyay, Syed Mustafa Siraj, Shirshendu Mukhopadhyay, Anish Deb, Siddhartha Ghosh wrote for Fantastic. Bardhan also founded a publishing company of the same name in 1982.

Strangely, however, the magazine could not repeat the success of its predecessor when it came to building a pool of writers. Ashchorjo had been a landmark series of works of collaborative pioneering. During the age of Fantastic was launched, however, the world changed. Television sets entered middle-class homes, and the time devoted to magazines began to drop.

Although magazines from large publishing houses upgraded their printing platforms to state of the art technology, Fantastic, like many other small magazines, couldn’t follow suit because of a lack of funds. The final nail in the coffin was probably the devastating fire at the Kolkata Book Fair in 1997. One-third of the bookstalls were burnt down, one of them being Fantastic’s. The magazine never recovered from the losses. It had already been publishing on an erratic schedule, and the run finally ended in 2007. With this, the era of Bardhan and his magazines came to a close.

A monumental legacy

Old age and a frail body did not permit Bardhan to write for almost a decade. But he had in the course of his writing life created several memorable characters, the leading one being Professor Nutboltu Chakro (Professor Nutbolt Ring), a scientist who had equal grasp over all the disciplines of science and was always accompanied by his assistant Dinonath Nath. Detective characters like Indranath Rudra, lady detective Narayani, Father Ghyanshyam or vagabonds like Chanokkyo Chakladar are still popular among readers.

Tragically, Bardhan’s last days were spent not in solitude but in loneliness, and in the grips of a grave financial crisis. Whenever the occasional fan dropped in on the illness-ravaged writer, however, he discovered a mind that was just as active as ever. He would still discuss science fiction with the same verve as he had half a century ago, even when his memories were fading and his speech was slurred.

Adrish Bardhan died on May 21, 2019, in his Santosh Mitra Square residence at the age of 86. Besides his own fiction and the magazines, he contributed to a new legacy, the Bengali science fiction magazine Kalpabiswa. His own works are still among many publishers’ bestsellers.

If he were to have been asked how he did this monumental amount of work in such difficult circumstances, he might have answered: “Stories are the greatest of all-conquering forces, they don’t end in obfuscation but in hope, to ignite a spark. Because in the end, that was what I had – a little bit of madness, a nagging persistence, and a pinch of imagination.”

পড়ার লিঙ্ক 

 

বিধানসভায় শোক

২২ জুন ২০১৯

বিধানসভায় শুক্রবার বাদল অধিবেশনের শুরুতেই সদ্যপ্রয়াত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। নাট্যকার গিরিশ রঘুনাথ কারনাড, অভিনেত্রী রুমা গুহঠাকুরতা, লোকশিল্পী অমর পাল, অভিনেতা চিন্ময় রায়, ফুটবলার কান্নন, লেখক অদ্রীশ বর্ধন, মতুয়াদের বড়মা বীণাপাণি দেবী, বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস, প্রমথনাথ রায়, প্রাক্তন বিধায়ক যোগেশ বর্মন, দীপক বেরা, বামাপদ মুখোপাধ্যায়, অমর বসু, দেবব্রত দত্ত, আবুল হাসনাত, মায়ারানি পাল, গোবিন্দ চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন সাংসদ সুধীর রায়, পর্বতারোহী অমূল্য সেন, বিধানসভার প্রাক্তন সচিব আসাদুর রহমানের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সদস্যরা দু’মিনিট নীরবতা পালন করে প্রয়াতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

পড়ার লিঙ্ক

 

 

ফেসবুকে বিভিন্ন পাঠকের প্রতিক্রিয়া

কল্পবিশ্ব পাবলিকেশনসঃ

বাংলা সাহিত্যজগতে ইন্দ্রপতন। প্রয়াত হয়েছেন অদ্রীশ বর্ধন। বাংলা কল্পবিজ্ঞান আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা এই কিংবদন্তি সাহিত্যিকের মৃত্যুতে আমরা গভীর মর্মাহত। তবে সান্ত্বনার কথা, লেখক নশ্বর জীবনের শেষে চিরকালের জন্য অন্তর্হিত হলেও ‘পাণ্ডুলিপি কখনও পোড়ে না’।

