ঝুলন্ত সেই লোকটা

ঘুমচোখে সোমনাথ হাতঘড়িটার দিকে তাকিয়ে চমকে উঠল, প্রায় বিকেল সোয়া চারটে বাজে; বড্ড বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে কাল রাতে। সাহেবগঞ্জ হাইস্কুলের পদার্থবিদ্যার মাস্টার সোমনাথের সখ হল রাত জেগে জ্যোতির্বিজ্ঞানের বই পড়া। এর জন্যে কত বকুনিই না খেয়েছে বউ স্বপ্নার কাছে, এই চল্লিশ বছর বয়সেও আজও শুনতে হবে মনে হচ্ছে। আসলে কলেজে পড়ার সময় সখ ছিল জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করবে, কিন্তু আর পাঁচটা বাঙালির মতই সংসারের চাপে আঁকড়ে ধরতে হল এই স্কুলের চাকরিটা। দেখতে দেখতে প্রায় পনেরোটা বছর হয়ে গেল সাহেবগঞ্জে। প্রথম প্রথম কলকাতার ছেলে সোমনাথের দম আটকে আসতো এই অজ পাড়া-গাঁয়ে। ট্রেনে করে ঝাড়গ্রাম এসে, বাসে দুর্লভগঞ্জ, তারপর পাক্কা পনের কিলোমিটার ভ্যান রিক্সায় সাহেবগঞ্জ। আস্তে আস্তে কবে যেন ভালবেসে ফেলেছে এই বর্ধিষ্ণু গঞ্জটাকে। স্বপ্নাকে বিয়ের পরে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে একটা বাড়িও কিনে ফেলেছে বছর পাঁচেক আগে। একমাত্র মেয়ে প্রিয়াঙ্কাও এখন দুর্লভগঞ্জের স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়ে।

     বাড়িটা বেশ সস্তায় পেয়ে গেছিল সোমনাথ, একটু পুরনো হলেও শক্তপোক্ত দোতলা। তার সাথে ফাউ আবার একটা সেলার, মানে মাটির নিচের ঘর। আগের দিনের সম্পন্ন চাষিরা ডাকাতের হাত থেকে বাঁচার জন্যে এমন গুপ্তঘর বানিয়ে রাখত বাড়িতে। একটু সারিয়ে নিতেই ওটাই হয়ে গেল সোমনাথের নিরিবিলি লাইব্রেরী, যার জন্যে এখনো প্রতি মাসে অন্তত দুবার কলকাতা না গেলে চলে না। গতকাল গরমের ছুটি পড়ে যেতেই ছুটেছিল কলকাতায়, আর তারপর রাত জেগে ডুবে ছিল নতুন বইয়ের মধ্যে। সেলারের দরজা ভেজান থাকায় বুঝতেও পারেনি কখন সকাল হয়ে গেছে। স্বপ্না নিশ্চয়ই রাগ করে দুপুরে খেতেও ডাকেনি। ভাগ্য ভাল সকালে ঘুমনোর আগে নিজেই গ্যাস জ্বালিয়ে ডিম টোস্ট বানিয়ে নিয়েছিল, তারপরে লাইব্রেরীর লাগোয়া খাটে ঘুম। আর সেই এক ঘুমে দুপুর কাবার, তড়িঘড়ি দরজা খুলে ভেতরের ঘরে ঢুকল সোমনাথ। ঘর ফাঁকা, স্বপ্না নিশ্চয়ই রাগ করে দত্তবৌদির বাড়ি গেছে। আর মেয়েটা গেছে আঁকার স্কুলে। ঠাণ্ডা ভাত ঢাকা দেওয়া আছে খাবার টেবিলে। চান করে নিয়ে খাবারটা গরম করে, খেয়ে নিল সোমনাথ। আজকে সকালে আবার বাজারেও যাওয়া হয়নি, দিনের আলো ফুরিয়ে আসার আগে বিকেলের বাজারে একবার ঘুরে এলে স্বপ্নার রাগটা নিশ্চয়ই কমবে। মোটর সাইকেলটা নিয়ে যখন বেরোল সোমনাথ, ঘড়িতে তখন সাড়ে পাঁচটা। বাজারের আগেই শহরের মাঝখানের সবুজ পার্কটার পাশে মোটর সাইকেলটা দাঁড় করাল সোমনাথ। ওদের এই গঞ্জও আস্তে আস্তে পালটাচ্ছে, ঘিঞ্জি খোপ খোপ বাড়ি উঠছে যত্রতত্র। তার মধ্যে এই ছোট্ট পার্কটাই সেই আগের মত আছে। বিকেলে অনেকেই এসে বসে থাকে বেঞ্চে, বাচ্চারা খেলাধুলা করে। আজ যদিও কাউকে দেখা যাচ্ছে না। পার্কের গেটের কাছের একমাত্র ল্যাম্পপোস্টটা এই পড়ন্ত বিকেলের আলোয় একা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। না ভুল হল, একা কোথায়! কিছু একটা ঝুলছে ল্যাম্পপোস্ট থেকে। একটা বড় বস্তার মতো। সন্ধ্যার মৃ্দু হাওয়ায় আস্তে আস্তে দুলছে বস্তাটা। অন্য কোনদিন হলে হয়ত পাড়ার ছেলেদের কারসাজি ভেবে এড়িয়ে যেত, কিন্তু কি ভেবে গাড়িটা পার্কের উল্টোদিকে দাঁড় করিয়ে গেটের দিকে এগিয়ে গেল সোমনাথ। গেটের থেকে সোমনাথের দূরত্ব যত কমতে লাগল, বস্তাটা তত যেন মানুষের আকার নিতে শুরু করল। গেটের সামনে যখন পৌঁছল সোমনাথ, তখন ওর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম, হাতের চেটো ঘেমে গেছে। অনেক কষ্টে একটা ঢোঁক গিলে ও তাকিয়ে রইল ঝুলন্ত মৃতদেহটার দিকে।

