জাপানি লাইট নভেল ও সায়েন্স ফিকশন

দীর যেমন শাখা প্রশাখার মতই সাহিত্যেরও অনেক শাখা প্রশাখা থাকে। তার অনেকগুলিকেই আমরা বাংলা সাহিত্যে খুঁজে পাই, তারপরেও কয়েকটা শাখা আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। তেমনি একটা শাখার নাম হচ্ছে ‘লাইট নভেল’।

     ‘লাইট নভেল’-কে মূলত ইয়াং অ্যাল্ডাট ফিকশন বলা যায়। সাহিত্যের এই শাখার মূল উদ্ভাবক হচ্ছেন জাপানিরা। তারা ইয়াং অ্যাডাল্ট ফিকশনকে নিজেদের ভাষায় ভেঙে লাইট নভেল নাম দিয়েছে। লাইট নভেলের শব্দসীমা ৪০,০০০- ৫০,০০০ শব্দের মধ্যে হয়ে থাকে, কারণ এর কমে থাকলে সেটা আমেরিকান পাবলিকেশন অনুযায়ী উপন্যাস বলা যায় না। তবে কিছু কিছু লাইট নভেল আছে যাদের শব্দসীমা ৫০,০০০ শব্দসীমা পার হয়ে যায়। আর অধিকাংশ লাইট নভেলেই কিছু আঁকা ছবি থাকে, সেটা পাঠকদের আকর্ষণ করার জন্যেই। লাইট নভেল মূলত কিশোর-কিশোরীদের ঘিরেই লেখা হয়, তবে কিছু কিছু লাইট নভেলে পূর্ণবয়স্কদের কেন্দ্র করেও লেখা হয়। বাংলা ভাষায় তো নয়ই, এমনকি ভারতের অন্য কোন ভাষাতেও সাহিত্যের এই শাখা নিয়ে কাজ হয়েছে বলে জানা যায় না।

     লাইট নভেলের ইতিহাস অনেক পুরোনো হলেও এর জনপ্রিয়তা এসেছে সম্প্রতি। এর আগে অধিকাংশ লাইট নভেলের ধরন ছিল আরপিজি (RPG)- বা রোল প্লেয়িং গেম-এর মত। বেশিরভাগ প্লটই থাকত ফ্যান্টাসি জগতকে কেন্দ্র করে। সেই সময় জনপ্রিয় লাইট নভেলের মধ্যে, স্লেয়ারস (Slayers), সোর্ড ম্যাজিক অরফেন (Sword Magic Orphen) উল্লেখযোগ্য।

     লাইট নভেল শাখার জনপ্রিয়তা আসে সুজুমিয়া হারুহি সিরিজ বের হওয়ার পর থেকে। এই সিরিজের বইগুলি প্রথম প্রকাশ পায় জাপানে এবং ক্রমে বিভিন্ন ভাষায় এর অনুবাদ ছড়িয়ে পরে সারা পৃথিবীতে। কাহিনী একটা মেয়েকে নিয়ে, যাকে কেন্দ্র করে পুরো পৃথিবী চলছে এবং এলিয়েন, এসপার, টাইম-ট্র্যাভেলারা মেয়েটিকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। কাহিনী সংক্ষেপ অনেক সাইন্স ফিকশন প্লটের মত শোনালেও এখানে সুজুমিয়া হারুহি নামের মেয়েটার দৈনন্দিন জীবনটাই ফুটে উঠছে।

     এই সিরিজ বের হবার পর লাইট নভেল শাখাকে আর বসে থাকতে হয়নি, তাদের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে উঠেছে। বাইরের দেশগুলিতে থেকে তাদের বই বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হচ্ছে, এবং সেখান থেকে টিভি সিরিজের অ্যানিমেশন জগতে (Anime) অ্যাডাপ্টশন হচ্ছে।  

     লাইট নভেল জঁরেতে সাইন্স ফিকশন খুবই কম পাওয়া যায়, আর যে কয়টা পাওয়া যায় সেগুলো হাতে গোণা কয়েকজন লেখকই লিখে থাকেন। আমি তাদের নাম আর তাদের লেখা সিরিজগুলোর কথা উল্লেখ করছি, এছাড়া আরো কিছু সিরিজের নাম উল্লেখ করবো সেটার মধ্যে সাইন্স ফিকশন উপাদান থাকলেও তা গল্পের ভিত্তিতে ব্যবহার করা হয়নি।

১) কামিচি কাজুমা ( Kamichi Kazuma):

