কৃত্রিম

সন্দীপ চৌধুরী

অলংকরণ:সৌরভ দে

ক্যাফেতে পৌঁছে একটু এদিক ওদিক তাকাতেই মেয়েটিকে দেখতে পেয়ে গেলেন আসিফা। যতটা কমবয়সি মনে হয়েছিল ফোনে, ততটা নয়। অন্তত তিরিশ বছর বয়স তো হবেই। চেহারায় কোনও চটক নেই, তবে দেখতে সুশ্রী। ওঁকে দেখে উঠে দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে দিল জ্যোতি। হ্যান্ডশেকের পর ছোট্ট টেবিলটার দুদিকের চেয়ার দখল করল দুজনে।

     ভালো করে জ্যোতির দিকে তাকিয়ে দেখলেন আসিফা। রোগা ছিপছিপে শরীর, অল্প ময়লা গায়ের রং। ছোট্ট অথচ ছুঁচলো নাকটি মেয়েটির মুখের সবচেয়ে দ্রষ্টব্য। সাজপোশাক সাধারণ, কিন্তু রুচিশীল। মোটের ওপর খারাপ লাগল না মেয়েটিকে।

     ‘বলুন।’

     ‘ম্যাম, আমার নাম তো ফোনেই বলেছি, জ্যোতি নাম্বিয়ার। একটা সফটওয়্যার ফার্মে কাজ করি আমি। আপনার সম্বন্ধেও মোটামুটি জানা আছে আমার। এরকম ভাবে হঠাৎ আপনাকে বিব্রত করার জন্য অত্যন্ত দুঃখিত কিন্তু আমার কথা শুনলেই বুঝতে পারবেন যে আর কিছু করার ছিল না আমার। ইন ফ্যাক্ট, আজই সকালে আমাদের হেড অফিস থেকেও কয়েক বার আপনার সঙ্গে কন্ট্যাক্ট করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সম্ভবত আপনি বিদেশি নম্বর দেখে কলগুলি নেননি।

     আসিফার কৌতূহল বাড়লেও তিনি কোনও কথা না বলে অপেক্ষায় রইলেন। যা বলার মেয়েটিই বলুক, উনি তো ওর কাছ থেকে শুনতেই এসেছেন এখানে।

     ‘মূল প্রসঙ্গে আসার আগে আমাদের কোম্পানির কাজ সম্বন্ধে একটা ছোট্ট পরিচয় দিই আপনাকে। আমাদের মুল কাজ কনজিউমার ডাটা অ্যানালিসিসের। এখানে কনজিউমার বলতে কোনও একটা বিশেষ কোম্পানির বা প্রোডাক্টের কনজিউমারকে বোঝাচ্ছি না আমি, আমাদের কাছে পুরো জনসংখ্যাটাই কনজিউমার। ইন্টারনেটে মানুষের গতিবিধি অনুসরণ করে তাদের পছন্দ আর প্রয়োজন বোঝার চেষ্টা করি আমরা। কাজটা সবসময় নীতি মেনে করা হয় না। অনেক সময়ই মানুষের এমন কিছু ব্যক্তিগত ইনফরমেশন জোগাড় করতে হয় আমাদের, যা হয়তো তারা সাধারণ অবস্থায় সবার সঙ্গে শেয়ার করতে চাইবে না।’

     একটা ব্যাপার পরিষ্কার হল। ওঁর সম্বন্ধে ফোনে মেয়েটি যে এত কথা সঠিক ভাবে বলতে পেরেছিল তার সোর্স এতক্ষণে বুঝলেন আসিফা। কিন্তু বাকি কথাগুলি নতুন কিছু নয়। এধরনের কাজ যে কিছু সংস্থা করে সেটা আসিফা জানেন। ব্যাপারটা নিয়ে বেশ একটা বড়সড় বিতর্কও চলছে প্রথম বিশ্বের দেশগুলিতে। ডাটা প্রাইভেসি ওখানে বেশ বড়সড় ইস্যু। এদেশে এখনও ব্যাপারটা নিয়ে খুব একটা কেউ মাথা ঘামায় না।

     ‘বিভিন্ন মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিরা আমাদের ক্লায়েন্ট। আমাদের তথ্যের ওপর নির্ভর করে তারা নিজেদের মার্কেটিং প্ল্যান ঠিক করে, কোন কনজিউমারের কোন ধরনের প্রোডাক্ট প্রয়োজন বা পছন্দ সেটা বুঝে নিজেদের সেই ধরনের প্রোডাক্ট প্রোমোট করে তাদের কাছে।

