সত্যান্বেষী – ২২৪৫

‘কী হে টিকটিকি! সকাল সকাল মুখ গোমড়া করে বসে আছ কেন বল দেখি?’

     আমার ভ্রাতৃপ্রতিম বন্ধু এবং রুমমেটটির মন মেজাজ দেখছি সকাল থেকেই বেশ খারাপ! অবশ্য গত কয়েকমাস যাবৎ নিও-আটলান্টা শহরের যা সুসময় চলছে তাতে আমার রুমমেটটির মন ভালো না থাকারই কথা! কত আশা করে সেই সুদূর পৃথিবীর কলকাতা থেকে সাত সমুদ্র, তের নদী, এক চাঁদ, তিন গ্রহ পেরিয়ে টাইটানের ‘ক্রাইম ক্যাপিটাল’ নিও-আটলান্টায় [আরো পড়ুন]

Read more

আত্মীয়

পূর্ণিমার রাতে একটু আধটু বাড়ির সামনের খোলা জায়গায় পায়চারি করাটা বহুদিনের অভ্যেস। সেদিনও চাঁদের আলো এসে ঘরের জানালা দিয়ে বেডকভারের ফুল লতাপাতার ওপর পড়তেই আমি পায়ে স্যান্ডেল গলাতে গলাতে থমকে গেলাম। কেউ একজন ছুটে আসছে আমার বাড়ির দিকে। কিছু একটা বলতে বলতে আসছে! কে রে বাবা? এমন চাঁদনী সন্ধ্যেটা মাটি করবে! একেই তো জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। ওদিকে অনলাইনে [আরো পড়ুন]

Read more

নবজাতক

–সিস্টার, বাচ্চাটা এখনও কাঁদেনি? মিনিট দুয়েক তো হয়ে গেল ডেলিভারীর?

     –না স্যার, এখনও কাঁদেনি। ভালো করে দেখুন তো বাচ্চাটার মুখটা কেমন হাসি হাসি আর পরিণত! আর তাকানোটাও লক্ষ্য করুন, আমার দীর্ঘ বারো বছরের নার্সিং প্রফেশনে এরকম স্পষ্ট চোখের ভাষাওয়ালা বাচ্চা কখনও দেখিনি।আর এমনি তো সব কিছুই স্বাভাবিক দেখছি।

     –হুমম্। কিন্তু, বাড়ির লোকজন তো বাইরে অপেক্ষা [আরো পড়ুন]

Read more

সময়চক্র

(১)

পঁচিশ তলা উঁচু বিল্ডিংটার একেবারে উপরের ঘরটিতে একটি অত্যাধুনিক ফ্লাইং চেয়ারে চোখ বন্ধ করে বসে আছেন বছর সাতাত্তরের এক ভদ্রলোক। তাঁর কপালে একটি চেরা দাগ।

     পিছনের স্বচ্ছ কাঁচের দেওয়াল ভেদ করে দেখা যাচ্ছে কিঞ্চিৎ ধূসর রঙের আকাশটা। সেই আকাশের বুকে অনবরত টহল দিচ্ছে কয়েকটি ‘ই.আর.জি ৪৫’। এক্সট্রা অর্ডিনারি রোবোটিক গার্ড। ২০৪৫ সালের সেরা আবিষ্কার। [আরো পড়ুন]

Read more

শুভাকাঙ্খী

বুধবার বিকেল চারটে

আজ প্রায় পাঁচ দিন হয়ে গেল-এত লোক দেখেছে ভিডিয়োটা, প্রায় ভাইরাল হয়ে গেছে। প্রথমদিকে মুকুলকে প্রায় মেরে ফেলার ইচ্ছেটা এখন অনেক প্রশমিত। শুধু একটা প্রচন্ড তিক্ত স্বাদ মুখে। মেট্রোরেলের জানলা থেকে দ্রুত বদলে যাওয়া শহর… আমি দেখতে পাচ্ছিনা আর কিছুই– শুধু ধূসর, বিবর্ণ আর অগুনতি মানুষ। গতকাল বিকেলে টালিগঞ্জ স্টেশনে নামার পর আমার সব [আরো পড়ুন]

Read more

যন্ত্রণানিরোধক যন্ত্র

হ্যালো, হ্যালো!

     হ্যাঁ, কে বলছ।

     এই, এই, আমি নন্দিতা বলছি। চাপা গলায় বলল নন্দিতা। মানে স্বাভাবিক গলায় বলবে ভাবল কিন্তু বলাটা হয়ে গেল কেমন ত্রস্ত, ভয়ভীত। চাপা।

     নন্দিতার ভয়, বড় ভয়।

     হ্যাঁ নন্দিতা, বল বল। হাতের আঙুলে লেগে থাকা জ্যামটুকু চেটে নিল সুনেত্রা। এখুনি দুটো বিস্কুটের মাঝখানে জ্যাম লাগিয়ে খাচ্ছিল। বিন্দাস সুনেত্রা খাওয়া দাওয়ায় দিল দরিয়া।

  [আরো পড়ুন]