দশকের পর দশক কল্পবিজ্ঞান, ফ্যান্টাসি ও হরর রচনায় তিনি মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন বাঙালি পাঠককে। কিন্তু অদ্রীশবাবুর বহু লেখাই আজ আর পাওয়া যায় না। সেই সব কালের ধুলোয় মিশে যাওয়া লেখাকে আবার পুনঃপ্রকাশ করছি আমরা। এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে ‘চার্লস ডেক্সটার্স ওয়ার্ড’ এবং ‘সেরা আশ্চর্য! সেরা ফ্যানট্যাসটিক ১’। দ্রুত আমরা পাঠকদের কাছে নিয়ে আসব তাঁর আরও নানা অবিস্মরণীয় সৃষ্টিকে। সেই লেখার মধ্যে দিয়েই তিনি পাঠকের কাছে থেকে যাবেন চিরকাল।

 

নির্জন সেনঃ

স্রষ্টার প্রকৃত মৃত্যু ঘটে সেদিন, যেদিন তাঁদের সৃষ্টি লোকে বিস্মৃত হয়। সেই অর্থে অদ্রীশ বর্ধন এখনো বহুদিন বাঁচবেন। বেঁচে থাকুক কল্পবিশ্ব, বেঁচে থাক বাঙালি। আমি আজ তো বটেই, ভবিষ্যতেও বার বার ফিরে যাব অদ্রীশবাবুর কাছে। যেমন আজও যাই সত্যজিৎ রায়ের কাছে, যাই শরদিন্দুর কাছে, বিভূতিভূষণের কাছে, রবীন্দ্রনাথের কাছে। এঁরা বেঁচে থাকলেও মৌখিক আলাপ করতাম কিনা সন্দেহ, আমার কাছে এঁদের সৃষ্টিই এঁদের অস্তিত্ব।

 

প্রশান্ত চন্দ্রঃ

আহা, অদ্রীশ বর্ধন চলে গেলেন। বাংলায় কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের পথিকৃৎ। সেই প্রথম আশ্চর্য্য পত্রিকা ষাটের দশকের গোড়ার দিকে বের হয়েছিল। বাংলার বাইরের এক শহরে প্রথম পত্রিকাটির সঙ্গে পরিচয়। তখনও কলেজের গন্ডি পেরোইনি। সায়েন্স ফিকশন পড়ি, সবই ইংরেজিতে। বাংলাতে পড়ে কি আনন্দ। কিছুদিন আগে উনি যখন অসুস্থ ছিলেন ওনার শীঘ্র আরোগ্য কামনা করে এখানেই সম্ভবত একটি পোস্ট লিখেছিলাম। আশ্চর্যের সাথে প্রথম পরিচয়ের কথাও লিখেছিলাম। দিনকতক বাদে ওনার উত্তর পাই জিজ্ঞেস করেছিলেন সেই সময়ের কিছু পত্রিকা আমার আছে আছে কিনা, দুঃখের সাথে জানাতে হয়েছিলো অনেক বছর আগের কথা, অন্য সময় অন্য শহর, বহুদিন আগে হারিয়ে গেছে। পথিকৃৎকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।

 

সুমনা মজুমদারঃ

এই দুঃখ প্রকাশ করার ভাষা আমার নেই। প্রফেসর শঙ্কু না থাকলে কল্পবিজ্ঞানের প্রতি প্রেম টাই হয়তো হতো না। অন্যরকম গোয়েন্দা ইন্দ্রনাথ রুদ্র… ওনার অনুবাদ করা শার্লক হোমস..বাংলা সাহিত্যে ওনার অবিদান লিখে শেষ করা যাবে না। নতুন যুগ ছিলেন উনি।
কল্পবিশ্বের কাছে অনুরোধ- ওনার অনেক লেখাই হারিয়ে গেছে। তবু আপনারা অনেক চেষ্টা করে কিছু মনি মানিক্য তুলে আনছেন নতুন করে।
“ফাদার ঘনশ্যাম” এর লেখাগুলো নতুন করে একত্রিত করা কি সম্ভব?

 

সুমিত বর্ধনঃ

And in another alternate reality the Grand Wizard continues on his journey, creating a new world all for himself.

 

অদ্রীজা বর্ধনঃ 

 

