ঘনাদার নতুন গল্প – ধোঁয়া

ঐতিহ্য মল্লিক

অলংকরণ: দীপ ঘোষ

ঘনাদা বললেন ‘ধোঁয়া’।

     শিশিরের সিগারেটের টিন থেকে ১১২৭২ নম্বর সিগারেটটা ধার করে, আরাম কেদারায় মৌজ করে হেলান দিয়ে সুখটানের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বললেন ‘ধোঁয়া’।

     কথা উঠেছিল বাজেট নিয়ে। শিশির বলছিল, ‘এই প্রতিরক্ষা খাতে বছরে ৮০,০০০ কোটি টাকা করে ঢালা হচ্ছে–এতে কার কী লাভ হচ্ছে বল তো? যে দেশে অর্ধেক লোক খেতে পায় না সে দেশে অ্যাটম বোমা, হাইড্রোজেন বোমা, মিসাইল বানাবার বড়লোকি চালের দরকার কি? এরা বুঝতে পারছে না, ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন দানব তৈরি করেই মরতে হয়েছিল ভিকটর ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনকে।’

     ‘আচ্ছা এর পর মানুষ কী বানাবে বলুন তো?’ জিজ্ঞাসা করল গৌর।

     ‘আর বানাবার আছেটা কি?’ একটু যেন রেগেমেগেই জবাবটা দিয়েছে শিবু।

     ‘এখুনি পৃথিবীর সমস্ত দেশের একসঙ্গে সম্মেলন ডেকে অস্ত্রশস্ত্র বানাবার সমস্ত চেষ্টা রদ করা উচিত। ভারতের মতো দেশে এসব অস্ত্রশস্ত্র বানাবার চেষ্টা না করে ভালো চাল, ডাল, শাকসবজি ফলাবার চেষ্টায় সমস্ত বৈজ্ঞানিককে নিয়োজিত করা উচিত।

     ‘ভারতে এর চেয়ে আরও অনেক বেশি শক্তিশালী অস্ত্র আবিষ্কারও হয়েছে ব্যবহারও হয়েছে’ কথাটা বললেন ঘনাদা।

     এক বিস্ময়ের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই আর একখানা ছাড়লেন তিনি। আর হয়েছে আজ থেকে তিন হাজার বছর আগে।

     ‘কি অস্ত্র?’ আমাদের সমস্বরে প্রশ্ন।

     ‘ধোঁয়া!’ বললেন ঘনাদা।

     গৌর বোকা সেজে বলল, ‘আরও একটু পরিষ্কার করে বলুন না ঘনাদা। তিন হাজার বছর আগে আমাদের হাতে এত শক্তিশালী অস্ত্র ছিল, এ আপনি কোথা থেকে পেলেন?’

     ঘনাদা অর্ধনিমীলিত নয়নে খানিকক্ষণ সিলিং এর দিকে চেয়ে থেকে যেন আপন মনেই বললেন, ‘আহমেদ শিয়া মেমুর সেই যে সেবাসটিয়ান আলমাডিয়াকে নাকানি-চোবানি খাইয়ে ছেড়ে দিয়েছিল, সে কথা বোধহয় বেচারা আজও ভুলতে পারেনি।’

     ব্যস, আমরা সবাই নতুন গল্পের, বা বলা ভালো (ঘনাদার ভাষায় ইতিহাসের) গন্ধ পেয়ে আরও কাছে ঘেঁষে বসলাম।

     ১১২৭৩ নম্বর ধারের সিগারেটটি ধরিয়ে আকাশের দিকে ধোঁয়ার কুন্ডলি ছেড়ে আরাম কেদারাতে একটু হেলান দিয়ে বসতেই শিবুর একটু বাড়াবাড়ি রকমেরই উস্কানি, ‘ওই “আহা লেমুর” না কি একটা বললেন ঘনাদা?’

     ‘আমি তখন কোথায়? হ্যাঁ! মনে পড়েছে– টার্কিতে। টোপকাপি মিউজিয়ামে প্রাসাদে একটা প্রাচীন মানচিত্রের ব্যাপারে গেছিলাম। পিরি রইস এর ম্যাপ। সে ম্যাপ দেশ-বিদেশের বিজ্ঞানীদের কাছে আজও একটা রহস্য হয়ে রয়েছে। কেন না সে ম্যাপ আঁকা হয়েছিল ১৫০০ সালে যখন সাউথ আমেরিকাই ভালো করে আবিষ্কার হয়নি। কিন্তু ওই ম্যাপে সাউথ আমেরিকার পাহাড়পর্বত আঁকা তো আছেই, আরও অদ্ভুত হল এ ম্যাপে অ্যান্টার্কটিকা আঁকা রয়েছে। এমনকি অ্যান্টার্কটিকার বরফ সরালে যে জমি পাওয়া যাবে যা কেবল হাল আমলের স্যাটেলাইট পিকচারেই কেবল আঁকা সম্ভব হয়েছে সেই জমির অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশও নিখুঁতভাবে আঁকা রয়েছে।
‘কামাল পাশা টার্কিতে নতুন দেশ গড়বার ব্রত নিয়ে তখন দেশ বিদেশের বিজ্ঞানীদের একটা সেমিনার আয়োজন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কামালের পীড়াপীড়িতে অনেকটা বাধ্য হয়েই সম্মেলনের নিরাপত্তার দিকটা খুঁটিয়ে দেখতে তখন ইস্তামবুলের বসফরাস প্যালেস হোটেলর আট তলার একটা রাজকীয় স্যুটে আছি।