Read more

যদি

এক…

আলো ভালো করে ফুটতে না ফুটতেই হালুম-গোলুমকে তাড়া লাগায় দিদুন, “চটপট রেডি হয়ে নে। একজায়গায় নিয়ে যাব।” দাদাভাই অবিশ্যি ওদের পক্ষ নিয়ে বলতে যায়, “আহা, ওদের যে এখনও উড়োজাহাজের খোঁয়ারি কাটে নি। কাল গেলে হত না? মর্ণিং ওয়াক তো পালিয়ে যাচ্ছে না।” হালুম-গোলুম মজা পায়, “দাদাভাই ইজ সো ফানি! হোয়াটস আ খোঁয়ারি? ইউ নো গোলুম?” “নোপ।” গোলুম চাঁচাছোলা, “সাম ল্যাঙ্গোয়েজ [আরো পড়ুন]

Read more

আইসবার্গ

‘সেই ভদ্রলোকের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল জানিস?’ সাইকেলের স্পিড একটু না কমিয়ে কথা গুলো আমাদের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে গেল বুবলাই।

     আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে হাওয়া। লম্বা চক্কর কাটতে পাড়ি দিয়েছে পার্কের ওই প্রান্তে। ঠিক জানি আবার এই পথেই ফিরে আসবে তাই অপেক্ষা করতে লাগলাম সবাই – মানে আমি, অপু আর টোটোন।

     কয়েক মিনিটের মধ্যেই আবার তার আগমন। প্যাডেল ঘুরছে বাঁই বাঁই, [আরো পড়ুন]

Read more

যন্ত্রিনী

কথাটা কানে যাচ্ছে না?

     রুবু চুপচাপ।

     কি হল? লীনা বলে উঠল।

     রুবু একটু ঘুরে ফিরে থেমে গেল মেঝের ওপর।

     লীনা রিমোটের বাটন নিয়ে দক্ষ যজ্ঞ বাধিয়ে ফেলার আগেই অতনুর ফোন ঘোরাল। এই দেখ, তোমার রোবট মেইড আমার কোনও কথাই শুনছে না। অতনু বলল, পড় ওর গায়ের মিনি এলসিডি স্ক্রিনে কী লিখছে সে।

     লীনা বলল যে প্রথমে স্ক্রিনে ফুটল Error, আমি ম্যানুয়াল খুলে পড়লাম। প্রথমে রেড [আরো পড়ুন]

Read more

মৃত্যুদণ্ড

বাইরে ঝড়ো হাওয়া বইছে, কদিন ধরে বঙ্গোপসাগরের উপর যে নিম্ন চাপটা জমে ছিল তা আজ উপকূলে আছড়ে পড়েছে সজোরে। রায়পুরে গঙ্গার ধারে এই বাড়িটা তিনশো বছরের পুরানো। ঝড়ের তাণ্ডবে কড়িবর্গা কেঁপে কেঁপে উঠছে। ডঃ রায় দোতলার বারান্দায় এসে দাঁড়ান। ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে আসছে, কিন্তু দু চোখে রয়েছে এক নতুন আশা। তিন বছর ধরে গবেষণা করে আজ প্রায় সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছেন [আরো পড়ুন]

Read more

মেমারি চিপ

টিফিনের বাক্সটা খুলে টুপুরের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। শ্রুতি বলল, কীরে, টুপুর কাঁদছিস কেন? টুপুর বলল, কিছু না, এমনি। শ্রুতি ওর ছোট্ট দু-হাতের পাতা জড়ো করে টুপুরের গালটা ধরে বলল, জানিস না, বেস্ট ফ্রেন্ডকে মিথ্যে কথা বলতে নেই। শ্রুতির কথায় টুপুরের আরও কান্না পেল। চোখ দুটো জলে ভেসে গেল। সেই দেখে শ্রুতি বন্ধুকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল। কোনওরকমে কান্নাটা সামলে [আরো পড়ুন]

Read more

কাঁটাচুয়া

ডক্টর প্রণব নাথ একজন বছর তেত্রিশের এমবিবিএস ডাক্তার, নিজের বিচারেই তিনি সাধারণ। অল্পস্বল্প প্রাইভেট প্র্যাকটিশ আর বেসরকারি হাসপাতালের সহযোগিতায় তার দিনকাল ভালই কাটে। স্ত্রী এবং চার বছরের মেয়ের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া, এক সঙ্গে টিভি দেখা, সময়মতো খাওয়া-দাওয়া, আরাম-বিশ্রামের সুযোগ পান। অধিকতর সফল বন্ধুবান্ধব কি দামি ডাক্তাররা যখন পিঠ-চাপড়ানোর [আরো পড়ুন]

Read more

ভালোবাসা ডট কম

অনসূয়া দাঁড়িয়েছে এসে আয়নার সামনে। আধো অন্ধকার ঘর। পিছনের জানালায় এক টুকরো আকাশের ছায়া দেখা যাচ্ছে। আয়নাটা দেখতে দেখতে একটা কুয়ো হয়ে যাচ্ছে। দেখলে মনে হবে তার তল নেই। অনসূয়া জানে ওই কুয়োটায় ঘোলা জল, অনেক গভীরে থকথকে কাদা। ওর মধ্যে নিজের প্রতিবিম্ব দেখছে অনসূয়া। নিজের ভাঙাচোরা প্রতিচ্ছবি দেখছে। এখানে বাতাস কম। দম বন্ধ হয়ে আসছে অনসূয়া…!