     একটা উদাহরণ দিই। ধরুন আপনি গুগলে নতুন মোবাইল সম্বন্ধে সার্চ করছেন। আপনার সার্চ ট্র্যাক করে আমরা বুঝে যাব যে আপনি কী রেঞ্জের মোবাইল চাইছেন, কোন ধরনের মডেল আপনার পছন্দ বা আপনার ব্র্যান্ড প্রেফারেন্স কী। বুঝতেই পারছেন এই ইনফরমেশন মোবাইল কোম্পানিদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তারা এরপর আপনাকে মেলের মাধ্যমে বা আপনার সোশ্যাল সাইটে নিজেদের ওই ধরনের প্রোডাক্টের ফিচার সম্বন্ধে ইনফরমেশন দিয়ে আপনাকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে। এটা জাস্ট একটা উদাহরণ। আমাদের অ্যানালিসিস আরও অনেক গভীর হয়। আমাদের কাছে মানুষের এত ডাটা থাকে যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।’    

     ‘একটা প্রশ্ন করি?’

     ‘অবশ্যই।‘

     ‘এইসব আলোচনা আমার বাড়িতে এসে তো করতে পারতে। শুধু শুধু আমাকে এখানে ডেকে আনলে কেন?’

     কথাটায় মেয়েটি বেশ ঘাবড়ে গেছে বলে মনে হল আসিফার। হয়তো একটু আহতও হল। কিন্তু সে নিজেকে সামলে নিল পরক্ষণেই। 

     ‘ম্যাম, আমাদের এমপ্লয়ার সবসময় আমাদের গতিবিধি ট্র্যাক করে। আসলে আমাদের কাছে মানুষের এমন অনেক স্পর্শকাতর ইনফরমেশন থাকে যাকে ব্যবহার করে আমরা তাদের ব্ল্যাকমেল পর্যন্ত করতে পারি। এইরকম কোনও ঘটনা একবার ফাঁস হয়ে গেলে আমাদের কোম্পানির অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন চলে আসবে। সেইজন্য নীতিগত ভাবে আমাদের সাধারণ মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ নিষেধ। আমার এখানে একটা অফিসিয়াল কাজ ছিল, সেইজন্য কাছাকাছি একটা ক্যাফেতে কিছুক্ষণ সময় কাটানো কিছু অস্বাভাবিক নয়।‘

     মাথা নাড়লেন আসিফা। যুক্তিটা গ্রহণযোগ্য। কিন্তু নিজের চাকরির শর্ত ভেঙে মেয়েটি এখানে ওঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছেই বা কেন?

     ওয়েটার এসে দুজনের জন্যে অর্ডার নিয়ে গেল। জ্যোতি একটা কোল্ড কফি নিল, আসিফা নিলেন বানানা শেক। এটা বেশ ভালো বানায় এখানে।     

     ‘এবার মূল কথায় আসি। আমাদের কোম্পানিতে একটা রিসার্চ ডিপার্টমেন্ট আছে, সেখানে এমন প্রোগ্রাম তৈরি করা হয় যা ডাটা খুঁড়ে এমন তথ্য বের করতে পারে যেটা বিভিন্ন কোম্পানিদের আজকে না হলেও ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে। যেমন আজকাল রাজনৈতিক দলগুলি সাধারণ মানুষদের রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপারে জানতে অত্যন্ত আগ্রহী। পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে এবার ভারতের ইলেকশন ট্র্যাক করেছিলাম আমরা। যতদূর জানি, আমাদের প্রেডিকশন প্রায় ছিয়ানব্বই পার্সেন্ট ক্ষেত্রে নির্ভুল প্রমাণিত হয়েছে। অর্থাৎ, আমরা প্রায় সবগুলি সিটেই কোন দল জিতবে সেই সম্বন্ধে নির্ভুল প্রেডিকশন দিয়েছিলাম।’

     ‘সেটা কী করে করো তোমরা?’

     ‘সোশ্যাল ওয়েবসাইটে ভোটারদের গতিবিধি অ্যানালিসিস করে। কোন ধরনের পোস্ট সে পছন্দ করছে, কার বক্তব্য সে সমর্থন করছে, টুইটারে কোন রাজনীতিজ্ঞকে সে অনুসরণ করছে— এসব থেকেই বোঝা যায় একজন মানুষ কোন রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিত্বকে সমর্থন করে। অনেকসময় লাইক বা ফলো করারও দরকার হয় না। কোনও আর্টিকেল পড়ার সময় একজন মানুষ কতক্ষণ সময় ব্যয় করল সেটাও ট্র্যাক করে তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বুঝে যাই আমরা। অবশ্য আমরা এর জন্যে প্রত্যেকটি মানুষের গতিবিধি ফলো করি না, অত সময় থাকে না আমাদের হাতে। আমাদের তৈরি করা প্রোগ্রাম ওয়েব থেকে ডাটা টেনে নিয়ে, সেটা অ্যানালিসিস করে রেজাল্ট বের করে দেয়।‘