     ‘ইচ্ছে করেই চেহারাটায় সামান্য বদল এনেছি। চিবুকে একটু ছাগল দাড়ি, চোখের কোলে দু-চারটে বাড়তি আঁকিবুকি, মাথায় একটা লাল তুর্কি টুপি লাগিয়ে হাঁটার কায়দাটা অন্যরকম করে নিয়েছি। সেদিন আতাতুর্ক সাহেবের সেক্রেটারীর সঙ্গে দেখা করে কতকগুলো গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিতে গেছিলাম।’

     ‘বলেন কি ঘনাদা? কামাল পাশাকে আপনি চিনতেন নাকি?’

     ঘনাদা গ্রাহ্য না করে বলে চললেন, ‘টোপকাপি প্রাসাদের লাগোয়া মিউজিয়াম থেকে বেরিয়ে রাস্তার ধারে একটা রেস্তোরায় বসে কফি খাচ্ছি এমন সময় এক ভদ্রলোক যেন অনেকটা গায়ে পড়েই আলাপ করলেন। নিজেই পরিচয় দিলেন, তাঁর নাম সেবাসটিয়ান আলমাডিয়া। তিনি একজন আর্কিওকার্টোগ্রাফার।’

     ‘কি গ্রাফার?’

     ‘কার্টোগ্রাফার মানে ম্যাপ-বিশেষজ্ঞ। তার আগে আর্কিয়ো জুড়লে বুঝতে হবে ঐতিহাসিক ম্যাপ-বিশেষজ্ঞ। আসলে তিনি টাকার কুমির, ম্যাপ নিয়ে পড়াশুনা করাটা তাঁর শখ।’

     পিরি রইস এর ম্যাপ নিয়ে স্বভাবতই কথাটা উঠল। ‘ম্যাপটা সম্বন্ধে আপনি কি মনে করেন?’ প্রশ্নটা করলাম আলমাডিয়াকে।

     ‘ওটা একটা আজব জিনিস। আসলে পিরি রইস ম্যাপগুলো এঁকেছিলেন আরও তেরোখানা পুরানো ম্যাপ থেকে। তার ভেতর কলম্বাসের নিজের আঁকা চারখানা ম্যাপও ছিল। আন্টার্কটিকা সম্বন্ধে পিরি রইসের নিজের জবানিতে যা জানা যায়, তা হল পিথারো গনজালেস নামে এক পাঁড় মাতাল পর্তুগিজ জাহাজের ক্যাপ্টেন এর কাছ থেকে জলের দরে সাত-আটটা ম্যাপ কেনেন পিরি রইস। সে ম্যাপ ইনকাদের হারিয়ে যাওয়া “কুকা”-র মন্দিরের পুরোহিতের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছিল গনজালেস। সে ম্যাপে যা রয়েছে, তাই এঁকেছেন পিরি রইস। তিনি নিজেও জানতেন না তিনি কি আঁকছেন। কেন না আন্টার্কটিকা বলে কোনও দেশের অস্তিত্ব তখন জানা ছিল না। আরও আজব ব্যাপার হল আন্টার্কটিকার বরফের তলার জমির হুবহু ছবি রয়েছে ওই ম্যাপে, যা কেবল হাল আমলে, মানে ১৯৭২ সালে আঁকা সম্ভব হয়েছে। ইনকারা ওই ম্যাপ আঁকল কী করে? এর দুটো মানে হতে পারে।’

     একখানা চুরুট ধরিয়ে বললেন আলমাডিয়া সাহেব।

     এক হয় যদি সে ম্যাপ কেউ এঁকেছিল যখন আন্টার্কটিকায় বরফ হয়নি অর্থাৎ কয়েক লক্ষ বছর আগে। দুই হল কেউ মহাকাশযান থেকে ওই ছবিগুলো এঁকেছে।’

     ‘মহাকাশযান!! মানে অন্য গ্রহের প্রাণীদের কথা বলছেন?’

