অপার্থিব মেধার সন্ধানে

পর্ব ৩

আকাশবাণী

“‘১৯৫৯ সালের এক বসন্তের দিনে’ – হ্যাঁ, আমেরিকার কর্ণেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ফিলিপ মরিসন কথাগুলো ঠিক এ ভাবেই বলেছিলেন – ‘আমার প্রতিভাধর বন্ধু জিউসেপি ককোনি আমার অফিসে এসে এক দুর্ঘট প্রশ্ন করে বসল – গামা রশ্মি কী তারাদের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হতে পারে না?’ মরিসন সহমত পোষণ করে পরামর্শ দেন যে তাঁরা এ বিষয়ে শুধু গামা রশ্মি কেন সমগ্র তড়িৎ-চুম্বকীয় বর্ণালি বিবেচনা করে দেখতে পারেন। তাঁদের চিন্তাভাবনার ফসল “Searching for Interstellar Communications” নামের একটি দু-পাতার প্রবন্ধ, যা প্রকাশিত হয় ১৯শে সেপ্টেম্বর, ১৯৫৯ সালে ইংল্যান্ডের নেচার পত্রিকায়।  

     মরিসন ও ককোনির বক্তব্য অনুসারে ভিনগ্রহে মানব-সভ্যতার অস্তিত্বের সম্ভাবনা কতটা তার হিসেব করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু অন্যান্য বহু গ্রহে আমাদের পৃথিবীর মতন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সমৃদ্ধ সভ্যতার অস্তিত্বকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়াও যায় না। এমন কি আমাদের থেকেও অনেক উন্নত সভ্যতা হয়তো অন্যত্র বিরাজ করছে। আমাদের মতন তারাও হয়তো আমাদের খুঁজে বেড়াচ্ছে ও যোগাযোগ করতে চাইছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যোগাযোগের মাধ্যম কী হবে? তাঁদের মতে তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গই স্বাভাবিকভাবে সার্ব্বভৌমিক পছন্দ। কারণ বিশ্ব-চরাচরে এর গতি সর্বোচ্চ হওয়ায় অকল্পনীয় দূরত্ব পরিমিত সময়ে অতিক্রমে এই তরঙ্গ সক্ষম। পরবর্তী প্রশ্ন কোন তরঙ্গ-কম্পাঙ্কে তারা সঙ্কেত পাঠাবে?

     মরিসন ও ককোনের মতে আন্তর্তারকা যোগাযোগের জন্য তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের ১ মেগাহার্জ থেকে ১০,০০০ মেগাহার্জ অর্থাৎ উচ্চ থেকে অতি-উচ্চ কম্পাঙ্কের রেডিও তরঙ্গগুলি সবচেয়ে বিবেচ্য কারণ গ্রহদের আবহমণ্ডল এদের প্রবাহে তেমন কোনও বাধা সৃষ্টি করে না। তবে কোন প্রণালীবদ্ধ অনুসন্ধানের পক্ষে এই কম্পাঙ্কের ব্যাপ্তি অতি বিশাল। এ ক্ষেত্রে তাঁরা একটি সুচতুর অনুমান করলেন যে যেহেতু সমগ্র বিশ্বে হাইড্রোজেন সবচেয়ে সাধারণ প্রাথমিক পদার্থ ও প্রাচুর্যও যার সবচেয়ে বেশী – সেই হাইড্রোজেনের আধান-বিহীন পরমাণু হতে নির্গত ১৪২০ মেগাহার্জ কম্পাঙ্কের বিকিরণ বর্ণালী যে কোনও গ্রহের উন্নত সভ্যতার প্রাণীর কাছে অবশ্য পরিচিত ও এই কম্পাঙ্কে বেতার তরঙ্গ সম্প্রচার করাটাই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। শুধু তাই নয় গ্রহদের গতির জন্য কম্পাঙ্কের যে সরণ হয় অর্থাৎ ডপলার সরণকে হিসেবের মধ্যে রাখতে হবে। প্রবন্ধের উপসংহারে তাঁরা বলেছিলেন যে এ জাতীয় ভাবনা-চিন্তাকে হয়তো অনেক সংশয়বাদী বিজ্ঞানের থেকে কল্পবিজ্ঞানে স্থান দেবেন। উৎসাহী অনুসন্ধানকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন – ‘এ কথা ঠিক যে ভিনগ্রহীদের অনুসন্ধানের সাফল্যের সম্ভাব্যতা অনুমান করা যথেষ্ট কঠিন, কিন্তু যদি আমরা আদৌ অনুসন্ধান না করি, তবে তো সাফল্যের সম্ভাবনা শূন্য’। নিঃসন্দেহে এটি একটি যুগান্তকারী প্রবন্ধ”।

     কথাগুলো হচ্ছিল প্রফেসর মহাকাশ ভট্টের স্টাডি-রুমে বসে। আগের রবিবারই উনি আমাকে লাঞ্চে খেতে বলেছিলেন। জলধর অর্থাৎ স্যারের রান্না এখন যে করে – খুব ভাল মোগলাই খানা বানাতে পারে। আগে একটা নামকরা রেস্টুরেন্টে কাজ করত। মাঝে খুব অসুস্থ হয়ে পড়ায় কাজ ছেড়ে দেয় – বেশী পরিশ্রম আর করতে পারে না। তাই এখন স্যারের রান্নার কাজ করে। আজকে বানিয়েছিল মাটন বিরিয়ানি, চাপ, রায়তা আর ফ্রুট কাস্টার্ড। খাওয়ার পর স্যার পাইপ ধরিয়ে বলতে আরম্ভ করলেন। আজকের বিষয় ছিল বহির্বিশ্বে আমাদের মতো বা আমাদের থেকেও উন্নত প্রাণের অনুসন্ধান করতে হলে কীভাবে করতে হবে। 