রিসভ দাস ঃ

বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের পথিকৃৎ এবং ‘কল্পবিজ্ঞান’ শব্দের স্রষ্টা তথা ‘আশ্চর্য’এবং ‘ফ্যান্টাস্টিক’ নামক বাংলার প্রথম কল্পবিজ্ঞান পত্রিকার সম্পাদক অদ্রীশ বর্ধন সদ্য প্রয়াত হয়েছেন। রেখে গেছেন তার অমর সৃষ্টি ‘ইন্দ্রনাথ রুদ্র’ কিংবা ‘ নারায়নী’ সহ চির স্মরণীয় চরিত্র কে।রাতের পর রাত জেগে যার মাথা অক্লান্ত পরিশ্রমে অনুবাদ করে গেছে একের পর এক এডগার অ্যালান পো থেকে শুরু করে আর্থার কোনান ডয়েল, জুলে ভের্ন
এর মত ক্লাসিক রচয়িতাদের মহান মহান সব সাহিত্যকর্ম।তার অসামান্য অনুবাদের মাধ্যমে ডয়েলের শার্লক হোমসকে তিনি প্রথম বাংলা গোয়েন্দা সাহিত্যের আঙিনায় নিয়ে করালেন।বলা যেতে পারে এক প্রকার কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যকে তিনি আন্দোলনের পর্যায় নিয়ে গেছিলেনএকটা সময়ে…শুধুমাত্র অ্যাডভেঞ্চারের টানেই চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে তিনি চলে এসেছিলেন পুরোপুরি লেখালেখির জগতে।
আমাদের সকল বই প্রেমী পাঠকদের তরফ থেকে এই মহান সাই ফাই রচয়িতা তথা অনুবাদক, রহসপ্রেমী মানুষটিকে
জানায় আমাদের অন্তরের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা🙏🙏🙏 তিনি আমাদের বাংলার কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের ভিত্তি আরো সুদৃঢ় করে দিয়ে গেলেন ❤❤

 

শিল্পী অতনু দেবঃ

চলে গেলেন অদ্রীশ বর্ধন। ইন্দ্রপতন।

 

সিদ্ধার্থ সিংহঃ

অদ্রীশদা আর নেই, শোনামাত্রই মনে পড়ে গেল কত কথা। ওঁর বাড়িতে আমি বেশ কয়েক বার গিয়েছি। প্রতিবারই যেতাম মূলত অনুমতি নিতে। আমার সম্পাদিত সংকলনের জন্য। প্রথম যে বার যাই, সে বার অনুমতিপত্রে সই করার আগে এতবার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে চিঠিটা উনি পড়েছিলেন যে, আমার মনে হয়েছিল, আমি বুঝি কোনও ক্রাইম করে ফেলেছি। পরে মনে হয়েছিল, এই জন্যই উনি এত সফল রহস্য কাহিনিকার। সেই মানুষটা আজ আর নেই ভাবতেই পারছি না। তিনি যেখানেই থাকুন, ভাল থাকুন।

 

সপ্তর্ষি চ্যাটার্জীঃ

জুল ভের্ন-এর কাহিনিগুলো প্রথম বাংলা অনুবাদে পড়ার সুযোগ হয়েছিল তাঁর মাধ্যমে। তারপর যত দিন এগিয়েছে, হাতে এসেছে ‘ফ্যান্টাস্টিক’ সব লেখা! ‘কল্পবিজ্ঞান’ শব্দবন্ধটাই হয়তো সৃষ্টি হত না তিনি না থাকলে। প্রফেসর নাটবল্টু চক্র’র মত চরিত্র সৃষ্টি, বাংলা সাহিত্যে কল্পবিজ্ঞানকে শিখরে তুলে আনার পাশাপাশি লাভক্রফট সহ অজস্র বিদেশি সাহিত্যিকের রচনার সঙ্গে বাঙালি পাঠককে পরিচিত করিয়েছেন তিনি। বহুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন সাহিত্যিক অদ্রীশ বর্ধন ।গতকাল রাতে তাঁর প্রয়াণে যেন একটি যুগের অবসান ঘটল। শ্রদ্ধা জানাই তাঁকে স্মরণ করে, সংগ্রহে থাকা তাঁর লেখা ও সম্পাদিত বেশ কিছু বইয়ের মধ্যে একটিতে পেয়েছিলাম স্বয়ং তাঁর স্বাক্ষর! কলেজস্ট্রীট ফুটপাথ থেকেই সংগৃহীত। সেইসব আর একটি স্কেচের মাধ্যমে জানালাম আমার বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

 

অরুণাভ গঙ্গোপাধ্যায়ঃ

।। শ্রী অদ্রীশ বর্ধন ।।
(১৯৩২ ~ ২০১৯)