     ‘হ্যাঁ, সম্প্রতি সমস্ত দেশের বিজ্ঞানীরা একমত হয়েছেন পিরি রইসের ম্যাপে যেরকম পৃথিবীর ম্যাপ দেখানো হয়েছে, তা কেবল মহাকাশযান থেকেই আঁকা সম্ভব।’  

     ‘এটা একটা জালিয়াতিও তো হতে পারে না কি? পৃথিবীজোড়া ধনকুবেরদের প্রলুব্ধ করার জন্যে ওরকম জালিয়াতি হামেশাই হয়ে থাকে।’

     ‘জালিয়াতি হওয়া সম্ভব না। কেন না কার্বন টেস্টিং করে জানা গেছে ও ম্যাপ চারশো বছর আগেই আঁকা।’

     একটু দ্বিধাগ্রস্ত হয়েই হোটেলে ফিরলাম। সেইখানে এসে দু’খানা টেলিগ্রাম করে দিলাম। একটা ‘ন্যাকা’য়, অন্যটা সুইজারল্যান্ডে আমার এক পুরানো বন্ধু হানস লুটভিক-কে, ‘মাছটা জালের কাছে খলবল করছে। ইনটারপোলে খবর নাও লোকটা কে !!’

     ‘ন্যাকাটা কী ঘনাদা!’ খানিকটা ন্যাকা সেজেই প্রশ্ন গৌড়ের।

     ‘ওই যার আজকাল নাম হয়েছে নাসা–ন্যাশনাল এরোনটিক্স এন্ড স্পেস অর্গানিসশন, সেটারই পুরানো নাম ছিল ন্যাকা–ন্যাশনাল অ্যাডভাইসারি কমিটি ফর এরোনটিক্স।

     যাইহোক, সন্ধেবেলা বেরিয়ে একটা ছোট হোটেলে টার্কির রুটি বুরেক, আদানা কাবাব আর একটু রেড ওয়াইন বুজবাগ খেয়ে একটু অলস ভাবেই হাঁটতে হাঁটতে বসফরাস প্রণালীর পাশটা দিয়ে হোটেলে ফিরছিলাম।

     বসফরাস প্রণালীতে এ সময়টা মাছের যেন গাদি লাগে। সব দেশের মতো এখানেও রাতের বেলা মাছ ধরতে যাওয়াটাই নিয়ম। জেলেদের নৌকোর লণ্ঠনের আলো, মাছের গন্ধ, দেশি মদ “রাকি”র ঠেক পেরিয়ে শুনশান মতন একটা জায়গা দিয়ে যাচ্ছি, হঠাৎ একটা ঘুপ করে চাপা শব্দ। আর তারপরেই বাতাস কাটার শনশন আওয়াজ–খট করে একটা শব্দের সঙ্গে টুপিটা যেন কেউ থাপ্পড় মেরে ফেলে দিল মাটিতে। পাশে কতকগুলো ঠেলাগাড়ি দাঁড় করানো ছিল, এক লাফে তার নিচে শুয়ে পড়লাম। ওটা সাইলেন্সর লাগানো পিস্তলের শব্দ। যেরকম শব্দটা হল ওটা ৩২ ক্যালিবারের লুগার অটোম্যাটিক হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। গুলিটা ঠিক জায়গামতো লাগলে আহমেদ শিয়া মেমুরের, মানে আমার এই মুন্ডুটা টুকরো হয়ে যেত।

     ‘ওহ!! আমি আগেই জানতাম আপনিই লেমুর, থুড়ি মেমুর’ বলল শিশির।

     ঘনাদার মুখে অন্ধকার ঘনাচ্ছে দেখে আমি পোঁ ধরলাম, “ও কোন দেশি নাম ঘনাদা? ‘আরামিক’ নাম তাই না?’

     ‘না, খাঁটি বাঙালি নাম। ওই আলমাদিয়াকে দেখেই নামটা মাথায় এসেছিল। লোকটার চেহারা আর কথার টান থেকেই বুঝেছিলাম সে জার্মান। তা, সে যখন হুট করে পর্তুগীজ নাম নিয়ে ফেলল, আমিও মুখে যা আসে একটা ছদ্মনাম নিয়ে নিলাম। “আহমেদ শিয়া মেমুর”। “শিয়া” মানে ঘনশ্যাম আর “মেমুর” মানে দাসানুদাস।’

     ‘আহ, তোর আবার নামমাহাত্ম্য নিয়ে মাথাব্যথা। যা বলছিলেন বলুন ঘনাদা। ঠ্যালাগাড়ির তলায় তখনও লগা দিয়ে খোঁচাচ্ছিল লোকটা?’ অধৈর্য হয়ে বলে উঠল গৌর।

     ‘লগা না লুগার, জার্মান পিস্তল।’ ঘনাদা করুণার হাসি হাসলেন।

     ‘অমাবস্যার রাত, রাস্তার আলোগুলো এদিকটায় খুব কম। তারই মধ্যে একজন প্রায় ছ’ফুট লম্বা, ঘাড়েগর্দানে লোককে গাড়িতে উঠে পালাতে দেখলাম। গাড়িটা কালো রঙের অস্টিন; গাড়ির নম্বর নোট করে নিলাম যদি পুলিশ স্টেশনে দিলে ওদের কিছু কাজে লাগে। নম্বর প্লেট যে জাল তাতে কোনও সন্দেহ ছিল না।’ ঘনাদা শিশিরকে পাত্তা না দিয়েই বলে চললেন।

     ‘ধন্যি চোখ বটে আপনার। ওই মিশকালো অমাবস্যার অন্ধকারে লোকটার হাইট আর গাড়ির নেমপ্লেট ঠিকই দেখে নিয়েছিলেন’ বলতে বলতে খুক খুক করে কেশে উঠল গৌর, আর তারপরে আমিও!