     ‘কিন্তু এসবের সঙ্গে জামাল অর্থাৎ আমার ছেলের কী সম্পর্ক?’ একটু অধৈর্যই লাগছে এবার আসিফার। এসব বিষয়ে আলোচনা খুবই ইন্টারেস্টিং, কিন্তু ওঁর মনে একটা কাঁটা ক্রমাগত খচখচ করছে।

     ‘সেই কথাতেই এবার আসছি। এই ধরনের আরও কিছু প্রোগ্রাম তৈরি করেছি আমরা। একটা প্রোগ্রাম থেকে জানা যায় কে নিজের স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণা করছে। এক্ষেত্রে অবশ্য সোশ্যাল ওয়েব সাইট ছাড়াও তাদের কেনাকাটা, ট্র্যাভেল, ক্রেডিট কার্ড আর মোবাইলের ব্যবহার ইত্যাদি ট্র্যাক করতে হয়।’

     ‘কিন্তু এসব তো কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তুমি এত সহজভাবে ব্যাপারটা নিয়ে কীভাবে আলোচনা করতে পারো? একটা মানুষের প্রাইভেসির কোনও মূল্য নেই তোমাদের কাছে?’ চেষ্টা করেও নিজের গলা থেকে উত্তেজনার ভাব লুকোতে পারলেন না আসিফা।

     একটু হাসল জ্যোতি, তারপর নিজের পানীয়তে একটা ছোট্ট চুমুক দিয়ে বলল, ‘মেনে নিচ্ছি কথাটা। কিন্তু সাইবার ওয়ার্ল্ডে আজ এধরনের ট্র্যাকিং খুব কমন। এখনও পর্যন্ত অবশ্য এই প্রোগ্রামটির ব্যবসায়িক ব্যবহার আমরা চালু করিনি। তবে অফার আছে প্রচুর।’

     ‘আমি বুঝতে পারছি না এ ধরনের তথ্য কার কাছে কাজে লাগবে? ওদের স্পাউজরা তো তোমাদের কোম্পানির খোঁজই পাবে না।‘

     ‘বড় বড় ডিভোর্স লইয়ারদের কাছে এধরনের খবর খুব মূল্যবান। বড়লোক স্বামীর প্রতারণার প্রমাণ অনেক স্ত্রীর কাছে লটারি পাওয়ার সমান। আমাজনের জেফ বেজোসের ডিভোর্সের ব্যাপারে নিশ্চয়ই জানেন? তাছাড়া অনেকেই নিজের স্বামী বা স্ত্রীর গতিবিধির ওপর নজর রাখার জন্যে আজকাল গোয়েন্দার সাহায্য নেয়। বুঝতেই পারছেন এইসব ইনফরমেশন সেই গোয়েন্দাদের কাছে কতটা দামি। আর সাধারণ ব্ল্যাকমেলাররা তো আছেই।’

     গা শিরশির করে উঠল আসিফার। প্রযুক্তির এ ধরনের ব্যবহার ওঁর মাথায় আসেনি এতদিন। কিন্তু আসা উচিত ছিল। মানুষের স্বভাবই এই, কোনওকিছুর কদর্যতম ব্যবহার সবসময়ই খুব তাড়াতাড়ি তার মাথায় চলে আসে।  

     ‘বুঝলাম। কিন্তু মনে হচ্ছে আবার মূল প্রসঙ্গ থেকে আমরা একটু সরে এসেছি।’    

     কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে চুপ করে বসে থাকার পর আবার কথা বলতে শুরু করল জ্যোতি নাম্বিয়ার।

     ‘বেশ কিছুদিন আগে আমাদের রিসার্চ ডিভিশনের এক সহকর্মীর দুজন ফেসবুকের বন্ধু পরপর আত্মহত্যা করে। তার মধ্যে একজন তো ওর বেশ ঘনিষ্ঠ ছিল। ঘটনাটা ওকে বেশ নাড়া দেয়। একজন ক্লোজ মানুষের মনের ভেতর কী চলছে সেটাও সে কেন জানতে পারল না এটা নিয়ে সে বেশ কিছুদিন গভীর ভাবে চিন্তাভাবনা করে। তখনই ওর মাথায় একটা সম্ভাবনার কথা উঁকি মারে। যে ভাবে সে একজন গ্রাহকের পছন্দ-অপছন্দের কথা বুঝতে পারে, সেইভাবে কি ওর আত্মহত্যার প্রবণতা বা অন্যান্য মানসিক সমস্যার কথাও জানা যাবে? একটু চিন্তা করে তার মনে হয় যে এমনটা না হওয়ার কোনও কারণ নেই।   

     এরপর ওই দুজন মৃত ব্যক্তির সোশ্যাল মিডিয়াতে গতিবিধির বিশ্লেষণ শুরু করে সেই ছেলেটি। বিশেষ করে ওদের মৃত্যুর কিছুদিন আগের গতিবিধি।