  
     রাস্তার উল্টোদিক দিয়ে সাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলেন রজত গাঙ্গুলি, বাজারের কাছের বড় মুদীর দোকানটার মালিক, সোমনাথের সাথে ভাল চেনাজানা। “ও গাঙ্গুলিদা, দাঁড়ান একটু!” সোমনাথ চীৎকার করে উঠল।

     “এদিকে দেখুন, একটা লাশ ঝুলছে ল্যাম্পপোস্ট থেকে!”  রজত সাইকেলটা ঘুড়িয়ে গেটের কাছে এসে দাঁড়ালেন। “কি হয়েছে সোমনাথ? তাড়াতাড়ি বল, কেবলে আজ একটু পরেই ভারত অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ আছে।” সাইকেল থেকে নেমে দাঁড়ালেন রজত গাঙ্গুলি।

     “দেখতে পাচ্ছেন না? একটা লাশ ঝুলছে? কে ওটা ঝোলাল ওখানে? আর কেউ কিছু করছেই বা না কেন?” পাগলের মত চেঁচিয়ে উঠল সোমনাথ আর আঙুল তুলে দেখাল মাথার উপরে মৃদুমন্দ হাওয়ায় দুলতে থাকা লাশটাকে।
     রজত ধীরেসুস্থে একটা সিগারেট ধরিয়ে একটা সুখটান দিলেন, “এতে অবাক হবার কি আছে? নিশ্চয়ই কোন কারন আছে বলেই ওখানে ঝোলানো হয়েছে।”

     “কারন! লাশ ঝোলানোর কারন! আপনি কি পাগল হলেন রজতদা?”

     রজত কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললেন, “সে আমি কি জানি? ওই যে আগের বার যেমন হাসপাতাল থেকে জমা জল পরিষ্কার করার জন্যে রাস্তায় রাস্তায় বড় বড় বিজ্ঞাপন লাগিয়েছিল, সেইরকমই কিছু হবে হয়ত। কে জানে!”

     এর মধ্যে পাশের ক্লাবের তিন-চারটি ছেলে জড় হয়েছিল সোমনাথের চীৎকার শুনে। রাস্তায় কিছু লোকও এগিয়ে এলো কি হচ্ছে দেখতে। “আপনারা কিছু করছেন না কেন? পুলিশে খবর দিন এখুনি, লোকটাকে নামানোর বন্দোবস্ত করুন।”

     একটা ছেলে বলে উঠল, “পুলিশ নিশ্চয়ই জানে, নইলে কি আর ওটা ওখানে টাঙ্গানোর অনুমতি দিত?”

     “ভাই, আমি চললাম, খেলাটা নইলে মিস করব”, সাইকেল ঘুরিয়ে বেরিয়ে গেলেন রজত।

     “আরে আপনারা কি কিছু দেখতে পাচ্ছেন না? একটা লাশ! ডেডবডি ঝুলছে যে! লোকটা মরে গেছে যে!” – পাগলের মতো আর্তনাদ করে উঠল সোমনাথ।

     ভিড়ের মধ্যে থেকে এগিয়ে এলেন সুধাংশু সাহা, সোমনাথের স্কুলেরই বাংলার মাস্টার। “তাতে কি হয়েছে? আজ সকালেই তো দেখেছি ওটা ঝুলতে।”

     “আপনি বলতে চান, সকাল থেকেই ওটা ওখানে ঝুলছে আর আপনারা কেউ কিছু করেননি!”