     ঘনাদা কিছু বলার আগেই শিবু সামাল দিল, ‘বনোয়ারিকে দিয়ে স্পেশাল কয়েকটা চিংড়ির কাটলেট ভাজিয়েছি, ওগুলো এবার নিয়ে আসতে বলি।’

     কাটলেট খাওয়া থেকে চা পর্যন্ত আমরা অসীম ধৈর্যে বসে রইলাম আমরা। সিগারেটে দু-চারটে সুখটান দিয়ে ঘনাদা আবার শুরু করলেন, ‘হোটেলে ফিরে দেখি দু-খানা টেলিগ্রাম এর উত্তর এসেছে।’

 

শ্রদ্ধেয় ডস,

“আলমেদিয়া কে আমি চিনি না। আমার সঙ্গে তাঁর কোনও আলাপ হয়নি। পিরি রেইস এর ম্যাপ এর সম্বন্ধে আমার বক্তব্য হল ওটা একটা বাজে রসিকতা কিংবা উঁচুদরের জালিয়াতি।

 বিনীত
জে এম ব্যারি

ডিরেকটর

ন্যাকা

 

প্রিয়  ডস,

‘যেমন বর্ণনা দিয়েছ, মনে হচ্ছে ওর নাম হেকটর মূলেন। অনেক দেশে অনেক কুকীর্তি করেছে। প্রত্নসম্পদ চুরি করে দুনিয়ার ধনকুবেরদের বিক্রি করা ওর পেশা। আমার ম্যাপ বাঁচাও।’

লুটভিক

 

‘লুটভিক আমার একজন পুরানো বন্ধু আর “Ancient Astronomical Society”-র একজন সখের পুরাতত্ববিদ। পিরি রইস এর ম্যাপের ইনি একজন আবিষ্কর্তা এবং টিকাকার। Ancient Astronomical society হল একটা সংস্থা যেটায় প্রাচীনকালে মানুষের হাতে কোনও উড়ুক্কুযান ছিল কি না সে বিষয়ে গবেষণা করে। অনেক বিজ্ঞানীদের কাছে এ সংস্থা একটা আজগুবি মাথাপাগলা লোকেদের আস্তানা বলে গণ্য হলেও এ সোসাইটির কাজকর্ম অনেক বিজ্ঞানীও সমর্থন করেন। সেবাসটিয়ান আলমাডিয়া লোকটা যে সোজা লোক না তা আগেই বুঝেছিলাম। তুর্কিতে একটা দল পিরি রইস এর ম্যাপ চুরি করার জন্যে এসেছে এটাও ঠিক। তার ভেতর আমার চেহারা দেখে নিশ্চয়ই কেউ চিনে ফেলেছে, কেন না পৃথিবীর সাতটি দেশে অন্তত তেরো-চোদ্দোবার আমার ওদের সঙ্গে মোকাবিলা হয়েছে। এদের পেছনে যে মার্কিন ধনকুবেরদের লম্বা হাত কাজ করছে সে কথা সবাই জানে।

     ‘পরের দিন কিছু হবে না জেনেও পুলিশ স্টেশনটা ঘুরেই এলাম। পুলিশ কর্তা আল আমিন বুখারি আমার গল্প শুনে এমনভাবে তাকালেন, মনে হল উনি ভাবছেন সকালবেলা কোনও পাগলের আগমন হল কে জানে! শেষে নিজের পরিচয়টা দিতেই সুর বদলে গেল। অনেক ক্ষমাপ্রার্থনা করে তুর্কি ভাষায় যা বললেন তিনি তার মানে আপনার আগমনে মধ্যপ্রাচ্য ধন্য হল।’

     খুক-খুক করে শিশিরের কাশির শব্দ শোনা গেল। ঘনাদা নির্বিকার, শেষে আমাকেই হাল ধরতে হল।

     ‘কী হল তোর! পাখাটা চালিয়ে শুচ্ছিস নাকি আজকাল? কয়েকদিন বৃষ্টি বাদলা করেছে। এই করে বড় অসুখ বাঁধাবি নাকি রে?’

     ঘনাদা নিরুত্তাপ কন্ঠে বলে চলেন, ‘পুলিশকর্তা বারবার আশ্বাস দিলেন যে তিনি নজর রাখবেন, কিন্তু আমি জানি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ চোরদের মোকাবিলা করার ক্ষমতা তুর্কি পুলিশের কেন, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডেরও নেই। সে কাজ করতে পারে একজনই–আর সেটা চোরেরাও জানে। তাইতো কাল রাতে অমন বিনা নোটিশে গুলি ছুঁড়ে পথের কাঁটা দূর করতে চাইছিল। কিন্তু একটা গুলি ছুঁড়ে পালানোটা যেন কিরকম অঙ্কে মিলছিল না।

