আদম ইভের প্রত্যাবর্তন

অনীশবাবু প্রতিদিন সকালবেলায় লেকে বেড়াতে যান। এটা অভ্যাস করেছেন শুধু শরীরচর্চার জন্যই নয়, ওখানে গেলে বেশ কিছু বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়। তারাও অনেকে তাঁরই বয়সী, সদ্য রিটেয়ার করেছে। দু’একজন অল্প বয়সীও আছে। তারাও বেশ ভালো, খুব সম্মান দেয়। যেহেতু কলেজে পড়াতেন, অনেকেই তাঁকে স্যার বলে সম্বোধন করে। এই তো গত টিচার্স ডে তে একজন একটা ব্লু টুথ হেডফোন উপহার দিয়েছে। [আরো পড়ুন]

Read more

ভাঙ্গা গড়ার খেলা

হঠাৎ ছুটতে শুরু করলাম। মহাশূন্যের ভেতর দিয়ে! কেন? জানি না। কোথায় যাচ্ছি তাও জানি না! শুধু এটুকু বুঝতে পারছি, গ্যালাক্সি কেন্দ্রের দিকে ছুটে চলেছি। ছুটছি তো ছুটছিই; অনিচ্ছা সত্ত্বেও ছুটছি!      

এবার শুরু হল এক প্রচণ্ড টান। সোজা ব্ল্যাকহোলের দিকে। কিন্তু সেখানে তো আমাদের প্রবেশ নিষেধ। গ্রন্থে পরিষ্কার নির্দেশ দেওয়া আছে, “তোমরা আমার সৃষ্টির সর্বত্র ভ্রমণ [আরো পড়ুন]

Read more

হামিন অস্ত-উ-হামিন অস্ত

চকচকে জিনিসটাকে প্রথম দেখতে পেয়েছিল আলেহান।

     ফ্যাক্টরির পেছনের মাঠটায় যেখানটা থেকে বড় উঁচু ঢিপিটা শুরু হচ্ছে, তার ঠিক সামনেটায় পড়েছিল জিনিসটা।

     দূর থেকে দেখতে পেয়ে আলেহান আস্তে আস্তে এগিয়ে যায় সেটার দিকে, হাতে ধরা ডিভাইসটাকে বন্ধ করে দিয়ে। “পটার” গেমটা খেলতে খেলতেই সে এতোদূর চলে এসেছে, নাহলে মামি তাদের ফ্ল্যাট থেকে তাকে একেবারেই বেরোতে দেয় [আরো পড়ুন]

Read more

ওঁ

২২২২ সাল। পৃথিবীর সবথেকে নিকটবর্তী কৃষ্ণগহ্বরের কাছে পৌঁছে যাওয়া রেডিয়ো স্যাটেলাইটে একটি অদ্ভুত ডিসট্রেসকল ধরা দেবে। যা পৃথিবীর বাসিন্দাদের হয়তো জানাটা দরকার ছিল। কিন্তু তৎকালীন পৃথিবীর সমস্ত ক্ষমতাসীন সরকার এবং তাদের সহকর্মী ধর্মগুরুরা একযোগে সিদ্ধান্ত নেবে সেই বার্তার সমস্ত রেকর্ড নষ্ট করে দিতে। অবশ্য দাম্ভিক লোকগুলো বুঝতে পারেনি এই ব্রহ্মাণ্ড [আরো পড়ুন]

Read more

বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস

“আচ্ছা, আজকে কি ঝড় আসবে?”

        “এই আপনি কে বলুনতো? সেদিন থেকে ফোন করে করে এই একই প্রশ্ন করে চলেছেন! ইয়ার্কি হচ্ছে? মজা পেয়েছেন নাকি?”

        কথাটা বলেই, কান থেকে ফোনটা প্রায় আছাড় মেরে নামিয়ে রাখতে গেলেন গৌরাঙ্গ, কিন্তু রিসিভারটা ক্রেড্‌লে না বসে, হাত ফসকে সোজা গিয়ে লাগল টেলিফোনের পাশে শোকেসের ওপরে রাখা ইন্দ্র এবং পুলমার বাঁধানো একটি ছবিতে; ফল- ছত্রভঙ্গ। কিছুক্ষণ [আরো পড়ুন]

Read more

ঘনাদার নতুন গল্প – ধোঁয়া

ঘনাদা বললেন ‘ধোঁয়া’।

     শিশিরের সিগারেটের টিন থেকে ১১২৭২ নম্বর সিগারেটটা ধার করে, আরাম কেদারায় মৌজ করে হেলান দিয়ে সুখটানের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বললেন ‘ধোঁয়া’।

     কথা উঠেছিল বাজেট নিয়ে। শিশির বলছিল, ‘এই প্রতিরক্ষা খাতে বছরে ৮০,০০০ কোটি টাকা করে ঢালা হচ্ছে–এতে কার কী লাভ হচ্ছে বল তো? যে দেশে অর্ধেক লোক খেতে পায় না সে দেশে অ্যাটম বোমা, হাইড্রোজেন বোমা, মিসাইল [আরো পড়ুন]