     সে লক্ষ করে দুজনের কিছু কিছু গতিবিধির মধ্যে এমন কিছু আশ্চর্যজনক মিল রয়েছে যেটা নেহাত কাকতালীয় হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এরপর সে নিজের অভ্যেসমতো জোগাড় করতে শুরু করে আত্মহত্যা করেছে এমন মানুষদের সম্পর্কে নানা তথ্য। আজকাল প্রায় সবারই বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকে। সুতরাং কেউ যদি মৃত ব্যক্তির নাম, ঠিকানা আর ছবি পেয়ে যায় তাহলে তাদের অ্যাকাউন্ট ট্রেস করাটা আমাদের কাছে জলের মতো সরল। এভাবে কয়েক হাজার কেস নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ শুরু করে জর্জ। শুধু তাদের সোশ্যাল মিডিয়াতে গতিবিধিই নয়, তাদের ইন্টারনেটে অন্যান্য কার্যকলাপেরও বিশ্লেষণ করে সে। মনে রাখবেন, এসব কিন্তু ও কোম্পানির হয়ে নয়, নিজের উদ্যোগেই করেছে।‘

     বেশ অস্বস্তি বোধ করছেন আসিফা। ওঁর মনে হচ্ছে এরপর জ্যোতি এমন কিছু বলতে চলেছে যা তিনি শুনতে চান না। 

     ‘প্রায় সাত মাসের চেষ্টায় জর্জ এমন একটা প্রোগ্রাম তৈরি করে ফেলে যেটা দিয়ে ইন্টারনেটে একজন মানুষের গতিবিধি অনুসরণ করে তার সুইসাইড করার প্রবণতা সম্বন্ধে প্রেডিক্ট করতে পারে। এরপর এই প্রোগ্রামটা টেস্ট করে জর্জ। বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই, সেটা টেস্ট করার উপায় একটাই— এই প্রোগ্রামের দ্বারা বের করা নামগুলির জীবন অনুসরণ করে যাওয়া।‘

     কয়েক মুহূর্তের নিস্তব্ধতা যেন গলা টিপে ধরল আসিফার। নিজের অজান্তেই ডান হাত কখন যেন গলার কাছে উঠে এসেছে। মেয়েটিও আর ওঁর চোখের দিকে তাকিয়ে এই মুহূর্তে কথা বলছে না। তার দৃষ্টি এখন নিজের পায়ের দিকে। গলার স্বরও অনেকটাই নিচের পর্দায় নেমে এসেছে। এটা স্পষ্ট যে সেও এই আলোচনা উপভোগ করছে না।

     ‘অসহায় অবস্থায় ছেলেটি প্রত্যক্ষ করতে লাগল একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনা। যতদূর জানি, প্রোগ্রাম করা মোট একচল্লিশটা প্রেডিকশনের মধ্যে সাঁইত্রিশটা সঠিক প্রমাণিত হয়।

     কিন্তু এরপর সে কী করবে? প্রোগ্রামটার বিষয়ে নিজের কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্তাদের জানালেই তৎক্ষণাৎ তার চাকরি যাবে। কারণ তাদের অনুমতি ছাড়াই সে এটা তৈরি করেছে। অন্যদিকে বাইরের কাউকে এটার বিষয়ে জানালেও নিজের কোম্পানির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। এদিকে কিছু মানুষ নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আর সে সবকিছু জেনেশুনেও চুপচাপ থাকবে— এই ব্যাপারটা কিছুতেই মেনে নিতে পারে না জর্জ। প্রচণ্ড ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকে সে। একবার তার মনে হয় প্রোগ্রামটা তার ধ্বংস করে দেওয়া উচিত। কিন্তু নিজের বান্ধবীর সঙ্গে আলোচনা করে সে স্থির করে অন্য পথ। দুজনে মিলে ঠিক করে যে তারা মৃত্যুর পথ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে এরকম মানুষদের। তারা দুজনে মিলে শুরু করে পড়াশোনা, দেখা করতে শুরু করে বিভিন্ন সাইকিয়াট্রিস্টদের সঙ্গে— তারা বুঝতে চায় এ ধরনের অর্থাৎ আত্মহত্যাপ্রবণ মানুষদের মানসিক গঠন কেমন হয়, কী করলে তাদের আবার সাধারণ জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়। এই জ্ঞান ব্যবহার করে ওরা এখন এধরনের মানুষদের মৃত্যুর পথ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। বলতে পারেন এটাই এখন তাদের জীবনের মূল উদ্দেশ্য।’

     ‘তার মানে সে আর এখন তোমাদের কোম্পানিতে কাজ করে না?’