     এই লেখককে অনেকেই কাজুমা.exe বলে ডাকে। কারণ সে একটা মেশিনের মত একাধারে লিখে যাচ্ছেন, কোনো বিরতি নেই তার মাঝে। এনার লেখা একের পর এক বই বের হচ্ছে। ২০১৫ সালের হিসাব মতে, এই লেখক ১০টা লাইট নভেলের বই বের করেছেন এবং তাদের প্রকাশনার তথ্য অনুযায়ী উনি প্রতি মাসে একটা করে বই বার করেন। বইয়ের সাইজ কিন্তু পাতলা না, ৩০০ থেকে ৪০০ পেজের মধ্যে প্রতিটা বই। আর শুধু একটা সিরিজ লিখেই ক্ষান্ত হননি উনি একাধারে চারটে সিরিজ লিখে যাচ্ছেন তিনি।

     উনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিরিজ হচ্ছে, তো আরু মাজুতসো নো ইনডেক্স (To Aru Majustsu no Index/ A Certain Magical Index)। এই সিরিজের মধ্যে দিয়ে তিনি লাইট নভেলের জগতে পা রাখেন। কাহিনী একটা হাইস্কুলের ছেলে কামিযৌ তৌমাকে নিয়ে, যে টোকিও শহরে মধ্যে একটি একাডেমি সিটিতে থাকে – যে শহর  বর্তমান যুগের চেয়ে অনেক এগিয়ে। একাডেমি সিটিটা শুধু ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য, সেই ছাত্র-ছাত্রীগুলো আবার সাধারণ নয়। তারা এসপার ক্ষমতাধারী – মানে নিজেদের ইচ্ছায় তারা আগুন থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ পর্যন্ত তৈরী করতে পারে।

     একদিন কামিযৌর তৌমার সাথে পরিচয় হয় ইনডেক্স নামের এক মেয়ের সাথে। মেয়েটা জানায় সে চার্চ থেকে পালিয়ে এসেছে এবং তারা মাথায় ১ লাখের মত জাদুর বই স্মৃতি হিসেবে জমা আছে। কিছু জাদুকর সেই জাদুর বইগুলো চায়। এর থেকে শুরু হয় কামযৌ তৌমার সাথে জাদুকরদের এক যুদ্ধ।   

     এই সিরিজের প্লটটির বিশেষত্ব হল যে জাদু আর সায়েন্স একই জগতের মধ্যে। এই সিরিজে যেমন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কথা বলা হয়েছে তেমনি পুরোনো আমলের জাদুর বিষয় টেনে আনা হয়েছে। এবং তাদের মাঝের দ্বন্দ্বকে পরিষ্কারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এরপর কিন্তু এই জাদু আর বিজ্ঞান একত্রীকরণ নিয়ে কিন্তু বেশ কয়েকটা লাইট নভেল সিরিজ বের হয়েছে। 

     ইনডেক্স সিরিজের মোট ৩৭ পর্ব প্রকাশিত হয়েছে এবং এখনো এই সিরিজ চলমান আছে।

ইনডেক্স সিরিজের কিছু ছবিঃ

      

এই সিরিজের প্রধান চরিত্রগুলো: (বাম থেকে ডান) ইনডেক্স, কামিযৌ তৌমা, অ্যাক্সেলেটর, হামাজুরা শিয়েগে।

     এই লেখকের আরেকটা সিরিজ হচ্ছে, হেভি অবজেক্ট (Heavy Object)।  

     জাপানিজরা মেকা (Mecha) মানে বিশাল রোবটের ফ্যান। তারা প্রতি বছর বেশ কয়েকটা অ্যানিমেই বের করে মেকা জঁর নিয়ে। হেভি অবজেক্ট সিরিজটা মেকা জঁরের মধ্যে পড়ে। তবে এখানে কোনো বিশাল রোবট নেই। এর বদলে আছে বিশাল ওয়ার মেশিন, যার নাম দেয়া হয়েছে হেভি অবজেক্ট। যে রাজ্যের হেভি অবজেক্ট যত বেশি, সে তত বেশি শক্তিশালী। এই সিরিজের নায়ক কুয়েন্থার একজন হেভি অবজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং তার বন্ধু  হেভিয়া একজন মিলিটারী সৈন্য। এখন দুইজন ভাগ্যক্রমে একটা হেভি অবজেক্ট ধ্বংস করে ফেলে, যেটা কিনা একটা আর্মির দলের পক্ষে করা অসম্ভব। এখন আর কি হবে, এই দুইজন নেমে পড়লো তাদের রাজ্যের বিরুদ্ধে লেগে থাকা হেভি অবজেক্টগুলোর ধ্বংসের কাজে।  