     ঘুমটা ভেঙে [আরো পড়ুন]

Read more

বাতাসে স্বপ্ন ভাসে

মাথায় তীব্র একটা যন্ত্রণা নিয়ে ঘুম ভাঙল মোহরের। কিছু দেখতে পাচ্ছিল না। জমাট নিরেট অন্ধকার। ওঠার চেষ্টা করেও পারল না। হাত পা নড়ছে না। নরম কাদা কাদা কোন জায়গায় ও শুয়ে আছে। আমি কোথায়, কি করে এলাম? ভাবার চেষ্টা করল। নিরেট অন্ধকারের মতো নিরেট নিস্তব্ধতা। অগত্যা মোহর আবার চোখ বুজে ফেলল। যেখানে চেষ্টা করে লাভ নেই সেখানে বিনা চেষ্টায় পড়ে থাকাই ভাল। অযথা শক্তি ক্ষয় করে কী হবে?

[আরো পড়ুন]

Read more

ফর্মুলা ১৬

ভানুদার ধনকাকার বিস্ময়কর গবেষণার কথা যদিও যাকে বলে প্রকাশিতব্য নয়, তবু এমন মূল্যবান তথ্য থেকে জনগণকে বঞ্চিত করা কত বড় অন্যায় কাজ হবে, শুধু সেই কথা ভেবেই পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে না হলেও, মোটামুটি সব কথা ফাঁস করে দিচ্ছি। তবে বলা বাহুল্য, নামধাম ইত্যাদি সমস্তই আমার কল্পনাপ্রসূত। কারণ পাত্রপাত্রীদের কেউ কেউ বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে অমরত্ব দাবি করতে [আরো পড়ুন]

Read more

কলাবতী

পর্ব এক

অনেকক্ষণ ধরে বাড়ির সামনে পায়চারি করছে একটা লোক। তিনবার কলিং বেল বাজিয়েছে। ভেতরে আওয়াজ গেছে কি না বোঝার উপায় নেই। বাইরে এত হাওয়া চলছে যে কান-মাথা সব মোটা টুপিতে বন্ধ। কিন্তু ওপাশের বাড়ির জানলা দিয়ে ইতিমধ্যেই উঁকি দিয়েছে একটা মুখ। এদিকের বাড়ির ঝোলানো বারান্দায় এসে ভৌ ভৌ ডাকে বিরক্তি প্রকাশ করেছে আর্নল্ডের টেরিয়ারটা। কি যেন নাম ছিল, টিয়া বলেছিল। [আরো পড়ুন]

Read more

নীল গিনিপিগ

(১)

গ্রীষ্মের দাবদাহে শহরবাসীর প্রাণ ওষ্ঠাগত। কিছু বছর আগেও কলকাতায় এত গরম শোনা যেত না। টেম্পারেচারের পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে। ঘরে এসি লাগানো এখন আর বিলাসিতা নয়। কৃষ্ণেন্দুদের দমদমের কলোনি এলাকাতেও এখন ফিনান্সে লোকে এসি কিনছে। কৃষ্ণেন্দু সামনের মাসে মাইনে পেলে এসি কিনবে। রাতে কোনওরকমে হাঁসফাঁস করতে করতে ঘুমানো। ভোর পাঁচটায় মোবাইলে অ্যালার্ম [আরো পড়ুন]

Read more

বনলতা

আবার সেই পিঁ-পিঁ বিপ-বিপ শব্দ। আবার হচ্ছে সেই – মাথার মধ্যে কানের মধ্যে। অসহ্য যন্ত্রণায় যেন ফেটে যাচ্ছে সারা শরীর। রোজ কি একই সময়ে এটা হচ্ছে? এই নিয়ে কদিন যেন হল? তিন দিন, না কি চার দিন? ছুঁচ ফুটছে শরীরের সব নরম জায়গায়।

     সে দম বন্ধ করে থাকলো কয়েক মিনিট। তাও মুক্তি কই! পরের স্টপেই নেমে পড়তে বাধ্য হল না পেরে। আর নামতেই তুমুল বৃষ্টি; এই নভেম্বরে বৃষ্টি! যেন [আরো পড়ুন]

Read more

বীজ

শবনম্‌ খুব ভালো আদর করে। আনন্দ এই আদরের সময় সব কিছু ভুলে যায়। ওর কাজ, ওর হেরে যাওয়া, রেজাল্ট ভালো না হওয়া, মায়ের মানসিক দুর্বলতা, বাবার বীভৎস মৃত্যু… সব কিছু। কিন্তু বিয়েটা ওদের দুজনের কিছুতেই করা হবে না। শবনম্‌ আনন্দর গলার কাছে নাক ঘসতে ঘসতে বলে, “তোর বাবা যদি বেঁচে থাকত তাহলে আমি কিছুতেই তোকে ছাড়তাম না।” আনন্দ জানে, মা শবনম্‌-এর কথা জানতে পারলেই আবার [আরো পড়ুন]