     আমি বললাম – “স্যার এই ১৪২০ মেগাহার্জ কম্পাঙ্কের বিকিরণ ব্যাপারটা ঠিক বুঝলাম না”।

     স্যার একটু থেমে পাইপটা ধরিয়ে নিয়ে বলতে শুরু করলেন – “তুমি তোমার তিনটে অবস্থা চিন্তা কর – তুমি বসে আছ, হাঁটছ আর দৌড়াচ্ছ। এই তিন অবস্থায় তোমার শরীরের শক্তি নিশ্চয়ই একই রকম খরচ হচ্ছে না। বিভিন্ন ধরণের কাজের জন্য শরীরের বিভিন্ন মাপের শক্তির খরচ হয় অর্থাৎ ধরে নাও শরীর শক্তির বিভিন্ন অবস্থায় থাকে যাকে শক্তি অবস্থা বা Energy State বলতে পারি। ঠিক এরকম পদার্থের অণু পরমাণুরাও বিভিন্ন এনার্জি স্টেটে অবস্থান করে এবং সুযোগ পেলেই উচ্চ শক্তির অবস্থা থেকে নিম্ন শক্তির অবস্থায় চলে আসার চেষ্টা করে। যেমন আমরা একটু পরিশ্রম করে বিশ্রাম নেবার চেষ্টা করি। এই বিভিন্ন এনার্জি স্টেটে আসা যাওয়া সম্ভব হয় নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের তড়িৎ-চুম্বকীয় শক্তির পরিগ্রহণ (absorption) বা নিঃসরণ (emission) করে। আধান বিহীন হাইড্রোজেন পরমাণুর বিশেষ দুটি এনার্জি স্টেটের বদলের ফল এই ১৪২০ মেগাহার্জ কম্পাঙ্কের তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গের নিঃসরণ – যাকে বলা হয় ২১ সেন্টিমিটার হাইড্রোজেন লাইন যেহেতু এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ২১ সেন্টিমিটার। তড়িৎ চুম্বকীয় বর্ণালীতে এর অবস্থান রেডিও তরঙ্গে। এটা আশা করা হয়েছে যে – আমাদের মতন যে কোনও বুদ্ধিমান প্রাণী অন্তত এই হাইড্রোজেন লাইনের কথাটা জানবে।            

     দেখো বহির্বিশ্বে মেধাবী প্রাণীর অনুসন্ধান মানে তাদের পাঠান কোনওরকম বার্তার সন্ধান করা। আমাদের রেডিওতে যে রকম হয় অর্থাৎ কোন নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের ক্যারিয়ার রেডিও ওয়েভে গান বা কথার সিগন্যাল পাঠান হয় আর যদি সেই নির্দিষ্ট কম্পাঙ্ক আমাদের জানা থাকে তা হলে আমাদের রেডিও টিউনিং করে আমরা সেটা শুনতে পারি। এখানেও তাই। এখন প্রশ্ন হল আমাদের মতন ভীনগ্রহীরাও কোন কম্পাঙ্কে অনুসন্ধান চালাবে? স্বাভাবিক ভাবেই তারা এমন কিছু কম্পাঙ্কে ঘোরাফেরা করবে যা সব উন্নত মেধার প্রাণীর পরিচিত। তাই মরিসন ও ককোন পছন্দ করেছিলেন ওই ১৪২০ মেগাহার্জ কম্পাঙ্ক। ঠিক এমনই আর একজন বিশেষজ্ঞ হিউলেট প্যাকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট বার্নার্ড অলিভার আরও একটি কম্পাঙ্কের কথা বলেছিলেন। সেটি হল হাইড্রক্সিল আয়নের (OH) থেকে নির্গত কম্পাঙ্ক ১৬৬২ মেগাহার্জ। এই হাইড্রক্সিল আয়ন আর হাইড্রোজেন আয়ন মিলে জলের অণু সৃষ্টি হয়। অলিভারের বিশ্বাস ছিল যে যেহেতু জল প্রাণের অন্যতম প্রাথমিক উপাদান তাই জলের অণু যা দিয়ে তৈরি অর্থাৎ হাইড্রোজেন আর হাইড্রক্সিল আয়নের নিঃসরণ কম্পাঙ্কের মধ্যে যে কম্পাঙ্ক বর্ণালী সেখানেই প্রাণের অনুসন্ধান করাটা শুধু আমাদের কেন সব ভীনগ্রহী মেধাবী প্রাণীর প্রাথমিক পছন্দ হবে। অলিভার এই কম্পাঙ্ক বর্ণালীর নাম দেন Water Hole।   

     এর পর ১৯৬০ সালে আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত ন্যাশনাল রেডিও অ্যাস্ট্রোনমি অবজারভেটরির রেডিও অ্যাস্ট্রোনোমার ফ্রাঙ্ক ড্রেক সর্বপ্রথম এই অপার্থিব মেধার অনুসন্ধানের জন্য দূরের তারাদের থেকে ভেসে আসা রেডিও তরঙ্গ সনাক্ত করা ও বিশ্লেষণ করার গবেষণা আরম্ভ করেন। তাঁর এই গবেষণা প্রকল্পের নাম ছিল ‘প্রোজেক্ট ওজমা’ (Project Ozma) –  জ-এর উচ্চারণ কিন্তু ইংরেজি জেড অক্ষরের মতন। ড্রেক তাঁর কাজের জন্য দুটো তারা বেছে নিয়েছিলেন – একটি সেটাস তারামণ্ডলের টাও সেটি (τ Ceti) আর অপরটি এরিডেনাস তারামণ্ডলের এপসিলন এরিডানি (ϵ Eridani)। দুটোই প্রায় সাড়ে দশ থেকে এগারো আলোকবর্ষ দূরে রয়েছে আর তাদের বয়স আমাদের সূর্যেরই সমান। ড্রেক গণনা করে দেখেছিলেন যে তৎকালীন যে প্রযুক্তি বর্তমান ছিল তাতে পৃথিবী থেকে পাঠান কোনও জোরাল রেডিও তরঙ্গ দশ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত কোনও তারার গ্রহ থেকে একটি পঁচাশি ফুট ব্যাসের ডিশ অ্যান্টেনা দিয়ে সনাক্ত করা যাবে। ড্রেক ১৯৬০ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই প্রায় চার মাস, প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা ধরে ঐ তারাদের দিক থেকে আসা হাইড্রোজেনের ১৪২০ মেগাহার্জের নিঃসরণ কম্পাঙ্কে, টাটেল নামের একটি পঁচাশি ফুট ব্যাসের রেডিও টেলিস্কোপ টিউন করে, একটি ১০০ হার্জ চ্যানেল রিসিভারের সাহায্যে প্রায় ৪০০ কিলোহার্জ চওড়া ব্যান্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

     ড্রেক ও তাঁর সহকারীরা রেকর্ডারের চার্ট কাগজে যে রেখাচিত্র ফুটে উঠত – তার মধ্যে অর্থবহ কোনওরকম বার্তা বা কোনও গাণিতিক বিষয়, যেমন মৌলিক সংখ্যার সারি বা এ রকম যা কিছু যা দিয়ে অন্তত বোঝা যায় যে এটা প্রাকৃতিক নয় – উন্নত মস্তিষ্ক প্রসূত, খুঁজে পাওয়া যায় কী না তার বিশ্লেষণ করত। যদিও তাঁরা সে রকম কিছুই পাননি – তবুও তাঁদের প্রদর্শিত পথ অনেক গবেষককে উৎসাহিত করল।   