     ‘তা কী করে হবে? চাকরি না করলে সে তার প্রয়োজনীয় ডাটা কোথা থেকে পাবে? কিন্তু আমি জানি না তার এই চাকরিটা কত দিন থাকবে। কারণ আমাদের কোম্পানিকে বেশিদিন ফাঁকি দেওয়া সম্ভব নয়। যে মুহূর্তে আমাদের ম্যানেজমেন্ট ওর এই কাজকর্মের ব্যাপারে জানবে, সেই মুহূর্তেই ওর চাকরি যাবে। আর সেটা ও  নিজেও জানে।’

     চোখ বন্ধ করে আসিফা কিছুক্ষণ চিন্তা করলেন। মেয়েটার ইঙ্গিত স্পষ্ট। কিন্তু তা কী করে সম্ভব! জামালকে উনি যতটা কাছ থেকে জানেন, ততটা বোধহয় কোন মা-ই নিজের ছেলেকে জানে না। খুব কম বিষয়ই একে অপরের কাছে গোপন রাখে দুজনে। অথচ মেয়েটিকে অবিশ্বাসও করতে পারছেন না আসিফা। এই মেয়েটি মিথ্যে কথা বলছে না।

     কিন্তু এই কথা যদি সত্যি হয় তাহলে নিজের লজ্জা কোথায় লুকোবেন আসিফা? তার জীবনের একমাত্র অহঙ্কার, যাকে ঘিরে আবর্তিত তাঁর জীবন, সে যদি আজ ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে ওঁর নিজের অবস্থানটা কোথায়?

     ‘ম্যাম, আজ আমি আপনার ছেলে জামাল আনসারির বিষয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলতে এসেছি। আমাদের তথ্য বলছে, গত প্রায় দশ পনেরো দিন ধরে উনি অত্যন্ত বিচলিত রয়েছেন। ব্যাপারটা আরও খারাপ দিকে গড়িয়েছে তিন দিন আগে। তারপর থেকে আপনাদের দুজনের মধ্যে সম্পর্কও আর এখন স্বাভাবিক নয়। আপনারা এখন আর একে অপরের সঙ্গে কথাও বলেন না।’

     ‘তুমি কি আমার ছেলেকে ব্যক্তিগত ভাবে চেনো?’

     ‘না, ওঁর ছবি দেখেছি মাত্র।’

     ‘শোনো জ্যোতি, জামাল আমার ছেলে বললেও কিছুই বলা হয় না। ও আমার প্রাণের থেকেও বেশি। জানি না তোমার কম্পিউটার কী বলছে ওর সম্পর্কে। কিন্তু ওর চিন্তাভাবনা আমি যতটা জানি, ততটা মনে হয় ও নিজেও জানে না। এটা ঠিক যে আমাদের মধ্যে দিন তিনেক আগে একটা ছোট্ট কথা কাটাকাটি হয়েছে। কিন্তু তার জন্যে ও আত্মহত্যা করবে? একসঙ্গে, একই বাড়িতে বছরের পর বছর থাকলে মাঝে মাঝে ওরকম ভুল বোঝাবুঝি হয়েই থাকে। দেখো, আমি তোমার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছি না। কিন্তু আমার মনে হয় তোমাদের কোনও একটা জায়গায় বড়সড় ভুল হচ্ছে।’

     অনেক চেষ্টা করেও আসিফা নিজের গলার স্বর থেকে উত্তেজনার দাগ সম্পূর্ণ মুছে ফেলতে পারলেন না। ওঁর পালসের গতিও অনেকটাই বেড়ে গেছে বলে অনুভব করলেন তিনি। কিন্তু এখন নিজের স্বাস্থ্য নিজে মাথা ঘামাতে ইচ্ছে করছে না আসিফার।

     ‘ম্যাম, আমি কিন্তু এটা বলছি না যে জামালের মানসিক অবস্থার জন্যে আপনার সঙ্গে কথা কাটাকাটি দায়ী। আসলে নানান দিক থেকে ওঁর জীবন ব্যালেন্স হারিয়ে ফেলেছে। একটু বিস্তারিত ভাবে বলছি। বসের সঙ্গে জামালের সম্পর্ক এই মুহূর্তে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। দিন পনেরো আগে একটা মিটিংয়ে সবার সামনে তিনি অপমান করেন আপনার ছেলেকে। তারপর থেকে আরও কিছু ঘটনায় পরিস্থিতি আরও বিগড়েছে। অথচ জামাল ওই কোম্পানিকে এতটাই ভালোবাসেন যে উনি চাকরিটা ছাড়ার কথাও চিন্তা করতে পারছেন না। উনি কয়েক মাস ধরে এমন একটা প্রোজেক্টের সঙ্গে যুক্ত, যেটা ওঁর হৃদয়ের খুব কাছের।

