পাঙ্ক কল্পবিজ্ঞান: সাহিত্যের বিপ্লব না অপচয় ?

সুপ্রিয় দাস

অলংকরণ:সুপ্রিয় দাস

The future is already here – it’s just not very evenly distributed 

                                                                                                                  — William Gibson

‘পাঙ্ক’— এই শব্দটার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ১৯৭১-এ নির্মিত ক্লিণ্ট ইস্টউডের বিখ্যাত ক্রাইম সিনেমা ডার্টি হ্যারির মাধ্যমে। ফিল্মের ক্লাইম্যাক্সে উদ্যত বন্দুক হাতে হ্যারি কালাহানের মুখে ছিল সেই বিখ্যাত সংলাপ— “Did he fire six shots or only five?” Well to tell you the truth in all this excitement I kinda lost track myself. But being this is a .44 Magnum, the most powerful handgun in the world and would blow your head clean off, you’ve gotta ask yourself one question: “Do I feel lucky?” Well, do ya, punk?” যা এক দাগি ব্যাঙ্ক ডাকাতেরও রক্তে ঠান্ডা স্রোত বইয়ে দিয়েছিল।

সেই সময়ই এই শব্দটার মানে সম্পর্কে একটা ধারণা হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের এক বিশেষ ধারার নামকরণে এই শব্দটার ব্যবহার দেখে বেশ ধন্দে পড়ে গিয়েছিলাম। পাঙ্ক ফিকশন-এর বেশ কিছু উদাহরণ ততদিনে পড়ে ফেলেছি ও সিনেমার পর্দায় দেখেও ফেলেছি। কাজেই শব্দটার ব্যুৎপত্তি জানতে ইংরেজি অভিধানের পাতা ওলটালাম। পাঙ্ক ফিকশনের উদাহরণ ততদিনে যা পড়েছিলাম তাতে এইটুকু ধারণা হয়েছিল যে এই ধরনের গল্পের মূল বিষয়বস্তু একটি বিশেষ প্রযুক্তির ফলে বদলে যাওয়া মানব সমাজের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন। কিন্তু তাহলে এই ধরনের গল্প ও উপন্যাসের শ্রেণির নামে পাঙ্ক-এর মতো একটা শব্দ ব্যবহার করা হয় কেন? অভিধানগত বা কথ্য সব রকম ব্যবহারেই তো পাঙ্ক অর্থ সমাজের বর্জ্য বা কলুষিত কিছু ব্যক্তি বা মতবাদ! তাহলে কি এই সাহিত্যধারা পাঠক ও সমালোচক সমাজে অপাংক্তেয়?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ঘেঁটে দেখতে হবে পশ্চিমি বিশ্বের শিল্প-বিপ্লবোত্তর সমাজের ইতিহাস। এই ইতিহাস প্রযুক্তির জয়যাত্রার ইতিহাস। পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির হাত ধরে গড়ে ওঠা এক সামাজিক শ্রেণিবিভাগের ইতিহাসও বটে। ওই সমাজে ক্ষমতার মুকুট রাজারাজরাদের মস্তকচ্যুত হয়ে গিয়ে বসেছে শিল্পপতি ও পুঁজিপতিদের মাথায়। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক সরকারি ব্যবস্থা ও সার্বিক শিক্ষার প্রসারে গড়ে উঠেছে এক শিক্ষিত ও ওয়াকিবহাল মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত সমাজ যাঁরা আর আর্থ-সামাজিক ভাবে দ্বিধাভক্ত সমাজকে ভবিতব্য বলে মেনে নিয়ে নিজেদের সামাজিক অবস্থানকে নিঃশব্দে মেনে নিতে নারাজ। এই সমাজের নিচুতলার মানুষদের এক অংশ প্রতিবাদের পন্থা হিসেবে গ্রহণ করল প্রচলিত সব রীতি রেওয়াজকে অমান্য করবার পথ। ছুড়ে ফেলতে চাইল সমাজের উঁচুতলার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত প্রচলিত সামাজিক বিধান। এই প্রতিবাদের একটা বহিঃপ্রকাশই হল পাঙ্ক মতবাদ। স্বভাবতই এর প্রভাব পড়ল শিল্প, সাহিত্য ও সঙ্গীত জগতেও। সৃষ্টি হল পাঙ্ক রক মিউজিক ও পাঙ্ক সাহিত্য। কাজেই পাঙ্ক সাহিত্য আদতে অপাংক্তেয় সাহিত্য নয়। বরং বলা যায় এই সাহিত্য অপাংক্তেয়দের কাহিনি তুলে ধরে।

সৃষ্টির এই আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের কারণে পাঙ্ক ফিকশনে কতগুলো সাধারণ বৈশিষ্ট লক্ষ করা যায়—