     ন্যাশনাল রেডিও অ্যাস্ট্রোনমি অবজারভেটরির অ্যাস্ট্রোনোমার জি এল ভারশ্যুয়ার একটা একশ চল্লিশ ফুট আর একটা তিনশ ফুট ডিশ অ্যান্টেনা আর তার সঙ্গে আরও উন্নত সূক্ষ্ম মানের রিসিভার দিয়ে কাছাকাছি ন-টা তারায় দু-বছর ধরে মোট তেরো ঘণ্টা অনুসন্ধান চালান। তাঁর এই প্রজেক্টের নাম হয়েছিল ‘ওজপা’ (Ozpa)। ওজমা ২ (Ozma II) নামে আর একটা প্রোজেক্ট হয় যেখানে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে পাঁচশ ঘণ্টা টেলিস্কোপ সময়ে ছ-শ চুয়াত্তরটা তারা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। এর পর প্রায় তিরিশ বছর ধরে বিভিন্ন গবেষক অনুসন্ধান চালিয়েছেন – কিন্তু কোনওটাই খুব বিশদ মাপের নয়। আসলে এদের নির্ভর করতে হয় বিভিন্ন অবজারভেটরির টেলিস্কোপের ক্ষমতা আর কতটা সময় ব্যবহার করতে পারবে তার ওপর। তা ছাড়া প্রোজেক্টের আর্থিক সম্বল একটা বড় ফ্যাক্টর”। 

     আমি বললাম – “স্যার টেলিস্কোপটা  জানি – ছোটখাটো টেলিস্কোপ তো দেখেইছি। রেডিও টেলিস্কোপটা কী”?

     স্যার উঠে গিয়ে ল্যাপটপটা নিয়ে সামনের সেন্টার টেবিলে রাখলেন। খানিক বাদে একটা ছবি বার করে দেখালেন। আমি দেখেই বলে উঠলাম – “এ তো দেখছি আমাদের বাড়ির ছাদে রাখা টেলিভিশনের ডিশ অ্যান্টেনার মতন”।

চিত্র ১ – ৮৫ ফুট ব্যাসের রেডিও টেলিস্কোপ     

     স্যার বললেন – “এই রেডিও টেলিস্কোপ আসলে দানবাকৃতির অ্যান্টেনা। ডিশটা আসলে একটা প্যারাবোলিক রিফ্লেক্টার যা বহু দূরের তারা বা গ্যালাক্সি থেকে আসা বিভিন্ন কম্পাঙ্কের রেডিও তরঙ্গ প্যারাবোলার ফোকাল পয়েন্টে কেন্দ্রীভূত করে। সেখানে রাখা থাকে রিসিভার যা সেই তরঙ্গকে ইলেকট্রিক কারেন্টে পরিণত করে। আর সেই কারেন্টের চরিত্র থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এই রেডিও তরঙ্গ ব্যান্ডের ব্যাপ্তি বিশাল – মানে তিন কিলোহার্জ থেকে শুরু করে তিনশো গিগাহার্জ। বহুদূর থেকে আসা রেডিও তরঙ্গের তীব্রতা খুব কম থাকে – তাই কোন্‌ রেঞ্জের রেডিও তরঙ্গ পরীক্ষা করা হবে তার ওপর নির্ভর করে অ্যান্টেনা ও বিভিন্ন রকম রিসিভার উদ্ভাবন করা হয়। পাওয়া তথ্য চার্ট রেকর্ডারে বা এখন কম্পিউটারে নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়।         

     এবার তোমায় একটা ঘটনা বলি। সময়টা ১৯৬৭ সালের গ্রীষ্মকাল। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রেডিও অ্যাস্ট্রোনমি বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রীর জন্য গবেষণা করছিলেন বছর চব্বিশের ছাত্রী জোসিলিন বেল। তাঁর গাইড ছিলেন অ্যান্টনি হিউইস। জোসিলিন তার রেকর্ডারের চার্ট পেপারে এমন কিছু সিগন্যাল পাচ্ছিলেন যেগুলোকে ঠিক ব্যাখ্যা করা যাচ্ছিল না। প্রথমে  জোসিলিন আর হিউইস ভেবেছিলেন কোনও পার্থিব ব্যতিচার (Terrestrial Interference)। এ ধরণের ব্যতিচার রেডিও অ্যাস্ট্রোনমিতে খুব সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু কিছুতেই এগুলোকে দূর করা গেল না। পরে লক্ষ করলেন যে এগুলো গ্যালাক্সি থেকে আসছে।

     বিশদ সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করে তারা দেখলেন যে এই সংকেতগুলো খুব সঠিকভাবে ৩.৬৭ সেকেন্ড অন্তর স্পন্দিত হচ্ছে। তাঁরা ভেবে পেলেন না যে গ্যালাক্সিতে এমন কী রেডিও তরঙ্গের উৎস আছে যা থেকে এত নিখুঁত স্পষ্ট সংকেত আসতে পারে।      

     তখন সন্দেহ করা হল যে এটা কোনও এক ভীনগ্রহীদের পাঠান কোনও সঙ্কেত নয় তো? মজা করেই জোসিলিন এর নাম দিয়েছিলেন LMG অর্থাৎ  Little Green Men। তিনি অবশ্য এতে খুব উল্লসিত হননি। বরঞ্চ বলেছিলেন – ‘আমি একটা নতুন পদ্ধতিতে কাজ করে পি এইচ ডি করার চেষ্টা করছি, আর এই বোকা ছোট্ট সবুজ মানুষগুলো আমার এরিয়েল আর কম্পাঙ্ক নিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইছে’। এ কথা জানার পর অনেক জ্যোতির্বিদ কেমব্রিজে আসতে আরম্ভ করল। পরে অবশ্য এই ধরণের সঙ্কেত আরও কয়েকটা পাওয়া গেল। গবেষণায় আবিষ্কৃত হল – এগুলো অত্যন্ত দ্রুত ঘূর্ণায়মান নিউট্রন তারা যার নাম দেওয়া হয়েছিল পালসার। এই পালসার আবিষ্কারের জন্য অ্যান্টনি হিউইস ১৯৭৪ সালে মার্টিন রাইলের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান। আশ্চর্যের কথা জোসেলিনকে দেওয়া হল না। এ নিয়ে সেদিন অনেক কথা উঠেছিল। এমন কী বিখ্যাত ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ফ্রেড হয়েলও এর সমালোচনা করেছিলেন। জোসেলিন কিন্তু এই বিষয়কে গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেছিলেন – ‘খুব অনন্যসাধারণ না হলে একজন রিসার্চ স্কলারকে নোবেল প্রাইজ দেওয়া মানে এই পুরস্কারের অবমূল্যায়ন করা’। পরবর্তীকালে তিনি তাঁর গবেষণামূলক কাজ ও সন্মানের উচ্চশিখরে উঠেছিলেন। ইউ কে-তে পুরুষদের যেমন নাইটহুড আর তার সঙ্গে স্যার উপাধি দেওয়া হয়, ঠিক তেমনি মহিলাদের ক্ষেত্রে ডেম উপাধি দেওয়া হয়ে থাকে। জোসিলিনকে ২০০৭ সালে ডেম কমান্ডার অফ দ্য অর্ডার অফ ব্রিটিশ এম্পায়ার (DBE) সম্মান ভূষিত করা হয়।      