Read more

সবুজ

ও আমার দিকে তাকালো। না না, আমি আমার দিকে তাকালাম। ওর চোখে ঘৃণা। আমি আমাকেই ঘৃণা করছি এখন। বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে? চলুন, বরং আমি ওয়ান, আমি টু করে বলি আমাদের। আমার এই দ্বিতীয় আমির বয়স প্রথম আমার থেকে এক ইয়ুথ ইয়ার কম। আমি টু হলাম আমি ওয়ানের ক্লোন। যৌবনে পা দিয়ে আমি নাম্বার ওয়ান প্রথম যখন প্রেমিকাকে আদর করতে করতে জানতে পেরেছিলাম আমার পক্ষে ওকে সুখী করা সম্ভব নয়, [আরো পড়ুন]

Read more

পাল্টা

একটা বিশেষ রকমের কাচের জার। গোলাকৃতি। লম্বাটে গলা। অর্ধেক একধরনের প্রিজারভেটিভ ফ্লুইডে ভর্তি। হালকা সবুজ। ঠাহর করে দেখলে বোঝা যায়, সবকটি কাচের জারের মধ্যে রয়েছে একটি করে ভ্রূণ। কোনওটিই মৃত নয়। তরলের মধ্যে ভাসমান ওই হালকা সবুজ রঙের একটি করে ডিম্বাশয়। ভ্রূণগুলি ওই কৃত্রিম ডিম্বাশয়ের মধ্যে চমৎকার বেড়ে উঠছে। তাপমাত্রা অবিকল মানবদেহের এবং অন্যান্য [আরো পড়ুন]

Read more

লাল শৈবাল

মঙ্গল গ্রহ: সন ২১১৮

     চারপাশে সুনসান নিরবতা মাঝেমাঝে ভেঙে দিয়ে যাচ্ছে যানবাহনের মৃদু বা তীব্র গুঞ্জন। আজকাল সবাই যান্ত্রিক কোলাহল শুনেই অভ্যস্ত। স্টেডিয়ামের ওপাশটায় বিদঘুটে সব মিউজিক বাজানোর জিনিসপত্র এনে জড়ো করা হচ্ছে, কীসের নাকি কনসার্ট হবে। গতানুগতিক ঝক্কি ঝামেলা, ইলেকট্রিক তারের সুরবেদনা আর খানিক লম্ফঝম্প। বাঙালি পাড়ার মাঝ বরাবর দিয়ে টানা [আরো পড়ুন]

Read more

প্রতিবিম্ব

তুন বাড়িটা বেশ ভালো লেগে গেল অভয়ের। অভয় একজন পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, ও এই শহরে এসেছে ওর পি.এইচ.ডি কমপ্লিট করতে। ইউনিভার্সিটির হোস্টেলে জায়গা না পাওয়ায় ও শেষ পর্যন্ত এই বাড়িটা ভাড়া নিতে বাধ্য হল। বাড়িওয়ালা ভদ্রলোক সুধীনবাবু বেশ অমায়িক। নিজে রিটায়ার্ড মানুষ, বাড়িতে বউ আর ছেলে;ছেলে চাকরি করে। ভদ্রলোক বেশ রসিক লোক, গল্প গুজব করতে খুব ভালোবাসেন। [আরো পড়ুন]

Read more

নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ

[১]

প্রায় আট নয় বছর পরে নির্ঝরকে দেখে সেদিন আমার চিনতে এতটুকু অসুবিধা হয়নি। নির্ঝরকে আমি লাস্ট দেখেছি সেই জেলাস্কুল থেকে ও যখন পাশ করে বেরোল, তারপর ও কলকাতা চলে গেল এগারো বারো ক্লাস পড়তে আর সেই থেকে সব যোগাযোগ সব বিছিন্ন। তখন মোবাইল বা আজকের এই সোশ্যাল মিডিয়ার এই আধিপত্যও ছিল না, সুতরাং বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক গুলোকে নদীতে বিসর্জন দেওয়া ছাড়া [আরো পড়ুন]

Read more

বিশ্বপ্রাণ

আজ এখন

ধীরে জ্ঞান ফিরে আসছিল লুসিফারের। মাথার পিছন দিকে প্রচণ্ড ব্যথা। তার চোখ বাঁধা, হাত-পাগুলো নাড়ানোর প্রশ্নই নেই, কারণ শক্ত নাইলনের দড়ি দিয়ে হাত-পাও বাঁধা। সে বুঝতে পারল গাড়ির ট্রাঙ্কে ভরে কোথাও নিয়ে চলেছে লোকটা বা লোকগুলো। লোকটা একা ছিল না, কোথা থেকে মাটি ফুঁড়ে চলে এসেছিল ওর শাকরেদরা! লুসিফার সাবধান হওয়ারও সময় পায় নি!