১। পাঙ্ক ফিকশনের সমাজ এক গভীর ভাবে বিভাজিত সমাজ। এই বিভাজনের মূলে রয়েছে কোনও একটা প্রযুক্তি। হয় এর সুবিধা সমাজের একটি বিশেষ উচ্চ শ্রেণির কুক্ষিগত বা এই প্রযুক্তির জোরে একটি বিশেষ সামাজিক শ্রেণি বা প্রতিষ্ঠান অন্যদের উপরে নিজেদের ক্ষমতা আরোপ করে রয়েছে।

২। গল্পের প্রোটাগনিস্ট বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সমাজের নিম্নশ্রেণির সদস্য যে উচ্চশ্রেণির স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত। যদিও অন্তর থেকে তার এই শোষণযন্ত্রের অংশ হওয়ায় সায় নেই। তবুও কোনও বিশেষ কারণে তার অন্য কোনও উপায়ও নেই।

৩। এই বিভক্ত সমাজের আনাচে কানাচে চলা দুর্নীতি, ক্ষমতালিপ্সা ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় মিলিয়ে এক ডিস্টোপিয়ান জগৎ পাঙ্ক ফিকশনের প্রধান উপাদান।

সুতরাং লক্ষণীয় যে, আদতে এই পাঙ্ক ফিকশন সাহিত্যের মূলে রয়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষদের মনের অসহায়তা অতিক্রম করবার আকাঙ্ক্ষা। কল্পবিজ্ঞানের স্বর্ণযুগ হিসেবে পরিচিত ৩০ থেকে ৫০-এর দশকে কল্পবিজ্ঞানের গল্পের বিষয় হিসেবে সিংহভাগ জুড়ে ছিল মহাকাশবিজ্ঞান ও ভিনগ্রহের জীব। ৬০-এর দশক ও তার পরবর্তী যুগের পাঙ্ক ফিকশনের হাত ধরে যেন কল্পবিজ্ঞান মহাকাশ ছেড়ে পৃথিবীর মাটিতে নেমে এসেছিল।

একথা আগেই বলেছি যে পাঙ্ক ফিকশনের বিভাজিত সমাজের মূলে রয়েছে কোনও না কোনও পৃথিবী বদলে দেওয়া প্রযুক্তি। সেই প্রযুক্তির রকম ফেরে পাঙ্ক ফিকশনেও সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন শাখাপ্রশাখা এবং এই বিষয়টায় অবশ্যই নির্ধারিত হয়েছে আমাদের সভ্যতার বিকাশের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করা বিভিন্ন প্রযুক্তি। দেখা যাক কিছু সেরকমই উল্লেখযোগ্য পাঙ্ক ফিকশনের প্রকারভেদ।

স্টিম পাঙ্ক

যন্ত্রসভ্যতার অগ্রগতির পথে প্রথম উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তি হল বাষ্পশক্তি। বাষ্পচালিত যন্ত্রের ব্যবহার আদতে শুরু হয়েছিল সেই ষোড়শ শতকে। কিন্তু অষ্টাদশ ও উনিশ শতকে প্রথম সার্বিক ব্যবহারযোগ্য বাষ্পচালিত গাড়ি, জাহাজ বা রেলের প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়। আর তার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের পরিচিত পৃথিবীটা আমূল বদলে যায়। এ কথা বলা ভুল নয় যে, অষ্টাদশ ও উনিশ শতকের পৃথিবী জোড়া যে ইংরেজ সাম্রাজ্য, তার প্রধান শক্তি ছিল বাষ্পশক্তি। কাজেই এই প্রযুক্তির বাস্তব পাঙ্ক সাহিত্যের মূল ভাবনার সঙ্গে একদমই মিলে যায়। যদিও স্টিম পাঙ্ক প্রধানত জনপ্রিয় হয়েছে গত দুই দশকের মধ্যেই। এই ধরনের পাঙ্ক সাহিত্যে সাধারণত এমন এক কল্পিত বিশ্বের বর্ণনা পাওয়া যায় যাতে সভ্যতার মূল শক্তি বাষ্পশক্তি। পরবর্তী কালে আবিষ্কৃত শক্তির উৎস যেমন পেট্রোলিয়াম বা আণবিক শক্তির আবিষ্কার হয়নি। তাই যান্ত্রিক সভ্যতার কেন্দ্রে রয়ে গেছে বাষ্পশক্তিই। এই জঁরের সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস সম্ভবত ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত উইলিয়াম গিবসন রচিত ‘ দ্য ডিফারেন্স ইঞ্জিন’।

 

