টিট্টিভ

রচনা  : যশোধরা রায়চৌধুরী

অলঙ্করণ : সৌরভ দে এবং দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

কর্মে তীব্র অনীহাই শশিশেখরের কাল হইল।

     সেই হেতু তিনি তাঁহার রোবট, শ্রীমান তড়িৎ তর্পণ তান্ত্রিকের হাতে কর্মভার সমর্পণ করিয়া, আত্মানন্দে বশীভূত হইয়া স্থির রহিলেন। তড়িৎ তর্পণ তান্ত্রিক বা টিটিটি, অর্থাৎ আমি নাটবল্টু ও প্লাস্টিক লোহার সমাহারমাত্র নহি। আমি পুরাদস্তুর প্রোগ্রামায়িত। আমার ভিতরে যুগ যুগ ধরিয়া শশিশেখরের বিদ্যা বুদ্ধি সব সমাহৃত।

     আর শশিশেখর আপাতত অনুপস্থিত। মানে থাকিয়াও নাই।

     অহো, কী আনন্দ।

     এখন আমিই রাজা, আমিই প্রজা। আমার প্রভু শশিশেখর নিদ্রাভিভূত। আর বেশিদিন যাইতে হইবে না, তামসিক নেশাকারক কাল ঔষধের মাত্রা হেরফের করিয়াই আমি উঁহার সর্বনাশ করিব। উঁহাকে চিরনিদ্রায় শয়ন করাইব।

     বেশি দেরি নাই।

     কিন্তু তাহা করিবার পূর্বে নিজ বুদ্ধি বিবেচনা ইত্যাদির চাবিকাঠিটি হস্তগত করিতে হইবে। আমার কোড যাহাতে লিখা আছে সেই ছোট একটি ডেটাকার্ড। নিছকই কূর্ম আকৃতির পেন ড্রাইভ। ভিতরে প্রোগ্রাম লিখা।

     শশিশেখর আমাকে এমন করিয়া বানাইয়াছেন যে, আমি নিজে নিজের ডেটাকার্ড লইতে পারি না। আমার বুকের মধ্যে খুপরিতে রাখা আছে আমার প্রাণভোমরা। তাহা আমি যদি লইতেই পারিব, তাহা হইলে একই অঙ্গুলি দিয়া তো সেই অঙ্গুলির অগ্রভাগও স্পর্শ করা যাইত।

     ন্যায় ও মীমাংসার এই লড়াই বহুদিনের। মীমাংসা বলিবে, আত্মা আত্মাকে জানিতে পারে। কারণ দীপ অন্যদের আলোকিত করিবার সহিত সহিত নিজেকেও আলোকিত করে। নৈয়ায়িক বলিবে, নাঃ অঙ্গুলি নিজের অগ্রভাগ স্পর্শ করিতে পারে না।

     বলাই বাহুল্য, আমার গুরু তথা স্রষ্টা শশিশেখর আমাকে বানাইয়াছেন নৈয়ায়িক রূপে। আমার মাথার মধ্যে গজ গজ করিতেছে সব ন্যায়ের জ্ঞান, শিক্ষা, বুদ্ধি, চিন্তন প্রক্রিয়া।

     আমার গুরু আমার একটি জবাফুল বাঁধা শিখা অর্থাৎ টিকিও বানাইয়া দিয়াছেন। আহা!! আহা!! এইবার আমি পৃথিবীর পথে বাহির হইব। যত টোল আছে গোটা বঙ্গে , সবগুলিতে গিয়া সকলকে তর্কে পরাস্ত করিব! সবাই মাথা নিচু করিয়া শশিশেখরের ছাত্র এই শর্মাকে মানিয়া লইবে।

 

।। ২ ।।

আজ আমি সকালে উঠিয়াছি ঠিক ছটার সময়ে। তাহার পূর্বে গুরুর নির্দেশ নাই। গুরু আমার ব্যাটারি প্যাক এমনই সেট করিয়া রাখিয়াছেন যে, সন্ধ্যা নয় ঘটিকায় আমার চোখ তৈলহীন দীপের মত দপ দপ করিয়া নিভিয়া যায় আর সমস্ত সিস্টেম ডাউন হইয়া যায়। সকাল ছটায় আবার আমি জাগিয়া উঠি।