     পরের যে ঘটনাটির কথা বলব সেটা নিয়ে এক সময়ে বেশ হৈ চৈ হয়েছিল। আমেরিকার ওহায়য়ো স্টেট ইউনিভারসিটি  রেডিও অবজারভেটরির রেডিও টেলিস্কোপটির নাম ছিল ‘বিগ ইয়ার’। অপার্থিব মেধার অনুসন্ধানের ইতিহাসে এর একটি বড় ভূমিকা আছে। সবথেকে বেশীদিন ধরে এই মেধা অনুসন্ধানের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য গিনেস বুকে এর নাম রয়েছে। ওহায়য়ো রাজ্যের ডেলাওয়্যার শহরের দক্ষিণে প্রায় কুড়ি একর যায়গা নিয়ে এই অবজারভেটরি। এই বিগ ইয়ারের ছবি দেখেই বুঝতে পারছ এটা একেবারে অন্য ধরণের রেডিও টেলিস্কোপ। একটা ৫০০ ফুট লম্বা ৩৬০ ফুট চওড়া সাড়ে তিন একর জমির দুই পাশে সরু তারের ঘন নেট দিয়ে তৈরি দুটো রিফ্লেক্টার। একটা ৩৪০ ফুট লম্বা ১০০ ফুট উঁচু ফ্ল্যাট রিফ্লেক্টার যেটা প্রয়োজন মতন হেলান যায় আর একটা ৩৬০ ফুট লম্বা ৭০ ফুট উঁচু প্যারাবোলয়েড রিফ্লেক্টার। মাঝখানের জমিটা কয়েক ইঞ্চি কংক্রিটের ঢালাইয়ের ওপর অ্যালুমিনিয়ামের পাত দিয়ে মোড়া। রিফ্লেক্টার থেকে আসা রেডিও তরঙ্গকে রিসিভারে পাঠায় কতকটা চোঙার মতন বস্তু – তাকে বলে হর্ন ফিড অ্যান্টেনা। এর পর রিসিভার, অ্যামপ্লিফায়ার, ডিজিটাইসার, কম্পিউটার যাবতীয় সব ইনস্ট্রুমেন্টস। এখানে বাজেট কম ছিল বলে সবটাই নিজেরা বানিয়েছিল গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টস আর ভলান্টিয়ার বিজ্ঞানীরা। ১৯৭৩ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত পঁচিশ বছর এক নাগাড়ে ঐ হাইড্রোজেন লাইন অর্থাৎ ১৪২০ মেগাহার্জের আশেপাশে, এই টেলিস্কোপ দিয়ে অপার্থিব মেধার অনুসন্ধান চালান হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের কথা ১৯৯৮ সালেই এই অনুসন্ধান বন্ধ করে দিতে হয়। যে জমিতে এই টেলিস্কোপ বসান হয়েছিল সেটা ছিল ওহায়য়ো ওয়েসলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের যায়গা। তারা ১৯৮৩ সালে জমিটা বিক্রি করে দেয় এক ডেভেলপারের কাছে। ১৯৯৮-তে লিজ শেষ হয়ে গেলে ডেভেলপার ঐ টেলিস্কোপ খুলে ফেলে সেখানে একটা গলফ খেলার মাঠের বাড়তি অংশ আর চারশো বাড়ি তৈরি করে।      

চিত্র ২ – বিগ ইয়ার রেডিও টেলিস্কোপ     

     আমি অবাক হয়ে বললাম –“সে কী? প্রোমোটার – ল্যান্ড ডেভেলপারদের চরিত্র কী সব দেশেই এক? আর টেলিস্কোপটা বাঁচানোর কোন চেষ্টা হয়নি?”     

     স্যার বললেন –“হবেই তো। তারা তো চেনে শুধু পয়সা। ভীনগ্রহীদের সন্ধান যদি পাওয়াও যায় – তাদের কাছে যে জমি-বাড়ি বেচতে পারবে না সেটা তারা ভালভাবেই জানে। আর বাঁচানোর চেষ্টা কী আর হয়নি। নানারকম শর্তাবলী, অর্থের অভাব, সরকারের অনীহা… যাক গে ওসব ভেবে আর লাভ নেই। এবার আসল কথায় আসি।      

     বিগ ইয়ার প্রোজেক্টে স্বেচ্ছায় কাজ করতেন ডক্টর জেরি এহমান। আগে এখানে কাজ করলেও তখন সেই সময়ে তিনি কলোম্বাসে ফ্রাঙ্কলিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছিলেন। সময়টা ছিল ১৯৭৭ সালের ১৫ই অগাস্টের রাত্রি। জেরির কাজ ছিল কম্পিউটারের প্রিন্ট আউট পরীক্ষা করে দেখে বিশ্লেষণ করা। জিন মাইকসেল নামে একজন টেকনিশিয়ান ওখানকার আই বি এম ১১৩০ কম্পিউটারটা দেখভাল করত। জিন তিন-চার দিন অন্তর কম্পিউটারের প্রিন্ট আউট জেরিকে কলোম্বাসে দিয়ে যেত। ১৯শে অগাস্ট জেরি সদ্য পাওয়া ১৫ই অগাস্টের একটা প্রিন্ট আউট পর্যালোচনা করতে গিয়ে কতকগুলো সংখ্যা আর অক্ষরের বিন্যাস-ক্রম দেখে আশ্চর্য হয়ে গেলেন”।            

     স্যার এবার ল্যাপটপে আমাকে ছবিটা বার করে দেখিয়ে বললেন – “এটা কম্পিউটারের প্রিন্ট আউটের ছবি। লক্ষ্য করে দেখো, এখানে জেরি কতকগুলি পর পর অক্ষর আর সংখ্যাকে যেমন 6EQUJ5 লাল কালি দিয়ে গোল দাগ দিয়েছে আর পাশে লিখেছে Wow। এর পর থেকে এই সিগন্যালটি Wow-সিগন্যাল নামে বিখ্যাত হয়ে আছে”।      

     আমি – “আমিতো স্যার এর মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝলাম না”।  