     ‘টোপকাপি মিউজিয়ামে সেদিন আরেকবার ঢুকে ম্যাপটা দেখতে গেলাম। ম্যাপটা দেখেই চমকে উঠলাম। হরিণের চামড়ার উপর সবুজ কালিতে আঁকা চারশো বছরের পুরানো ম্যাপের জেল্লা যেন আজকে একটু বেশিই মনে হচ্ছে। ভালো করে দেখে নিশ্চিত হলাম চোরেরা কাজ হাসিল করেছে; আর এটা জাল ম্যাপ। অবশ্য এমনি জাল যে তা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞদের ধোঁকা লাগিয়ে দিতে পারে। মিউজিয়মের ডিরেক্টরকে বলতে দৌড়ে এলেন আর প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ম্যাপটা বের করে আতস কাচ ফেলে পরীক্ষা করতে লাগলেন।’

     ‘আপনি বলছেন এ ম্যাপটা জাল? কিন্তু আমি তো দেখছি ঠিকই আছে সব?’

     ‘ভালো করে দেখুন রহিম সাহেব। রং এর কথা বাদই দিলাম। পিরি রইস এর ম্যাপ এ যে “পোরটোলান” পদ্ধতিতে আঁকা হয়েছে, এ ম্যাপে তা হুবহু নকল করার চেষ্টা হলেও ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ, পেরুর আনদেজ আর টিয়েরা দেল ফিউগোর অবস্থানে ভুল আছে। এটা আঁকা আজকের ল্যাটিচুড-লঙ্গিচ্যিউড ধরে। ম্যাপ জালিয়াত প্রাচীন ম্যাপ সম্বন্ধে ভালো জানে না।

     ‘ওটা কী বললেন ঘনাদা? কী পদ্ধতি?’

     ‘পোরটোলান মানে প্রাচীনকালের ল্যাটিচুড-লঙ্গিচ্যিউড আঁকার পদ্ধতি। তার সঙ্গে আজকের বিস্তর ফারাক। আর পিরি রইস এর ম্যাপ আঁকা হয়েছিল কাইরোকে কেন্দ্র করে পোরটোলান পদ্ধতিতে। আজকের যুগে যা আঁকা হয় গ্রীণউইচকে জিরো ডিগ্রি ধরে। এ যুগের কেউ যদি প্রাচীন কোনও ম্যাপ নকল করতে যায় এ দুয়ের মধ্যে বিস্তর অঙ্কের গোলমাল এসে যায়।

     আমার কথা শুনে রহিম সাহেবেরও চক্ষু চড়কগাছ। তারপর তিনি প্রায় ডুকরে উঠলেন, ‘এখন কী হবে সেনর ডস? আমার তো আর চাকরি থাকবে না।’
রহিম সাহেবকে সান্ত্বনা দিয়ে একটা ট্যাক্সি ধরে “টারকি সুলতানহান” হোটেলে পৌঁছালাম। আটতলার ওপরে ৮২১ নম্বরে একটু আলতো করেই টোকা দিলাম।

     ‘কে!!’

     ‘আমি শিয়া মেমুর।’

     দরজা খুলে কিছুটা বিরক্তি আর বিস্ময়ের সঙ্গে আলমাদিয়া বলল, ‘আরে আপনি? আসুন কি ব্যাপার?’

     ঘরে ঢুকে সোফায় বসে ধীরেসুস্থে একটা সিগারেট ধরালাম।

     ‘ব্যাপারটা হল গিয়ে আলমাদিয়া সাহেব আপনার একটা জিনিস আমার কাছে পড়ে আছে। আর আমার একটা জিনিস আপনার কাছে। ও দুটো বদলাবদলি করতে এলাম।’

     ‘আমার জিনিস আপনার কাছে? কি বলছেন আপনি?’

     ‘হ্যাঁ, এই যে!! পকেট থেকে খালি কার্তুজ এর খোল বার করে দিলাম। আপনার লুগার অটোম্যাটিক-এর একটা ফাঁকা খোল। জিনিসটা কুড়িয়ে নিয়েছিলাম সেদিন। আর আমার ম্যাপটা আপনার কাছে রয়েছে, ওটা দিয়ে দেন যদি।’

     ‘তোর ম্যাপ মানে? কে তুই?’ আলমাদিয়া সোজা তুই-তোকারি-তে নেমে এল।

     ‘আরে সে আপনার ম্যাপ বা পিরি রইসের ম্যাপ যা বলেন। সোজা কথা মিঃ আলমাদিয়া ওরফে হের মূলেন, পিরি রইসের ম্যাপ যেটা আপনি মিউজিয়াম এর রক্ষীদের ঘুষ দিয়ে হাত করে তার জায়গায় আর একটা নকল ম্যাপ রেখে এসেছেন সেইটে ফেরত দিন। বিনা পয়সায় নিচ্ছি না তো কিছু। এই গুলির খোলটা এনেছি আপনার জন্য। আপনার জিনিস ফেরত দিলাম এবার আমার জিনিসটা নেব।’