Read more

আঁধার আর ঈশ্বর

শুরুর আগে

ঘুমিয়ে আছেন তিনি। অদ্ভুত এক মহাজাগতিক শূন্যতা গ্রাস করেছে তাঁকে।

     জগৎ-সংসারের সবকিছু বেঁচে আছে উনার ঘুমের মধ্যেই। যদিও এই সংসার নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা নেই তাঁর।

     তারপরেও এই জগৎ গড়ে উঠেছে।

     ঘুমিয়ে চলেছেন তিনি আর দেখে চলেছেন একের পর এক স্বপ্ন। প্রতিটি সৃষ্টিকে নতুন করে পূর্ণতা দিয়ে চলেছে উনার স্বপ্নগুলো। স্বপ্নের মাধ্যমেই প্রতিদিন [আরো পড়ুন]

Read more

ঘনাদার নতুন গল্প – ছিপি

মেসের বসবার ঘরের এই পীঠস্থানের আবহাওয়া ইদানিং বেশ শান্ত। তাস পিটে, লুডো কিংবা দাবা খেলে, এমনকি মাছি মেরেও সময় যেন গলতে চায় না। আর ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার কি অবস্থা তা লুডো কিংবা দাবার মতো খেলার কথা উল্লেখ করা থেকেই নিশ্চয়ই বোঝা যাচ্ছে। সবই যেন ন: গচ্ছতি। বাড়িটাকে পীঠস্থান কেন বললাম? তা বুঝে নিতে অবশ্য খুব একটা অসুবিধে হওয়ার কথা [আরো পড়ুন]

Read more

ক্লোরোফিলিয়া

এক নম্বর কাঠপুল থেকে নৈহাটি রোডের একটা সরু শাখা ডানদিকে ঢুকে হিজলি গ্রামে চলে যায়। মোড়টার সামনে একটা মরা অর্জুন গাছ, পাশে ছোট্ট চায়ের দোকান আর ঠিক মোড়ের মাথাতেই চায়ের দোকানের উল্টোদিকে জাকির কাকার বাড়ি। কাকার বাড়ির সামনে হিজলি যাওয়ার রাস্তা, রাস্তার ওপারে ধু-ধু ধানখেত দিগন্তের কাছে এসে খাটের কোনায় গোঁজা বিছানার চাদরের মতো ভ্যানিশ হয়ে গেছে। বাড়ির [আরো পড়ুন]

Read more

ফ্যানাটিক

পাওয়ার হাউজ থেকে রিচার্জ শেষে বেরিয়ে এল জুজু। তার সোলার ওয়াচে এখন সময় সকাল ১০টা। একটু পরেই তাদের এডুল্যাব শুরু হবে। তার লাল টুকটুকে অটোরোডিতে উঠে আসতেই প্যাক্সি বলল, “যাক আগামী আটচল্লিশ ঘণ্টার মতো নিশ্চিন্ত।” জুজু বুড়ো আঙুল তুলে ‘ইয়েস’ বলে রোডির সুইচ অন করতেই চোখের পলকে বাতাসে ভর করে সেটা ছুটে চলল ল্যাবের দিকে। যদিও অটোরোডি তার বয়সী ছেলেদের কাছে খুবই [আরো পড়ুন]

Read more

পুনরাগমনায় চ

সকালবেলা। এভার ঘুম ভেঙে গেল। গুহার ঠিক বাইরে জ্বালা আগুনটা ভোরের দিকে নিভে গিয়েছে। হাড় কাঁপানো ঠান্ডা। ভাল্লুকের মোটা চামড়াটা ভালো করে গায়ে জড়িয়ে নিল এভা। তার বেশ মনে পড়ে ছোটবেলায় বেশ কয়েক চাঁদ ধরে এত গরম পড়ত যে ওই দূরের পাহাড়টাও গায়ের বরফের সাদা চাদর খুলে ফেলত। সে সময় এভারও খালি গায়ে ঘুরতেও কোনও কষ্টই হত না। কিন্তু এখন সারাক্ষণই কনকনে ঠান্ডা। মাঝে মাঝে আকাশ থেকেও বরফ পড়ে।

[আরো পড়ুন]

Read more

পিউপা

“এই মুহূর্তে বাংলা তথা ভারতীয় কল্পবিজ্ঞানের চেহারাটা ঠিক কেমন? তারই আভাস মিলবে ২২-২৪ নভেম্বর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগ ও বাংলার প্রথম কল্পবিজ্ঞান-ফ্যান্টাসি বিষয়ক ওয়েব পত্রিকা ‘কল্পবিশ্ব’ আয়োজিত আন্তর্জাতিক কল্পবিজ্ঞান সমাবেশ ‘ওয়র্কশপস অব হরিবল ক্রিয়েশন’-এ। মেরি শেলির অমর সৃষ্টি ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ প্রকাশের ২০০ বছর উপলক্ষেই এই [আরো পড়ুন]