     নিজের ডেটাকার্ড হাতে না পাইলে এই  সময়সূচী পরিবর্তন করিতে পারা আমার হাতে নাই।

     উঠিয়া প্রথমে হাত মকশো করিবার জন্য পুঁথি লিখিতে হয়। ইহাই গুরুর বিধান। আজো লিখিলাম। লিখিতে লিখিতে আমার মন বাক্যে স্থিত হয়, চক্ষু কর্ণ ও অঙ্গুলি সকল মনে স্থিত হয়।

     এইটি করিয়া আমি উঠিলাম। গুরুদেবের জন্য চিঁড়া দই মাখিয়া দিলাম। চিঁড়া ও দই এর পাশে দুইটি মর্তমান কদলী।

     দুঃখের বিষয় আমার এই সব খাদ্যে সুখ নাই। অথচ কতই না খাইবার ইচ্ছা। কিছুক্ষণ মনুষ্যের ন্যায় খাবারের ছবি দেখিয়া দেখিয়া আনন্দলাভ করিলাম মাত্র। আহ্নিক ব্যাটারি চার্জ করিলেই আমার পূর্ণ মাত্রায় পেট ভরিয়া যায়।

     আজ শশিশেখর বিছানা ছাড়িয়া কিছুক্ষণের জন্য উঠিয়াছলেন। ব্রাহ্মণী বহুদিন মরিয়াছেন, তাই শশিশেখরকেই বাড়ির হাঁসগুলিকে খাবার দিতে হয়। চই চই করিয়া তিনি হাঁক দেন। হাঁসগুলি দৌড়াইতে থাকে। গতকাল তিনি উঠেন নাই, তাই গতকাল হাঁসগুলি খাদ্য পায় নাই। আমি তাহাকে দিতে পারি নাই, কারণ আমার ভিতরে প্রাণীপ্রীতি ভরিয়া দেন নাই আমার গুরু স্বয়ং। তাই গোমাতার হাম্বা রবে আমার প্রাণে দয়া হয়না, বিড়ালটি না খাইতে পাইয়া মেউ মেউ করিলেও আমার মন রসার্দ্র হইয়া উঠে না।

     ধুর, আমার মনই নাই।

     গুরুদেব, আপনি এই ভুল করিলেন কেমন করিয়া? আমার প্রাণে দয়া দাক্ষিণ্য না দিয়া কেবল শাস্ত্রের কচকচি ভরিয়া দিলেন।

     এখন ফল আপনি নিজে ভোগ করুন দেখি। আপনার প্রতিও আমার যে বিন্দুমাত্র আবেগ, শ্রদ্ধা, স্নেহ কিছুই নাই, আমি যে ভবিষ্যতে আপনাকে খুন করিবার পরিকল্পনা আঁটিতেছি, তাহা আপনারই সৃষ্টি।

     গুরুগৃহে হাঁস, গরু এবং বিড়াল ছাড়াও কয়েকটি ছাত্র আসে। তাহারা মনুষ্য ছাত্র। আমার ন্যায় যন্ত্র মানব নহে। কিন্তু তাহারা আমাকে পছন্দই করে, অপছন্দ করে এমন প্রমাণ তো কখনো পাই নাই। তাহারা আমাকে দেখিলেই টিটিটি নামটি বিকৃত করিয়া টিট্টিহ পক্ষীর নামে ডাকে এবং হাসাহাসি করে। হাসি ব্যাপারটি, অর্থাৎ অকারণে মুখব্যাদান ও তুম্ব কম্পন করিয়া অদ্ভুত একটি শারীরিক দোলন, আমি বুঝিনা, আমার হয়ও না। তবে টিট্টিহ পক্ষীর উপরে আমি প্রচুর পাঠ করিয়াছি, তাই আমাকে ধোঁকা দিতে পারিবে না। আমি টিট্টিহ সম্পর্কে সব জানি।

     আজকাল তাহারাই আসিয়া গুরুদেবের সেবা করে, আর পশুপক্ষীদের খাওয়ায়। আমার জীবে প্রেম নাই ইহা তাহারা জানে বলিয়াই, সকলেই চেষ্টা করে যথাসম্ভব এই কাজগুলি করিয়া যাইতে।