চিত্র ৩ – Wow সিগন্যাল     

     স্যার – “জেরি আর তার একজন সহকর্মী বব ডিক্সন এই রেডিও সিগন্যালগুলোর তীব্রতা অর্থাৎ কতটা জোরাল বা কতটা দুর্বল তা রিসিভার থেকে IBM 1130 কম্পিউটারে নিয়ে যাবার ও বিশ্লেষণ করার একটা সফটওয়্যার প্রোগ্রাম তৈরি করেছিলেন। সেখানে মহাবিশ্ব থেকে আসা রেডিও সিগন্যালের তীব্রতাকে কম্পিউটারে ডিজিটাইস করার জন্য মোট পঁয়ত্রিশটা লেভেল ভাগ করা হয়েছিল। যেমন ১ থেকে ৯ – তার পর A=১০, B=১১…এই করে করে Z=২৬ পর্যন্ত। সংখ্যার মান বেশী মানে তীব্রতাও বেশী। এবারে আমরা যদি এই 6EQUJ5 থোকাটাকে সংখ্যায় লিখি তা’হলে দাঁড়ায় ০ – ৬ – ১৪ – ২৬ – ৩০ – ১৯ – ৫ – ০। ৬ এর আগে আর ৫ এর পরে খালি যায়গা মানে সিগন্যালের তীব্রতা শূন্য। অর্থাৎ এই সিগন্যালটা খুব জোরাল আর শূন্য থেকে বেড়ে আবার শূন্যে ফিরে এসেছে ঠিক ৩৭ সেকেন্ডের মধ্যে একটা ঢেউয়ের মতন। আবার এই টেলিস্কোপটা আকাশের কোন একটা যায়গা ঠিক ৩৭ সেকেন্ড ধরেই স্ক্যান করে। আরও অনেক বিশ্লেষণ ও পারিপার্শ্বিক বিচার করে জেরি ও সেই প্রোজেক্টের ডিরেক্টর জন ক্রুজ অন্তত একটা ব্যাপারে নিশ্চিত হলেন যে এটা পৃথিবী থেকে পাঠান রেডিও ওয়েভের ব্যতিচার-জনিত মিথ্যা সঙ্কেত নয়। বহির্বিশ্ব থেকে এ রকম শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সীমাবদ্ধ সংকেত কোনও ভীনগ্রহীদের পাঠান বুদ্ধিমান বার্তা ছাড়া আর কী হতে পারে? তবে সেটা নিশ্চিত হতে গেলে এই Wow সংকেতকে আবার সনাক্ত করতে হবে।      

     কিন্তু আশ্চর্যের কথা হল বিগ ইয়ার প্রোজেক্টের বিজ্ঞানীরা এর পর কয়েক মাস অবিরাম চেষ্টা করেও এই Wow সংকেতটিকে দ্বিতীয়বার আর সনাক্ত করতে পারলেন না। শুধু তাই নয়, এর পরে প্রায় চার দশক ধরে অনেক উন্নত মানের রেডিও টেলিস্কোপ ও অন্যান্য চিরুনি তল্লাসি করেও এই সংকেতের মতন জোরাল আর পরিষ্কার আর দ্বিতীয় কোন সংকেত এখনও পাওয়া যায়নি। জেরি ২০০৭ সালে – এই Wow সিগন্যাল অনুসন্ধানের তিরিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি দীর্ঘ, বিশদ রিপোর্ট পেশ করেন। সেখানে তিনি সমস্ত রকম সম্ভাব্য উৎস খতিয়ে দেখে বাতিল করে উপসংহারে পরিষ্কার বলেছেন যে কোনও এক অপার্থিব মেধাই এই সিগন্যালের সম্ভাব্য উৎস।       

     সম্প্রতি ২০১৬ সালে আমেরিকার সেন্টার ফর প্ল্যানেটারি সাইন্সের বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন যে এই Wow সিগন্যালটির উৎস আমাদেরই সৌর পরিবারেরই কোনও ধূমকেতুর হাইড্রোজেন মেঘ। ২০১৬-১৭ সালে তিন মাস ধরে দুশো পর্যবেক্ষণের পর তারা দেখলেন – Wow সিগন্যালের যে অবস্থান ঠিক সেখানে থেকেই একটি 266/P Christensen নামের একটি ধূমকেতু থেকে ১৪২০.২৫ মেগাহার্জের সিগন্যাল পাওয়া যাচ্ছে। আরও নিশ্চিত হবার জন্য তারা আরও তিনটি ধূমকেতু পরীক্ষা করে দেখলেন যে তাদের থেকেও ১৪২০ মেগাহার্জের রেডিও সিগন্যাল পাওয়া যাচ্ছে। তাই তারা সিদ্ধান্ত করেন যে ঐ Wow সিগন্যালের উৎস কোনও কৃত্রিম নয় সম্ভবত: আমাদের সৌরমণ্ডলেরই কোনও সদস্য। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই Wow সিগন্যালটি এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে প্রহেলিকা।      

     পুরো সত্তরের দশক জুড়ে এই অপার্থিব মেধার অনুসন্ধান জোর কদমে চালান হয়েছিল। এতে অবশ্য কোনও কিছু পাওয়া না গেলেও রেডিও টেলিস্কোপ ও তার আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির প্রভূত উন্নতি হচ্ছিল। এই সব অনুসন্ধানের নেতৃত্বে ছিলেন কার্ল সাগান, ফ্রাঙ্ক ড্রেক, পল হরোউইজ, রবার্ট গ্রে, জিল টার্টার, বার্নার্ড অলিভার, স্টুয়ার্ট বয়ার, ড্যান ওয়ের্থিমার এবং অন্যান্যরা। National Aeronautics and Space Administration সংক্ষেপে NASA (নাসা)র উদ্যোগে ও অর্থানুকূল্যে কাজ হচ্ছিল ভালোই। এ ধরণের কাজের ব্যাপকতা কত হতে পারে তা বোঝানোর জন্য একটা প্রোজেক্টের কথা বলি। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এটি তৈরি করেছিলেন হিউলেট প্যাকার্ডের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সহাধ্যক্ষ বার্নার্ড অলিভার। নাম ছিল ‘প্রোজেক্ট সাইক্লোপস’। এখানে রেডিও টেলিস্কোপের যে প্রস্তাব করা হয়েছিল সেটা এক হাজারটা তিনশ ফুট ব্যাসের ডিশের সমষ্টি যা প্রায় দশ কিলোমিটার ব্যাস বিশিষ্ট যায়গা জুড়ে থাকবে। চিন্তা কর কী বিশাল ব্যাপার। ড্রেকের প্রোজেক্ট ওজমায় ছিল পঁচাশি ফুট ব্যাসের একটা টেলিস্কোপ আর তার খরচ ছিল দু-হাজার ডলার। সেখানে সাইক্লোপসের টেলিস্কোপের জন্য খরচ ধরা হয়েছিল এক হাজার কোটি ডলার। বলাই বাহুল্য টাকার অভাবেই এই প্রকল্প শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে হয়েছিল।