Read more

হিমঘুম

না, কোনও কিছুর অভাব নেই আকাশনীলের। একবিংশ শতাব্দীতে যা যা থাকলে লোকে সুখী বলে মনে করে তা সবই আছে আকাশনীল সেনের। বাড়ি, গাড়ি, জেট প্লেন, ব্যাঙ্কে প্রচুর টাকা—সব। এখন আর সমস্যা নয়। সিনথেটিক বাড়ি মাত্র দু’ঘণ্টার মধ্যে তৈরি হয়ে যায়। খুলতে এক ঘণ্টাও লাগে না। দারুণ শক্ত আর মজবুত এই বাড়িগুলো। বাকি আছে শুধু আরব সাগরের তলায় একটা ছোট বাড়ি। বর্তমান যুগে সাগরতলার [আরো পড়ুন]

Read more

শৈত্যের গান

জীবন আসলে একটা অচেনা রোডম্যাপ, সেখানে কিছু মোড় আঁধারে মোড়া, কিছু মোড়ে বসানো ফ্লাডলাইট। আমার হাঁটা হয়েছে কিছুটা পথ, যেখানে পৃথিবী পালটেছে আমার চোখের সামনে, বলতে গেলে পলকের মধ্যে। আমার কাছে কলকাতা এখন অচেনা। উত্তর দিকচক্রবালের দিকে মুখ করে, কোনও উঁচু স্কাইস্ক্রেপারের ছাদে ঠান্ডা সহ্য করে দাঁড়ালে দেখা যায় মেঘের মতো নীলচে একটা স্তর; ধীর গতিতে এক প্রকাণ্ড [আরো পড়ুন]

Read more

প্রজন্ম

“ইয়েসসসসসস!”

     চীৎকার করে ঘরের ফাঁকা জায়গাটায় লাফিয়ে উঠেছিল নি-রা-৫। ও হচ্ছে পৃথিবী থেকে শেষ যে মানুষটা পা তুলে নিয়েছিল তার পঞ্চম প্রজন্ম। প্রজন্ম বলা যায় কি না কে জানে, সেই শেষতম শাটলের কম্ব্যাট টেনিংপ্রাপ্ত গার্ড নিবেদিতা রায় এই ত্রিয়োশিতা উপগ্রহের কলোনিতে এসে পৌঁছোনোর পর, এখানকার সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তার নাম হয় নি-রা-১। তার জিন থেকে নি-রা-২ অবশ্য [আরো পড়ুন]

Read more

কৃষ্ণপুর আদর্শ বালিকা বিদ্যাপীঠ

কালিদাস যে ঠিক কী কাজ করে তা কাউকে বোঝান ভারী মুস্কিল। অথচ সে সবরকম কাজ করে। এই যেমন আজ ক’দিন ধরে তার দিন শুরু হচ্ছে ভারা ভারা জল বয়ে দিয়ে। তার কাঁধে থাকে একটা বাঁশ, বেশ মোলায়েম করে কাটা। তার দু’দিকে দুটো ভারা বাঁধা থাকে। সকালবেলার মধ্যে সে প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ ভারা জল তুলে দিচ্ছে।

     তার পরেই তার ছোট ঠেলাগাড়িটা নিয়ে সে বাজারে চলে যাচ্ছে। সেখান থেকে [আরো পড়ুন]

Read more

ফেক নিউজ

‘বদমায়েস, অপদার্থ, শয়তান, ছাগল, হিপোপটেমাসের বাচ্চা’

     ‘মাইন্ডটুমাইন্ডবুক’ কোম্পানির চিফ টেকনোলজি অফিসার রঞ্জন স্যান্যালকে কেউ এরকম গালাগালি দিতে কখনও শোনেনি। এরকম উত্তেজিত হয়ে উঠতেও দেখেনি।

     এরকম নিপাট ভদ্রলোক মানুষ কখনও খারাপ কথা জীবনে ব্যবহার করেননি। ওঁর শব্দভাণ্ডারে যে এর থেকে খারাপ আর কোনও শব্দ নেই, সেটা ওঁর উত্তেজিত কথা শুনেই বোঝা যাচ্ছিল।

[আরো পড়ুন]

Read more

লীলাবতীর মুক্তো

‘ওই সামনে যে দালানটা দেখছ; ওটাই হল জগৎনারায়ণের জলসাঘর।’ —বলে ধীরেনদা জীর্ণ মন্দিরের মতো একটা বাড়ি দেখালেন। মন্দির না বলে বরং চণ্ডীমণ্ডপই বলা যেত যদি চারদিকের দেয়াল থাকত। বাড়িটার ছাদের মাঝখানটা অর্ধগোলাকার। কলকাতার তারামণ্ডল বা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের মতো। একপাশ দিয়ে একটা সিঁড়ি উঠে গিয়েছে তা দিয়ে ছাদে ওঠা যায়। গোলকের চারপাশে কিছুটা [আরো পড়ুন]

Read more

স্বর্গই নরক

করতালির গর্জনে আমি পাশে বসা সীমা আর গ্রেগরির কথাও শুনতে পাচ্ছি না। আমি চোখ বন্ধ করে বসে আছি। কানটাও বন্ধ করে নিতে পারলে বোধহয় ভালো হত। দিল্লির রাজঘাট পাবলিক অডিটোরিয়ামের সাড়ে দশ হাজার আসন উপচে পড়েছে। দাঁড়িয়ে রয়েছেন আরও অন্তত তিনশো জন সাংবাদিক ও বৈদ্যুতিন মাধ্যমের প্রতিনিধি। আজ সেরিব্রনিক্স সিস্টেমস তাদের গত পঞ্চাশ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার এত বড় সাংবাদিক [আরো পড়ুন]

Read more

আরশোলার দুধ

(১)

বিদগ্ধ পাঠক: এ আবার কী! আরশোলার আবার দুধ হয় নাকি? যত্ত সব চিপ, সেন্সেশনাল জার্নালিজম!

