জিরো

প্রাককথন

 “এই কাহিনি শ’দুয়েক বছর পরের এক পৃথিবীর।

     ক্রমশ কমে আসা সবুজ আর নীলের প্রায় সবটাই তখন মুছে গেছে বিশ্বযুদ্ধের তাপ আর বিকীরণে। সেই সঙ্গেই পৃথিবীর এক মস্ত অংশ থেকে হারিয়ে গেছে জীবন। কিন্তু সর্বনাশা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এসে সেনাবাহিনীর একাংশ বুঝতে পারল, অন্য রাষ্ট্র বা ধর্ম-জাতি-ভাষার মানুষ নয়, এই যুদ্ধ চাইছে অতিবৃহৎ বাণিজ্যিক সংস্থাগুলো। [আরো পড়ুন]

Read more

প্রত্যাবর্তন

৬ জানুয়ারি ২০৫৪, রাত দুটো

‘ওয়াটসননন’। এক ঝটকায় বিছানার উপর উঠে বসে পড়ল দীর্ঘদেহী শরীরটা। ঘরে আলো আঁধারী। একটি মাত্র বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানো। উদ্ভ্রান্তের মতো দৃষ্টি ঘুরে বেড়াতে লাগল ঘরের প্রতিটি কোনা। কিন্তু কিছুতেই নিজেকে বন্ধনমুক্ত করতে পারছে না দীর্ঘদেহী। অসংখ্য তার জালিকার মতো ঘিরে রয়েছে তার দেহ। মাথায় অজস্র স্মৃতি হুড়মুড়িয়ে ফিরে আসছে। শত [আরো পড়ুন]

Read more

অকালচক্রের কাঁটা

অধ্যায় এক

স্থান: মেক্সিকোর সিজুলুব হসপিটাল, সময়: বিকাল ৩টা ৪২, ৫ মে ২০৭৬

হাসপাতালের ছোট্ট কেবিনে একাকী শুয়ে আছে উনিশ বছরের এক তরুণ, শূন্য দৃষ্টি ছাদের দিকে স্থির হয়ে আছে। চোখের কোণ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে বালিশ ভিজিয়ে দিচ্ছে; তরুণের ঠোঁটের কোণে তৃপ্তির হাসি। সময় ফুরিয়ে এসেছে এটি সে ঠিকঠিক বুঝতে পেরেছে। মৃদু হাসিটি আরও বিস্তৃত হয়, কিছুক্ষণ পরে সেটি অট্টহাসিতে [আরো পড়ুন]

Read more

একটি মথের মৃত্যু

১. ‘Don’t clap too hard- It’s a very old building.’

‘সভ্যতা যখন ঘুমিয়ে ছিল, আমরা প্রকৃতিকে মায়ের রূপে পুজো করতাম। পশু থেকে মানুষ হবার তাড়নায় এক সময় আমরা মাকে ভুললাম। যে সবুজে আমাদের শান্তি ছিল তাকেই দু-হাতে ছিঁড়েখুঁড়ে একসময় এই হৃদয়হীন ধূসর শহরের জন্ম দিলাম আমরা। সেই শহর আজ নখ-দাঁতে গিলে নিচ্ছে আমাদের। আমরা বিপন্ন। চারিদিকে শুধু মৃত্যুর সুর বাজছে। মরুভুমি এগিয়ে আসছে, বরফ গলছে, [আরো পড়ুন]

Read more

চরমজীবী

প্রিয়দর্শিণী হ্রদকে পিছনে ফেলে অনেকটা এগিয়ে এসেছেন ডঃ বেদ পিল্লাই। একাই এসেছেন। এই আগস্ট মাসের শেষ শীতের -২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কামড় আটকাতে চার স্তরের পোশাক পরে আছেন। গায়ে পোলার পার্কা, ফ্লিস জ্যাকেট, হাতে দস্তানা, মাথা-মুখ ঢাকতে বালাক্লাভা। শারম্যাকার মরুদ্যানের এই বরফহীন উঁচু জায়গাটা বেশ মনোরম। এখান থেকে চারদিকের দিগন্তপ্রসারী বরফের আস্তরণটা [আরো পড়ুন]

Read more

ম্যাজিক বাক্স

(এই কাহিনি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। কোনও ব্যক্তি বা ঘটনার সঙ্গে কোনওরকম মিল একেবারেই আকস্মিক বলে ধরতে হবে।)

 

(১)

“এই ছেলের জন্য একদিন আমাদের গুষ্টি-সুদ্ধ জেলে যেতে হবে। একে নিয়ে যে আমি কী করি!”