     সত্তরের দশকের শেষ ভাগে নাসার অ্যামিস রিসার্চ সেন্টার আর জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি থেকে এই অপার্থিব মেধার অনুসন্ধান চালান হচ্ছিল। ইতিমধ্যে ১৯৮০ সালে কার্ল সাগান, ব্রুস মারে আর লুই ফ্রিডম্যান মিলে– আমাদের সৌরমণ্ডলের এবং অন্যান্য ভীনগ্রহীদের নিয়ে গবেষণা ও অনুসন্ধানের জন্য ‘দি প্ল্যানেটরি সোসাইটি’ নামে একটি সংস্থা গঠন করেন। পৃথিবীর প্রায় একশ চল্লিশটি দেশের লক্ষাধিক সদস্য এখন এর সঙ্গে যুক্ত। মূলতঃ সদস্য চাঁদা আর অনুদানের ওপর নির্ভর করে গবেষণার কাজ চালান হয়।     

     ১৯৮১ সালে নাসা যখন তৎকালীন পৃথিবীর বৃহত্তম রেডিও টেলিস্কোপ বানাবার উদ্যোগ করছে তখনই উইসকনসিনের ক্ষমতাশালী ডেমোক্র্যাট সিনেটর উইলিয়াম প্রক্সমাইয়ার এইসব ভীনগ্রহীদের অনুসন্ধান করা অবাস্তব প্রকল্প, জনগণের প্রদত্ত করের টাকার অপচয় হচ্ছে – এই সব যুক্তি দিয়ে নাসাকে প্রদত্ত সরকারের টাকা বেশ কিছুটা কমিয়ে দেন। পরে তো নাসার এই জাতীয় সব প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেল সে কথা তোমাকে আগেই বলেছি।       

     এই অবস্থায় একমাত্র ব্যক্তিগত বা বেসরকারি অনুদান ছাড়া গবেষণা চালান মুশকিল। তবে এ তো আমাদের দেশ নয় – আমেরিকাতে সেটা তেমন একটা সমস্যা নয়। সে সময়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক তরুণ প্রতিভাবান পদার্থবিদ পল হরোউইজ নাসা আর প্ল্যানেটরি সোসাইটির আর্থিক সমর্থনে একটা ছোট পোর্টেবল উচ্চ বিশ্লেষণ ক্ষমতা সম্পন্ন স্পেক্ট্রোমিটার উদ্ভাবন করেন যে-টা যে কোনও বড়ো রেডিও টেলিস্কোপে নিয়ে বহির্বিশ্ব থেকে আসা রেডিও সিগন্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায়। এর নাম দেওয়া হয়েছিল সুটকেস সেটি (Suitcase SETI)। হরোউইজ নাসার META (Million-channel Extra-terrestrial Assay) আর BETA (Billion-channel Extra-terrestrial Assay) নামের আরও দুটো প্রকল্পের নেতৃত্ব দেন।       

     এদিকে তো টাকার অভাবে নাসার অপার্থিব মেধার অনুসন্ধানের প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে গেল। কার্ল সাগান হাল ছাড়বার পাত্র নন। ১৯৮২তে হলিউডের বিখ্যাত চিত্র পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গের E. T. the Extra-Terrestrial সিনেমাটা রিলিজ করল। সারা পৃথিবী জুড়েই সিনেমাটা খুব হিট করেছিল। এক কোটি ডলারে তৈরি সিনেমাটা লাভ করেছিল প্রায় আশি কোটি ডলার। সাগানের সঙ্গে স্পিলবার্গের যথেষ্ট হৃদ্যতা ছিল। এই হলিউডের সিনেমার বড় বড় ডিরেক্টররা এই সব বিজ্ঞান বা কল্পবিজ্ঞান ভিত্তিক ছবি তৈরি করার সময়ে নামকরা বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরামর্শ গ্রহণ করেন যাতে সিনেমাটা বেশ বাস্তব সম্মত হয়। আমাদের সিনেমাগুলোর মতন এরকম গল্পের গরু গাছে ওঠে না। ঠিক এরকমই কার্ল সাগানের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁর পরামর্শ মেনেই আর্থার ক্লার্ক আর স্ট্যানলি কুব্রিক তাদের 2001: A Space Odyssey সিনেমাটার স্ক্রিপ্ট তৈরি করেছিলেন।      

     ঐ কালে একদিন একটা ডিনারে সাগান, ওনার স্ত্রী আর স্পিলবার্গ নাসার SETI প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে আলোচনা করছিলেন। কথা প্রসঙ্গে সাগান জানান যে এক লক্ষ ডলার পেলে প্ল্যানেটরি সোসাইটি বড় মাপের অনুসন্ধান করতে পারে। স্পিলবার্গ তাই শুনে সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান ঐ টাকা দিতে। সেই টাকাতেই META ও BETA প্রোজেক্টের কাজ আরম্ভ হয়।     

     ১৯৮৪ সালে থমাস পিয়ারসন আর ডঃ জিল টার্টার মহাবিশ্বে প্রাণের উদ্ভব, প্রকৃতি, বিস্তার আর বণ্টন নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও শিক্ষামূলক প্রকল্পে কাজ করার জন্য SETI Institute নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এদের গবেষণার প্রাথমিক দু’টি ক্ষেত্র – অপার্থিব মেধার সন্ধান আর মহাবিশ্বে প্রাণের অস্তিত্ব। গবেষণা ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের আরও একটি উদ্দেশ্য উক্ত ক্ষেত্রগুলির বিবিধ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রসার।        