     ‘নেয়াচ্ছি তোকে হতভাগা মর্কট, উচ্চিংড়ে, কেলে গুবরে পোকা। বরং আর একটা গুলি নিবি? এই যে…’ আলমাদিয়ার হাতে লুগার অটোম্যাটিক উঠে এল।

     ‘আর একটাই বা কেন? বলিস তো পাঁচটা গুলিই দিতে পারি, পকেটে কষ্ট করে রাখতে হবে না। সব ক-টাই তোর মগজে ভরে দেব যাতে না হারিয়ে ফেলিস।’

     ‘এই তো, এই তো মুশকিল করলেন। হচ্ছিল একটা ব্যাবসাপাতির কথা, এর ভিতর আবার মারপিট কেন?’ বলতে বলতেই সোফার সামনের টেবিলটা তার দিকে ঠেলে দিয়েছি। আলমাদিয়া হুমড়ি খেয়ে পড়তেই লাফিয়ে উঠে লুগার্টা এক লাথিতে ছিটকে ফেলে দিলাম। তারপর তাকে তুলে ধরে দুটো চর্কি পাক লাগিয়ে মাটিতে আছড়ে ফেললাম। ঠনাৎ শব্দ করে চুরুট এর মেটাল কেসটা মাটিতে ছিটকে পড়ল; তার বিশমনি লাশওয়ালা মালিকের পাশেই।

     ছাগল দাড়িটা খুলে চোখের কোলের আঁকিবুঁকিগুলো একটু মুছে সোফায় আরাম করেই বসলাম। আমার দিকে চেয়ে মুলেনের গলা থেকে একটা হেঁচকি উঠে এল, ‘ডস!!… আপনি আমাদের পেছনে লেগেছেন জানলে!…’

     ‘জানলে সেদিন একখানামাত্র গুলি ছুঁড়ে আপনার ঘাড়েগর্দানে গুন্ডাটা পালাতো না। গুলির ধরণ দেখেই বুঝেছি আমাকে মারা নয়, শিয়া মেমুরকে ভয় দেখিয়ে তাড়ানোটাই নির্দেশ ছিল আপনার।’

     ‘আপনার সে আপসোস আজ আর রাখব না ডস।’

     ‘ম্যাপটা দিন।’

     আলমাদিয়ার গলায় এখন ন্যাকামির সুর। ‘সে ম্যাপ কোথায় জানি না তো। পারেন তো খুঁজে নিন।’

     ‘খুঁজেই নিই তাহলে।’ চুরুট এর কেসটা তুলে, সেটা খুলে তলায় একটা গোপন বাটন-এ চাপ দিতেই একটা লুকোনো তলা ফটাস করে খুলে গেল। সেইখান থেকে ম্যাপটা বের করলাম। তারপর সেই চুরুট কেস এর শেষ চুরুটটা তুলে নিলাম।

     ‘এতক্ষণ যদি মুলেনের মধ্যে বিস্ময় আর রাগ দেখা গিয়ে থাকে এরপর আমি যেটা করলাম সেটা দেখে সে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছে মনে হল। একটা অন্তর্ভেদী হাহাকার বেরিয়ে এল তার ভিতর থেকে ‘ওটা ক-কি করছেন ডস!!!’

     ম্যাপটা নিয়ে গোল করে পাকিয়ে লাইটার দিয়ে ধরিয়ে চুরুটটা ধরাবার চেষ্টা করছিলাম তখন আমি।

     ‘এত ভালো হাভানা চুরুট। লাইটার দিয়ে ঠিক ধরতে চাইছে না। আপনার চুরুটের অপমান তো করতে পারি না হের মূলেন।’

     ‘ম্যাপটা দিয়ে আপনি আগুন ধরাচ্ছেন হের ডস, আপনি জানেন ওটার দাম কত?’

     ‘সবই জানি মি. মূলেন। এও জানি যে এই ম্যাপটার দাম হাজার হাজার মানুষের জীবন। যে নামটা আপনি নিয়েছেন আলমাদিয়া – সেই পর্তুগীজ জাতির লোকেরা একসময় দক্ষিণ আমেরিকার আদিবাসীদের উপর কি অকথ্য অত্যাচার করেছে তাও জানি। এই ম্যাপ যে ম্যাপ থেকে আঁকা সে ম্যাপ জোগাড় করেছিলেন পিথারো গনজালেস নামে এক জলদস্যু “কুকার” মন্দিরের পুরোহিতের কাছ থেকে। মন্দিরের গুপ্তধন পাওয়ার জন্য অকথ্য অত্যাচার এবং খুন-জখম করার পর এই ম্যাপটা তার হাতে আসে। তিনি এই ম্যাপটাকে লুকোনো স্বর্ণভান্ডারের হদিস বলেই মনে করেছিলেন। অনেক হাত ঘুরে এই ম্যাপ শেষে আসে তুর্কি অ্যাডমিরাল পিরি রইসের কাছে। তিনি ম্যাপটাকে নতুন করে আঁকেন। যে ম্যাপের জন্য হাজার হাজার অসহায়, নির্দোষ মানুষের জীবন গেছে তা পুড়িয়ে ফেলাই উচিত।’

     হতভম্ব মূলেনকে বিভ্রান্তির শেষ সীমান্তে পৌঁছে দিয়ে শেষে মোক্ষম চালটা দিলাম। ‘অবশ্য এ ম্যাপটা পুড়বে না। এটা তো ১৫০২ সালে আঁকা হরিণের চামড়ার ম্যাপ না, এটা ফায়ার রেসিস্ট্যান্ট পার্চমেন্ট কাগজ দিয়ে বানানো। আর এটা এঁকেছি আমি ।’

     ‘কাগজ!!!’