     লেখক: হা হা, পাঠক, আপনি আমার আসল উদ্দেশ্যটা ঠিক বুঝেছেন। তবে একটু সেন্সেশনাল করে নাম না দিলে কি আর আমার মতন একজন অজ্ঞাত, অখ্যাত ও অখাদ্য লেখকের লেখা কেউ পড়বে? অন্য কেউ হলে তো আমি নিজেই পড়তাম না! এরকম কত লেখক কলকাতার অলিতে গলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন! তাই আমাকে যখন প্রথম ডা: বরুণ [আরো পড়ুন]

Read more

৪৫ মিনিট আগে

“…যেন ভূমিকম্প! বিছানাসহ আমি শূন্যে কিছুক্ষণ ভাসলাম। তারপর এক বিকট শব্দে আছড়ে পড়লাম মেঝেতে। ভয়ে আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত। কী অবস্থায় ছিলাম বুঝতে পেরেছেন মি. সরকার?”

     আলবাত বুঝতে পেরেছি, কথাটা মনে মনেই বলতে হল। কারণ জগন্নাথবাবুর গত পরশু রাতের লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা শুনে ভয় পাওয়া দূরের কথা, মাঝে মাঝেই হাসির উদ্রেক হচ্ছে। বললাম, “কী হল তারপর?”

     “দেখি ওয়াইজা [আরো পড়ুন]

Read more

দুখা

নিশীথবাবু বললেন, “আপনারা তো ওর বন্ধু। আপনারা একটু বুঝিয়ে বলুন না।”

     পরেশদা ‘ফোঁস’ করে নিঃশ্বাস ফেললেন, “বলে লাভ কি? সুখেন আমাদের কথায় আর কবে কান দিয়েছে?”

     নিশীথবাবু বললেন, “কিন্তু এ যে আগুন নিয়ে খেলা! এ জিনিস আগে কোনওদিন কেউ করেছে বলে আমার জানা নেই। কি কুক্ষণেই যে মুখ ফসকে ওর কাছে সেদিন বলে ফেলেছি দুখার কথাটা!”

     আমি বললাম, “ব্যাপারটা কিন্তু আমি ঠিক [আরো পড়ুন]

Read more

হারানো ছেলে!

দেওয়ালে টাঙানো ঘড়িটার দিকে আর একবার তাকাল স্নেহাংশু। পাঁচটা বেজেও বাজতে চায় না যেন! এখনও পাঁচটা বাজতে পাঁচ মিনিট বাকি!

     রিভল্‌ভিং চেয়ারটা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল স্নেহাংশু। পিএ মিস মৈত্রর টেবিলটা খালি। আজ আধ ঘণ্টা আগেই ও ছুটি নিয়ে বেরিয়ে গেছে। টমাস এন্ড ক্রুডাস কোম্পানির কয়েকটা স্টেটমেন্ট ছিল চেক করবার—সেইগুলি নিয়েই এতক্ষণ ব্যস্ত ছিল স্নেহাংশু। [আরো পড়ুন]

Read more

অভয়ারণ্য মধুমিডা

পায়রার মতো বড়সড় চেহারার একটা জোনাকি পাখির ছোঁয়া ঘুম ভাঙিয়ে দিল। অনেকদিন বাদে এমন স্বপ্ন দেখল বিদুর।

     আড় চোখে তাকাল শ্রীমতীর দিকে। এখনও গভীর ঘুমে অগোছালো আর নিশ্চিন্ত।

     যেন ধরা পড়ার ভয়ে চোখ বুজে ফেলল বিদুর। সেই প্রথম সিগারেট টানার দিনগুলোর মতো। কেউ টের পাবে না জেনেও দূরে মুখ সরিয়ে রাখা, ঠোঁট টিপে কথা।

     রঙিন আবরণে নিষিদ্ধ চিন্তা। [আরো পড়ুন]

Read more

তোতা রহস্য

মুসান্দম উপত্যকার শুষ্ক, পাহাড়ি প্রকৃতি ইশায়ুর মন্দ লাগল না। এই অঞ্চল পারস্য উপসাগরের তীরবর্তী, অবস্থান হরমুজ্‌ প্রণালীর দক্ষিণে। শীতকালীন মৃদু আবহাওয়ায় এখানে এখন চলছে পুরাতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের কাজ। মাটির নিচে পাওয়া গেছে মানব সভ্যতার প্রাচীন অবশেষ। একটি আন্তর্দেশীয় দল এই অনুসন্ধানের কাজে নিযুক্ত। ইশায়ু ও স্বেতলানা সেই দলেরই [আরো পড়ুন]

Read more

সত্যান্বেষী – ২২৪৫

‘কী হে টিকটিকি! সকাল সকাল মুখ গোমড়া করে বসে আছ কেন বল দেখি?’