     আরও আছে। আপনি জানেন যে কয়েকমাস আগে বান্ধবীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে জামালের। কিন্তু মনে হয় আপনি জানেন না যে তারপর থেকে উনি নিয়মিত ভাবে মাদকদ্রব্য ব্যবহার করা শুরু করেছেন। এবং তার ডোজ বাড়ছে ক্রমাগত।

     এইসব ঘটনার কোনও একটিই হয়তো একজন মানুষকে জীবন থেকে বিতৃষ্ণ করার পক্ষে যথেষ্ট নয়। কিন্তু সবগুলো যখন একসঙ্গে একজনের জীবনে প্রভাব ফেলে…’

     মাথা কাজ করছে না আসিফার। জামালের রুম থেকে সিগারেটের গন্ধ তিনি পাচ্ছিলেন ইদানিং। কিন্তু সেটার সঙ্গে যে ড্রাগের সম্পর্ক থাকতে পারে তা ওঁর মাথায় আসেনি। অথচ আসা উচিত ছিল। কারণ গন্ধটা স্বাভাবিক ছিল না। এটা ঠিক যে জুলেখার সঙ্গে জামালের সম্পর্কটা ভেঙে যাওয়ায় উনি খুশিই হয়েছিলেন। তিনি জানতেন যে ওই মেয়ের সঙ্গে ওঁর ছেলে সুখী হতে পারবে না। আর সেটা জানিয়েও ছিলেন জামালকে। উনি ভেবেছিলেন ব্যাপারটা সাময়িক, কিছুদিনের মধ্যেই সামলে উঠবে জামাল।

     ভুল বলেছেন উনি মেয়েটিকে। ছোটোখাটো কথা কাটাকাটি ছিল না সেটা। একে অপরকে আঘাত দিয়ে অনেক কথা বলেছিল দুজনেই সেদিন। জামালের বলা কথাগুলোই বেশি করে মনে আছে আসিফার। সে প্রশ্ন তুলেছিল আসিফার উদ্দেশ্য নিয়ে। আসিফা কি জামালের জীবনও তার নিজের জীবনেরই মতো হতাশাগ্রস্ত করে তুলতে চায়? কেন আসিফা এমন ঘটনায় খুশি হয় যেটা তার ছেলের জীবনে ঘন অন্ধকার টেনে এনেছে? সে কি সারাজীবন নিজের মায়ের পায়ের তলাতেই নিজের জীবন কাটাবে, একটা অসহায় শিশুর মতো? উত্তর অবশ্য আসিফাও দিয়েছিলেন। কিন্তু নিজের কথাগুলো অনেকটাই অস্পষ্ট ওঁর কাছে। এখন নিজের বলা কিছু কথা মনে পড়তে শুরু করল আসিফার।

     কখন চোখের পাতা ভিজে গিয়েছে, সেটা আসিফা বুঝতেও পারেননি। পারলেন যখন চোখ থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে ওঁর জামা ভিজিয়ে দিতে লাগল।

     ‘আমি খুব দুঃখিত ম্যাম! আসলে সবার মধ্যেই নিজের প্রিয়জনের সম্পর্কে খারাপ কিছু শোনার আর শুনেও বিশ্বাস করার ব্যাপারে একটা প্রতিরোধ কাজ করে। সেটা দূর করার জন্যেই কিছু অপ্রিয় তথ্য তুলে ধরতে হয় আমাদের। আপনাকে আরও একটা ব্যাপার জানানো দরকার। মি: জামাল কিছুদিন ধরে একজন সাইকিয়াট্রিস্টের সাহায্য নিচ্ছেন। কিন্তু গত মঙ্গলবারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিস করেছেন উনি। আমাদের প্রোগ্রাম অনুসারে এটাও একটা খারাপ ইঙ্গিত।’

     রুমাল দিয়ে চোখ মুছে কিছুক্ষণ চুপচাপ সামনের দিকে তাকিয়ে রইলেন আসিফা। তাঁর জীবনে পরীক্ষার কি কোন শেষ নেই? তবে হার মানার মানুষ নন আসিফা। প্রায় তিরিশ বছর ধরে জীবনের সঙ্গে সংগ্রাম করছেন তিনি, প্রয়োজনে আরও তিরিশ বছর লড়াই চালিয়ে যেতেও তিনি পিছুপা হবেন না।  

     ‘বুঝলাম। এবার আমার কী করণীয় সেটা বলো। তোমার কথা অনুযায়ী যদি সত্যিই ও এই মুহূর্তে আত্মহত্যার পথে এগোচ্ছে, তাহলে সেই পথ থেকে ওকে ফেরাতে হলে কী করতে হবে আমাকে?’