লোকগুলো খুব একটা পাকাপোক্ত [আরো পড়ুন]

Read more

নরকোচিত

রোদের তীব্রতায় চোখ মেলে তাকানো যায় না। হাত দিয়ে চোখ আড়াল করে রাখতে হয়। আকাশ ভয়াবহ নীল। বউ বাচ্চা বাসায় রেখে পিঠে ছোট্ট কালো ব্যাগটাকে সঙ্গী করে এতো দূরে যেতে মন চাইছে না। কিন্তু জীবিকার তাগিদে যেতেই হচ্ছে।

তাছাড়া আমাদের জীবনে নতুন অতিথি এসেছে। জীবন এখন আর আগের মত খামখেয়ালি করে চালানো যাবে না। এলিসাও এখনো সুস্থ হয়ে ওঠে নি। ওর জন্যেও ভালো মন্দ খাবার [আরো পড়ুন]

Read more

৩০২২-এর দিনগুলি

“পার্থপ্রতিম রায়চৌধুরী” –  এই নামটাই রাখছেন শেষমেষ?”

“আজ্ঞে হ্যাঁ, আর ওই পেশাটা করুন ডাক্তারবাবু।”

“কেন মশাই? সাধ করে বাঁশ দিতে চাইছেন ছেলেটাকে? তার চে ভালো বুদ্ধি দিই, পলিটিশিয়ান করে দিন মশাই, হাপুস হুপুস করে রোজগারোবে!”

“বলছেন?”

“বলছি নয়, দেখছি! যাক গে, সে আপনার ব্যাপার মশাই। আজ বিকেলের ভেতর জানান, সিকোয়েন্সিংটা কমপ্লিট হয়ে গেলে আমরা নিউ মডিফিকেশনে [আরো পড়ুন]

Read more

ফাঁদ

চারিদিক অন্ধকার। কিন্তু তার মধ্যেই তিনি দেখতে পেলেন এক নারীর অবয়ব। শুয়ে আছে চুপ করে।

দেখে মনে হয় সে মারা গেছে অনেকক্ষণ আগেই।

কিন্তু তাঁকে দেখে ছটফট করে উঠল সেই নারী। সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেল চারপাশের দৃশ্যপট। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে তিনি নিজেকে আবিষ্কার করলেন তাঁর প্রিয় রিভলভিং চেয়ারের উপরে। 

বিচ্ছিরি স্বপ্নটা মাঝেমাঝেই তাড়া করে তাঁকে। বিশেষ করে [আরো পড়ুন]

Read more

রক্তে রাঙানো

(১)

প্রায় বছর পনেরো আগের কথা, জলের দরে মফঃস্বলে এই বিরাট বাড়িটা কিনে নিয়েছিলেন আমার বাবা, জন্মে অবধি ভাড়া বাড়িতে জীবনের আঠারোটা শীত বসন্ত পার করে দেওয়ার পর অবশেষে মা বাবার সাথে এই প্রাসাদোপম বাড়িতে এসে উপস্থিত হয়েছিলাম।

মাসখানেক আগে এ বাড়ির মালিক গত হয়েছেন, পরবর্তী প্রজন্ম প্রবাসী, বৃদ্ধের দেহ পঞ্চভূতে বিলীন হওয়ার পর ঘাড়ের উপর থেকে জন্মভিটের বোঝা সুযোগ্য [আরো পড়ুন]

Read more

ঘাতক

“হে সর্বশক্তিমান থরের বংশধর, হে মহাধিপতি হেরন, তবে কি আমরা বসে বসে মার খাব? যুগযুগ ধরে বরফ গলার সময় ওরা আসছে। কিন্তু কোনওদিন আমরা অত্যাচারিত হইনি। উল্টে আমাদের চিরচারিত রীতি মেনে আমরা ওঁদের সমস্তরকম সহযোগিতা করে চলেছি। কতদিন, আর কতদিন এই আক্রমণ মেনে নেব?”

“শান্ত হও ওলাফ, ধৈর্য ধরতে শেখ। ভুলে যেও না আমরা ধরিত্রীর শ্রেষ্ঠ বীর ওডিন পুত্র থরের বংশধর। এই ধরিত্রীকে [আরো পড়ুন]

Read more

বৃক্ষোভ

চুপচাপ বসে আকাশ দেখছিল সে। নীল আকাশটাকে খুবই অদ্ভুত লাগে তার। এইজন্য সময় পেলেই আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে ও। অবসর সময়ের কাজ আর কি!

তবে আজকের কথা ভিন্ন। অসুস্থতা, ক্ষুধা আর বিষন্নতাতে জর্জরিত হয়ে প্রায় আধমরা অবস্থাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে বাস্তবকে ভুলতে চাইছে সে। সন্ধ্যা হতে চলেছে প্রায়। ক্রমাগত রক্তিম লাল রঙ ধারণ করতে থাকা আকাশের দিকে তাকিয়ে কেমন যেন [আরো পড়ুন]

Read more

অন্ধকারের উৎস হতে

অন্ধকারের উৎস হতে

লেখক – সৌম্য সুন্দর মুখোপাধ্যায়

অলংকরণ – সুদীপ্ত রায়

 