     “করার আবার কি আছে? যাক, আমি চলি, ছেলেগুলো পড়তে এসে যাবে। তুমিও নিজের কাজে যাও। এই ভর সন্ধ্যেতে এখানে চেঁচামিচি করে লোক জড়ো করো না।”

     এর মধ্যেই ভিড় অনেকটাই পাতলা হয়ে এসেছিল। বেশ কিছু লোক পার্কের পাশ দিয়ে যাবার সময় ল্যাম্পপোস্টের দিকে তাকালেও, কেউই থামছিল না। যেন এটা মাথা ঘামানোর মতো কোন ব্যাপারই নয়।

     “আমি কি পাগল হয়ে যাচ্ছি?” বিড়বিড় করে বলল সোমনাথ। তারপরে পায়ে পায়ে এগিয়ে গেল ল্যাম্পপোস্টের দিকে। লোকটার বয়স আন্দাজ পঞ্চাশ হবে। পরনে প্যান্ট সার্ট, ভদ্র চেহারা, কিন্তু জামা কাপড়গুলো ছেঁড়া আর কাদা মাখা। লোকটা সাহেবগঞ্জের কেউনা, এতদিন এখানে থাকার ফলে সোমনাথ সকলকেই মুখ চেনে। লোকটার হাত আর মুখে অসংখ্য কাটা দাগ, রক্ত জমাট বেঁধে আছে, চোখগুলো ঠিকরে বেড়িয়ে এসেছে, মুখটা হাঁ হয়ে আছে আর নীল জিভটা বেরিয়ে এসেছে। কয়েকটা মাছি উড়ে বেড়াচ্ছে মুখের উপর। পা থেকে একপাটি জুতো নেই, আর চোখের দামি চশমাটাও খুলে গিয়ে বিশ্রীভাবে ঝুলছে একদিকের কান থেকে। লোকটা যথেষ্ট ভদ্রঘরের পড়াশুনা জানা মানুষ বলেই মনে হচ্ছে।

     সোমনাথ অনেক কষ্টে পেটের নিচ থেকে উঠে আসা টক ভাবটাকে ঠেলে গলা দিয়ে নামিয়ে দিল।

     “কি হয়েছে এখানে? কেন কেউ লোকটাকে নামাচ্ছে না? কেন কেউ ব্যাপারটাকে কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না?”

     সন্ধ্যের অন্ধকারের মধ্যে থেকে একদল ছেলের উচ্ছল গলার আওয়াজ ভেসে এলো। ফুটবল খেলে ফিরছে মাঠ থেকে।

     “একি স্যার, অন্ধকারের মধ্যে একা বসে আছেন কেন?”, সোমনাথের স্কুলের ক্লাস নাইনের তন্ময়।

     “স্যার আপনার কি শরীর খারাপ? কোন অসুবিধে হয়েছে?” ছেলেরা উদ্বিগ্ন মুখে ঘিরে দাঁড়ালো।

     “ঐ পার্কের মধ্যে একটা মৃতদেহ ঝুলছে, তোমরা দেখতে পাচ্ছ না?”

     “হ্যাঁ, দেখছি তো। কিন্তু তাতে কি হয়েছে?”, এবার উত্তর দিল ক্লাস টেন এর নির্মাল্য।

     “স্যারকে বাড়ি নিয়ে চল, শরীরটা বোধহয় ভালো নেই”, তন্ময় এগিয়ে এসে সোমনাথের একটা হাত ধরল।

     “তোমরা সবাই কি পাগল হয়ে গেছো? কেউ পুলিশে খবর দাও।” সবাইকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে রাস্তার দিকে দৌড়ে গেল সোমনাথ।

     রাস্তার পথচারী আর চলন্ত গাড়িগুলোর দিকে হাত বাড়িয়ে হাহাকার করে উঠলো, “কেউ এসে সাহায্য করো লোকটার দেহটা নামাতে! কোন বড় গণ্ডগোল হয়েছে এখানে! কেউ শুনছো না কেন!”

     ঠিক তখনই রাস্তার পাশে পুলিশের জীপটা ব্রেক কসে দাঁড়ালো। দীর্ঘদেহী একজন ইন্সপেক্টর জীপের সামনের সিট থেকে নেমে সোমনাথের সামনে এসে দাঁড়ালেন। “কে আপনি? রাস্তার মাঝে এরকম ঝামেলা করছেন কেন?”

     “আমি সোমনাথ সরকার, লোকাল স্কুলের শিক্ষক। ঐ ল্যাম্পপোস্টের সাথে—”

     “আপনার ঠিকানা?”

     “২২/৩, পাঠকপাড়া। শুনুন, ঐ পার্কের মধ্যে—”

     “সারাদিন আপনি কোথায় ছিলেন?”