     এই সিরিজও এখনো চলছে এবং এই পর্যন্ত ১২ টা খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে।

হেভি অবজেক্ট সিরিজের কিছু ছবিঃ 

         

মলাট

কালার ইলাস্ট্রেশন

রেকি কাওয়াহারা (Reki Kawahara):

     বর্তমানে যে লাইট নভেল সিরিজটা সারা বিশ্ব কাঁপাচ্ছে তার লেখক এই মহামান্য ব্যক্তি রেকি কাওয়াহারা। ওনার লেখা সোর্ড আর্ট অনলাইন (Sword Art Online) সিরিজটা সারা বিশ্বেই এতটাই জনপ্রিয় হয়েছে হলিউডে এটাকে নিয়ে একটা টিভি সিরিজ বের হতে চলেছে। 

     সোর্ড আর্ট অনলাইন কাহিনী শুরু হয় একটা গেমকে কেন্দ্র করে, যার নাম সোর্ড আর্ট অনলাইন। এটা একটা ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ধরনের গেম। একটা যন্ত্রে মাধ্যমে তারা সেই গেমের জগতে ঢুকে যেতে পারবে এবং সেখানে সম্পূর্ন রিয়ালিটির স্বাদ পাবে।

     কিন্তু গেমের ভিতর ঢোকার পর গেমাররা আবিষ্কার করে এই গেম থেকে তারা লগ আউট হতে পারছে না, মানে লগ আউট হবার অপশন টাই নেই। গেম থেকে বের হবার একটাই উপায়, একশটা ফ্লোর আছে, সেগুলো পার হতে পারলেই তারা গেমের জগত থেকে বের হতে পারবে। আর যদি তারা গেমের জগতে মারা যায় তাহলে তারা বাস্তব দুনিয়ায়ও মারা যাবে। আর এভাবেই শুরু একটা একটা ডেথ গেমের যাত্রা।

     এই সিরিজের নায়ক কিরিগায়া কাজুটো সংক্ষেপে কিরিটো তার যাত্রা শুরু করে এই ডেথ গেম থেকে মুক্তি পাওয়ার কাজে।

     সোর্ড আর্ট অনলাইন একটা ওয়েব সিরিজ থেকে নেয়া হয়েছে। লেখক ওয়েব সিরিজ লেখার সাইটে নিজের এই সিরিজটা প্রকাশ করে এবং পরে সেটা বই আকারে প্রকাশ হয়।

     এই সিরিজের মোট ১৮টা বই বের হয়েছে এবং এটা এখনো চলছে।

সোর্ড আর্ট অনলাইন কিছু ছবিঃ 

মলাট

     অ্যাক্সেল ওয়ার্ল্ড (Accel World) এর কাহিনি প্রায়ই একই, এটা সোর্ড আর্ট অনলাইনের বেশ কয়েক বছর পরের কাহিনি। এখন ভার্চুয়াল রিয়ালিটি বলতে গেলে মানুষ জীবনের পাশাপাশি অবস্থান করছে এবং এটাও সোর্ড আর্ট অনলাইনের মত গেইম নিয়ে কাহিনি।

     এটার ২০টা পর্ব বের হয়েছে এবং এখনো সিরিজটা চলছে।

অ্যাক্সেল ওয়ার্ল্ড কিছু ছবিঃ 

মলাট


কালার ইলাস্ট্রেশন

মিনোরু কাওয়াকামি (Minoru Kawakami):

     লাইট নভেল শাখায় সায়েন্স ফিকশন নিয়ে কথা হবে কিন্তু এই ব্যক্তির নাম আসবে না সেটা কি হয় নাকি? জাপানের সেরা সায়েন্স ফিকশন লাইট নভেল সিরিজ ইনিই উপহার দিয়েছেন। উনি নিজস্ব একটা ইউনিভার্স তৈরী করেছেন। সেই ইউনিভার্স ছয়টা এরা (era) ভাগে ভাগ করেছেন। সেই ছয়টা এরা বা যুগের নাম সহ সিরিজগুলোর নাম নিচে দেয়া হলঃ  

১) FORTH- সিরিজ নামঃ Rapid-fire King – এর দুটো বই বের হয়েছে।  

২) AHEAD- সিরিজ নামঃ Owari no Chronicle – মোট ১৪টা বই বের হয়েছে এবং সম্পূর্ণ হয়েছে।