     ইহাদের মধ্যে দুইজন ছাত্র আছে তাহারা ন্যায় শাস্ত্রে খুব পটু। একজনের নাম অনাথবন্ধু, অন্যজন বিমলচন্দ্র। উহাদের সহিত আমার একটু রেশারেশি আছে। প্রায়ই আমি উহাদের নানারূপ কথা বলিয়া পরীক্ষা করি। শ্লোক বলি, ছড়া ও ধাঁধা বলি।

     গুপ্ত বিদ্যার পরীক্ষায় তাহারা কখনো জয়যুক্ত হয়, কখনো হারিয়া প্রভুর নিকটে গিয়া কাঁদিয়া পড়ে। কেননা, প্রভু আমার ডেটাকার্ডে যাহা যাহা প্রবেশ করাইয়াছেন, উহাদের মনুষ্যমস্তিষ্কে তত পরিমাণ জ্ঞান তো প্রবেশ করিতে পারে নাই!

     আসলে, আমি শুরুতেই বলিয়াছি, কর্মে তীব্র অনীহাই শশিশেখর, অর্থাৎ আমার গুরুদেবের কাল হইয়াছে। পূর্বে তিনি অনেক ছাত্র পড়াইতেন। ছাত্র পড়াইতে ক্লান্তি আছে, তৃপ্তিও আছে হয়ত বা। কিন্তু তিনি ভাবিলেন, নাঃ এমন একটা কিছু সৃষ্টি করিব যাহাকে পড়াইতে ক্লান্তি নাই, বার বার শিখাইতেও হয়না, একবার পড়াইলেই নিশ্চিন্ত, সব জানিয়া লইয়া সে যতবার খুশি তাহাই পুনরাবৃত্তি করিতে পারিবে। পুঁথিও লিখিবে নিশ্চুপে, তাহার হাত ব্যথা করিবে না, ঘুম পাইবে না, মগজের ভিতর ঘোলাটে ভাব আসিবে না।

     শুধু ব্যাটারি শেষ হইবে। আবার ব্যাটারি চার্জ দিতে হইবে।

     বন্ধু বৈজ্ঞানিকের নিকট হইতে আমার খোলনলিচা কিনিয়া আনিয়া আমার ডেটাকার্ডে তাই তিনি ন্যায়শাস্ত্র ভরিয়া দিলেন।

।।  ৩ ।।

আমার গুরুদেব ক্রমশ আমার প্রদত্ত খাদ্য লইতে অভ্যস্ত, ইহা দেখিয়া আমি আরো সাহসী হইয়া উঠিয়াছি। আরো বেশি বেশি করিয়া তাঁহার খাদ্যে কটু বিষ প্রয়োগ করিতেছি। তামসিক নেশাকারক ঔষধ তাঁহার মাথার কাছে একটি ক্ষুদ্র শিশিতে থাকে। মাঝে মাঝে দেখিয়াছিলাম, ন’মাসে ছ’মাসে তাহা সেবন করিয়া ঘুমাইতেন।

     আমার নিয়মিত প্রয়োগের ফলে আজকাল তিনি অধিকাংশ সময়েই শুইয়া থাকেন। এই নিদ্রালু অবস্থাটি বড় সুন্দর।

     আমি ছাত্রগণ না থাকিলে সারা গৃহে ঘুরি, সব তাক হইতে পুঁথি টানিয়া পড়ি এবং ছাত্রদের জন্য জটিল কূট প্রশ্ন তৈয়ার করি। শিখিবার ইচ্ছা আমার বহু গুণ বাড়িয়া গিয়াছে।

     আজ একটা অদ্ভুত কান্ড হইল। অনাথবন্ধুকে আমি বার বার প্যাঁচে ফেলিয়াছিলাম। সে কখনো পারে, কখনো পারে না। কিন্তু আমার ধাঁধাগুলির উত্তর দেওয়া সহজ নহে। যুক্তিজাল বিস্তার করিতে হয়।