     অধৈর্য কণ্ঠে জবাব দিল সোমনাথ – “বেসমেন্টে, পড়াশুনা করছিলাম, তারপর ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।”

     “বেসমেন্ট!”

     “হ্যাঁ, ওখানেই আমার লাইব্রেরী। কিন্তু আপনি আগে দেখুন, এই পার্কে একটা লাশ ঝুলছে!”

     “আর কেউ ছিল আপনার সাথে বেসমেন্টে? নাকি আপনি একাই ছিলেন?”

     “আমি একাই ছিলাম সারাদিন।” সোমনাথ হঠাৎ একটা আশার আলো দেখতে পেলো। “তার মানে আপনি বলছেন যে, পার্কে লাশটা ঝোলার পিছনে অন্য কারণ আছে? আমি বাড়ি থেকে বেরইনি বলে সেটা জানতে পারিনি? আপনারা এটার কথা জানেন?”

     কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে পুলিশটি উত্তর দিল –“ঠিক ধরেছেন, সবাই এটার কথা জানে।”

     “ওহ! তাহলে ওটা আপনারাই ওখানে ঝুলিয়েছেন? মানে এটা পুলিশের ব্যাপার? তাই কেউ কিছু বলছিল না।”

     “হ্যাঁ, ওটা সবার দেখার জন্যেই ওখানে ঝোলানো হয়েছে।”

     “ওফ! আমি যা ভয় পেয়েই না গেছিলাম। আমি সত্যিই খুব দুঃখিত এইভাবে চেঁচামিচি করে লোক জড় করার জন্যে। আমি বরং বাজারের দিকে যাই।” রাস্তার পাশে রাখা বাইকটার দিকে পা বাড়াল সোমনাথ।

     “এক মিনিট, আপনাকে একটু থানায় আসতে হবে। আপনাকে সামান্য জিজ্ঞাসাবাদ করার দরকার।”

     “আচ্ছা, আশা করি বেশি সময় নেবেন না আপনারা, চলুন।”

     ইনস্পেক্টরটির সাথে জীপের পিছনে উঠে বসল সোমনাথ। পিছনে একজন কনস্টেবল বসে আছে। জীপটা মোড় ঘুরে সিগন্যালে দাঁড়াতেই সোমনাথ লাফিয়ে নেমে পড়ল। কেউ কিছু বোঝার আগেই পাশের গলির মধ্যে মিলিয়ে গেল সে। লোকগুলো একটা বড় ভুল করেছে, সাহেবগঞ্জের প্রত্যেকটা পুলিশকে চেনে সে। এরকম ছোট গঞ্জের পুলিশ থানায় নতুন লোক এলে খবর ঠিক ছড়াত। আর সেখানে এতগুলো পুলিশ যাদের কাউকেই সোমনাথ চেনে না। পিছনের গলি থেকে এখনও লোকজনের চিৎকার আর পায়ের শব্দ ভেসে আসছে।

     সোমনাথ একটা নিচু বেড়া টপকে জংলা একটা বাগানের ভিতর ঢুকে পড়ল। পিছনে পায়ের শব্দ মিলিয়ে গেছে। হাঁপাতে হাঁপাতে একটা গাছের গায়ে হেলান দিয়ে বসে পড়ল সোমনাথ। না, ব্যাপারটা তো ঠিক মিলছে না। এই নকল পুলিশগুলো না হয় মিথ্যে বলছে। কিন্তু চেনা লোকগুলো রাতারাতি এমন পাল্টে গেল কি করে। পার্কে ঐ মৃতদেহ ঝোলানোটা কিছুতেই কোন স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না।

     পুরো ঘটনাটা কাউকে জানানো দরকার। কিন্তু কাকে জানাবে ? থানায় যাবার সাহস আর নেই, ঐ অচেনা লোকগুলোই নিশ্চয়ই থানা দখল করে বসে আছে। আচ্ছা  পঞ্চায়েত অফিসে গেলে হয় না? পৌরপ্রধান সহদেববাবুর ছেলে সোমনাথের স্কুলেই পড়ে, সেই সূত্রে আলাপও আছে। ভদ্রলোককে বুঝিয়ে বলতে পারলে যদি কিছু হয়। 

     বাজারের দিকে এগোতে এগোতে ভাবছিল সোমনাথ। এরকম একটা সিনেমা দেখেছিল সে, একটা ইংরাজি ফিল্ম, শহরের সব লোক একসাথে পাগল হয়ে গেছিল কোন অজানা রোগে। তারপরে একে অপরকে মেরে ফেলতে শুরু করে। কিন্তু এখানে তো সবাই ভালোই আছে, শুধু ঐ মৃতদেহটা! নাহ, এবার পাগলই হয়ে যাবে সোমনাথ।