     আমার ভ্রাতৃপ্রতিম বন্ধু এবং রুমমেটটির মন মেজাজ দেখছি সকাল থেকেই বেশ খারাপ! অবশ্য গত কয়েকমাস যাবৎ নিও-আটলান্টা শহরের যা সুসময় চলছে তাতে আমার রুমমেটটির মন ভালো না থাকারই কথা! কত আশা করে সেই সুদূর পৃথিবীর কলকাতা থেকে সাত সমুদ্র, তের নদী, এক চাঁদ, তিন গ্রহ পেরিয়ে টাইটানের ‘ক্রাইম ক্যাপিটাল’ নিও-আটলান্টায় [আরো পড়ুন]

Read more

আত্মীয়

পূর্ণিমার রাতে একটু আধটু বাড়ির সামনের খোলা জায়গায় পায়চারি করাটা বহুদিনের অভ্যেস। সেদিনও চাঁদের আলো এসে ঘরের জানালা দিয়ে বেডকভারের ফুল লতাপাতার ওপর পড়তেই আমি পায়ে স্যান্ডেল গলাতে গলাতে থমকে গেলাম। কেউ একজন ছুটে আসছে আমার বাড়ির দিকে। কিছু একটা বলতে বলতে আসছে! কে রে বাবা? এমন চাঁদনী সন্ধ্যেটা মাটি করবে! একেই তো জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। ওদিকে অনলাইনে [আরো পড়ুন]

Read more

নবজাতক

–সিস্টার, বাচ্চাটা এখনও কাঁদেনি? মিনিট দুয়েক তো হয়ে গেল ডেলিভারীর?

     –না স্যার, এখনও কাঁদেনি। ভালো করে দেখুন তো বাচ্চাটার মুখটা কেমন হাসি হাসি আর পরিণত! আর তাকানোটাও লক্ষ্য করুন, আমার দীর্ঘ বারো বছরের নার্সিং প্রফেশনে এরকম স্পষ্ট চোখের ভাষাওয়ালা বাচ্চা কখনও দেখিনি।আর এমনি তো সব কিছুই স্বাভাবিক দেখছি।

     –হুমম্। কিন্তু, বাড়ির লোকজন তো বাইরে অপেক্ষা [আরো পড়ুন]

Read more

সময়চক্র

(১)

পঁচিশ তলা উঁচু বিল্ডিংটার একেবারে উপরের ঘরটিতে একটি অত্যাধুনিক ফ্লাইং চেয়ারে চোখ বন্ধ করে বসে আছেন বছর সাতাত্তরের এক ভদ্রলোক। তাঁর কপালে একটি চেরা দাগ।

     পিছনের স্বচ্ছ কাঁচের দেওয়াল ভেদ করে দেখা যাচ্ছে কিঞ্চিৎ ধূসর রঙের আকাশটা। সেই আকাশের বুকে অনবরত টহল দিচ্ছে কয়েকটি ‘ই.আর.জি ৪৫’। এক্সট্রা অর্ডিনারি রোবোটিক গার্ড। ২০৪৫ সালের সেরা আবিষ্কার। [আরো পড়ুন]

Read more

শুভাকাঙ্খী

বুধবার বিকেল চারটে

আজ প্রায় পাঁচ দিন হয়ে গেল-এত লোক দেখেছে ভিডিয়োটা, প্রায় ভাইরাল হয়ে গেছে। প্রথমদিকে মুকুলকে প্রায় মেরে ফেলার ইচ্ছেটা এখন অনেক প্রশমিত। শুধু একটা প্রচন্ড তিক্ত স্বাদ মুখে। মেট্রোরেলের জানলা থেকে দ্রুত বদলে যাওয়া শহর… আমি দেখতে পাচ্ছিনা আর কিছুই– শুধু ধূসর, বিবর্ণ আর অগুনতি মানুষ। গতকাল বিকেলে টালিগঞ্জ স্টেশনে নামার পর আমার সব [আরো পড়ুন]

Read more

যন্ত্রণানিরোধক যন্ত্র

হ্যালো, হ্যালো!

     হ্যাঁ, কে বলছ।

     এই, এই, আমি নন্দিতা বলছি। চাপা গলায় বলল নন্দিতা। মানে স্বাভাবিক গলায় বলবে ভাবল কিন্তু বলাটা হয়ে গেল কেমন ত্রস্ত, ভয়ভীত। চাপা।

     নন্দিতার ভয়, বড় ভয়।

     হ্যাঁ নন্দিতা, বল বল। হাতের আঙুলে লেগে থাকা জ্যামটুকু চেটে নিল সুনেত্রা। এখুনি দুটো বিস্কুটের মাঝখানে জ্যাম লাগিয়ে খাচ্ছিল। বিন্দাস সুনেত্রা খাওয়া দাওয়ায় দিল দরিয়া।

  [আরো পড়ুন]