৩) EDGE- এখনো কোনো বই বের হয়নি।

৪) GENESIS- সিরিজ নামঃ Kyoukai Senjou no Horizon- ২৩ টা বই এবং এখনো চলমান। (Owari no Chronicle এর সিক্যুয়েল এটা)

৫) OBSTACLE- সিরিজ নামঃ Clash of Hexennacht- ৩ টা বই বের হয়েছে এবং চলমান।

৬) CITY- CITY সিরিজ নামে পরিচিতি ৭টা ভাগে মোট ১৭ টা বই বের হয়েছে এবং সম্পূর্ণ।

     সিরিজগুলোর মধ্যে ওনার তৈরী দুনিয়ার গঠন এবং সেটাকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর কথাই বেশি তুলে ধরেছেন। তবে তাই বলে একদম সিরিয়াস মুডে চলে যাননি এই লেখক, মাঝে মাঝে মনে হবে এইসব চরিত্রদের হাতে কি দুনিয়া বাঁচানোর দায়িত্ব পড়েছে! তারা এমনভাবে কাজ করবে যাতে আপনি হাসতে বাধ্য থাকবেন, মাঝে মাঝে অবাক হবেন তারা কঠিন পরিস্থিতে পরেও কিভাবে এই হাস্যকর কাজগুলো করতে পারে। আর প্রতিটা পর্ব শেষ করার শুধু একটাই কথা মনে হবে, প্রধান চরিত্রগুলো জাতে মাতাল কিন্তু তালে ঠিকই আছে।  

সুতোমু সাতোউ (Tsutomu Satō):

     সোর্ড আর্ট অনলাইন সিরিজের পর যে সিরিজটা লাইট নভেল ফ্যানদের মাতিয়ে রেখেছে সেটা হচ্ছে সুতোমু সাতোউর লেখা সিরিজ (Mahouka Koukou no Rettousei/ The irregular at magic high school)।

     এই সিরিজের মূল কাহিনী হচ্ছে জাদু আর বিজ্ঞানের সংমিশ্রণ, তারা জাদুকে একটা প্রযুক্তি হিসেবে নিয়েছে এবং এই জাদুবিদ্যাকে নতুন প্রযুক্তি হিসেবে স্কুল কলেজে শেখানো হচ্ছে।

     কাহিনী মূল চরিত্রে দুই ভাই-বোন, শিবা তাতসুয়া আর শিবা মিয়ুকিকে নিয়ে। শিবা মিয়ুকি জাদুকরীর ক্ষমতার প্রতিভা নিয়ে স্কুলের সেরা ছাত্রী, সেখান তার ভাই শিবা তাতসুয়ার জাদুকরী ক্ষমতা নেই। কিন্তু তাতসুয়ার আরেকটা দিক আছে যেটা তার বোন আর পরিবার ছাড়া আর কেউ জানে না। সেটা হচ্ছে সে গোপনের মিলিটারির হয়ে কাজ করে এবং তার মত দক্ষ সৈন্য গোটা জাপানে খুবই কম আছে। তাছাড়া তার জাদু ক্ষমতা না থাকলেও সে জাদুর যন্ত্রপাতি তৈরীতে প্রতিভাবান।

     এখন দেশ-বিদেশের কিছু চোর ও প্রতিষ্ঠান সেইসব জাদুর প্রযুক্তি চুরি করতে চায়। এছাড়া আছে দেশে মধ্যে অশান্তি তৈরী করা। এখন নায়ক শিবা তাতসুয়ার কাজ হল তাদের বিরুদ্ধে নেমে দেশের উপকার করা।

    

মলাট

কালার ইলাস্ট্রেশন

     এছাড়া আরো বেশ কয়েকটা সায়েন্স ফিকশন লাইট নভেল সিরিজ আছে, কিন্তু সেগুলোতে সায়েন্স ফিকশন সিরিজ বলার চেয়ে অন্য জঁরের সিরিজ বলাই ভালো।

     তবে শেষ করা আগে আরেকট সিরিজের নাম বলে যাই। সেটা হচ্ছে সুজুমিয়া হারুহির সিরিজ। এই সিরিজের কথা আমি উপরেই উল্লেখ করেছি। এই সিরিজে একটা মেয়ের দৈনন্দিন জীবন নিয়েই কাহিনী। হারুহি মেয়েটার অলৌকিক ক্ষমতা আছে। সেই ক্ষমতার বলে সে অনেক কিছুই পরিবর্তন করে ফেলতে পারে, হেমন্তকালে বসন্তের ফুল ফুটিয়ে তুলতে পারে। এমনকি নতুন একটা দুনিয়া তৈরী করে আগের দুনিয়া ধ্বংস করে ফেলতে পারে। কিন্তু সে নিজের এই ক্ষমতার কথা জানেনা, নিজের অজান্তেই ব্যবহার করে ফেলে সে। তার এই ক্ষমতার কথা জানতে পারে অ্যালিয়েন, এসপার ও টাইম-ট্র্যাভেলাররা। তারা গোপনে পর্যবেক্ষণ করতে থেকে হারুহিকে। কিন্তু সবকিছু উলট-পালট হয়ে যায় একটা ছেলের আগমনে। ছেলেটার নাম কীয়ন, একদম সাধারণ ছেলে সে, কোনো অলৌকিক ক্ষমতা নেই তার। আর সে হারুহির ‘মনোনীত’ করা লোক। এখন কীয়নের উপর দায়িত্ব পড়েছে হারুহির তৈরী সমস্যাগুলোর সমাধান করা।

     আগেই বলেছি, এটাতে সায়েন্স ফিকশনের উপাদান থাকলেও এখানে মূলত হারুহির দৈনন্দিন কর্মকান্ড গুলোই উল্লেখ করা হয়েছে। যেটা আর সাধারণ চঞ্চল স্কুল মেয়েরাই করে থাকে। তবে আমি আপনাদের এই সিরিজ পড়া থেকে বিরত থাকতে বলবো না, কারণ এই হারুহি সিরিজের প্যাটার্ন ধরেই কিন্তু অনেক লাইট নভেল সিরিজ লেখা হয়েছে। আর এই সিরিজ সারা বিশ্বে লাইট নভেলের জনপ্রিয়তাও বাড়াতে সাহায্য করেছে।   

মলাট

হারুহি সিরিজের চরিত্রগুলোঃ বামে উপরে-কোইজুমি, বামে নিচে-নাগাতো ইয়ুকি, বাম থেকে-কীয়ন, আসাহিনা ও হারুহি।

     লাইট নভেল বা লঘু উপন্যাস সার্থকনামা। সাহিত্যের গভীরতা বা শব্দগাম্ভীর্যের ধার ধারেনা এই লাইট নভেলগুলি। অত্যন্ত হাল্কা বোধগম্য ভাষায় এই উপন্যাসগুলি শুধুমাত্র চিত্তবিনোদনের উদ্দেশ্যে লেখা হয়, আর সেইজন্যেই লাইট নভেল ধারাটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নতুন প্রজন্মের কাছে। সাধারণত লাইট নভেল গুলি কথোপকথন ভিত্তিক হয় আর এর প্যারাগ্রাফগুলিও হয় অত্যন্ত ছোট। মাত্র এক থেকে তিনটি বাক্যের মধ্যেই গঠিত হয়ে যায় একটি প্যারাগ্রাফ। লাইট নভেলের লেখকরা সাধারণত অনুসরণ করে লেখার এক বিশেষ ধারাকে; যেখানে সাহিত্যের ভাষা হয় খুব সহজ, বোধগম্য কিন্তু ঘটনাচক্র বিশেষ তীক্ষ্ণতা বিশিষ্ট। এর ফলে সাধারণ পাঠকের পড়ার গতি বেড়ে যায়, তারা অতি দ্রুত একের পর এক বই শেষ করে চলে।

     অনেক লাইট নভেলে দেখলে মনে হত পারে এগুলো শুধু কিশোরদের জন্যেই। আসলে কিন্তু তা না, এই শাখার উপন্যাস কিন্তু বড়দের কাছেও জনপ্রিয়। তাছাড়া অনেকেই  মনে করতে পারেন এই নভেলগুলো একদম টিপিক্যাল ধরনের কিশোর উপন্যাস। হ্যাঁ, এগুলি সাধারণ কিশোর উপন্যাসের মতই কিন্তু এই একই ধরনের উপন্যাস যে কত স্বাদের হতে পারে সেটা একবার না পড়ে দেখলে বোঝা যাবে না। তাই যারা লাইট নভেলে সায়েন্স ফিকশনের জগতে ঢুকতে চান তাহলে অন্তত উপরের উল্লেখ করা সিরিজগুলো পড়া শুরু করে দিতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!