     “এখন আক্ষেপ করে লাভ কি বল? ওর ছোটবেলা থেকে তোমাকে আমি বার বার বলেছি, যে ছেলেকে সময় দাও। কিন্তু তুমি তোমার কোর্ট আর …”

     “ছেলেকে সময় দিলে যে পেটের ভাত জুটত না সে কথা খেয়াল আছে?”

[আরো পড়ুন]

Read more

কৌস্তূভ

কৌস্তূভ

লেখক – সুমিত বর্ধন

অলংকরণ – সুমিত বর্ধন 

 

(১)

ক্ষিণের আকাশের দিকে একবার তাকালো শতদল।

     গাঢ় নীল আকাশের বুকে দিগন্তব্যাপি এক সাদা খিলানের মতো দাঁড়িয়ে কৌস্তূভের বলয়। দিনের আলোয় চোখে না পড়লেও শতদল জানে ওই খিলানের আশে পাশেই কোথাও অভিকর্ষের জটিল পথ বুনে চলেছে কৌস্তুভের দুটি চাঁদ, সুহাস আর উল্লাস। কৌস্তূভ আবিষ্কর্তা বিজ্ঞানী সুহাস ভদ্রের নামে [আরো পড়ুন]

Read more

তারামাছ

তারামাছ

লেখক – ত্রিদিবেন্দ্র নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

অলংকরণ – সৌরভ দে 

 

(১)

স্থানঃ মাদ্রাজ

সময়ঃ ১৯৬০ সালের ২১শে জানুয়ারি।

     “আপনার বিনয় দেখে আমি ভুলছি না স্যার। যাই বলুন আপনি স্যার একজন মহান বিজ্ঞানী।” মাধবন এই নিয়ে বোধহয় পনেরবারের মতো কথাটা বলল। বিক্রমের বিরক্তি ক্রমশঃ বাড়ছিল। এই লোকগুলো কী নির্লজ্জের মতো তোয়াজ করতে পারে। গত পরশু ও মাদ্রাজে এসেছে। [আরো পড়ুন]

Read more

মীরজাফর

“ড্যাম! হাউ দিস ক্যুড হ্যাপেন?”

     “সর‍ি স্যার- ইট ওয়স মাই ফল্ট, বাট-বাট আই ডিড রেক্টিফাই ইট উইদিন সেকেন্ডস।”

     “দ্যাট ডাসন’ট চেঞ্জ এনিথিং!! ইউ অয়্যার অ্যাবাউট টু জিওপারডাইস মাই এন্টায়ার লাইফ’স ওয়ার্ক – ইউ!! লাল, ইউ দেয়ার??”

     “ইয়েস স্যার।”

     “শ্যুট দিস বাস্টার্ড রাইট নাউ! আই ওয়ান্ট টু হিয়ার হিস স্ক্রিম!”

     একটা তীক্ষ্ণ শব্দ শোনা গেল – যুগপত বন্দুকের এবং মৃতপ্রায় মানুষের গলার।

[আরো পড়ুন]

Read more

অর্থতৃষ্ণা

য়ুরোপের যুদ্ধের সময় নানা টানাপোড়েনের দরুন কলকাতায় দ্রব্যমূল্য অত্যধিক বৃদ্ধি পায়। তার উপর আবার চাকরির বাজারেও মন্দার ভাঁটা লেগে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। এই দুয়ের ধাক্কায় বহু লোকে তাদের কলকাতার পাট চুকিয়ে দেশের বাড়িতে পাড়ি দিলে, কলকাতার অনেক ভাড়াবাড়ি খালি হয়ে পড়ে। আমি আর ধূর্জটি সেই সময়ে আমাদের আমহার্স্ট স্ট্রীটের পুরনো মেসবাড়িটা [আরো পড়ুন]

Read more

প্রহরণ

১২ মার্চ , ২০১৭, কলকাতা

    বাইপাসের মুখটায় একটা স্পিড ব্রেকারের সামনে লোকটা মোটরবাইকে আচমকা ব্রেক কষল। সুহানির নরম বুকটা লোকটার পিঠে লেপটে গেল। মনে মনে হাসল সুহানি। হেবি হারামি লোক তো! তবে লোকটাকে মনে ধরেছে তার। শট নেওয়ার আগেই তাকে দু হাজার টাকা অ্যাডভান্স দিয়েছে! কাজ শেষ হলে বলেছে আরও তিন হাজার টাকা দেবে। বাইকের পিছনে বসে সুহানি লোকটাকে আরও নিবিড় করে [আরো পড়ুন]

Read more

কালচক্র

কটু দেরি হয়ে গেল মার্কের। তবে বেশি নয়, সকালে রাস্তা খালি থাকার কথা; তাহলেই মেক আপ হয়ে যাবে। অ্যাপে ম্যাপটা আরেকবার দেখে নিল সে। আরও সাতাশ কিলোমিটার, মানে প্রায় চল্লিশ মিনিট। এক ঘণ্টা লাগলেও ঠিক আছে। ওখানে গিয়ে মিঃ দত্তর সঙ্গে কাজ সাকুল্যে দশ মিনিটের, যদিও আধ ঘণ্টা ধরেছে সে। ভারতে কিছুই বলা যায়না, বরং সে যদি তাড়াতাড়ি পৌঁচে যায় এয়ারপোর্টে, অতিরিক্ত সময়টা বই হাতে কাটিয়ে দেবে সে।

[আরো পড়ুন]

Read more

কামিনী, তুমি কি মানবী?

মকে উঠলাম। এ হাতের লেখা তো আমার অপরিচিত নয়। আমার নিজের লেখার মত একান্ত পরিচিত এর প্রতিটি অক্ষর এতো আমার নিজের হাত ধরে শেখানো। আর তাঁর সইলো না। ছিঁড়ে ফেললাম খামটা ধবধবে সাদা কাগজে ছোট্ট একটা চিঠি

চণ্ডীপুরঅনসী

উড়িষ্যা

কাকু,

     অনেকদিন পরে তোমাকে লিখছি। ভেবেছিলাম আমি নিজে গিয়ে তোমাকে সব বলবো। ধরে [আরো পড়ুন]

Read more

মারকত নন্দিনী

দীর কিনারা বরাবর খুঁটি পুঁতে তার ওপরে কাঠের তক্তা বসানো জেটি বলতে ব্যস ওইটুকুই তার একপাশ দিয়ে আওয়াজ করে ছুটে চলেছে চলেছে বর্ষায় ভরে ওঠা ভৈরবী নদী অন্যপাশের উঁচু পাড়ের ওপর সার দেওয়া মালগুদাম

     জল কাদায় জেটিটা মাখামাখি হয়ে আছে একপাশে জড় করে রাখা কয়েকটা প্যাকিং বাক্সের অবস্থা তথৈবচতবু তারই মধ্যে একটার ওপরে কোনরকমে বসে পেছনের দিকে তাকায় বর্ণা

[আরো পড়ুন]

Read more

মিমসিগুলো বনলে বোরোগোবে—

পনি দারুণ বোঝাতে পারেন স্যার,” অ্যালিস বলে উঠল, “আমায় একটু জ্যাবরওয়াকি কবিতাটার মানে বুঝিয়ে দিন না!

     “আর আমার কাছে যে কোন কবিতার মানে বোঝানো তো নস্যি। বলো শুনি। বলো –বলো—” হাম্পটি ডাম্পটি জবাব দিল।

     শুনে অ্যালিসের বেশ আশা গজাল প্রাণে। সে শুরু করে দিল,

     “সেই যে ব্রিলিগ স্লাইদি টাটুমটোবে

     গিমলে ঘুরাণ সূর্যকাঁটার ঘাসে

     মিমসিগুলো বনলে বোরোগবে

[আরো পড়ুন]

Read more

কুহকিনী কিন্নরী

হু অজানা অবিশ্বাস্য বিস্ময়ের অন্দরমহল মহাশূন্য থেকে আচমকা আবির্ভূত হয়েছে এক মহাকাশপোত আকারে আয়তনে তাকে উড়ুক্কু মহাদেশ বললেই চলে হাজার হাজার আলোকবর্ষ পথ পেরিয়ে কল্পনাতীত এই যন্ত্রযান নিয়ে রাডাগ্ৰহে পৌঁছেছিল এক মহাসুন্দরী ... উদ্দেশ্য? পৃথিবী-পুত্র বিক্ৰমজিতের বধূ হওয়া … নয়তো তাকে [আরো পড়ুন]

Read more
error: Content is protected !!