Read more

যদি

এক…

আলো ভালো করে ফুটতে না ফুটতেই হালুম-গোলুমকে তাড়া লাগায় দিদুন, “চটপট রেডি হয়ে নে। একজায়গায় নিয়ে যাব।” দাদাভাই অবিশ্যি ওদের পক্ষ নিয়ে বলতে যায়, “আহা, ওদের যে এখনও উড়োজাহাজের খোঁয়ারি কাটে নি। কাল গেলে হত না? মর্ণিং ওয়াক তো পালিয়ে যাচ্ছে না।” হালুম-গোলুম মজা পায়, “দাদাভাই ইজ সো ফানি! হোয়াটস আ খোঁয়ারি? ইউ নো গোলুম?” “নোপ।” গোলুম চাঁচাছোলা, “সাম ল্যাঙ্গোয়েজ [আরো পড়ুন]

Read more

আইসবার্গ

‘সেই ভদ্রলোকের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল জানিস?’ সাইকেলের স্পিড একটু না কমিয়ে কথা গুলো আমাদের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে গেল বুবলাই।

     আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে হাওয়া। লম্বা চক্কর কাটতে পাড়ি দিয়েছে পার্কের ওই প্রান্তে। ঠিক জানি আবার এই পথেই ফিরে আসবে তাই অপেক্ষা করতে লাগলাম সবাই – মানে আমি, অপু আর টোটোন।

     কয়েক মিনিটের মধ্যেই আবার তার আগমন। প্যাডেল ঘুরছে বাঁই বাঁই, [আরো পড়ুন]

Read more

যন্ত্রিনী

কথাটা কানে যাচ্ছে না?

     রুবু চুপচাপ।

     কি হল? লীনা বলে উঠল।

     রুবু একটু ঘুরে ফিরে থেমে গেল মেঝের ওপর।

     লীনা রিমোটের বাটন নিয়ে দক্ষ যজ্ঞ বাধিয়ে ফেলার আগেই অতনুর ফোন ঘোরাল। এই দেখ, তোমার রোবট মেইড আমার কোনও কথাই শুনছে না। অতনু বলল, পড় ওর গায়ের মিনি এলসিডি স্ক্রিনে কী লিখছে সে।

     লীনা বলল যে প্রথমে স্ক্রিনে ফুটল Error, আমি ম্যানুয়াল খুলে পড়লাম। প্রথমে রেড [আরো পড়ুন]

Read more

মৃত্যুদণ্ড

বাইরে ঝড়ো হাওয়া বইছে, কদিন ধরে বঙ্গোপসাগরের উপর যে নিম্ন চাপটা জমে ছিল তা আজ উপকূলে আছড়ে পড়েছে সজোরে। রায়পুরে গঙ্গার ধারে এই বাড়িটা তিনশো বছরের পুরানো। ঝড়ের তাণ্ডবে কড়িবর্গা কেঁপে কেঁপে উঠছে। ডঃ রায় দোতলার বারান্দায় এসে দাঁড়ান। ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে আসছে, কিন্তু দু চোখে রয়েছে এক নতুন আশা। তিন বছর ধরে গবেষণা করে আজ প্রায় সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছেন [আরো পড়ুন]

Read more

মেমারি চিপ

টিফিনের বাক্সটা খুলে টুপুরের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। শ্রুতি বলল, কীরে, টুপুর কাঁদছিস কেন? টুপুর বলল, কিছু না, এমনি। শ্রুতি ওর ছোট্ট দু-হাতের পাতা জড়ো করে টুপুরের গালটা ধরে বলল, জানিস না, বেস্ট ফ্রেন্ডকে মিথ্যে কথা বলতে নেই। শ্রুতির কথায় টুপুরের আরও কান্না পেল। চোখ দুটো জলে ভেসে গেল। সেই দেখে শ্রুতি বন্ধুকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল। কোনওরকমে কান্নাটা সামলে [আরো পড়ুন]

Read more

কাঁটাচুয়া

ডক্টর প্রণব নাথ একজন বছর তেত্রিশের এমবিবিএস ডাক্তার, নিজের বিচারেই তিনি সাধারণ। অল্পস্বল্প প্রাইভেট প্র্যাকটিশ আর বেসরকারি হাসপাতালের সহযোগিতায় তার দিনকাল ভালই কাটে। স্ত্রী এবং চার বছরের মেয়ের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া, এক সঙ্গে টিভি দেখা, সময়মতো খাওয়া-দাওয়া, আরাম-বিশ্রামের সুযোগ পান। অধিকতর সফল বন্ধুবান্ধব কি দামি ডাক্তাররা যখন পিঠ-চাপড়ানোর [আরো পড়ুন]

Read more

ভালোবাসা ডট কম

অনসূয়া দাঁড়িয়েছে এসে আয়নার সামনে। আধো অন্ধকার ঘর। পিছনের জানালায় এক টুকরো আকাশের ছায়া দেখা যাচ্ছে। আয়নাটা দেখতে দেখতে একটা কুয়ো হয়ে যাচ্ছে। দেখলে মনে হবে তার তল নেই। অনসূয়া জানে ওই কুয়োটায় ঘোলা জল, অনেক গভীরে থকথকে কাদা। ওর মধ্যে নিজের প্রতিবিম্ব দেখছে অনসূয়া। নিজের ভাঙাচোরা প্রতিচ্ছবি দেখছে। এখানে বাতাস কম। দম বন্ধ হয়ে আসছে অনসূয়া…!

     ঘুমটা ভেঙে [আরো পড়ুন]

Read more

বাতাসে স্বপ্ন ভাসে

মাথায় তীব্র একটা যন্ত্রণা নিয়ে ঘুম ভাঙল মোহরের। কিছু দেখতে পাচ্ছিল না। জমাট নিরেট অন্ধকার। ওঠার চেষ্টা করেও পারল না। হাত পা নড়ছে না। নরম কাদা কাদা কোন জায়গায় ও শুয়ে আছে। আমি কোথায়, কি করে এলাম? ভাবার চেষ্টা করল। নিরেট অন্ধকারের মতো নিরেট নিস্তব্ধতা। অগত্যা মোহর আবার চোখ বুজে ফেলল। যেখানে চেষ্টা করে লাভ নেই সেখানে বিনা চেষ্টায় পড়ে থাকাই ভাল। অযথা শক্তি ক্ষয় করে কী হবে?

[আরো পড়ুন]

Read more

ফর্মুলা ১৬

ভানুদার ধনকাকার বিস্ময়কর গবেষণার কথা যদিও যাকে বলে প্রকাশিতব্য নয়, তবু এমন মূল্যবান তথ্য থেকে জনগণকে বঞ্চিত করা কত বড় অন্যায় কাজ হবে, শুধু সেই কথা ভেবেই পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে না হলেও, মোটামুটি সব কথা ফাঁস করে দিচ্ছি। তবে বলা বাহুল্য, নামধাম ইত্যাদি সমস্তই আমার কল্পনাপ্রসূত। কারণ পাত্রপাত্রীদের কেউ কেউ বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে অমরত্ব দাবি করতে [আরো পড়ুন]

Read more

কলাবতী

পর্ব এক

অনেকক্ষণ ধরে বাড়ির সামনে পায়চারি করছে একটা লোক। তিনবার কলিং বেল বাজিয়েছে। ভেতরে আওয়াজ গেছে কি না বোঝার উপায় নেই। বাইরে এত হাওয়া চলছে যে কান-মাথা সব মোটা টুপিতে বন্ধ। কিন্তু ওপাশের বাড়ির জানলা দিয়ে ইতিমধ্যেই উঁকি দিয়েছে একটা মুখ। এদিকের বাড়ির ঝোলানো বারান্দায় এসে ভৌ ভৌ ডাকে বিরক্তি প্রকাশ করেছে আর্নল্ডের টেরিয়ারটা। কি যেন নাম ছিল, টিয়া বলেছিল। [আরো পড়ুন]

Read more

নীল গিনিপিগ

(১)

গ্রীষ্মের দাবদাহে শহরবাসীর প্রাণ ওষ্ঠাগত। কিছু বছর আগেও কলকাতায় এত গরম শোনা যেত না। টেম্পারেচারের পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে। ঘরে এসি লাগানো এখন আর বিলাসিতা নয়। কৃষ্ণেন্দুদের দমদমের কলোনি এলাকাতেও এখন ফিনান্সে লোকে এসি কিনছে। কৃষ্ণেন্দু সামনের মাসে মাইনে পেলে এসি কিনবে। রাতে কোনওরকমে হাঁসফাঁস করতে করতে ঘুমানো। ভোর পাঁচটায় মোবাইলে অ্যালার্ম [আরো পড়ুন]

Read more

বনলতা

আবার সেই পিঁ-পিঁ বিপ-বিপ শব্দ। আবার হচ্ছে সেই – মাথার মধ্যে কানের মধ্যে। অসহ্য যন্ত্রণায় যেন ফেটে যাচ্ছে সারা শরীর। রোজ কি একই সময়ে এটা হচ্ছে? এই নিয়ে কদিন যেন হল? তিন দিন, না কি চার দিন? ছুঁচ ফুটছে শরীরের সব নরম জায়গায়।

     সে দম বন্ধ করে থাকলো কয়েক মিনিট। তাও মুক্তি কই! পরের স্টপেই নেমে পড়তে বাধ্য হল না পেরে। আর নামতেই তুমুল বৃষ্টি; এই নভেম্বরে বৃষ্টি! যেন [আরো পড়ুন]

Read more

বীজ

শবনম্‌ খুব ভালো আদর করে। আনন্দ এই আদরের সময় সব কিছু ভুলে যায়। ওর কাজ, ওর হেরে যাওয়া, রেজাল্ট ভালো না হওয়া, মায়ের মানসিক দুর্বলতা, বাবার বীভৎস মৃত্যু… সব কিছু। কিন্তু বিয়েটা ওদের দুজনের কিছুতেই করা হবে না। শবনম্‌ আনন্দর গলার কাছে নাক ঘসতে ঘসতে বলে, “তোর বাবা যদি বেঁচে থাকত তাহলে আমি কিছুতেই তোকে ছাড়তাম না।” আনন্দ জানে, মা শবনম্‌-এর কথা জানতে পারলেই আবার [আরো পড়ুন]