     প্রায় এক দশক ধরে প্রাথমিক ছোটখাটো পরীক্ষা নিরীক্ষার পর নাসা এই অপার্থিব মেধার অনুসন্ধানের জন্য এক বড় মাপের দ্বিমুখী প্রকল্প হাতে নেয়। ঠিক হয় অ্যামিস রিসার্চ সেন্টার এক হাজার নির্দিষ্ট সূর্য-সদৃশ তারা লক্ষ্য করে দুর্বল ও বিক্ষিপ্ত সংকেত পরীক্ষা করবে। আর জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি ধারাবাহিকভাবে সমস্ত আকাশ জরীপ করবে। আটলান্টিক মহাসাগরে একটি ছোট দ্বীপ – নাম পুয়ের্তো রিকো। সেখানে তখনকার দিনের পৃথিবীর সব থেকে বড় এক হাজার ফুট ব্যাসের Arecibo রেডিও টেলিস্কোপ বসান হয়েছিল। অ্যামিস রিসার্চ সেন্টার সেখানে তাদের কাজ আরম্ভ করল। জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি ক্যালিফোর্নিয়ার মোহাভে মরুভূমিতে চৌত্রিশ ফুট ব্যাসের টেলিস্কোপ দিয়ে আকাশ জরীপ করা শুরু করল। নাসার এই প্রকল্পের নাম ছিল High Resolution Microwave Survey (HRMS) এবং এই দুটোতেই সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। ঠিক পনেরো বছর আগে বিগ ইয়ার খুঁজেছিল পঞ্চাশটা চ্যানেল আর এই প্রকল্পে খোঁজা হচ্ছিল এক কোটি ষাট লক্ষ চ্যানেল। তা হলেই বোঝো ঠিক কী মাপে খোঁজার কাজ হচ্ছিল। ১২ই অক্টোবর ১৯৯২ – কলম্বাসের নতুন মহাদেশে পদার্পণের পাঁচশ বছর পূর্তির দিনে এই প্রকল্প দুটির উদ্বোধন হয়। এর এক বছর পরে ইউনাইটেড স্টেটস কংগ্রেস নাসার সেটি প্রকল্পের সব টাকা বন্ধ করে দিল। তেইশ বছর ধরে ছয় কোটি ডলার খরচ হয়ে নাসার সেটি রিসার্চের পঞ্চত্ব প্রাপ্তি ঘটল।        

     নাসার প্রকল্প বন্ধ হতে এগিয়ে এল সেটি ইন্সটিটিউট। এবার আর সরকারি টাকায় নয় – জনগণের প্রদত্ত করের টাকায় নয় – জনগণের দানের টাকায়। কিছু সহৃদয় বিজ্ঞানপ্রেমী ব্যক্তি, সংস্থা ও কিছু ট্রাস্টের অনুদানের টাকায়। নাসা যে যায়গায় এসে ছেড়ে দিল, সেটি ইন্সটিটিউট সেখান থেকেই আরম্ভ করল প্রোজেক্ট ফিনিক্স নাম দিয়ে – কাছাকাছি দু’শ আলোকবর্ষ দূরত্বের মধ্যে এক হাজার সূর্য-সদৃশ তারা পর্যবেক্ষণ করে। পৃথিবীর বৃহত্তম রেডিও টেলিস্কোপগুলোতে ইতিমধ্যে এই কাজের জন্য সময় ভাগ করে দেওয়া ছিল। প্রোজেক্ট ফিনিক্সের কাজ শুরু হ’ল ১৯৯৫ এর ফেব্রুয়ারি মাসে অস্ট্রেলিয়ার পার্কস-এ দক্ষিণ গোলার্ধের বৃহত্তম ২১০ ফুট ব্যাসের রেডিও টেলিস্কোপে। উত্তর আকাশের তারাদের পর্যবেক্ষণ করা হ’ল আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রিন ব্যাঙ্কে ১৪০ ফুট রেডিও টেলিস্কোপ থেকে, ১৯৯৬ এর সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৯৮ এর এপ্রিল পর্যন্ত। প্রত্যেক তারার ১০০০ মেগাহার্জ থেকে ৩০০০ মেগাহার্জ সিগন্যালকে ১ হার্জ সরু চ্যানেলে ভেঙে অর্থাৎ দু কোটি চ্যানেল পরীক্ষা করে দেখা হ’ল। ১৯৯৯ এর মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় পাঁচশ তারা দেখা হল। অবশ্য মেধার কোন ইঙ্গিত পাওয়া গেল না।       

     যাক এভাবেই নানান প্রজেক্টের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা অপার্থিব মেধার খোঁজ চালিয়ে যেতে লাগলেন। আর একটি বড় মাপের প্রকল্প ছিল সেটি ইন্সটিটিউট আর বার্কলের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে অ্যালেন টেলিস্কোপ অ্যারে (Allen Telescope Array)। আসলে এর আগে এ কাজের জন্য রেডিও টেলিস্কোপগুলো নির্দিষ্ট সময় ভাগ করা থাকত আর সেই সময়ও খুবই কম। এটা ছাড়াও বিভিন্ন বিজ্ঞানীর অন্য গবেষণাও তো আছে। তাই এমন টেলিস্কোপ দরকার যা শুধুমাত্র ভীনগ্রহী মেধার সন্ধান করবে। অ্যালেন টেলিস্কোপ সে উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি। মাইক্রোসফটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পল অ্যালেন ও চিফ টেকনোলজি অফিসার নাথান মাইরভোল্ডের বদান্যতায় এটা সম্ভব হয়েছিল। এর মূল ধারণা ছিল একটা বিশাল মাপের টেলিস্কোপ না করে ছয় মিটার ব্যাসের ছোট ছোট সাড়ে তিনশ ডিশ অ্যান্টেনা যোগ করে অনেক কম খরচে বড় টেলিস্কোপের কাজ করা যায়। প্রথম পর্যায়ে বেয়াল্লিশটি ডিশ দিয়ে কাজ আরম্ভ হয়েছে। এখনও পর্যন্ত পল অ্যালেন তিন কোটি ডলার দিয়েছে। টাকার অভাবে বাকি অ্যান্টেনার কাজ শেষ হয়নি। আসলে যখন যেমন অর্থের যোগান হয় – সে ভাবেই কাজ এগোয়। তবে এখনও কোনও মেধা-জনিত সিগন্যাল ধরা পড়েনি।

চিত্র ৪ – অ্যালেন টেলিস্কোপ অ্যারে (Allen Telescope Array) 

     আমি এবার বললাম – “আচ্ছা স্যার এই রেডিও সিগন্যাল ছাড়া আর কোনও ভাবে সন্ধান করা যায় না?”     

      স্যার বললেন – “হ্যাঁ আর এক ভাবেও চেষ্টা করা হচ্ছে – তার নাম অপটিক্যাল সেটি (Optical SETI) – এখানে যেটা খোঁজা হচ্ছে তা হ’ল সরু ব্যান্ডের লেসার আলোর স্পন্দন। হার্ভার্ডে পল হরোউইজ, বার্কলে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জিওফ মার্সি, ড্যান ওয়ের্থিমার ও তাঁদের সহকর্মীরা এ নিয়ে কাজ করছেন।     