     পঞ্চায়েত অফিসের বড় বাড়িটার উল্টোদিকের গলিটা দিয়ে সাবধানে বেরোল সোমনাথ। রাস্তায় লোক কমই, তবে অফিসের সব আলো জ্বলছে। ভালো করে চারিদিক দেখতে গিয়েই চোখে পড়ল ব্যাপারটা। অফিসের পাশেই সাহেবগঞ্জের পাঁচতলা বড় হাসপাতাল। তার ছাদের উপরে অন্ধকার রাতটা যেন আরও অন্ধকার হয়ে এসেছে। সেই অন্ধকারকে ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। যেন একটা অন্ধকারের বিশালকায় ঘূর্ণি নেমে এসেছে  হাসপাতালের ছাদে, যার শুরু হয়েছে কোন মেঘের মধ্যে থেকে। আর সেই ঘূর্ণির মধ্যে থেকে এক এক করে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেন ছাদে নেমে আসছে অন্ধকারেই গড়া ছায়ামূর্তিরা, নিঃশব্দে।

     কতক্ষণ ছাদের দিকে তাকিয়ে ছিল সোমনাথ, তা আর খেয়াল নেই। হুশ ফিরে পেতে আস্তে আস্তে সে এগিয়ে গেল হাসপাতালের গেটের দিকে। গেটের বাইরে দুজন অচেনা লোক পুলিসের উর্দি গায়ে দাঁড়িয়ে আছে। হাসপাতাল থেকে মাঝে মাঝে লোকজন বেরিয়ে আসছে, বেশিরভাগই রোগী অথবা ক্লান্ত কেরানী। চার পাঁচ জনের একটা জটলা একসাথে বেরিয়ে এলো গেট দিয়ে। তখনি কারো নাম ধরে হাসপাতালের ভিতর থেকে কেউ যেন ডাকল। একটি লোক জটলা ছেড়ে পিছিয়ে গিয়ে বাড়ির দিকে ফিরে গেল। কিন্তু লোকটা দরজা দিয়ে ঢোকার আগেই হঠাৎ যেন গলে গিয়ে কালো অন্ধকারের একটা আকার নিল, আর তারপরেই সেই অন্ধকার ঘনীভূত হয়ে আবার মানুষের মূর্তি ধারণ করল।

     পুরো ঘটনাটা সবার চোখের সামনেই ঘটলো, কিন্তু কেউ কোন প্রতিক্রিয়া দেখাল না, যেন এরকম হয়েই থাকে! সোমনাথের মাথার মধ্যে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল, নকল মানুষ। এরা আসল লোকগুলোকে সরিয়ে তাদের জায়গা নিচ্ছে! সেই জন্যেই চেনা মানুষরা এরকম অদ্ভুত আচরণ করছে। সাথে সাথে বউ আর মেয়ের মুখ ভেসে উঠল সোমনাথের সামনে। পালাতে হবে এখুনি ওদের নিয়ে এই শহর ছেড়ে। কলকাতায় খবর দিতে হবে। এরা নিশ্চই অন্য গ্রহ অথবা অন্য মাত্রার জীব, পৃথিবী দখল করতে এসেছে। পকেট হাতড়ে মোবাইলটা বের করে আনে সোমনাথ। ঝাড়গ্রাম   মিউনিসিপালিটির চেয়ারম্যান তার ক্লাসমেট, সে নিশ্চই কোন ব্যবস্থা নিতে পারবে। ব্যস্ত হাতে নম্বরটা ডায়াল করেই বুঝল কোন লাভ নেই, মোবাইল কোন টাওয়ার দেখাচ্ছে না। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে এই অচেনা প্রাণীর দল। আবার গলিতে ঢুকে বাড়ির দিকে দৌড় লাগালো সোমনাথ, বড় রাস্তায় কারো সামনে পড়ার সাহস আর তার নেই।

     বাড়ির সামনে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল সোমনাথ। পুলিশের পোশাক পরা লোকগুলো এখানেও খুঁজতে আসতে পারে। বাড়ির ভিতরে আলো জ্বলছে, প্রিয়াঙ্কার পড়ার আওয়াজ ভেসে আসছে, সামনের ঘর ফাঁকা। পা টিপে টিপে রান্নাঘরে গিয়ে প্রথমেই একটা ধারালো আনাজ কাটার ছুরি তুলে নিল সোমনাথ। “সোমনাথ কখন ফিরলে?” পিছন থেকে নারী-কন্ঠের ডাক শুনে চমকে ফিরে তাকাল সে। দোরগোড়ায় কখন স্বপ্না এসে দাঁড়িয়েছে, পাশে ভয়ার্ত চোখে তাদের মেয়ে।

     “জানালাগুলো বন্ধ করে আলো নিভিয়ে দাও এখুনি। তোমরা বাড়িতে একা তো? কেউ আমায় খুঁজতে আসেনি তো?”

