গ্রীন কার

কাহিনি সূত্র

স্বার্থলোলুপ মানুষগুলোর হাত এড়িয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে অপর্ণা। যে করেই হোক তাকে রক্ষা করতে হবে বিজ্ঞানী আশিস বসুর অবিস্মরনীয় আবিষ্কার ‘গ্রীন কার’। গ্রীন কার একটি নতুন ধরনের গাড়ির মডেল। যে গাড়ি পেট্রোলে নয়, চলবে হাইড্রোজেন গ্যাসে। হাইড্রোজেন-কার যদিও নতুন কোনও আবিষ্কার নয়, তবে আশিসের আবিষ্কারের অভিনব বিষয় হল, হাইড্রোজেন পেতে আশিস ব্যবহার [আরো পড়ুন]

Read more

যন্ত্রিনী

কথাটা কানে যাচ্ছে না?

     রুবু চুপচাপ।

     কি হল? লীনা বলে উঠল।

     রুবু একটু ঘুরে ফিরে থেমে গেল মেঝের ওপর।

     লীনা রিমোটের বাটন নিয়ে দক্ষ যজ্ঞ বাধিয়ে ফেলার আগেই অতনুর ফোন ঘোরাল। এই দেখ, তোমার রোবট মেইড আমার কোনও কথাই শুনছে না। অতনু বলল, পড় ওর গায়ের মিনি এলসিডি স্ক্রিনে কী লিখছে সে।

     লীনা বলল যে প্রথমে স্ক্রিনে ফুটল Error, আমি ম্যানুয়াল খুলে পড়লাম। প্রথমে রেড [আরো পড়ুন]

Read more

কাঁটাচুয়া

ডক্টর প্রণব নাথ একজন বছর তেত্রিশের এমবিবিএস ডাক্তার, নিজের বিচারেই তিনি সাধারণ। অল্পস্বল্প প্রাইভেট প্র্যাকটিশ আর বেসরকারি হাসপাতালের সহযোগিতায় তার দিনকাল ভালই কাটে। স্ত্রী এবং চার বছরের মেয়ের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া, এক সঙ্গে টিভি দেখা, সময়মতো খাওয়া-দাওয়া, আরাম-বিশ্রামের সুযোগ পান। অধিকতর সফল বন্ধুবান্ধব কি দামি ডাক্তাররা যখন পিঠ-চাপড়ানোর [আরো পড়ুন]

Read more

নীল গিনিপিগ

(১)

গ্রীষ্মের দাবদাহে শহরবাসীর প্রাণ ওষ্ঠাগত। কিছু বছর আগেও কলকাতায় এত গরম শোনা যেত না। টেম্পারেচারের পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে। ঘরে এসি লাগানো এখন আর বিলাসিতা নয়। কৃষ্ণেন্দুদের দমদমের কলোনি এলাকাতেও এখন ফিনান্সে লোকে এসি কিনছে। কৃষ্ণেন্দু সামনের মাসে মাইনে পেলে এসি কিনবে। রাতে কোনওরকমে হাঁসফাঁস করতে করতে ঘুমানো। ভোর পাঁচটায় মোবাইলে অ্যালার্ম [আরো পড়ুন]

Read more

শূন্যকাননের ফুল

মারিওভা কফি জয়েন্ট

‘নতুন কফি জয়েন্টটায় গেছিলে কোনওদিন?’

     ‘কোনটা?’

     এরো-স্কুটিটাকে কায়দা করে হাওয়ায় ভাসিয়ে রেখেছিল জারা। নোয়ার ঝুলবারান্দার ঠিক একতলে, একদম নোয়ার মুখোমুখি। কথা বলতে বলতে একটু ছুঁয়ে নিচ্ছে নোয়াকে। ওর চুল, গাল, ঠোঁট। এভাবে ছুঁতে ওর ভালো লাগছে। বিশেষ করে নোয়ার ঠোঁট ছুঁলে ওর শরীরের মধ্যে কী যেন একটা হচ্ছে। এরকম তো আগে কখনও হয়নি। প্রতিদিন [আরো পড়ুন]

Read more

নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ

[১]

প্রায় আট নয় বছর পরে নির্ঝরকে দেখে সেদিন আমার চিনতে এতটুকু অসুবিধা হয়নি। নির্ঝরকে আমি লাস্ট দেখেছি সেই জেলাস্কুল থেকে ও যখন পাশ করে বেরোল, তারপর ও কলকাতা চলে গেল এগারো বারো ক্লাস পড়তে আর সেই থেকে সব যোগাযোগ সব বিছিন্ন। তখন মোবাইল বা আজকের এই সোশ্যাল মিডিয়ার এই আধিপত্যও ছিল না, সুতরাং বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক গুলোকে নদীতে বিসর্জন দেওয়া ছাড়া [আরো পড়ুন]