শুটিং-এর সময়ে সঙ্গে একটা ব্যাটারি চালিত এলইডি আলোর প্যানেল ছিল, সেইটার দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে ছিলেন। তবে শুধুই ‘তাকিয়ে ছিলেন’ নাকি সত্যি সত্যিই ‘দেখছিলেন’ তা জানিনা! বাংলা কল্পবিজ্ঞানের ইতিহাস নিয়ে তথ্যচিত্রের শুটিং-এর তোড়জোড় চলছিল ওনারই বাড়িতে। ছোট্ট ঘরে ক্যামেরাকে ঠিকভাবে প্লেস করতে পারাটা একটু সমস্যাই হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। হঠাৎ বলে উঠলেন “টেকনোলজি কোথায় পৌঁছে গেছে! এইটুকু একটা যন্ত্র, যন্ত্র তো নয় একটা চিপ, তাতে সবটা ধরা থাকবে!”… শরীর ওনার বহুদিন যাবতই জবাব দিয়ে দিয়েছে তখন, তবু সেদিন উনি স্নান সেরে রেখেছিলেন আমরা পৌঁছবার আগে। ধুতি পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল ওনাকে। শীতকাল ছিল, বেশ ঠান্ডা, তাই সোয়েটারের ওপরেও শাল জড়িয়েছিলেন। লজিস্টিকাল সমস্যা মিটিয়ে ক্যামেরা সেট করার পর যখন ওনার শালে লেপেল মাইক লাগানো হচ্ছে, তখনই বলে বসলেন সেই মোক্ষম কথা- “বাবারা যা বলবে, স্পষ্ট করে জোরে জোরে বলবে। গালাগালি শুনতে শুনতে আমার কানটা ঈষৎ কালা হয়ে গেছে”, বলেই হাসতে লাগলেন।… শুটিং শুরু হল। শেষও হল। আমরা চলে এলাম ওনার বাড়ি থেকে। শুটিং ভালো হলনা। যা ‘মেটিরিয়াল’ পাবো ভেবেছিলাম ওনার কাছ থেকে তার সিকি ভাগও পেলামনা। কারণ, স্মৃতি ততদিনে তাঁর মস্তিস্কের প্রকোষ্ঠ থেকে আসন তুলে নিয়েছে। যেটুকু পড়ে আছে তা আসন উঠে যাবার পরের ধুলোছাপ। এবং সে ছাপও এতটাই মলিন যে সত্যজিৎ রায়কে যে উনি ‘মাণিক দা’ বলে ডাকতেন সেটা মনে করতেও ওনাকে বেশ বেগ পেতে হল। প্রতি কথার শেষে ওনার স্মৃতির গাড়ি ফিরে যাচ্ছিল একটাই স্টেশনে; আড়াই বছরেরও কম ওনার বিবাহিত জীবনে। চব্বিশ বছরের প্রয়াতা স্ত্রীর স্মৃতিকে এমনভাবেই আঁকড়ে জাপটে ধরেছে তখন ওনার মস্তিস্ক, যেমন কোনও দন্ডায়মান বৃহৎ কান্ডকে আঁকড়ে বাঁচে কোনও গুল্মলতা! সেই মস্তিস্কে এখন কেবলই ওনার তরুণী ভার্যা, যে মস্তিস্কে একসময়ে চলত- কল্পবিজ্ঞান-ফ্যান্টাসি-গোয়েন্দা গল্পের একের পর এক প্লট নিয়ে ষাঁড়াষাঁড়ির বান; যে মস্তিস্ক রাতের পর রাত জেগে, ভোর নামা পর্যন্ত বসে থেকে থেকে অনুবাদ করত জুল ভের্ণ, এডগার অ্যালেন পো থেকে লাভক্র্যাফট; যে মস্তিস্ক জন্ম দিয়েছিল কল্পবিজ্ঞান পত্রিকা নিয়ে এক পুরোদস্তুর বিপ্লবের; যে মস্তিস্ক একসময়ে ব্রতী হয়েছিল সারস্বত সমাজে কল্পবিজ্ঞানকে দুয়োরাণীর আসন থেকে সরিয়ে রাণীর মর্যাদা দিতে; এই কাজ করতে করতে হাজার অপমান, হাজার ব্যাঙ্গকেও যে মস্তিস্ক তোয়াক্কা করেনি… আর সেইজন্যেই বোধহয় প্রথমেই বলেছিলেন – “যা বলবে, স্পষ্ট করে জোরে জোরে বলবে। গালাগালি শুনতে শুনতে আমার কানটা ঈষৎ কালা হয়ে গেছে”… আসলে ওনার ‘মস্তিস্কের’ সারাজীবনের যুদ্ধটাই ছিল এই ‘শিক্ষিত গালাগালির’ বিরুদ্ধে। শেষ বয়েসে এসে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে, সেই ‘মস্তিস্ক’ ক্লান্ত শরীরে বিশ্রাম নিচ্ছিল তার ভালোবাসার পাশে বসে। আর আজ গোটা শরীরটাই চির বিশ্রামে!