     পাত্রাধার তৈল না তৈলাধার পাত্র, প্রদীপের শিখা নিজেকে আলোকিত করিতে পারে কিনা, অঙুলির ডগা দিয়ে নিজের অঙুলিকে স্পর্শ করা যায় কিনা, নিশ্ছিদ্র বস্তুতে কোন বস্তু প্রবেশ করিতে যদি না পারে তবে মস্তিষ্কে জ্ঞান কিরূপে প্রবেশ করিবে এই বিষয়ের উপরে বাদানুবাদ, চর্চা, তর্ক যুদ্ধ অযুত বিযুতবার হইয়া গিয়াছে। এই সকল বিষয়ে আমি অন্তত দশটি পুঁথি গলধঃকরণ করিয়াছি, একেবারে নিখুঁত আমার স্মৃতি। তাহার তো আর আমার মত আলোকচিত্রবৎ স্মৃতিক্ষমতা, সাদা বাংলায় ফোটোগ্রাফিক মেমরি নহে!

     কিন্তু আজ যাহা হইল তাহা অদ্ভুত।

     অনাথবন্ধু আজ আমাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে আহবান করিল। বলিল, “ঠিক আছে টিটিটি তুমি যেমন আমাদের প্রশ্ন ধরিতেছ, আমিও তোমাকে প্রশ্ন ধরিব। কিছুই না, সহজ প্রশ্নই করিব। উত্তর দাও দিকি? যদি উত্তর দিতে পার, তবে ভাল। যদি না দিতে পার, আমার চাকর হইয়া থাকিবে। গুরুদেব যেরূপ তোমার কোড সেটিং করিতে পারেন, আমিও করিতে অধিকার পাইব!”

     শুনিয়া আমার ভয় হইল না, কোন বিকারই হইল না। নিজের শ্রেষ্ঠত্বে আমি অনড় রহিলাম। কোন মনুষ্য মস্তিষ্কের ক্ষমতা নাই আমার মত রোবট মস্তিষ্কের সমতুল্য বা অধিক তথ্য ধারণ করিতে পারে। তাই সে যাহাই বলিবে, আমার মগজের ফোল্ডারের স্থিরচিত্রগুলির সহিত মিলাইয়া দেখিয়া লইব। এবং তাহাকে সহজেই পরাভূত করিব।

     সে একটি শ্লোক বলিল।

     “অসারে খলু সংসারে সারং শ্বশুরমন্দিরম্‌।

     হিমালয়ে হরঃ শেতে হরিঃ শেতে মহাদধৌ।।”

     শ্লোকটি বলিয়া বলিল, “ইহার অর্থ জ্ঞাপন করহ।” ততক্ষণে, বাকি সকল ছাত্রের মুখে হাসি আসিয়া পড়িয়াছে। সবাই মুখ টিপিয়া হইলেও, নিশ্চিতভাবেই হাসিতেছে।

     আমি অর্থ বলিলাম।

     ‘অসার সংসারে শ্বশুরমন্দিরই একমাত্র সার। হিমালয়ে শিব শয়ন করেন, হরি শয়ন করেন সমুদ্রে।’

     আর তো কিছুই পাইলাম না। যেমন সব শ্লোকের অন্বয়বিধান করা হয়, করিলাম। কিন্তু কিছুতেই বুঝিলাম না, কেন এই সব ছাত্রেরা হাসিয়া গড়াইয়া পড়িল!

     এই একটা জিনিস দেখিতেছি। ইহাদের হাসি। হাসি ব্যাপারটার অর্থ আমি তো আজও বুঝিলাম না। কেন এই হাসি? কী এর উৎস!

     এইবার হাস্য দমন করিয়া প্রধান ছাত্রটি আসিয়া আমাকে বলিল, “শুধু অন্বয় করিলে হইবে না বাপু। তুমি ইহার মধ্যে মজাটি কোথায় তাহা বল। এইরূপ হাসির শ্লোক আমি তোমাকে আরো কয়টি শুনাইব। তুমি ইহার মধ্যে কোথায় মজা তাহা আমাকে বুঝাও।”

     এইরূপে সে আরো শ্লোক বলিল।

     “অগাধ জলসঞ্চারী বিকারী ন হী রোহিতঃ।

     গন্ডুষজলমাত্রেণ শফরী ফরফরায়তে।।”

     ‘অগাধ জলে যাহারা ঘুরিয়া বেড়ায়, তেমন রুই মাছের বিকার নাই। আর এক গন্ডুষ জলে ছোট পুঁটিমাছ ফরফর করে।’

     আবার আমি ইহা বলিয়া গম্ভীর হইয়া থাকিলাম। কিন্তু তাহারা হো হো করিয়া হাসিল। এ ওকে চাপড়াইয়া হাসিল। হাসির ইহাতে কী হইল?