     ‘হ্যাঁ! কাগজের বড়ভাইও বলতে পারেন। কাগজের সঙ্গে প্লাস্টিক মিশিয়ে তার মধ্যে দু-ফোঁটা ক্লোরোপিক্রিন আর চার ফোঁটা ফসফিন মিশিয়ে শুকিয়ে অদাহ্য করে বানানো। টোপ-কাপি মিউজিয়ামের আসল ম্যাপটা নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে এ নকল ম্যাপটা রাখবার ব্যবস্থা আমি আগেই করেছিলাম। মিউজিয়ামের ডিরেক্টর সম্পূর্ণ নির্দোষ জেনেও ওঁকে এবিষয়ে কিছু জানানো হয়নি উপর মহল থেকে। আপনার মতো শয়তান ধনকুবের দালালদের পক্ষে কিছুই অসম্ভব নয় জানি বলে আমি মিউজিয়াম এর ডিরেক্টরকে সন্দেহ না করলেও তাঁর ভুলটা ভাঙাইনি।

     ‘আসল ম্যাপটা কোথায়?’

     ‘সেটা নিরাপদ জায়গাতেই আছে। একদিক দিয়ে আপনার উপকারই করলাম মি. মুলেন। জাল ম্যাপটা আসল বলে চোরাবাজারে চালাতে গেলে আপনার জীবন সংশয় হতে পারত।’

     ‘আসল ম্যাপটা আমাকে বিক্রি করুন, নইলে আপনার আর রক্ষা নেই ডস। এই আট তলার চার-পাঁচখানা ঘরে কেবল আমার লোকরা আছে। এখান থেকে জ্যান্ত বেরোনোর আশা করবেন না।

     টেবিলের ওপর একটা বেল টং করে বাজাতেই আশপাশের ঘরের থেকে কারা যেন দৌড়ে আসার শব্দ পেলাম। আমি পকেট থেকে একটা হোমিওপ্যাথির শিশি বের করে হাতে নিলাম।

     ঘরে মুলেনের আট-দশজন লোক ঢুকে এল। সবার আগে সেদিনের সেই ঘাড়েগর্দানে। বাকিদের চেহারা সব এক একটি যেন অর্ডার দেওয়া যমদূত। আমি চট করে হোমিওপ্যাথির শিশি থেকে দু-ফোঁটা ম্যাপ এ ঢেলে দিতেই সেটা দিয়ে সাদা ধোঁয়া উঠতে লাগলো। কার্পেটে সেটা ফেলে দিয়ে, একটা ডিগবাজি খেয়ে সোফার অন্যদিকে লাফিয়ে পড়লাম। ঘাড়েগর্দানেটার থাইরয়েডটায় একটু টিপুনি তার সঙ্গে সোলার প্লেক্সাস এ দুটো মোলায়েম টোকা, বাকি একজনের হাঁটুতে একটা আস্তে করে বুটের ঠোক্কর, আর একজন আমার কলারটা বেকায়দায় ধরে ফেলায় বাধ্য হয়ে তার মুখে একটা সপাটে আপারকাট-ই মারতে হল। তখন জ্বলন্ত ম্যাপটা থেকে সাদা শ্বাসরোধকারী ধোঁয়া বেরিয়ে সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। এর বেশি দরকার নেই, কেন না সে ধোঁয়া নাকে ঢুকতেই মুলেনের মতোই দলের বাকিরাও নাক মুখ চেপে মাটিতে পড়ে গেল।

     দৌড়ে দরজা খুলে বেরিয়ে সিঁড়ির রাস্তাটাই নিলাম। ততক্ষণে শিয়ালের কান্নার মতো ভয়ানক শব্দে ফায়ার অ্যালার্ম বেজে উঠেছে। দু’মিনিটে নিচে নেমে দেখি রিসেপ্শান লোকে লোকারণ্য। দৌড়ে হোটেল থেকে বেরোতেই আমার সামনে দিয়েই বিকট ঢঙ ঢঙ শব্দে দুটো দমকলের আর দুটো পুলিশ বোঝাই পুলিশের গাড়ি ঢুকতে দেখলাম।    

     ঘনাদা শিশিরের সিগারেট এর টিনটা ভুল করে পকেটে নিয়ে উঠে পড়লেন। আমরা হাঁ হাঁ করে উঠে বসিয়ে দিলাম, ‘কিন্তু এর সঙ্গে ধোঁয়া দিয়ে তৈরি অস্ত্র ভারতে ব্যবহার হয়েছে বললেন, তার কথা বললেন না তো কই?’