Read more

রক্তে রাঙানো

(১)

প্রায় বছর পনেরো আগের কথা, জলের দরে মফঃস্বলে এই বিরাট বাড়িটা কিনে নিয়েছিলেন আমার বাবা, জন্মে অবধি ভাড়া বাড়িতে জীবনের আঠারোটা শীত বসন্ত পার করে দেওয়ার পর অবশেষে মা বাবার সাথে এই প্রাসাদোপম বাড়িতে এসে উপস্থিত হয়েছিলাম।

মাসখানেক আগে এ বাড়ির মালিক গত হয়েছেন, পরবর্তী প্রজন্ম প্রবাসী, বৃদ্ধের দেহ পঞ্চভূতে বিলীন হওয়ার পর ঘাড়ের উপর থেকে জন্মভিটের বোঝা সুযোগ্য [আরো পড়ুন]

Read more

ডে-ভি

কিউব, হাভেন, এখন

“আগে আমাদের পরিচয়গুলো দিই?” নরম, একটু স্নেহময় গলাটা বলে উঠল, “আমি ডক্টর আলতাফ হোসেন, চিফ অ্যানালিস্ট। আমার ডান পাশে রয়েছেন…”

“দরকার নেই।”

“মানে?”

“কারও পরিচয় দেওয়ার দরকার নেই ডক্টর। এই চেম্বারে ঢোকার আগে, ইনফ্যাক্ট কিউব-এ ঢোকার পর থেকে আপনার, আমার, সবার সবকিছু রেকর্ডেড হয়েছে। নতুন করে এ-সব বলার কোনো দরকার নেই।”

কিছুক্ষণ চুপচাপ হয়ে রইল ঘরটা। [আরো পড়ুন]

Read more

বৃক্ষোভ

চুপচাপ বসে আকাশ দেখছিল সে। নীল আকাশটাকে খুবই অদ্ভুত লাগে তার। এইজন্য সময় পেলেই আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে ও। অবসর সময়ের কাজ আর কি!

তবে আজকের কথা ভিন্ন। অসুস্থতা, ক্ষুধা আর বিষন্নতাতে জর্জরিত হয়ে প্রায় আধমরা অবস্থাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে বাস্তবকে ভুলতে চাইছে সে। সন্ধ্যা হতে চলেছে প্রায়। ক্রমাগত রক্তিম লাল রঙ ধারণ করতে থাকা আকাশের দিকে তাকিয়ে কেমন যেন [আরো পড়ুন]

Read more

কল্পবিশ্ব আর এল-ডোরাডো’র কথামালা

ত বছরের আলাপচারিতায় এক বিনিসুতোর বাঁধন তৈরি হয়েছিল কল্পবিশ্বের শুভানুধ্যায়ী শ্রদ্ধেয় শ্রী সন্দীপ রায়ের সঙ্গে কল্পবিশ্ব টিমের, যার পরিচয় কল্পবিশ্বের পাঠকেরা পেয়েছিলেন ২০১৭-র পুজো সংখ্যায়। সেই আলাপকেই আবার ঝালিয়ে নিতে গত ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে আমরা আবার হাজির হয়েছিলাম বিশপ লেফ্রয় রোডের রায়বাড়িতে, যা আমাদের আকৈশোরের হিং টিং ছট স্বপ্নের [আরো পড়ুন]

Read more

প্রচ্ছদ – কল্পবিশ্ব তৃতীয় বর্ষ তৃতীয় সংখ্যা

কল্পবিশ্ব শারদীয়া প্রথম প্রচ্ছদঃ

কল্পবিশ্বের পাতায় ডিজিটাল বা সেমি ডিজিটাল কভার দেখতেই আমরা অভ্যস্ত। এবারের কল্পবিশ্বের প্রথম প্রচ্ছদ করলেন পম্পা প্রধান প্যাস্টেলের কাজে।

শিল্পীর কথা – বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির হাত ধরে এগিয়ে চলেছে মানব সভ্যতা সেই প্রাচীন কাল থেকে। বিবর্তন ঘটছে জড় থেকে জীব প্রত্যেকেরই, বিবর্তন ঘটছে আগামীর। ঠিক যেমনটি ঘটেছে আমাদের [আরো পড়ুন]

Read more

ছায়া-কায়া

ছায়া-কায়া

লেখক – লুৎফুল কায়সার

অলংকরণ – তৃষা আঢ্য 

 

বেশ আলো-আধাঁরিময় পরিবেশ। বিশাল ঘরটাতে হালকা হলুদ রঙয়ের ডিমলাইট জ্বলছে। পুরো ঘর জুড়ে অনেকগুলো পুরুষ ম্যানিকুইন দাঁড় করিয়ে রাখা। আবছা আলোতে এই ম্যানিকুইনগুলোর দিকে তাকালে শরীরটা কেমন যেন শিউরে ওঠে!