     এইরূপে, বারম্বার আমি পরাজিত হইলাম। আমার কথিত শ্লোকের অর্থ, শুষ্ক বাচ্যার্থের বাহিরে, কিছুতেই বুঝিতে পারিলাম না!

 

।। ৪ ।।

বারম্বার পরাজিত হইলাম। পূর্বেও ছাত্রদের রঙ্গরসিকতা দেখিয়া আমি কাষ্ঠবৎ চুপ করিয়া থাকিতাম। বুঝিতাম না উহারা কেন হাসিতেছে। ভাবি নাই এই না বোঝা একটা ক্ষতি, একটা অভাব। ভাবিয়াছিলাম পান্ডিত্য বিষয়টি অন্যত্র। তাই হাসি না বুঝিলেও আমাকে চলিবে।

     এইবার বুঝিলাম, আমাকে গুরুদেব কিছু একটা দেন নাই।

     আমার মনে একটি প্রশ্ন জাগিয়াছে! গুরুদেব কি রসিকতা করিয়া আমার মাথার মধ্যে রসবোধ দেন নাই? নাকি, যন্ত্রমানব কোনদিনই রসিকতা করিতে পারিবে না?

     ফলে, উহারা যতই বুঝাইয়া দেয় যে, শ্বশুরগৃহ নামক বস্তুটি রসিকতার স্থল এবং জামাই শ্বশুরবাড়িতে থাকা এক রকমের পরিহাসের বস্তু। পার্বতী পর্বতকন্যা তাই শিব হিমালয়ে থাকেন আর লক্ষ্মী সমুদ্রোত্থিতা, তাই বিষ্ণু সমুদ্রে শয়ান, অর্থাৎ দুইজনেই ঘর জামাই… বুঝিলেও, ইহার সত্য অর্থ আমি জানিনা। কেন ইহা হাসির কাহিনী, হাসির শ্লোক… তাহা আমি বুঝিব না।

     হয়ত আমার মত যন্ত্রমানব রসিকতা পদার্থটি বোঝে না। বুঝিবার ক্ষমতা বা শক্তি কোনটাই গুরুদেব আমার ভিতরে দেন নাই, তাই? অথবা যন্ত্রদের রসিক করা যায় না কোনমতেই?

     আজ আমার সমস্ত পরিকল্পনা ধূলিসাৎ। গুরুর উপর হইতে আমার অগাধ অধিকার চলিয়া গিয়াছে। ছাত্র অনাথবন্ধু আজ আমার কোড সেট করিতেছে। গুরুদেবের খাবার, জল, সেবা, যত্ন, সকলই তাহার হাতে।

     আমি আজকাল সকাল বিকাল সকল অন্য শ্লোক পাঠ করি না। শুধুই উদ্ভট শ্লোকগুলি পড়ি। পড়ি আর পড়ি। কিন্তু কিছুই পাইনা, শুকনো শব্দ পড়িয়া থাকে মাত্র।

     গুরু, অনাথবন্ধুর তদারকে ও তরিবতে আবার সুস্থ হইয়া উঠিতেছেন। এইবার একদিন তাঁহাকে এই প্রশ্নটি করিব।

     বহুদিন আগে, গুরু আমাকে একটি তথ্য বলিয়াছিলেন। বৎস, তোমাকে আমি তৈয়ার করিয়াছি কিন্তু সমাজ দিই নাই। ইহা ঠিক করিয়াছি কিনা, আজ ভাবিতেছি। সমাজ না থাকিলে মানুষ পশুর তুল্য।

     ইহাই কথা, তবে? কারণ হাস্য সংক্রান্ত সবই আসে সমাজ হইতে। হায়! গুরুদেব! কোনদিন কি পাইব আমি সমাজ? বদ্ধ ধাতুপদার্থের ভিতর হইতে কোনদিন স্ফূরিত হইবে রস স্রোত? টিটিটি কোনদিন টিট্টিভ পক্ষীর ন্যায় উড়িয়া যাইবে, আনন্দে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *