সূচীপত্র

পঞ্চম বর্ষ তৃতীয় সংখ্যা

পঞ্চম বর্ষ তৃতীয় সংখ্যা - শারদীয়া ১৪২৭ (২০২০) প্রকাশকাল - ২২ অক্টোবর ২০২০ অসামান্য প্রচ্ছদ এঁকে সংখ্যাটিকে সর্বাঙ্গসুন্দর করে তুলেছেন

সম্পাদকীয়

চলতে চলতে হঠাৎই যেন থমকে গেছে আমাদের নীল রঙের এই গ্রহ। সভ্যতার হৃদয় থেকে দমচাপা এই বছরটাকে উপড়ে ফেলতে আমরা

চিরকুট

তখন সন্দেশে ছিলেন তিন সম্পাদক। নলিনী দাশ, লীলা মজুমদারের হাত ঘুরে লেখা আসত ‘বড় সম্পাদক’ সত্যজিৎ রায়ের কাছে। তিন সম্পাদকের

ভারতীয় বিজ্ঞানের বিস্মৃত স্বধর্ম ও সত্যজিৎ রায়

বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু একটা মাত্র গল্প লিখেছেন এবং সেটা এস.এফ. বা সায়েন্স ফিকশন। আর সত্যজিৎ বাংলায় প্রথম যে গল্পটা লেখেন

গুরনেক সিং – বাংলা কল্পবিজ্ঞানের আশ্চর্য দিশারী

‘আশ্চর্য!’ পত্রিকায় নতুন ধরনের গল্প রচনায় যে সব লেখক মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে গুরনেক সিং অন্যতম। তাঁর জনপ্রিয়তা ‘আশ্চর্য!’ পত্রিকার

বাংলা সায়-ফি জগতের হারামণি ডক্টর দিলীপ রায়চৌধুরী

মাত্র ৩৮ বছর বয়েসে গত সোমবার ৫ সেপ্টেম্বর ভোররাতে কলকাতার উড্‌ল্যান্ডস্‌ নার্সিংহোমে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন ‘আশ্চর্য!’ প্রিয় লেখক এবং

লম্বগলি

“এ কোন রাস্তায় নিয়ে এলি?”      “কেন মোড়ের মাথায় ও-ই তো বলল বাঁ দিকের রাস্তায় যেতে।”      “ও বলল

সময়নদীর বাঁকবদল

          (এটা একটা বিকল্প ইতিহাসের কাহিনি। বাংলায় অল্টারনেট হিস্ট্রির ধারাটি নতুন। এই কাহিনিকে একটি জিও-পলিটিক্যাল কমেন্ট্রি বলা যায়। এই

বর্ণচোরা

“বুতু! অ বুতু! ওট বাবা, ওট!” কপালের ওপর কে যেন আলতো আঙুল বোলাচ্ছে। নরম, ঠান্ডা আঙুল। কার আঙুল এটা? এ

হাতি

“নাঃ! সহ্যের একটা শেষ আছে। আর এই মেসে থাকা যাবে না।”      “আমিও মেস ছেড়ে দেব ভাবছি।”      “তুই ভাবছিস?

গোধূলি লগ্নে সূর্যোদয়

 অরিন তাড়াতাড়ি করে বাথরুম থেকে বেরিয়ে আসে। তখনও গামছা দিয়ে মাথা মুছে চলেছে। টপ টপ করে জলের ফোঁটা মাথা থেকে

গ্রেমলিন

সাবধান! এ বাক্সে আছে একটা অত্যন্ত অসাধারণ প্রাণী। তাকে রোদে এনো না। তার গা ভিজিয়ো না। যতই প্যানপ্যান করুক-না কেন,

মাউন্ট শাস্তা

অমলের কথা      এক মহাকবি বা দার্শনিক নাকি বলেছিলেন মহাবিশ্ব আমাদের সঙ্গে খেলা করে। কিন্তু আমরা সেই মহাবিশ্বের অংশ, আমাদের

ওসেনবোরো

বুড়োটা শালা অসুস্থ নাকি! কথাটা বাসুর মনের মধ্যে ভেসে উঠেই হারিয়ে গেল। সামনে বসে থাকা বৃদ্ধের চোখেমুখে এক অসহায় ভয়

জল

একটা বয়সে পৌঁছোলে মানুষের কাছে জন্মদিনের আলাদা করে কোনও অর্থ থাকে না। তবু, অঙ্গদ যখন সকালে বলল যে আজ আমার

পিথ্রিবাবু ও আশ্চর্য ছক্কা

  (সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষে নিবেদিত শ্রদ্ধার্ঘ্য)   আমার নাম পরমেশ্বর পাকড়াশি। তবে লোকে পিথ্রিবাবু বলেই ডাকে— প্রোফেসর পরমেশ্বর পাকড়াশি। প্রোফেসরি

অযান্ত্রিক

     অন্ধকার রাতে কেউ নেই পথে। মশালগুলো হাওয়ার সঙ্গে যুঝে উঠতে পারছে না কিছুতেই। আগুনের শিখাগুলো ভূমধ্যসাগরীয় হাওয়ার দাপটে

অনুভূতিদের শীর্ষবিন্দু

    হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় শান্তনুর, প্রায় অন্ধকার কম্পার্টমেন্ট, শীতের রাত, সকলেই প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছে, শুধু একটানা ট্রেনের শব্দ

কোন সে কবির ছন্দ বাজে

জন্মান্তর আছে কিনা জানি না, কিন্তু এ কথা নিশ্চিত জানি, ওই মেয়েটিকে আমি চিনি। কোথায় তাকে দেখেছি, কিছুতেই মনে করতে

দেবদূত

প্রারম্ভিকা      বিশাল কালো প্রান্তরের মধ্যে অবস্থিত শহরটি। সেটাকে ঘিরে আছে বিশাল ধূসর দেয়াল। এক রাস্তা যোগ হয়েছে মূল ফটকের

ডাইন

বড়দিনের ছুটিতে কোথাও বেড়াতে যাবার প্রস্তাবটা রক্তিমের। প্রস্তাবটা পাওয়া মাত্র অদ্রিজা লুফে নিল। ঘাটশিলায় ওদের পৈত্রিক বাড়িটা এখন ফাঁকাই পড়ে

বাতাসে বিনাশ বার্তা

     টেবিলের ওপর সাজান সিদ্ধ ভাতের তৈরি সাদা, শাঙ্কব পাহাড়ের সারি; কলা পাতায় উৎসর্গ করা চাল, পাখির ডিম, বিভিন্ন ফলমূল,

সময়

সোমনাথের বয়েস মাত্র বাইশ। এই বয়েসে সব কিছুই বাড়তি থাকে মানুষের। শক্তি, উৎসাহ, আবেগ। সোমনাথ একটি দুর্দান্ত ফান্ডাওয়ালা মেয়ের প্রেমে

ফাটল

চমকে উঠলাম। ঢং ঢং করে ১০টা বাজছে ঘড়িতে। সর্বনাশ! ঠিক ১২টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট রয়েছে ড. ধ্রুবজ্যোতি রায়চৌধুরীর সঙ্গে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট তো নয়,

সাত্যকি সোমের বন্ধুরা

মধ্যভারতের এক জনবিরল গ্রামেরও নিভৃত স্থানের এক কুটিরে সকালবেলা উদ্‌ভ্রান্তের মতো প্রবেশ করল এক মধ্যতিরিশের যুবক। ঘরের একপাশে অনেক যন্ত্রপাতির

অতিউল্কা

“মা আআআআআআ…….” রবিবার। অন্তিমাদেবী বেশ জাঁক করে একটা সুস্বাদু প্রাতরাশ বানাচ্ছিলেন আজকে। নওরোজার চিৎকারে চমকে উঠে খুন্তী হাতেই মেয়ের ঘরের

নিধুবাবুর টপ্পা

ভূমিকা আমি আমার যে অভিজ্ঞতার কথা এখানে বলব তার প্রধান কুশীলব আমি নই। আমি শুধু ঘটনাটার একটা বৈজ্ঞানিক বা যুক্তিসম্মত

দ্রোহ

     প্রারম্ভিকপর্ব      টার্টারাসের ধূলিময় প্রান্তর। আকাশ জুড়ে ঝুলে থাকা লোহিত নক্ষত্রের লালচে আলোয় লাল হয়ে থাকে ধুলোর গভীর

ঢেউ

আমরা প্রত্যেকেই স্বপ্ন দেখি আকাশ ছোঁয়ার।                  ইকারাসের মতো আমার সেই স্বপ্ন সার্থক হয়েছে। আকাশে

নিদালি আলেয়া

“বউটা পেত্নীর মতন কাঁদতে কাঁদতে হাসে।”      পঞ্চার কথা শুনেই মেজাজ বিগড়ে গেল রজতের। ধমকের সুরে বলল, “চ্যাংড়ামি পেয়েছিস। একে

নিঃশব্দ

ঘুমিয়ে পড়েছে সুমিত। বাইরে বেরিয়ে হাঁটুর সমান উচ্চতার পাহাড়ি পাথরটার উপর বসে পড়ল প্রজ্ঞা। বাড়ির শেষ মাথায় বাগানের মধ্যে রাখা

থামিনের কান্না

মরিয়ম দুপুরের খাবারের মেনু কী হবে জানার জন্য দেবুকে অনেকক্ষণ ধরেই মোবাইলে ধরার চেষ্টা করে যাচ্ছে, কিন্তু নট রিচেবল আর

মানবিক

আশ্চর্য জ্যাক! এই হোক্কিট-দের নিয়ে তোমরা পাক্কা তিন বছর কাজ করছ, অথচ ওদের উন্নতির জন্য কিছুই করোনি?”      নতুন সুপারভাইজার

লেটারবক্স

দুপুর দুটোর ট্রেনটা ধরে ভালোই করেছিল মৃদুল। একটা সম্পূর্ণ অচেনা জায়গায় দিনের আলো থাকতে থাকতে পৌঁছানোটাই বুদ্ধিমানের কাজ। গ্রামের নাম

অসুখ

তারিখ: ১৫ মার্চ, ২৫০০ সময়: দুপুর ৩টে ১০ মিনিট স্থান: ৬, লিন্ডসে লেহান স্ট্রিট, গ্রেট ব্রিটেন      বাচ্চাটাকে সুন্দর দেখতে।

দেবশিশু

সাল ২১৩৯, হিউম্যান রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড নারচারিং সেন্টার (এইচ আর এন সি), মিরশা সিটি      “মিস্টার অ্যান্ড মিসেস টি৯ ইউ ভি,

ইউটোপিয়া

গভীর রাত।      শহরের প্রধান টাওয়ার ডিজিটাল ক্লকে রাত দুটোর ডিজিট শো করছে লাল দপদপে আলোয়।      সারা শহর নিস্তব্ধ

ডিলিট

   গাড়িটাকে কার পার্কে রেখে ব্যাকভিউ মিরারে নিজেকে একবার দেখে নিল জুলেখা। কপালে ঝুলন্ত চুলের গোছাকে একটু ছড়িয়ে রুমাল দিয়ে

সমুদ্রের গুপ্তকথা

   কি বলছ জেঠু সমুদ্রের নীচে নদী?” শাওন অবাক!      সবাই বসেছে বিখ্যাত ওসানোলজিস্ট শঙ্কর সেনগুপ্তকে ঘিরে। তিতিরের জ্যেঠু

ধূসর রঙিন

     অনুরাগের ঘুমটা হঠাৎ ভেঙে গেল একটা দুঃস্বপ্নে। এই রোজকার অফিসের ইঁদুর-দৌড়, যানজট, ধুলো কাদা আর সবচেয়ে বড় কথা

প্রেতাবিষ্ট প্রাসাদ

শরৎকালের এক শব্দহীন, আভাহীন, ছায়ামায়ার দিনে ঘোড়ায় চেপে সন্ধ্যা নাগাদ পৌঁছেছিলাম ‘আশার প্রাসাদে’। সারাদিন দেখেছি আকাশ থেকে ঝুলে পড়া রাশি

আশারদের বাড়ি ২

বিবর্ণ, অন্ধকারাচ্ছন্ন, চুপচাপ একটা হেমন্তদিন। গোটা দিন জুড়ে আমি ঘোড়ায় চেপে একলা চলেছিলাম। আকাশের মেঘেরা চাপ চাপ মনখারাপের মতো নেমে

সাদা জাহাজ

আমি বেসিল এলটন। আমি নর্থ পয়েন্টের বাতিঘরের বাতিওয়ালা। আমার আগে আমার বাবা, আমার ঠাকুর্দা সকলেই এইখানে বাতিওয়ালা ছিলেন। পাড় থেকে

ডলি

রবিবার ডলির যখন ঘুম ভেঙেছিল, তখন ওর গায়ের রং শ্যামলা আর কোমরছাপানো ঢেউখেলানো চুল ছিল। মঙ্গলবার যখন ঘুম থেকে উঠেছিল,

নক্ষত্রমাতা

সেই রাতে তাঁর ছেলেই ছিল প্রথম নক্ষত্র।     সেই চৈত্র রাতে তিনি একটা হাত বুকে রেখে, একা, তাঁর বাড়ির

এ তুমি কেমন তুমি

জিল হেরিকের সুন্দর নীল চোখদুটো জলে ভরে উঠল। অব্যক্ত এক যন্ত্রণায় নিজের স্বামীর দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলে উঠল, ‘জঘন্য

কথক

অতিরিক্ত অনুভূতিপ্রবণ, কিংবা অত্যধিক সংবেদনশীল হওয়ার একটা সমস্যা হল নানারকম ভিন্নধর্মী চিন্তার ভিড় প্রায়শই মনের গলা টিপে ধরে; কল্পনার সহজ,

বোক্কো-চান

  এক সুরা-সুন্দরীর কাহিনি, যার হৃদয়টা মোটেও সোনায় মোড়া ছিল না   রোবটটাকে রীতিমতো একটা নিপুণ শিল্পকর্মের নিদর্শন বলা যায়।

কল্পাণু গল্প

টেলিফোন পার্থ দে      ঋতার বায়োপসি রিপোর্টটার অপেক্ষায় ওয়েটিং জোনে বসে আছি। সাতটা বাজতে পাঁচ। কাউন্টারে বসা মেয়েটা বলেছে, “ঠিক

কল্পবিজ্ঞানে ভূবিজ্ঞানের প্রভাব

কল্পবিজ্ঞান বর্তমানে সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে এবং বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন ভাষায় শত শত কল্পবিজ্ঞানের কাহিনি সৃষ্টি

সিমুলেশন হাইপোথিসিস

আদৌ কি এই জগৎ সত্য? নাকি সবই আমাদের ভ্রম, আমাদের এক অলীক ইউটোপীয় ধারণা? প্রশ্নটা পড়ে হয়তো অনেকেই অবাস্তব বা

স্পন্দন সিরিজ – প্রথম প্রাণের স্পন্দন ও আমরা (পর্ব-৩)

অনেক ভোরে আজ প্রফেসর সূর্যশেখরের ঘুমটা ভেঙে গেল। বালিশের পাশে রাখা হাতঘড়িতে দেখলেন পাঁচটা কুড়ি বাজে। আড়মোড়া ভেঙে উঠে প্রফেসর

ড্যাগন – এইচ পি লাভক্র্যাফট

দীপেন ভট্টাচার্যের কল্পজগতের সফর

সাক্ষাৎকারে কল্পবিশ্বের পক্ষে দীপ ঘোষ, সুদীপ দেব এবং সন্দীপন গঙ্গোপাধ্যায়   নাসা এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া রিভারসাইড ক্যাম্পাসে গামা রশ্মি

লিমেরিকে আসিমভ

ফেসবুকের কল্পবিজ্ঞান গ্রুপে বসেছিল লিমেরিক অনুবাদের আসর। কিংবদন্তি কল্পবিজ্ঞান লেখক আইজাক আসিমভের লেখা লিমেরিক অনুবাদ করেছিলেন গ্রুপের সদস্যরা। সেই সব

কল্পবিজ্ঞান সাহিত্য পরিচয় ১

গোড়ার কথা এটা বইয়ের রিভিউ নয়। কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের কিছু বইয়ের সঙ্গে পাঠককে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা কেবল। লেখাতে প্রকাশক বা

কল্পবিজ্ঞান সাহিত্য পরিচয় ২

ফিওদর দস্তয়েভস্কির অন্যতম রচনা ‘ডেমনস’ এর ইংরেজি অনুবাদের একটি শিরোনাম দাঁড়ায় ‘পসেসড’ এই শব্দবন্ধে। সদ্য সাইবেরিয়ার নির্বাসনদণ্ড থেকে ফিরে আসা

error: Content is protected !!