ডিজেল পাঙ্ক

পাঙ্ক ফিকশনের এই ধারার সঙ্গে স্টিম পাঙ্কের কিছুটা মিল রয়েছে। স্টিম পাঙ্কের বাষ্পশক্তির বদলে এই গল্পের বিশ্ব নির্ভর করে রয়েছে জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত বিশালাকার কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যন্ত্র ও ইঞ্জিনের উপরে। এই ধারার প্রবর্তনও হয়েছে ডিজেল পাঙ্কের অনেক পরে, একবিংশ শতাব্দীতে। এর কল্পিত জগৎ অনেকটাই ৩০ ও ৪০-এর দশকের দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ পূর্ব সময়ের আর্থ-সামাজিক রীতিনীতিতে আবদ্ধ। ২০১০ সালে প্রকাশিত স্কট ওয়েস্টারফিল্ড রচিত ‘লেভিয়াথান’ উপন্যাসটি সম্ভবত এই ধারার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নিদর্শন।

 

 

সাইবার পাঙ্ক

পাঙ্ক ফিকশনের প্রথম ও সবচেয়ে জনপ্রিয় ধারা। এই ধরনের ফিকশনের এক-একটি নতুন ধারা বর্ণনা করার জন্য বিভিন্ন শব্দগুলিতে ‘পাঙ্ক’ যুক্ত করার প্রচলন মূলত সাইবার পাঙ্ক থেকেই শুরু হয়। সাইবার পাঙ্ক ভবিষ্যতের একটি অন্ধকার, ডিস্টোপিয়ান সম্ভাবনার দ্বারা চিহ্নিত। যেখানে প্রযুক্তি ও মানবতা কর্পোরেট নিপীড়ন এবং অ্যান্টিহিরো হ্যাকারদের একটি আধা অন্ধকার নিওন আলোকিত জগতে এসে এক বিন্দুতে মিলিত হয়।  সাইবার পাঙ্ক এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল ইন্টারনেট এবং ইমপ্লান্ট, ঘেটো এবং গ্যাং, ফ্লোরোসেন্ট লাইট এবং ডিজিটাল সংঘাত। এই দৃশ্যকল্প একবিংশ শতকের কল্পবিজ্ঞানের বই এবং চলচ্চিত্রগুলিতে এতটাই সর্বব্যাপী হয়ে উঠেছে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করলে আমাদের মনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ওই ধরনের এক জগতের ছবি ভেসে ওঠে। সাইবার পাঙ্কের পৃথিবী অনেকাংশে আমাদের বর্তমান সমাজের কিছু ঘটনা ও পরিস্থিতির সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। তাই হয়তো এই ধারার পাঙ্ক ফিকশনের জনপ্রিয়তাই সব চেয়ে বেশি।  সাইবার পাঙ্ক এর কথা বলতে গেলে যে দুটি সৃষ্টির উলেখ না করলেই নয় তার অন্যতম হল ১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া বিখ্যাত ছায়াছবি ‘ব্লেড রানার’। বিশ্ববিখ্যাত কল্পবিজ্ঞান লেখক ফিলিপ কে ডিকের গল্প ‘ডু আন্ড্রয়েডস ড্রিম অফ ইলেকট্রিক শিপ’ অবলম্বনে নির্মিত এই ছায়াছবি কিন্তু পাঙ্ক বৈষিষ্ট্যে মূল গল্পকে অনেকটাই ছাপিয়ে গিয়েছিল। এ ছাড়া আর এক উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি হল উইলিয়াম গিবসন রচিত উপন্যাস ‘নিউরোম্যান্সার’। যদিও এই উপন্যাস ‘ব্লেড রানার’ মুক্তি পাওয়ার দু’বছর পরে মুক্তি পেয়েছিল, কিন্তু সাইবার পাঙ্ক ঘরানার প্রথম সার্থক ও সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ বলতে পাঠক সমালোচক মহলে ‘নিউরোম্যান্সার’-এর নামই উঠে আসে।  

 

 

বায়ো পাঙ্ক 

সময় ক্রমে বায়ো পাঙ্ক সাইবার পাঙ্ক ঘরানার প্রথম প্রশাখা। এই ঘরনার পাঙ্ক ফিকশনে সাইবার বিজ্ঞানের বদলে জীববিজ্ঞান সমাজ ও অর্থনীতির চালক। কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের বদলে এই ধরনের গল্পে আসে ডিএনএ-র পরিবর্তন, মারণ ভাইরাস নির্ভর যুদ্ধবৃত্তি ইত্যাদি। অনেকের মতে পাঙ্ক বা এই ধরনের কোনও বিশিষ্ট সাহিত্যধারা প্রতিষ্ঠিত না থাকলেও বায়ো পাঙ্কের বীজ রোপণ হয়েছিল আজ থেকে বহু কাল আগে, মেরি শেলির ‘ফ্রাঙ্কেন্সটাইন অর দ্য মডার্ন প্রমিথিউস’ উপন্যাসের হাত ধরে। তবে বায়ো পাঙ্ক একটি সাহিত্য ঘরানা হিসেবে স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে সৃষ্টির মাধ্যমে তা হল পল ডি ফিলিপ্পো রচিত উপন্যাস ‘রিবোফাঙ্ক’।   