     আর একটা প্রোজেক্টের কথা তোমাকে বলব। এটা ভারী চমকপ্রদ। এর নাম Desktop SETI – SETI@home। এই অপার্থিব মেধার সন্ধান করতে গিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পগুলি বিপুল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ করে। সেগুলোকে দ্রুত বিশ্লেষণ করে সেখান থেকে কোনটা প্রাকৃতিক, কোনটা কৃত্রিম আর কোনটাই বা ভীনগ্রহী মেধা-জাত – তাদেরকে পৃথক করার জন্য যে জাতীয় দ্রুতগতি সম্পন্ন সুপার কম্পিউটারের প্রয়োজন তা ব্যবহার করার সুযোগ এইসব সেটি গবেষকদের খুবই কম। ফলে তাঁদের গবেষণা এই যায়গায় এসে ধাক্কা খায়। ১৯৯৪ সালে আমেরিকার ওয়াশিংটন রাজ্যের সিয়াটল শহরে এক ককটেল পার্টিতে কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ দুই বন্ধু ডেভিড গেডি আর ক্রেগ কাশনফ আলোচনা করছিলেন যে কম্পিউটার দিয়ে এমন কোন কিছু করা যায় কিনা যাতে সাধারণ মানুষকে বিজ্ঞানে উৎসাহিত করা যায়। এই চিন্তাধারা থেকে তারা ধারণা করলেন যে সাধারণ বহু মানুষের নিজস্ব কম্পিউটার আর ইন্টারনেট সংযোগ আছে। এখন সে সব কম্পিউটারগুলোকে কোনও সফটওয়্যার প্রোগ্রামের সাহায্যে একত্র করা যায় তা হলে তার ক্ষমতা একটা ব্যয়বহুল সুপার কম্পিউটারের সমান হয়ে যায়। কোনও জটিল গাণিতিক বা অসংখ্য ডেটা যার গণনা ও বিশ্লেষণ করার জন্য সুপার কম্পিউটারের আবশ্যক তা সহজেই অনেক কম খরচে হতে পারে। এই ভাবনার থেকেই SETI@home প্রকল্পের উদ্ভব।  এর প্রায় পাঁচ বছর পরে প্ল্যানেটরি সোসাইটির অর্থানুকূল্যে ১৯৯৯ সালের মে মাসে SETI@home-এর কাজ শুরু হ’ল। এতে অকল্পনীয়ভাবে জনগণের সাড়া পাওয়া গেল। বর্তমানে বার্কলে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেটি রিসার্চ সেন্টার থেকে এরিক কোর্পেলা ও ড্যান ওয়ের্থিমারের পরিচালনায় এই প্রোজেক্টের কাজ চলছে। এর জন্য দুটো অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম আছে – SETI@home সরু ব্যান্ডের জন্য আর AstroPulse ব্রডব্যান্ডের জন্য। এই প্রোগ্রাম পার্সোনাল কম্পিউটারে ডাউনলোড করে ইন্সটল করতে হয়। এটা আসলে একটা স্ক্রিন সেভার। পুয়ের্তো রিকোর Arecibo রেডিও টেলিস্কোপ থেকে যে বিপুল পরিমাণ ডেটা আসে তাকে খুব ছোট ছোট স্বাধীন ভাগে ভাগ করা হয়। এবারে এই ছোট ভাগগুলো বা ডেটা প্যাকেজগুলো বিভিন্ন কম্পিউটারে পাঠান হয়। যখন স্ক্রিন সেভার চালু থাকে তখনই এই পাঠান ডেটা প্যাকেজের বিশ্লেষণ করা চালু হয়ে যায় আর তার ফলাফল বার্কলের কম্পিউটারে চলে যায়। আবার নতুন ডেটা প্যাকেজ পাঠান হয়। ফলে কারোর নিজস্ব কাজে কোনও বাধা হয় না, শুধু একজনের কম্পিউটারের অলস সময়টা কাজে লাগান হয়। এইভাবে খুব অল্প সময়ে লক্ষ লক্ষ ডেটা প্যাকেজ বিশ্লেষণ করা হয়ে যায়। সারা বিশ্বজুড়ে প্রায় বাহান্ন লক্ষ পার্সোনাল কম্পিউটার এর সঙ্গে জড়িত এবং সবাই স্বেচ্ছাসেবক।          

     যে কেউ এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তোমাকে নিজেকে কিছু করতে হবে না অথচ বিশ্বজুড়ে একটা বড় মাপের বিজ্ঞানের গবেষণার সঙ্গে তুমিও একজন অংশীদার হয়ে গেলে। শুধু তাই নয় এমনও হতে পারে তোমার কম্পিউটারেই প্রথম কোনও মেধার সন্ধান পাওয়া গেল। সে ক্ষেত্রে তোমার নাম অন্যতম আবিষ্কারক হিসেবে চিরকাল থেকে যাবে। বর্তমানে বার্কলেতে SERENDIP IV (The Search for Extra-terrestrial Radio Emissions from Nearby Developed Intelligent Populations) নামে একটা প্রোজেক্টে Arecibo রেডিও টেলিস্কোপ দিয়ে এই মেধা অনুসন্ধানের কাজ চলছে যার সমস্ত ডেটা এই SETI@home দিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে”।       

     আমি বললাম –“সত্যি স্যার এটা একটা দারুণ আইডিয়া। কিন্তু এই যে বললেন সূর্য সদৃশ তারা লক্ষ করে – তার মানে ধরে নেওয়া হচ্ছে কী তাদেরও আমাদের পৃথিবীর মতন গ্রহ থাকবে?”       

     স্যার বললেন – “আসলে আমাদের সূর্য আর পৃথিবী আর তাতে মেধা-যুক্ত প্রাণের উদ্ভব – এই একটা মাত্র উদাহরণই তো আমাদের জানা। তাই এটা স্বাভাবিকভাবে ধরে নেওয়া হয় যে যদি সূর্য ও পৃথিবীর মতন আরও তারা আর তার গ্রহের সন্ধান পাওয়া যায় সেখানেও প্রাণের উদ্ভব হতে পারে। এ পর্যন্ত বেশ কিছু বাসযোগ্য অসৌর গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে আর যত দিন যাচ্ছে তত বেশী বেশী গ্রহের সন্ধান মিলছে। তাই এখন এগুলোকে লক্ষ করেই অনুসন্ধান চালান হচ্ছে”।     

     আমি –  “কিন্তু ঐ দূরের গ্রহগুলোর আলো এতই ক্ষীণ  – তা’তো টেলিস্কোপে ধরা যায় না – তা’ হলে কী করে তাদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে”?     

     স্যার – “এই অসৌর গ্রহের অস্তিত্ব কীভাবে জানতে পারা যায় সে সম্বন্ধে তোমাকে সামনের রবিবার বলব। সেদিনও তুমি আজকের মতন আমার সঙ্গে খাবে”।    

[ক্রমশঃ]

 

প্রথম পর্ব পড়ুন 

দ্বিতীয় পর্ব পড়ুন 

One thought on “অপার্থিব মেধার সন্ধানে

  • July 16, 2018 at 11:22 am
    Permalink

    Read all the three episodes in one go. Such a complex subject of astrophysics has been presented in a very lucid and interesting way. The series should continue. Eagerly wait for the next episodes …..

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!