ভালো থাকবেন যোদ্ধা।

প্রণাম নেবেন।

 

সুদীপ দেবঃ

“একটি যুগের অবসান” – বহু ব্যবহারে জীর্ণ হয়ে যাওয়া এই শব্দবন্ধ কিছু ক্ষেত্রে একদমই আক্ষরিক অর্থে সত্যি। অদ্রীশ বর্ধনের জীবনাবসান তেমনই একটি ঘটনা। “কল্পবিজ্ঞান” শব্দটি যাঁর সৃষ্টি সেই অদ্রীশ বর্ধন ছিলেন বাংলা কল্পবিজ্ঞান যজ্ঞের প্রধান পুরোহিত, বাংলা জঁর ফিকশন বিপ্লবের প্রধান কাণ্ডারী। “আশ্চর্য!” পত্রিকা বা “সায়েন্স ফিকশন সিনে ক্লাব” এসব জিনিস অনেক পরে জেনেছি। ছোটবেলায় শুকতারায় প্রকাশিত তাঁর রচিত বিভিন্ন কল্পবিজ্ঞান গল্প দিয়েই এই গোত্রের গল্পের প্রতি আমার আকর্ষণ জন্মায়। পরবর্তীকালে অবশ্য অনুবাদক অদ্রীশ বর্ধন ব্যক্তিগত পছন্দের হিসেবে আমার কাছে গল্পকার অদ্রীশ বর্ধনের থেকে অনেক এগিয়ে যায়। বলতে দ্বিধা নেই, বাংলায় শার্লক হোমসের সমগ্র রচনা মাত্র কয়েক বছর আগে আমি প্রথম পড়ে শেষ করে উঠতে পারি যখন নতুন করে তাঁর অনুবাদের সমগ্রটি প্রকাশিত হল তার পরেই। সেই সময় ইংরেজি বইয়ের পাশাপাশি বাংলাটি রেখে মিলিয়ে মিলিয়ে দেখেছিলাম যে বিভিন্ন শব্দ, বাক্য, অনুচ্ছেদ, সংলাপ, প্রবাদ কী সাবলীলভাবে তর্জমা হচ্ছে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায়, সাহিত্যরসের বিন্দুমাত্র হানি না করে – বরং কিছু ক্ষেত্রে মূলকেও অতিক্রম করে যাচ্ছে। কল্পবিশ্ব গ্রুপের বন্ধুদের সুবাদে নিয়মিত প্রিয় সাহিত্যিকের শারীরিক অবস্থার খবর পাচ্ছিলাম, আর একটা বিষণ্ণতা ক্রমশই চেপে ধরছিল। ছোটবেলার প্রিয় জাদুকরেরা একে একে মঞ্চ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। প্রদর্শণী শেষের ঘণ্টার শব্দ শুনতে পাচ্ছি…

 

নিলয় সরকারঃ

তখন দ্বিতীয় ক্লাসে পড়ি। প্রথাগত শিশুসাহিত্য বাবা মা’র কাছে শুনেছি ও অল্পকিছু পড়েওছি তখন অব্দি। কিন্তু এখনো মনে আছে সেই ১৯৮০ সালে ‘সবুজ ট্রানজিস্টর’ পড়ে মাথা ঘুরে গিয়েছিল। মাসখানেক ধরে গল্পের প্লট ও চরিত্রগুলি আনাগোনা করছিল। সেই শুরু। তারপর প্রতিবছর আগরতলা বইমেলায় (১৯৮১ থেকে যার পথচলা) পাগলের মত আমার প্রিয়তম লেখকের বই খুঁজেছি। খুঁজে, পেয়ে, গোগ্রাসে গিলেছি। এখনো স্পষ্ট মনে আছে ১৯৯১ সালে আগরতলা শহরের মত এক প্রান্তিক শহরের পোলাপানদের আপনি পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন ক্রুর কূটিল অন্ধকারময় বিভীষিকার জগতে এইচ.পি.লাভক্র্যাফটের মাধ্যমে তাঁর পাগলাটে চরিত্রদ্বয় চার্লস ডেক্সটার ওয়ার্ড ও জোসেফ কারওয়েনের সঙ্গে। আমার শৈশব, কৈশোর, যৌবন কেটেছে অদ্রীশ বর্ধনের কালজয়ী আখ্যানগুলি পড়ে পড়ে, এমন কি এখন অব্দি অপঠিত কিছু কাজকর্ম পেলেই পড়ে ফেলি। কল্পনার আকাশে ফ্যান্টাসি, অতিপ্রাকৃত, কল্পবিজ্ঞানের সমারোহ ঘটিয়ে সারাজীবন অদৃশ্য শিক্ষকের ভূমিকা পালন করেছেন আপনি। আপনি চলে যেতে পারেন না। অদ্রীশ বর্ধন, আপনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আপামর বাঙ্গালী শিশু কিশোর যুবক পাঠকদের হৃদয়ে, বইয়ের র‌্যাকে, বালিশের পাশে, অ্যানড্রয়েড ট্যাবে, ডেক্সটপ পিসিতে, সব জায়গায়।

 

বিশ্বদীপ দেঃ

অদ্রীশ বর্ধন আর নেই। কাল রাত একটায় তাঁকে আমরা হারিয়েছি।
কেবল এইটুকু লিখতেই ভিতর থেকে আমূল কেঁপে যাচ্ছি। আমার প্রিয় লেখক, আমাদের শৈশবের সেই জাদুকর সব খেলা শেষ করে হাঁটা দিয়েছেন দিগন্তের দিকে। জানতাম দিনটা দূরে নেই। এই তো, মাসখানেক আগে আমি আর দীপ এক বিকেলে হাজির হয়েছিলাম তাঁর বাড়িতে। বিস্মৃতির পোকা কুড়ে কুড়ে খেয়ে নিয়েছে স্মৃতি। শরীর জুড়ে কেবলই অসুখ আর অসুখ। ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকা, অসংলগ্ন কথা বলা অশীতিপর অদ্রীশবাবুকে দেখে সেদিনই বুঝেছিলাম এখন কেবল অপেক্ষাটুকু। কেবল।
সেই অপেক্ষার শেষে এবার দাউ দাউ আগুনের ভিতরে হারিয়ে যাওয়ার পালা। আগুনের কাঁপা কাঁপা ধোঁয়ার আড়ালে রয়ে গেল এক জীবন পাণ্ডুলিপি। সেই লেখা, তা মৌলিক হোক বা অনুবাদ— আমার, আমাদের আমৃত্যু সঙ্গী। এর বেশি এখন আর লেখা সম্ভব হচ্ছে না।
অদ্রীশ বর্ধন মৃত। অদ্রীশ বর্ধন দীর্ঘজীবী হোন।

 

সত্যজিৎ চক্রবর্তীঃ

অদ্রীশ বর্ধন (১৯৩২ – ২০১৯)

হ্যাঁ, আপনার জন্য!
আপনার জন্যই বাঙালীর চেতনে অবচেতনে লুকিয়ে থাকা কল্পনা গুলো কল্পবিজ্ঞানের আকাশে ডানা মেলে উড়তে পেরেছে। আমার মত আরো বহু বাঙালীর কল্পনার জগতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আপনি।
যে কল্পলোকে কেবলমাত্র আপনার সৃষ্টি পৌঁছাতে পেরেছে, আপনি আজ সেখানে নিজেই পৌঁছে গেলেন।

আত্মার চিরশান্তি নিয়ে বেঁচে থাকুন এভাবেই।

 

প্রতিম দাসঃ

শ্রদ্ধার্ঘ
দুবছর আগের করা আমার কাজ । কল্পবিশ্ব পত্রিকার অদ্রীশ বর্ধন সংখ্যার প্রচ্ছদ । পত্রিকার নাম সহ ছবিটা আজ অন্যরকম একটা রুপক উপস্থাপন করছে মনের মধ্যে। কল্পলোকের দরজাটা অনেকটাই খুলে গিয়েছিল আপনার অনুবাদ পড়ে । শার্লক হোমস থেকে এডগার অ্যাালান পো , লাভক্র্যাফট হয়ে জুল ভার্ন, তাছাড়াও নানা অজানা লেখকের লেখার সাথে পরিচিত হয়েছিলাম আপনার কারনেই। আজ যা একটু আধটু অনুবাদ করার চেষ্টা করি সেটাও আপনার অনুপ্রেরনায় ।
মৌলিক যে সমস্ত লেখা লিখেছেন তার সম্বন্ধে কিছু বলার মতো ধৃষ্টতা এ অধমের নেই । আফসোস আর সেসব কল্প জগত বিনির্মাণ হবেনা কোনোদিন।
“মিঃ ফ্যান্টাসটিক” অনেক লেখকের নাম হয়তো বয়সের সাথে বিস্মৃত হবো । কিন্তু আপনি স্থায়ী থেকে যাবেন আমার মণিকোঠায়।
যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন ।

 