     ‘ওহ সেটা? মুলেনকে রেখে হোটেল থেকে বেরিয়ে এয়ারপোর্টে গিয়ে লুটভিগকে-কে তুলে মিউজিয়ামে পৌঁছে ম্যাপ যথাস্থানে রেখে দেওয়ার পর লুটভিগের সঙ্গেই হোটেলে ফিরলাম। ইস্তাম্বুলের সেমিনারে যোগ দিতে এসেছে ও। ওর একটা পেপার পড়ার কথা ছিল। পেপারটা প্রাচীন অস্ত্র হিসাবে বিষ গ্যাসের ব্যবহার নিয়ে। আমাদের দেশে ও জিনিস ঐতিহাসিক কালে হয়েছিল হাজারচারেক বছর আগে। আলেকজান্ডার এর মৃত্যুর পরে চন্দ্রগুপ্ত তাঁর কূটবুদ্ধি গুরু চাণক্যের পরামর্শে গ্রীক রাজা মিনান্দার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করেছিলেন সেই গ্যাস। গ্যাসের উপকরণ হিসাবে বিভিন্ন ধরনের গাছগাছড়া, সাপের বিষ, মাছের তেল মিশিয়ে একটা পদার্থ তৈরি করে শত্রুসৈন্যের সামনে জ্বালিয়ে দিয়ে কেটে পড়েছিল চন্দ্রগুপ্তের সৈন্যেরা। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে ব্যাপারটার উল্লেখ পাবে। অবশ্য এর থেকেও ভয়াবহ বিষ গ্যাসের হদিস মেলে রামায়ণে। রামচন্দ্রের ভাই ভরত, এখন যাকে মহেঞ্জোদাড়ো বলে সেই অঞ্চলের সব অধিবাসীদের হত্যা করেছিলেন এক রাত্তিরে। বাড়িঘর, শহরের ক্ষতি হয়নি, কিন্তু বিষাক্ত গ্যাসে সবার মৃত্যু হয়েছিল। গ্যাসের হাত থেকে বাঁচার জন্য মৃত মানুষের দেহের উপর অর্ধমৃত কিছু মানুষ হামাগুড়ি ওঠার চেষ্টা করে। সব মিলিয়ে একটা মৃতদেহের পিরামিড তৈরি হয়েছিল। সে ভয়াবহ দৃশ্যের জন্য ওই অঞ্চলের নাম হয়েছিল মহেঞ্জোদাড়ো বা মৃতদেহের স্তূপ। এ ব্যাপারটা হিটলার এর কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পেও ঘটেছিল।

     ঘনাদা উঠে পড়লেন।

     ‘শিগগিরি জানলাগুলো খুলে দে। সিগারেটের ধোঁয়ায় আমাদের ঘরটাও হিটলার এর ক্যাম্প হতে বেশি বাকি নেই’ বলল গৌর।

     ‘কিংবা মহেঞ্জোদাড়ো’ বললাম আমি।

 

তথ্যসূত্র:
১) Use of Weapons in ancient India : http://www.hinduwisd…cient_India.htm
২) Piri Reis Mystry : PIRI REIS MAP Mystry with Photo
http://www.uwgb.edu/…SC/PiriRies.HTM
৩) Potolan : Ancient Process of
ship navigation /cartography

6 thoughts on “ঘনাদার নতুন গল্প – ধোঁয়া

  • October 3, 2019 at 8:22 pm
    Permalink

    সাধু-সাধু! ঘনাদা’র এমন প্রত্যাবর্তন মাঝেমাঝেই ঘটবে – এই আশায় রইলাম কিন্তু।

    Reply
  • October 5, 2019 at 10:25 am
    Permalink

    চমৎকার লাগলো গল্পটা। প্রেমেন্দ্রীয় ঢং যথোপযুক্ত ভাবেই প্রযুক্ত হয়েছে। যথেষ্ট গবেষণার ফসল যে এই গল্প তা প্রশংসনীয়। তবে শেষে তথ্য উৎস গুলি না দিলেই ভালো হত। পাঠকদের ভাবার রসদ দেওয়া থাকলেই ঠিক ছিল। তাতে বরঞ্চ ঘনাদার গুলটি আরো বিশ্বাসযোগ্য হত। আরো ঘনাদা কাহিনী চাই আপনার কাছ থেকে।

    Reply
  • October 6, 2019 at 2:18 am
    Permalink

    Thik kotha. Totther link gulo na dilei hoto.

    Sompadok bodhoy mone korechen je rekhe deoa valo. 🙄

    Reply
  • October 12, 2019 at 2:15 am
    Permalink

    ঘনাদা সেকালেও সেরা ছিল এবং আজও উনি অদ্বিতীয়।

    Reply
  • October 13, 2019 at 10:33 pm
    Permalink

    পড়ে দারুণ লাগলো। অনেক ঘাঁটাঘাঁটির ফসল এই লেখা বোঝা যায়। লেখককে ধন্যবাদ।।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!