মাকে হাসতে দেখে ফকির আলি রেগেই গেল। বলল, “আপনারা এসবের কতোটুকু জানেন? এই শহরের অফিস আর বাড়ি আর টুকটাক দোকানপত্র আর ছুটিছাটায় পুরী কি সিমলা কি দার্জিলিং—আপনাদের দুনিয়া তো এইটুকুই।”

     তার ধমক খেয়ে আমি হাসি কমালাম। ফকির আলি লোকটি বেশ ভালো; আমাদের বাড়িতে তার যাতায়াত আছে। তার বদগুণ [আরো পড়ুন]

Read more

ছায়া-কায়া

ছায়া-কায়া

লেখক – লুৎফুল কায়সার

অলংকরণ – তৃষা আঢ্য 

 

বেশ আলো-আধাঁরিময় পরিবেশ। বিশাল ঘরটাতে হালকা হলুদ রঙয়ের ডিমলাইট জ্বলছে। পুরো ঘর জুড়ে অনেকগুলো পুরুষ ম্যানিকুইন দাঁড় করিয়ে রাখা। আবছা আলোতে এই ম্যানিকুইনগুলোর দিকে তাকালে শরীরটা কেমন যেন শিউরে ওঠে!

     এই আধো আলোতেই সমানে পিৎজা খেয়ে চলেছেন ওসমানী সাহেব। সামনে বসে থাকা পিৎজা-বয়টি একাধারে অবাক, বিরক্ত এবং কিছুটা ভীত!

[আরো পড়ুন]

Read more

পিঁপড়ে

 পিঁপড়ে

লেখক – অদ্রীশ বর্ধন

অলংকরণ – তৃষা আঢ্য 

 

পিঁপড়ে, শুধু পিঁপড়ে। মস্ত হলঘরের যেদিকে তাকানো যায়, কেবলই পিঁপড়ে। রঙীন পিঁপড়ে—বিরঙ পিঁপড়ে, রাক্ষুসে পিঁপড়ে—লিলিপুট পিঁপড়ে, নিরামিষপ্রিয় পিঁপড়ে—আমিষলোভী পিঁপড়ে, বিষাক্ত পিঁপড়ে—নির্বিষ পিঁপড়ে। কাচের শোকেসে পিঁপড়ে, তারের খাঁচায় পিঁপড়ে, জলঘেরা দ্বীপে বন্দী পিঁপড়ে, [আরো পড়ুন]

Read more

ওরা হারিয়ে যায়

ওরা হারিয়ে যায়

লেখক – অয়ন অধিকারী

অলংকরণ – তৃষা আঢ্য

 

বৃষ্টিটা একটু ধরেছে এই বিকেল থেকে। লাগাতার দু-দিন ধরে এক নাগাড়ে হচ্ছে তো হচ্ছেই। মুষলধারে নয়, টিপ টিপ করে কিন্তু বিরামহীন ভাবে। এইরকম প্যাচ প্যাচে ওয়েদারে শরীরটাও ভীষণ ম্যাজ ম্যাজ করছে শিউলির। ম্যাদা মেরে বিছনায় গা এলিয়ে পরে থাকতে মন চায়। তবে মন চাইলেই তো হবে না, পেটের টান যে বড় টান। [আরো পড়ুন]

Read more

অ্যালিবাই

অ্যালিবাই

লেখক – পরাগ ভূঞ্যা

অলংকরণ – সুমিত রায় 

 

এক

ব্দটা অনেকক্ষণ ধরে কানে বাজছে। টেবিলের ওপর ঘন ঘন আঙ্গুল চাপড়ানোর শব্দ।

     সিলিং থেকে ঝুলন্ত ল্যাম্পের আলো এসে গোল হয়ে টেবিলের ওপর পড়ে ম্রিয়মাণ হয়েছে অন্ধকারে।

     উফফ… শব্দটা ক্রমশ বিরক্তিকর হয়ে উঠছে। ইচ্ছে করছে টেবিলের ওপর রাখা পেনটা নিয়ে ঢুকিয়ে দিই সামনে বসে থাকা লোকটার মেদভর্তি ঘাড়ে। খুব [আরো পড়ুন]

Read more

বীজ

 বীজ

লেখক – অরুনাভ গঙ্গোপাধ্যায়

অলংকরণ – সুপ্রিয় দাস 

 

যদি একটি চিত্রনাট্যের মতন দৃশ্যের পরে দৃশ্য দিয়ে আমরা সাজিয়ে নিই পরপর ঘটতে থাকা ঘটনাগুলিকে তাহলে প্রথমেই দেখব…

স্কাইস্কেপ জুড়ে ওরা দাঁড়িয়ে। সার বেঁধে। ওরা ঘুমোচ্ছে। রাত ঘন। এখন অন্ধকার চাপ বেঁধে আছে। খন্ডিত মৃতদেহ থেকে বেরিয়ে আসা রক্তের মতো। চাপ বেঁধে আছে। চারিদিকে নৈঃশব্দের [আরো পড়ুন]