     একটা লম্বা নিঃশ্বাস ছাড়ল মেয়েটি। আসিফা বুঝলেন তাঁর অ্যাকসেপ্টেন্সের ফলে অনেকটাই রিলিভড ফিল করছে জ্যোতি।                       

     ‘ধন্যবাদ ম্যাম!’ অল্প হেসে বলল জ্যোতি, ‘এই অবস্থা থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনতে তাদের পরিবার আর বন্ধুদের সাপোর্ট সবচেয়ে জরুরি। সবচেয়ে প্রথম, এই পরিবেশ থেকে আপনার ছেলেকে অন্তত একমাসের জন্যে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে হবে। ওঁর রেগুলার রুটিন ভেঙে দিতে হবে। অন্য পরিবেশে গেলে ওঁর মানসিক অবস্থা আর চিন্তাধারারও পরিবর্তন হবে। নিজের জীবন নিয়ে তিনি আবেগ মুক্ত হয়ে চিন্তাভাবনা করতে পারবেন।’  

     ‘কিন্তু একমাস ছুটি তো ও পাবে না। নিজের কাজ নিয়ে প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকে। একদিন ছুটি পেতেও ওর কালঘাম ছুটে যায়।’  

     ‘ছুটি ওঁকে নিতেই হবে, প্রয়োজন হলে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দেখিয়ে ছুটি নিতে হবে। আর যদি শেষ পর্যন্ত ছুটি নাও পাওয়া যায়, তবুও ওঁকে নিয়ে যেতে হবে এখান থেকে। কোন চাকরিই জীবনের থেকে বেশি দামি নয়। ওঁর যা যোগ্যতা আর কাজের বাজারে সুনাম তাতে নতুন কাজ পেতেও ওঁর অসুবিধে হওয়ার কথা নয়।

     এমন কোনও জায়গায় ওঁকে নিয়ে যান যেখানে ওঁর ছোটবেলাটা কেটেছে। যদি সম্ভব হয় পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যেন ওঁর দেখা হয়। আচ্ছা, একটু দাঁড়ান!’

 

    যেন এইমাত্র কোনও একটা কথা মনে পড়ে গেছে জ্যোতির, এমন ভাবে নিজের পার্স থেকে একটা ভাঁজ করা কাগজ বের করে সেটা পড়ে সে জিজ্ঞেস করল, ‘ভেলিথা বলে কোন এক জায়গায় থাকতেন আপনারা? সেখানে কি একবার যাওয়া সম্ভব হবে আপনাদের?’

     ভেলিথা! শব্দটা মস্তিস্কে প্রবেশ করতে মুহূর্তের ভগ্নাংশ সময় লাগল, তারপরই হুড়মুড় করে স্মৃতির বন্যা যেন ভাসিয়ে নিয়ে গেল আসিফাকে। উনি জানেন না কী করে এরা ওই জায়গাটার নাম টেনে বের করেছে, আসিফা নিজেই ভেলিথাকে নিজের অন্তঃপুরের সিন্দুকে ভরে তাতে চাবি দিয়ে রেখে দিয়েছেন প্রায় দু দশক। তবে কি জামালও ভুলতে পারেনি ভেলিথাকে? সেই সঙ্গে সাদেকের কথাও কি মনে রয়েছে ওর? কিন্তু সেটা কি সম্ভব? প্রায় একুশ বছর পার হয়ে গেল!  

 

     আসিফা কিছুটা আশ্চর্য হয়েই লক্ষ করলেন যে সাদেক বা ভেলিথা নাম দুটো আর ওঁর মধ্যে যন্ত্রণা বা ক্রোধের জন্ম দিচ্ছে না। বরং তাদের মুখোমুখি দাঁড়াতে ইচ্ছে করছে আজ। সাদেককে কি জামাল চেনে? প্রশ্নটা জ্যোতিকে করতে করতেও করলেন না তিনি। জ্যোতি এখনও কিছু বলছে কিন্তু তা আর মস্তিস্কে প্রবেশ করছে না আসিফার। অস্ফুট গলায় তিনি বললেন, ‘ঠিক আছে। ভেলিথাতেই যাব আমরা। শুধু একটা কথা বলো আমাকে। আমার জামাল এর মধ্যেই কিছু করে বসবে না তো? তোমাদের প্রোগ্রাম কি এই বিষয়ে কিছু বলতে পারে?’