Read more

সবুজ

ও আমার দিকে তাকালো। না না, আমি আমার দিকে তাকালাম। ওর চোখে ঘৃণা। আমি আমাকেই ঘৃণা করছি এখন। বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে? চলুন, বরং আমি ওয়ান, আমি টু করে বলি আমাদের। আমার এই দ্বিতীয় আমির বয়স প্রথম আমার থেকে এক ইয়ুথ ইয়ার কম। আমি টু হলাম আমি ওয়ানের ক্লোন। যৌবনে পা দিয়ে আমি নাম্বার ওয়ান প্রথম যখন প্রেমিকাকে আদর করতে করতে জানতে পেরেছিলাম আমার পক্ষে ওকে সুখী করা সম্ভব নয়, [আরো পড়ুন]

Read more

পাল্টা

একটা বিশেষ রকমের কাচের জার। গোলাকৃতি। লম্বাটে গলা। অর্ধেক একধরনের প্রিজারভেটিভ ফ্লুইডে ভর্তি। হালকা সবুজ। ঠাহর করে দেখলে বোঝা যায়, সবকটি কাচের জারের মধ্যে রয়েছে একটি করে ভ্রূণ। কোনওটিই মৃত নয়। তরলের মধ্যে ভাসমান ওই হালকা সবুজ রঙের একটি করে ডিম্বাশয়। ভ্রূণগুলি ওই কৃত্রিম ডিম্বাশয়ের মধ্যে চমৎকার বেড়ে উঠছে। তাপমাত্রা অবিকল মানবদেহের এবং অন্যান্য [আরো পড়ুন]

Read more

লাল শৈবাল

মঙ্গল গ্রহ: সন ২১১৮

     চারপাশে সুনসান নিরবতা মাঝেমাঝে ভেঙে দিয়ে যাচ্ছে যানবাহনের মৃদু বা তীব্র গুঞ্জন। আজকাল সবাই যান্ত্রিক কোলাহল শুনেই অভ্যস্ত। স্টেডিয়ামের ওপাশটায় বিদঘুটে সব মিউজিক বাজানোর জিনিসপত্র এনে জড়ো করা হচ্ছে, কীসের নাকি কনসার্ট হবে। গতানুগতিক ঝক্কি ঝামেলা, ইলেকট্রিক তারের সুরবেদনা আর খানিক লম্ফঝম্প। বাঙালি পাড়ার মাঝ বরাবর দিয়ে টানা [আরো পড়ুন]

Read more

প্রতিবিম্ব

তুন বাড়িটা বেশ ভালো লেগে গেল অভয়ের। অভয় একজন পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, ও এই শহরে এসেছে ওর পি.এইচ.ডি কমপ্লিট করতে। ইউনিভার্সিটির হোস্টেলে জায়গা না পাওয়ায় ও শেষ পর্যন্ত এই বাড়িটা ভাড়া নিতে বাধ্য হল। বাড়িওয়ালা ভদ্রলোক সুধীনবাবু বেশ অমায়িক। নিজে রিটায়ার্ড মানুষ, বাড়িতে বউ আর ছেলে;ছেলে চাকরি করে। ভদ্রলোক বেশ রসিক লোক, গল্প গুজব করতে খুব ভালোবাসেন। [আরো পড়ুন]

Read more

নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ

[১]

প্রায় আট নয় বছর পরে নির্ঝরকে দেখে সেদিন আমার চিনতে এতটুকু অসুবিধা হয়নি। নির্ঝরকে আমি লাস্ট দেখেছি সেই জেলাস্কুল থেকে ও যখন পাশ করে বেরোল, তারপর ও কলকাতা চলে গেল এগারো বারো ক্লাস পড়তে আর সেই থেকে সব যোগাযোগ সব বিছিন্ন। তখন মোবাইল বা আজকের এই সোশ্যাল মিডিয়ার এই আধিপত্যও ছিল না, সুতরাং বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক গুলোকে নদীতে বিসর্জন দেওয়া ছাড়া [আরো পড়ুন]

Read more

বিশ্বপ্রাণ

আজ এখন

ধীরে জ্ঞান ফিরে আসছিল লুসিফারের। মাথার পিছন দিকে প্রচণ্ড ব্যথা। তার চোখ বাঁধা, হাত-পাগুলো নাড়ানোর প্রশ্নই নেই, কারণ শক্ত নাইলনের দড়ি দিয়ে হাত-পাও বাঁধা। সে বুঝতে পারল গাড়ির ট্রাঙ্কে ভরে কোথাও নিয়ে চলেছে লোকটা বা লোকগুলো। লোকটা একা ছিল না, কোথা থেকে মাটি ফুঁড়ে চলে এসেছিল ওর শাকরেদরা! লুসিফার সাবধান হওয়ারও সময় পায় নি!

লোকগুলো খুব একটা পাকাপোক্ত [আরো পড়ুন]

Read more
error: Content is protected !!