আমাদের অদ্রীশদা

দ্রীশদার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় গত শতকের সাতের দশকে। উনি তখন কল্পবিজ্ঞান পত্রিকা ফ্যান্টাসটিক সম্পাদনা করছেন। আমি একটা কল্পবিজ্ঞান নভেলেট “সময় যখন কথা বলে” ওঁর পত্রিকার জন্য পাঠিয়েছিলাম। কয়েকদিনের মধ্যেই আমার ঠিকানায় ওঁর হাতে লেখা একটা পোস্টকার্ড এল। তাতে লেখা “এইমাত্র আপনার লেখাটা প্রেসে দিলাম। নতুন কি লিখছেন? শিগ্‌গিরি পাঠিয়ে দিন।” সালটা সম্ভবত ১৯৭৬। তখন পত্রপত্রিকার জগতে আমার তেমন পরিচিতি তৈরি হয়নি। আমার মত এমন একজন তরুণ লেখককে উনি যেভাবে অনুপ্রানিত করেছিলেন তা থেকেই মানুষটার পরিচয় ফুটে ওঠে।

     উনি শুধু একজন কল্পবিজ্ঞান, রহস্য গল্পের খ্যাতিমান লেখকই নন, সেইসঙ্গে ওঁর সম্পাদিত আশ্চর্য, ফ্যান্টাসটিক পত্রিকায় উনি সৃষ্টি করেছেন বেশ কয়েকজন কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের লেখককে। সৌভাগ্যক্রমে ওঁর সেই সাহিত্য ঘরানায় আমিও অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলাম। একসময় আমার জনপ্রিয় স্যর সত্যপ্রকাশ বিজ্ঞানী চরিত্রটিকে নিয়েও অনেকগুলি গল্প আমি ফ্যান্টাসস্টিকে লিখেছিলাম। এর পিছনে ছিল ওঁর অফুরন্ত অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ। উনি পরবর্তী সময়ে ‘কিশোর মন’ নামে একটা পত্রিকাও সম্পাদনা করেছিলেন।

     ওঁর সৃষ্ট কল্পবিজ্ঞানের একটি মজার চরিত্র নাটবল্টুচক্র এবং গোয়েন্দা চরিত্র ইন্দ্রনাথ রুদ্র আজও পাঠকের অতিপ্রিয়। সবচেয়ে বড় কথা অদ্রীশদার অসাধারণ পাণ্ডিত্য থাকলেও লেখার মধ্যে তা তিনি কখনো দেখাবার চেষ্টা করেননি। ওঁর প্রতিটি গল্প উপন্যাসের ভাষা সহজ ও সাবলীল। পড়তে পড়তে পাঠককে মুগ্ধ ও নিমগ্ন হতে হয়। অনুবাদ সাহিত্যে অদ্রীশদার দক্ষতা ছিল অসীম।

     বিশেষত বাংলার কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যে শ্রী অদ্রীশ বর্ধনের অবদান বিস্মৃত হবার নয়। তিনি আরও অনেকদিন সৃষ্টিশীল থাকুন এবং তাঁর শতায়ু কামনা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!