Read more

জানালা

জানালা

লেখক – যশোধরা রায়চৌধুরী

অলংকরণ – সুমিত রায় 

নীরজার ঘুম ভাঙল একদম নতুন একটা জায়গায়। আগে পিছে আশেপাশে কোথাও কিচ্ছুটি নেই। আধখোলা চোখে মিটিমিটি চেয়েও একটা কোনও জিনিস চোখে পড়েনি। তাছাড়া নীরজা তো নীরজার জিনিসদের জানে, চেনে। ও তো জানে ওর সব জিনিস এলোমেলো থাকে। লাট খেয়ে খাটের একপাশে থাকে বিছানার চাদরটা। শুতে যাবার আগে কোনওওমতে সরিয়ে [আরো পড়ুন]

Read more

রোঁয়া

রোঁয়া

লেখক – শাম্ব চ্যাটার্জী

অলংকরণ – সুমন দাস 

 

॥১॥

ক্রিং…ক্রিং…। রাতের নিস্তব্ধতা খানখান করে থানার ফোনটা পরিত্রাহি চিৎকার আরম্ভ করলো। হেডকনস্টেবল রামহরি সেই শব্দে টুল থেকে টাল খেয়ে পড়ার মুখে কোনওমতে সামলে নিয়ে, তড়িঘড়ি ফোনের কাছে গিয়ে রিসিভার তুলতে ওপাশ থেকে ত্রস্তস্বরে এক পুরুষকণ্ঠ ভেসে এলো, “হ্যালো, এটা কি শিলিগুড়ি থানা? [আরো পড়ুন]

Read more

আগন্তুক

আগন্তুক

লেখক – অনির্বাণ সরকার

অলংকরণ – অনির্বাণ সরকার

৩ মে, সাল ২০৪০, রাত ১২ : ৪০ এ.এম। হয়তো আজই আমার শেষ দিন। কাকতালীয়ভাবে আজ আমার জন্মদিনও। দু’বছর আগে পৃথিবী থেকে আমরা তিনজন নভশ্চর ইসরোর এই অত্যাধুনিক মহাকাশযানে রওনা হয়েছিলাম। এখন আমাদের মহাকাশযানটি বৃহস্পতির কাছে এক অজ্ঞাত ভয়ঙ্কর বিপদের সম্মুখীন। সৌরঝড় ও তা প্রতিহত করার বৈজ্ঞানিক [আরো পড়ুন]

Read more

কে তুমি

কে তুমি

লেখক – রণেন ঘোষ

অলংকরণ – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য্য

 

শ্রী রণেন ঘোষ                                                                                                     জানুয়ারী ১, ১৯৮১ 

১৫, লিন্টন ষ্ট্রীট,

কলকাতা – ৭০০০১৪

মহাশয়,

        আপনার লেখা ‘সময়ের রূপ’ ফেরত পাঠালাম। গল্প হিসেবে ছাপার উপযুক্ত বটে, কিন্তু তবুও ছাপা গেল না। কারণ গল্পটা ঠিক বোধহয় আপনার নয়। ১৯৬২ সালে ‘আশ্চর্য’ পত্রিকায় প্রথম [আরো পড়ুন]

Read more

ডরোথি

ডরোথি

লেখক – অর্ণব দাস

অলংকরণ – সুমিত রায় 

 

জকাল একদম ভালো লাগছে না শান্তনুর ব্যবহার। যখন তখন জড়িয়ে ধরে। তখন শরীরের প্রতিটা খাঁজে ওর হাত আর ঠোঁট খেলা করে। প্রতিটা রাতে শরীরটাকে ছিঁড়ে-খুঁড়ে নিজেকে অত্যন্ত গভীরে প্রোথিত করতে চায় শান্তনু। হ্যাঁ, সময় সময় ভালো লাগে ব্যাপারটা। কি এক অজানা শিহরন খেলা করে যায় রন্ধ্রে রন্ধ্রে। কিন্তু তাই বলে [আরো পড়ুন]

Read more

রোহিণী

রোহিণী

লেখক – পার্থ সেন

অলংকরণ – সুপ্রিয় দাস

 

বাক্যহীন প্রাণীলোক-মাঝে

এই জীব শুধু

ভালো মন্দ সব ভেদ করি

দেখেছে সম্পূর্ণ মানুষেরে;

দেখেছে আনন্দে যারে প্রাণ দেওয়া যায়

যারে ঢেলে দেওয়া যায় অহেতুক প্রেম,

অসীম চৈতন্যলোকে

পথ দেখাইয়া দেয় যাহার চেতনা।

বারেলি থেকে দুধওয়া পৌঁছতে আমার সন্ধ্যে হয়ে গেল। আমার হোটেলটা পালিয়াকালান বলে একটা জায়গায়। অপূর্ব [আরো পড়ুন]

Read more

পোকা

পোকা

লেখক – রাজকুমার রায়চৌধুরী

অলংকরণ – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য্য

 

মপিউটার টেবিলের তলা পরিষ্কার করতে গিয়ে অংশুমান বাবু পোকাটা প্রথম লক্ষ করেন৷ বিটল্‌ জাতীয় পোকা৷ অংশুমান প্রথমে ভেবেছিলেন লেডিবার্ড জাতীয় বিটল্‌৷ কিন্তু লেডিবার্ডের স্পট এটার গায়ে নেই৷ ঝাঁটা দিয়ে পোকাটা তাড়াবার কথা মনে হলেও ভাবলেন থাক৷ পোকাটা দেখতে বেশ টকটকে লাল, [আরো পড়ুন]