শান্তনু চক্রবর্তীঃ

আমার অনেক শ্রদ্ধা নিবেদন করি।
এখন সালটা সঠিক মনে নেই হয়তোবা 1995 হবে যখন ওনার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। আমরা তিন বন্ধু মিলে বইমেলাতে আমাদের রেগুলার হানাদারি করছি, মানে স্টলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বই পড়া আর কি। পকেটে পয়সা নেই, কিন্তু নেশা আছে ষোলো আনা। ফ্যান্টাস্টিক এর স্টলে দাঁড়িয়ে একটা উপন্যাস গোগ্রাসে গিলছি, সেলসম্যান এসে বলল “বইটা কি নেবেন?”
আমি আমতা আমতা করতে লাগলাম কিন্তু তখনই এক ভদ্রলোক এসে উদ্ধার করলেন। বললেন “ঠিক আছে, ঠিক আছে, তুমি পড়ো।”
আমি ফের ডুবে গেলাম কল্পবিজ্ঞানের জগতে। হুঁশ হোলো বইটার শেষ মলাটে ঐ ভদ্রলোক এর ছবি দেখে!
ইনিই অদ্রীশ বর্ধন!!!!
স্যার, অনেক অনেক শ্রদ্ধা জানাই এবং প্রার্থনা করি পরম করুণাময় এর কাছে আপনার অখন্ড শান্তির জন্য।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

 

পিনাকি পালঃ

খুব খারাপ খবর। ওঁর অনুবাদে প্রথম বই পড়ি সমুদ্র শয়তান, আলেক্সান্ডার বেলাইয়েভের দ্য অ্যাম্ফিবিয়ানের অনুবাদ। ওনার অনুবাদের একটি গুণ ছিল লেখাটি সাবলীলতা হারাতো না। অনেক ক্ষেত্রেই অনুবাদের পর লেখাটি সাবলীলতা হারিয়ে ফেলে। শার্লক হোমস মূল ইংরেজিতে পড়েছি, অদ্রীশ বর্ধনের অনুবাদেও পড়েছি। দুটোই অসাধারণ। খুব ক্ষতি হয়ে গেল।

 

অরবিন্দ শীলঃ

সুপাঠক, জ্ঞানী , অনেক বড় সাহিত্যিক । জ্ঞান হওয়া থেকে ওনার লেখা পড়ে আসছি শুকতারা ও বিভিন্ন পত্রিকা তে৷। আমার মা সব জানে ওনার সুবিখ্যাত রচনা৷ গোয়েন্দা ও রহস্য সাহিত্যে ও ওনার অবাধ বিচরণ ছিল৷ স্থান পূরণ হবার নয়৷ তবে আক্ষেপ রয়ে গেল যে কোনো দিন দর্শন লাভ করতে পারলাম না। আত্মার শান্তি কামনা করি এই সুপন্ডিত , বিজ্ঞান সাহিত্যিক এর৷

 

সুজিত রায়ঃ

সে কি? আমার সঙ্গে বড় ভাল সম্পর্ক ছিল। আমি ইত্যাদি প্রকাশনীর পরিবর্তন সাপ্তাহিকে চাকরি করতাম। উনি কিশোর মন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তখনই ঘনিষ্টতা তৈরি হয়। অনেকদিন যোগাযোগ ছিল। তারপর যা হয়। জীবনের নানা চাপে যোগোযোগ ক্ষীণ হয়ে যায়। বইমেলায় দেখা হত, আড্ডা হত। একদিকে বন্ধু অন্যদিকে দাদা। মনটা বিক্ষিপ্ত হয়ে গেল। তবে উনি তো আছেন। থাকবেন অজস্র লেখায়। পাঠকের মননে।

 

অভিজিৎ সাহাঃ

চলে গেলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক অদ্রীশ বর্ধন 😢😢😢
আমাকে লেখা তাঁর কয়েকটি চিঠি দিয়েই—
তাঁর প্রতি জানাই আমার বিনম্র শ্রদ্ধা ⚘⚘⚘
এই চিঠি গুলো পড়লেই বোঝা যায়– লিটিল ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও লেখকদের প্রতি তাঁর ছিল কী গভীর ভালোবাসা, কতটা যত্ন নিয়ে পড়তেন লিটিল ম্যাগাজিনগুলি ।
…………………..আপনাকে শত কোটি প্রণাম অদ্রীশ স্যার ।

 

দেবলিনা চ্যাটার্জীঃ

চলে গেলেন “ফ্যান্টাস্টিক মানুষ”। অচেনা সেই বিস্ময় জগতের কথা,অত্যাশ্চর্য সম্ভাবনা গুলোর গল্প আর কে শোনাবে আমাদের? নতুন ভাবে পৃথিবীকে দেখার চোখ দিয়ে নিজেই পাড়ি দিলেন অজানা স্পেসশিপ চড়ে।