 

 

এ ছাড়াও বেশ কয়েক ধরনের গল্প ও উপন্যাস পাঙ্ক ফিকশন সাহিত্যে রয়েছে যা মূলত ‘উঠতি’দের দলে পড়বে। তার একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা নীচে দেওয়া হল। নতুন ধরনের ও নতুন যুগের কল্পবিজ্ঞান গল্পের স্বাদ পেতে হলে এগুলি অবশ্যপাঠ্য।

 1.   বাগ পাঙ্ক– সাইবার পাঙ্ক ও বায়ো পাঙ্ক-এর মিশ্রণ। কিছুটা ফ্যান্টাসি ঘেঁষা গল্প। উদাহরণ – বেল ডেম রচিত উপন্যাস ‘গডস ওয়ার’।

2.  ট্রান্সিস্টর পাঙ্ক–এই ধরনের পাঙ্ক সাহিত্যে প্রযুক্তির চেয়ে বিভিন্ন ধরনের ড্রাগ-এর প্রভাবে সৃষ্ট সামাজিক অবস্থা প্রাধান্য পায়। উদাহরণ –ফিলিপ কে ডিক এর উপন্যাস ‘আ স্ক্যানার ডার্কলি’।

3.  রে পাঙ্ক– কিছুটা সাইবার পাঙ্ক ধরনের। কিন্তু সাইবার পাঙ্ককে ছাপিয়ে এর ব্যাপ্তি পৃথিবীর বাইরে। যা প্রচলিত বিজ্ঞানে বাস্তব হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, রে পাঙ্ক সেই সমস্ত ক্ষেত্রে অবাধে বিচরণ করে। এই জন্যেই একে সাইবার পাঙ্ক-এর থেকে আলাদা শ্রেণিতে রাখা হয়।

4.  অ্যাটম পাঙ্ক– নাম শুনেই বোঝা যায় যে এর মূলে রয়েছে আণবিক শক্তি চালিত সমাজ। বাকি বৈশিষ্ট্যে এই ধরনের গল্প অনেকটাই ডিজেল পাঙ্কের সমতুল্য। এ ছাড়া আরও অনেক নতুন ধরনের পাঙ্ক সাহিত্য লেখার প্রচেষ্টা গত দুই দশকে হয়ে এসেছে যার তালিকা বেশ দীর্ঘ। তবে সেগুলো এখনও পাঙ্ক ঘরানার সাহিত্যের আলাদা প্রশাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে উঠতে পারেনি।

তবে এর মধ্যে একটি ঘরানা নিজের অস্তিত্ব ও স্বাতন্ত্রে বেশ সাড়া জাগিয়েছে সম্প্রতি। তা হল ‘সোলার পাঙ্ক’। সাম্প্রতিক বিশ্ব উষ্ণায়ন ও পরিবেশ দূষণ সমস্যা সম্পর্কে সমাজ সচেতন হওয়ার পর থেকেই তার সমাধান হিসেবে সৌরশক্তি ও সমতুল্য অন্যান্য বিকল্প পরিচ্ছন্ন শক্তি নিয়ে আলোচনাও সর্বস্তরে উঠে আসছে। সুতরাং এই ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে নিয়েও কল্পবিজ্ঞান গল্প উপন্যাস রচনা হবে তা বলাই বাহুল্য। এই ধরনের ভবিষ্যৎদ্রষ্টা গল্পের আলাদা শ্রেণি বিভাজন করতে বসে পাঠক ও সমালোচক সমাজ এদের ‘সোলার পাঙ্ক’ নামে আখ্যায়িত করেছেন। তবে এই ঘরানার গল্পের সঙ্গে প্রথাগত পাঙ্ক সাহিত্যের কিছু পার্থক্য রয়েছে। অন্যান্য পাঙ্ক সাহিত্যের মতো এই ধরনের গল্পের সমাজ সাধারণত অতটা অন্ধকারাচ্ছন্ন নয়। মানুষ একবিংশ শতকের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলো সৌর শক্তির সাহায্যে অতিক্রম করলে সামাজিক চিত্রটা কীরকম দাঁড়াবে এই ধরনের গল্পে মূলত তারই চিত্রাঙ্কন হয়েছে। কাজেই এই গল্প পাঁকে (পড়ুন পাঙ্কে) পদ্মফুলের মতো নির্মল ও আশাবাদী। এ ধরনের গল্পের স্বাদ পেতে ফোবওয়াগ্নার ও ব্রণ্ট ক্রিস্টোফার ওয়েল্যান্ড সম্পাদিত গল্পসংকলন ‘সানভল্ট’ অবশ্যই পাঠ্য।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!