     “কি হয়েছে তোমার সোমনাথ? তোমার জামা প্যান্টে কাদা ভর্তি, চোখ লাল, শরীর খারাপ? হাতে ছুরিটা নিয়েছ কেন?”

     “আমাদের হাতে একদম সময় নেই স্বপ্না। ভালো করে শোন। এই শহর ছেড়ে এখুনি পালাতে হবে আমাদের। আমি অনেক কষ্টে ওদের চোখ এড়িয়ে পালিয়ে এসেছি। যে কোনো সময় ওরা এখানে এসে পড়তে পারে।” এক নিশ্বাসে বলে গেল সোমনাথ।

     “কাদের থেকে পালিয়েছ তুমি? তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? ছুরিটা সরিয়ে রাখো, দেখছ না মেয়েটা ভয়ে কুঁকড়ে গেছে?”

     “আমি যা দেখেছি তার থেকে পাগল হয়ে গেলেই হয়ত ভালো হতো। এই শহরটা অন্য কোন গ্রহের বা জগতের প্রাণীরা দখল করে নিয়েছে। তারা দেখতে ছায়ার মতো, কিন্তু মানুষের শরীরও ধারণ করতে পারে। আর মানুষের মন দখল করার ক্ষমতাও আছে মনে হয়। কিন্তু ওদেরও দুর্বলতা আছে, ওরাও ভুল করে। ওরা বুঝতে পারেনি যে আমার মনের উপর ওদের কোন কন্ট্রোল নেই। আমাদের এখুনি এই শহর ছেড়ে ঝাড়গ্রামে পৌছতে হবে, ওখানে আমার বন্ধু কিশোরকে বলে এই এরিয়া মিলিটারি দিয়ে ঘিরে ফেলতে হবে, তাহলেই এদের হারানো সম্ভব।”

     স্বপ্না আর প্রিয়াঙ্কা হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে থাকে, দুজনের চোখেই ভয়। সোমনাথ চাপা গলায় ধমকে ওঠে – “দাঁড়িয়ে দেখছ কি? এখুনি বেরতে হবে, বাড়িতে যা টাকা আছে নিয়ে এস। বাইকটা পার্কের পাশেই পড়ে আছে, হাইওয়ে থেকে কোনভাবে বাস বা গাড়ি নিতে হবে।” স্বপ্না ইতস্তত করে এগোয় ভিতরের ঘরের দিকে। সোমনাথ এগিয়ে গিয়ে টিভিটা জোরে চালিয়ে দেয়, যাতে মনে হয় বাড়ির সবাই ভিতরেই আছে। তখনই চোখের কোন দিয়ে দেখতে পেল সোমনাথ, প্রিয়াঙ্কা ওর পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে, হাতে লম্বা সিরিঞ্জের মতো কিছু একটা। চমকে সরে যেতেই একচুলের জন্যে প্রিয়াঙ্কার হাতের সিরিঞ্জটা ওর শরীর স্পর্শ করতে পারল না। সোমনাথের চোখের সামনে প্রিয়াঙ্কার শরীরটা গলে গিয়ে একতাল অন্ধকারের তৈরি মানবশরীরের আকার নিল, পরনে কিন্তু প্রিয়াঙ্কারই ফ্রক। এই অপার্থিব দৃশ্য দেখে সোমনাথের আর মাথার ঠিক রইলো না। উন্মত্তের মত ঝাঁপিয়ে পড়ল অন্ধকারের জীবটার উপর, কোন বাধা দেবার সুযোগ না দিয়েই ছুরিটা সোজা বসিয়ে দিলো প্রাণীটার বুকের মধ্যে। কাতরে উঠে জীবটা ছিটকে পড়ল দেওয়ালের উপর আর সঙ্গে সঙ্গে অবশ হয়ে গেল সোমনাথের মনটা। পরিষ্কার বুঝতে পারল তার মনের মধ্যে হাতড়ে চলছে জীবটা, কিন্তু আস্তে আস্তে শিথিল হয়ে যাচ্ছে সেই বাঁধন। সোমনাথের চোখের সামনে স্থির হয়ে গেল প্রাণীটার দেহ, আর সঙ্গে সঙ্গে ফিরে এলো তার নিজের মনের নিয়ন্ত্রণ। চোখে পড়ল দরজার সামনে ভাবলেশ মুখে পাথরের মূর্তির মতো দাড়িয়ে রয়েছে স্বপ্না, যেন কারো আদেশের অপেক্ষায়। সোমনাথ জানে সেই আদেশ যে দিতে পারত তার মৃতদেহটা পড়ে আছে দেওয়ালের গায়ে। স্বপ্না আর মেয়েকে বাঁচানোর একমাত্র উপায় যে কোনরকমে ঝাড়গ্রামে পৌঁছে কিশোরকে খবর দেওয়া। দরজা খুলে হাইওয়ের দিকে দৌড়তে শুরু করলো সোমনাথ।

     পরের দিন বিকেলে সোমনাথ যখন মিউনিসিপালিটি চেয়ারম্যান কিশোর দাসের ঝাড়গ্রামের অফিসে ঢুকল তখন সন্ধ্যে হয় হয়। মাঝের চব্বিশ ঘণ্টায় যেন সোমনাথের বয়স প্রায় দশ বছর বেড়ে গেছে। গায়ের জামা ছিঁড়ে গেছে, প্যান্ট ধুলো কাদায় ভর্তি। এই পঞ্চাশ কিলোমিটার চার বার বাস পালটে, মাঠ আর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে দৌড়ে এসেছে সে। যতটা পেরেছে মানুষের নজর এড়ানোর চেষ্টা করেছে। কিশোর সোমনাথের চেহারা দেখে আঁতকে উঠল। তাড়াতাড়ি কিছু খাবার আনিয়ে দিল সোমনাথকে। বুভুক্ষুর মতো খাবারগুলো শেষ করতে করতে সবকিছু খুলে বলল সোমনাথ। কোন কথা না বলে চুপ করে সব শুনল কিশোর। সোমনাথের খাওয়া শেষ হতে একটা সিগারেট ধরিয়ে ওর দিকেও বাড়িয়ে ধরল কিশোর। অধৈর্য হয়ে সিগারেটটা সরিয়ে রেখে বলে উঠল সোমনাথ – “তুইও নিশ্চয়ই আমায় পাগল ভাবছিস?”

     “না, আমি তোর সব কথা বিশ্বাস করেছি।” – অন্যমনস্কভাবে জানলার পাশে দাড়িয়ে একমুখ ধোঁয়া ছেড়ে বলল কিশোর। “সেলারে লাইব্রেরী, সারাদিন সেখানে ছিলি, এর চান্স তো কোটিতে এক। অদ্ভুতভাবে বেঁচে গেছিস তুই।”

     “আমি সারাদিন অনেক ভেবেছি, এরা কারা, কি চায়। আমার একটা থিওরি আছে। অনেক ছোটবেলায় পড়েছিলাম নাকি বিদ্যাধর নামে এক অদ্ভুত জাতির বাস ছিল পৃথিবীতে। তারা ছিল জাদুকর আর যে কোন মানুষের শরীর ধারণ করতে পারত। মানুষের বেশে তারা এমনকি রাজা হয়েও বসতে পারত, আসল রাজাকে সরিয়ে ফেলে। এখানেও আমার মনে হচ্ছে একই রকমভাবে একের পর এক গ্রাম আর শহর দখল করতে করতে এরা বড় শহরগুলোর দিকে এগোচ্ছে। বিদ্যাধররাও নাকি মানুষদের ধরে নিয়ে যেত নিজেদের শক্তি বাড়ানোর জন্যে। আমার মেয়েটাকেও ওরা কোথায় ধরে নিয়ে গেছে কে জানে।” বলতে বলতে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো সোমনাথ।

     “হুম, অনেক পুরনো লড়াই। কিন্তু মানুষরা জিতেছিল কি করে?”

     “সেটাও আমার মনে পড়েছে। কথাসরিতসাগর নামে একটা বইয়ে পড়েছিলাম। মানুষরা ওদের মধ্যে উলটে ঢুকে পড়েছিল। বিদ্যাধরদের সমস্ত মানুষের মন বশ করার ক্ষমতা ছিল না। সেই সুযোগ নিয়ে কিছু মানুষ ওদের দেশে ঢুকে গৃহযুদ্ধ বাধিয়ে দেয়, আর বিদ্যাধররা মানুষদের রাজ্য ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। আমার মনে হয় এরাই সেই জাতি। হাজার হাজার বছর আগে চেষ্টা করেছিল পৃথিবী দখল করতে, তখন পারেনি, কিন্তু আবার ফিরে এসেছে।“ একটু দম নিয়ে আবার শুরু করল সোমনাথ – “আগের বারের ভুল আর এবার ওরা করবে না। কিন্তু তবুও আমি পালাতে পেরেছি, ওদের একজনকে মেরেও ফেলেছি। ওদের হারানো সম্ভব যদি আমরা সবাইকে জানিয়ে দিতে পারি। আমার মতো আরও কিছু লোক নিশ্চই পালাতে পেরেছে ওদের হাত থেকে।”

     “তুই দেখছি সবটাই বুঝে ফেলেছিস।” চিন্তিত মুখে বলল কিশোর।

     “শুধু একটা জায়গাই কিছুতেই মিলছে না। ওই লাশটা পার্কে কেন ঝুলছিল? আমি কিছুতেই এর উত্তরটা খুঁজে পাচ্ছি না। ওটা দেখেই তো আমার সন্দেহ হল যে কোথাও কোন গণ্ডগোল আছে। ওরা কেন সেটা করবে?”