 

সুমিত বর্ধনঃ

গতকাল রাত একটা নাগাদ প্রফেসর নাট-বল্টু-চক্রের ডাকে সাড়া দিয়ে দীননাথ নতুন অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে কোন এক অজানা জগতে পাড়ি দিয়েছে ।

আপশোষ, এবারের রোমাঞ্চকর কাহিনীটি সে আমাদের জন্যে লিপিবদ্ধ করবে না । এই যাত্রাটি একেবারে তার নিজস্ব ।

বন ভয়াজ দীননাথ । তোমার দেখানো রাস্তাটা আমাদের জিম্মায় রইল । ইউ বি অন ইয়োর ওয়ে । তোমার জন্যে অনেক অজানা আশ্চর্য অপেক্ষা করে আছে।

গুডবাই মাই মেন্টর । মে দ্য ফোর্স বি উইথ ইউ !

 

পল্লব রায়ঃ

অদ্রীশ বর্ধন সম্পাদিত সেই ‘আশ্চর্য’ পত্রিকার প্রথম দুটি সংখ্যা।জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি 1963। ব্যাক্তিগত সংগ্রহ থেকে।

সম্পাদক ‘আকাশ সেন’ হলেন স্বয়ং অদ্রীশ বর্ধন

 

 

অদ্রীশ বর্ধন স্মরণসভাঃ

কল্পবিজ্ঞানের প্রাণ পুরুষ শ্রী অদ্রীশ বর্ধনের স্মরণ সভা

ত্রিপুরা হিতসাধিনী সভাঘরে সাহিত্যিক অদ্রীশ বর্ধনের স্মরণ সভা। 

তারিখঃ ১৫ জুন ২০১৯

সেদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন অনেকে। 

উদ্বোধনী সঙ্গীত – সন্দীপন গঙ্গোপাধ্যায় (বিপুল তরঙ্গ রে), অনুষ্ঠান শেষ হয় অদ্রীশ বর্ধনের লেখা একটি কবিতা পাঠ দিয়ে, পাঠ করেন “কল্পবিশ্ব” এর অন্যতম সম্পাদক দীপ ঘোষ।

স্মৃতিচারণ – স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজকুমার রায়চৌধুরী, রমাপদ পাহাড়ি, সুমিত বর্ধন, অদ্রীশ বর্ধনের ভাই শ্রী দেবকী কুমার বর্ধন, নাতি আকাশ বর্ধন প্রমুখ ।

অদ্রীশ বাবুর মূল্যায়ন – যশোধরা রায়চৌধুরী, দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য, অভিজিৎ গুপ্ত, ঋজু গাঙ্গুলী, দীপ ঘোষ, বিশ্বদীপ দে, সন্তু বাগ, সন্দীপন গঙ্গোপাধ্যায়, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। 

অনুষ্ঠানের ছবি দেখা যাবে ক্লিক করলে 

 

 

রেডিয়োতে অদ্রীশ বর্ধন

সানডে সাসপেন্স 

গল্পের নাম চুল, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গল্পের নাম – মোমের মিউজিয়াম (লাভক্র্যাফট অনুবাদ) 

 

 

কল্পবিশ্বের অদ্রীশ বর্ধন স্পেশাল সংখ্যা 

পড়তে ক্লিক করুন 

 

কল্পবিশ্বে প্রকাশিত অদ্রীশ বর্ধনের সমস্ত লেখা একজায়গায়

পড়তে ক্লিক করুন 

 

অদ্রীশ বর্ধনের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার 

পড়তে ক্লিক করুন 

 

অদ্রীশ বর্ধনের চিঠিপত্র 

পড়তে ক্লিক করুন 

 

অদ্রীশ বর্ধনের বইয়ের লিস্ট 

জানতে ক্লিক  করুন

 

অদ্রীশ  বর্ধনের জীবনী 

পড়তে ক্লিক করুন

 

অদ্রীশ স্মৃতিচারণ 

রণেন ঘোষ 

অনীশ দেব

বিশ্বদীপ দে

স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়

উজ্জ্বল ধর

অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী 

 

খুব শীঘ্রই কল্পবিশ্ব প্রকাশনী থেকে আসতে চলেছে অদ্রীশ বর্ধনের উপর একটি গ্রন্থ।

One thought on “অদ্রীশ আর্কাইভ

  • August 17, 2019 at 10:41 pm
    Permalink

    অসাধারণ প্রচেষ্টা

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!