     এই আধো আলোতেই সমানে পিৎজা খেয়ে চলেছেন ওসমানী সাহেব। সামনে বসে থাকা পিৎজা-বয়টি একাধারে অবাক, বিরক্ত এবং কিছুটা ভীত!

[আরো পড়ুন]

Read more

পিঁপড়ে

 পিঁপড়ে

লেখক – অদ্রীশ বর্ধন

অলংকরণ – তৃষা আঢ্য 

 

পিঁপড়ে, শুধু পিঁপড়ে। মস্ত হলঘরের যেদিকে তাকানো যায়, কেবলই পিঁপড়ে। রঙীন পিঁপড়ে—বিরঙ পিঁপড়ে, রাক্ষুসে পিঁপড়ে—লিলিপুট পিঁপড়ে, নিরামিষপ্রিয় পিঁপড়ে—আমিষলোভী পিঁপড়ে, বিষাক্ত পিঁপড়ে—নির্বিষ পিঁপড়ে। কাচের শোকেসে পিঁপড়ে, তারের খাঁচায় পিঁপড়ে, জলঘেরা দ্বীপে বন্দী পিঁপড়ে, [আরো পড়ুন]

Read more

ওরা হারিয়ে যায়

ওরা হারিয়ে যায়

লেখক – অয়ন অধিকারী

অলংকরণ – তৃষা আঢ্য

 

বৃষ্টিটা একটু ধরেছে এই বিকেল থেকে। লাগাতার দু-দিন ধরে এক নাগাড়ে হচ্ছে তো হচ্ছেই। মুষলধারে নয়, টিপ টিপ করে কিন্তু বিরামহীন ভাবে। এইরকম প্যাচ প্যাচে ওয়েদারে শরীরটাও ভীষণ ম্যাজ ম্যাজ করছে শিউলির। ম্যাদা মেরে বিছনায় গা এলিয়ে পরে থাকতে মন চায়। তবে মন চাইলেই তো হবে না, পেটের টান যে বড় টান। [আরো পড়ুন]

Read more

নক্ষত্রলোকে দস্তখত

নক্ষত্রলোকে দস্তখত

মূল লেখক – লী প্রিসলি

বাংলা অনুবাদ – শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়

অলংকরণ – তৃষা আঢ্য

 

আগন্তুক

মাইক আর মলি কার্সন উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দরজায় অপেক্ষা করছিল। অধ্যাপক গ্লীম তাদের ওই মস্ত দূরবীনে চোখ রেখে দেখতে দেবেন তো? গতবার তো ওই লাল দাড়িওয়ালা বিজ্ঞানীর কথাবার্তা মোটেই আশ্বাসব্যঞ্জক লাগেনি।

     রোদে পোড়া হলদে অবিন্যস্ত [আরো পড়ুন]

Read more

বৃত্ত

বৃত্ত

লেখক – দেবলীনা পন্ডা 

অলংকরণ – তৃষা আঢ্য

স্টিয়ারিং-এর ওপর হাত রেখে ঘড়িটা দেখল মেহুল। সাতটা দশ। বাইরে টিপটিপ বৃষ্টিটা হয়েই চলেছে, ধরার কোনও নাম নেই। আর হবে নাই বা কেন, আজ তেরই অগাস্ট হয়ে গেল। কলকাতাটা এইসময় ঘ্যানঘেনে বৃষ্টি, রাস্তায় উপচে আসা নর্দমার জল আর প্যাচপেচে কাদায় ভরে থাকারই কথা! তাদের কপালটাই খারাপ। কোথায় ভেবেছিল ডিসেম্বরে [আরো পড়ুন]

Read more

ইনটু দ্য স্টর্ম

র্মির পায়ের শব্দ পেয়েই আনোয়ার সচকিত হয়ে উঠলেন। অবশ্য সেটাই স্বাভাবিক। কারণ এই সময়ে হয় তারা আনোয়ারকে গ্রেপ্তার করতেই আসছে, নয়তো তার সঙ্গে যোগ দিতে!

     মস্ত জানলার ওপরে তুষারঝড় আর বৃষ্টিপাতের অবিশ্রান্ত শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। কাচের শার্সির বাইরে তাকালেই চোখে পড়ে আকাশ ফালাফালা করে দেওয়া বজ্রপাত। দূরের পাহাড়ের ওপরে কুণ্ডলী পাকানো মেঘ, বিদ্যুতের আলোয় তার [আরো পড়ুন]

Read more
error: Content is protected !!