     “খুব সহজ উত্তর।” কিশোর বলে উঠল – “ফাঁদ”।

     সোমনাথের দম যেন বন্ধ হয়ে এল – “কি বলছিস?”

     “হ্যাঁ, যাতে তুই ওই লাশটা দেখে ঘাবড়ে গিয়ে লোক ডাকিস, আর তাহলেই ওরা বুঝতে পারবে যে তুই ওদের কন্ট্রোলে নেই।”

     “মানে তুই বলতে চাইছিস, ওরা এবার তৈরি ছিল? আমায় ধরার জন্যে ওরা ফাঁদ পেতেছিল! আগের ভুল আর ওরা করেনি।” উত্তেজনায় কথা প্রায় আটকে গেল সোমনাথের।

     “হ্যাঁরে, ওরা জানত যে আগের ভুলটা এবারো হবে। আর ঠিক তাই হয়েছে। তবে ফাঁদটা খুব কাজে এসেছে, তুই বোকার মতো নিজেকে ধরিয়ে দিয়েছিস।” কিশোর চেয়ার থেকে উঠে দরজার বাইরে একবার উঁকি দিয়ে এলো।

     “কিন্তু ওই লোকটা কে ছিল? ওকে কোনদিন দেখিনি, আমাদের গঞ্জেরও নয়। জামা ছেঁড়া, সারা গায়ে ধুলো, কাদা। লোকটা ওখানে এলো কি করে?” – প্রায় ফিসফিস করে অনেক কষ্টে বলল সোমনাথ।

     “বাইরে আয়, তোর সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবি।” কিশোরের মুখে একটা ভাবলেশহীন হাসি, চোখদুটো যেন পাথরের তৈরি। নিজের অজান্তে কখন যেন পায়ে পায়ে দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে সোমনাথ, সেটা নিজেও সে বোঝেনি। দরজার বাইরে তাকাতেই দেখতে পেল রাস্তার উল্টোদিকে ল্যাম্পপোস্টে কয়েকটা লোক একটা ফাঁসির দড়ি ঝোলাচ্ছে। “চল, তোর জন্যেই সবাই অপেক্ষা করছে।” – খুব ঠাণ্ডা গলায় বলল কিশোর।

     ঘন্টা-খানেক পরে ওই রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিলেন সৌমেনবাবু, গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ম্যানেজার। আজ সকাল থেকে ব্যাঙ্কের ভল্টের ঘরেই নানা হিসেব নিকেশে কেটেছে। সন্ধেবেলায় ব্যাঙ্ক থেকে বেরিয়ে মুক্ত হাওয়ায় শ্বাস নিতে পেরে যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন। ঠিক মিউনিসিপালিটি অফিসের সামনে এসেই চমকে উঠলেন তিনি। একি এতো একটা জলজ্যান্ত লাশ ঝুলছে ল্যাম্পপোস্ট থেকে। অচেনা লোক, জামা ছিঁড়ে ফালি হয়ে গেছে, সারা গায়ে ধুলো, কিন্তু দেখতে ভদ্রলোকের মতো চেহারা। আর সবথেকে অদ্ভুত ব্যাপার সবাই মাথা তুলে দেখছে লাশটাকে কিন্তু কেউ কিছু বলছে না। সৌমেনবাবু চীৎকার করে উঠলেন…

(সমাপ্ত)

(লেখক পরিচিতিঃ ফিলিপ কে. ডিক একজন আমেরিকান সাহিত্যিক। তিনি বিখ্যাত ছিলেন কল্পবিজ্ঞান বিষয়ক ছোট গল্পের জন্যে। তার বেশ কিছু গল্প থেকে সফল সিনেমা তৈরি হয়েছে। মাইনরিটি রিপোর্ট, টোটাল রিকল এবং ব্লেড রানার- এদের মধ্যে কয়েকটির নাম। ডিকের গল্পের মধ্যে মানসিক দ্বন্দ্ব আর পরিবর্তিত মানসিক অবস্থার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও লোভী বহুজাতিক আর একনায়ক সরকারের অধীনে মানুষের স্বাধীনতা খর্ব হওয়া তার লেখার প্রিয় বিষয় ছিল। প্রতিভাবান এই লেখক ১৯৮২ সালে পরলোক গমন করেন।)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!