     ‘পারে। প্রোগ্রাম অনুসারে অনন্ত সাত দিনের মতো সময় আছে। কিন্তু আমার মনে হয় ততদিন অপেক্ষা করা ঠিক হবে না। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যেই আপনারা বেরিয়ে পড়ুন। আর কথা বলুন নিজের ছেলের সঙ্গে, ওঁর ছোটবেলা নিয়ে। ওঁর বর্তমান ধারণা উনি আপনার উপযুক্ত ছেলে হয়ে উঠতে পারেননি, সেদিন আপনাকে বলা কথাগুলোর জন্য উনি অসম্ভব অনুতপ্ত। সেই অপরাধবোধ থেকে ওঁকে বের করে নিয়ে আসতে হবে। আর একটা কথা। আপনি ওঁর মা, হয়তো কথাটা জানেনই। উনি কিন্তু এখনও ভীষণই স্পর্শকাতর। একটু ভেবে দেখুন আপনার কোন কোন ব্যবহার ওঁর অপরাধবোধ রোজই বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই সাইকেলটা ভেঙে ফেলুন।’  

     মাথা নাড়লেন আসিফা। উনি সবই জানেন। কিন্তু অনেক সময় খুব স্পষ্ট জিনিসও মানুষ দেখতে পায় না যখন তার মন স্বার্থপর হয়ে যায়। উনি ভেবেছিলেন জামাল বড় হয়েছে, আর অত নজর দেওয়ার প্রয়োজন নেই ওর প্রতি। নিজেকে নিয়েই একটু বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন আসিফা ইদানিং।   

     ‘চিন্তা করবেন না, আমরা ওঁকে ক্রমাগত ট্র্যাক করব। উনি যখনই বিপদের বাইরে চলে যাবেন, আপনাকে জানিয়ে দেব আমরা। তবে আপনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবেন না। প্রয়োজন হলে আমরাই যোগাযোগ করব আপনার সঙ্গে।’

     কিছুক্ষণ চুপচাপ কাটল। মাথা নেড়ে জ্যোতি জানাল যে এবার ওর যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। একটু হাসার চেষ্টা করলেন আসিফা। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে মেয়েটির মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, ‘জানি না কী বলে ধন্যবাদ দেব তোমাকে। আর অবশ্যই তোমার বন্ধু দম্পতিটিকে। তোমারও আসল নাম বোধহয় জ্যোতি নয়, তাই না? সে যাই হোক, আমি তো বলব জ্যোতিই সঠিক নাম তোমার।’

     মাথা ঝাঁকিয়ে হাসল মেয়েটি। তারপর সেও উঠে দাঁড়াল।  

     ‘তুমি এগোও জ্যোতি, এখানকার বিলটা অন্তত আমি দিই।’ আসিফা বললেন। আসলে এখানে আরও কিছুটা সময় কাটাতে চান তিনি। ও চলে গেলে এখান থেকেই জামালকে একটা কল করবেন।

     মনে মনে আধুনিক প্রযুক্তিকেও ধন্যবাদ জানালেন আসিফা। যেমন ভালোর মধ্যে মন্দ লুকিয়ে থাকে, তেমনই মন্দের মধ্যেও অনেকসময় ভালো লুকিয়ে থাকে। তবে যারা বলে শিগগিরই মানুষের আর কোনও প্রয়োজন থাকবে না এই পৃথিবীতে; একদিন যন্ত্র মানুষের সব কাজই করে ফেলবে তারা ঠিক বলে না। অনেক কাজই হয়তো মেশিন পারবে। কিন্তু জ্যোতিদের হৃদয়, ওদের মতো বিবেক কোথা থেকে নিয়ে আসবে মেশিন? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নাগাল হয়তো পেয়ে গেছে প্রযুক্তি। কিন্তু কৃত্রিম বিবেক, কৃত্রিম ভালোবাসা আজও অধরাই রয়ে গেছে।       

     ক্যাফের কাচ ভেদ করে জ্যোতিকে দেখতে পেলেন আসিফা। সে এখন তাড়াহুড়ো করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জ্যোতি একবারের জন্যও ফিরে তাকাল না, রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগল গাড়ির জন্যে। ঘন ঘন ঘড়ি দেখছে মেয়েটি।

     এইটুকু বয়সের ছেলেমেয়েগুলি নিজের ভবিষ্যতের ঝুঁকি উপেক্ষা করে মায়েদের কাছে তাদের সন্তানদের ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কথাটা চিন্তা করেই দৃষ্টি আবার ঝাপসা হয়ে এল আসিফার।

3 thoughts on “কৃত্রিম

  • May 1, 2020 at 2:20 pm
    Permalink

    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরীর উপন্যাস ‘অনিলিখা ও সেই সন্ত্রাসবাদী ছেলেটা’য় এই কাহিনীর মূল উপজীব্য বিষয় নিয়ে বাংলায় প্রথম বিস্তৃতভাবে পড়েছিলাম। এটিও ভালো লাগলো বেশ।

    Reply
  • May 3, 2020 at 3:42 pm
    Permalink

    ভালো লেগেছে। বাস্তবতার খুব কাছাকাছি গল্পটার গল্প। শুভকামনা রইল।

    Reply
  • August 26, 2020 at 12:55 pm
    Permalink

    Khub bhalo laglo.ottonto prasongik

    Reply

Leave a Reply




Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!