Read more

ইলোভাক

ইলোভাক

লেখক – অমিতাভ রক্ষিত

অলংকরণ – সুপ্রিয় দাস 

 

মাদের ‘দূরপাল্লার জাহাজ’টা ওয়ার্ম হোল থেকে বেরিয়ে স্পিড কমাল একটু। তারপরে সেটা ডানদিকে সামান্য একটু কাত হয়ে যেতেই ছবিতে হাজার বার দেখা, নীল-সবুজে মেশানো ‘ইলোভাক’-এর গোলাকার অবয়বটা চোখে এল। কী অপূর্ব দৃশ্য! এখানে মহাকাশ আমাদের মতন অত কালো দেখায় না। ‘ইলোভাক’-এর কাছাকাছি অঞ্চলে গ্রহ-নক্ষত্রের [আরো পড়ুন]

Read more

বৃত্ত

বৃত্ত

লেখক – দেবলীনা পন্ডা 

অলংকরণ – তৃষা আঢ্য

স্টিয়ারিং-এর ওপর হাত রেখে ঘড়িটা দেখল মেহুল। সাতটা দশ। বাইরে টিপটিপ বৃষ্টিটা হয়েই চলেছে, ধরার কোনও নাম নেই। আর হবে নাই বা কেন, আজ তেরই অগাস্ট হয়ে গেল। কলকাতাটা এইসময় ঘ্যানঘেনে বৃষ্টি, রাস্তায় উপচে আসা নর্দমার জল আর প্যাচপেচে কাদায় ভরে থাকারই কথা! তাদের কপালটাই খারাপ। কোথায় ভেবেছিল ডিসেম্বরে [আরো পড়ুন]

Read more

যতিচিহ্ন

যতিচিহ্ন

লেখক – সোহম গুহ

অলংকরণ – সুপ্রিয় দাস 

 

ভাষা একটা দুস্তর ব্যবধান হওয়ায় মাওরী সর্দারের কথা ক্যাপ্টেন জেমস কুক বুঝতে পারছিলেন না। কিন্তু গ্রামের মাঝে গোটা রাত জ্বলা অগ্নিকুণ্ডের থেকে উঠে আসা পোড়া মাংসের গন্ধ তাঁকে একটা কথাই বলছিল। এখানে মানুষের মাংস মানুষ খায়। গ্রামের আদিম পরিবেশের থেকেও তাঁর মনোযোগ বেশি আকৃষ্ট করেছিল সর্দারের গায়ের বিচিত্র উল্কি।

[আরো পড়ুন]

Read more

বিষ পাহাড়

বিষ পাহাড়

লেখক – অরিন্দম দেবনাথ

অলংকরণ – সুদীপ্ত রায়

 

রুনিত পাহাড়ের খাড়া পাকদণ্ডী বেয়ে মহারাজ রভিরান বর্মা একাকী চলেছেন পায়ে হেঁটে। আকাশে উজ্জ্বল হোলির চাঁদ। প্রায় ন্যাড়াপাহাড়ে মহারাজ রভিরানের পূর্বপুরুষরা পাথরের গায়ে সিঁড়ির মতো ধাপ কাটিয়েছিলেন বহু যুগ আগে। এই পাথুরে সিঁড়ি গিয়েছে পাহাড় শীর্ষে এক গুহা পর্যন্ত। এই গুহার অভ্যন্তরে [আরো পড়ুন]

Read more

মহাদ্রুম

লেখক – সাগরিকা রায়

অলংকরণ – সুমন দাস

পালঙ্কের সূক্ষ কারুকাজের দিকে তাকিয়ে সময় কেটে যায়। ইদানিং বাড়ির লোকজন সময় পায় না। এ ঘরে এসে তার সঙ্গে দেখা করার মতো সময় কোথায়? সবারই কাজকর্ম আছে। পড়াশোনা আছে। মাঝে মধ্যে বড় ছেলে এসে দেখা করে যায়। ক্লান্ত গলায় কৈফিয়ত দেয়—অফিসে যা কাজের চাপ! বলে পকেট থেকে রুমাল বের করে ‘এঃ হেঃ’ শব্দ করে ঘাড় গলা মুছতে [আরো পড়ুন]

Read more

প্রলয়

প্রলয় উপস্থিত।

     এভারেস্ট এর মাথার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা মন্দিরের মতো বিল্ডিং ও তার পাশের রকেটের দিকে তাকিয়ে মায়ের কথা মনে পড়ে গেল রাজের।

     দুইদিন আগেই মা মারা গিয়েছেন। তারপর অন্যরাও একে একে, এখন শুধু ওই বেঁচে আছে।

     আকাশের দিকে মুখ তুলে তাকিয়েই খুশি হল রাজ। বাঃ, মায়ের কাছে যাওয়ার সময় এসে গিয়েছে।

     আকাশে জমাট বাধা কালচে লাল রক্তের মতো মেঘ করেছে। অন্যন্য [আরো পড়ুন]

Read more
error: Content is protected !!