রোঁয়া

রোঁয়া

লেখক – শাম্ব চ্যাটার্জী

অলংকরণ – সুমন দাস 

 

॥১॥

ক্রিং…ক্রিং…। রাতের নিস্তব্ধতা খানখান করে থানার ফোনটা পরিত্রাহি চিৎকার আরম্ভ করলো। হেডকনস্টেবল রামহরি সেই শব্দে টুল থেকে টাল খেয়ে পড়ার মুখে কোনওমতে সামলে নিয়ে, তড়িঘড়ি ফোনের কাছে গিয়ে রিসিভার তুলতে ওপাশ থেকে ত্রস্তস্বরে এক পুরুষকণ্ঠ ভেসে এলো, “হ্যালো, এটা কি শিলিগুড়ি থানা? [আরো পড়ুন]

Read more

লাল মাটির জগৎ

লেখক – সুমন দাস

অলংকরণ – সুমন দাস

 

|| ১ ||

        “মেরে মঙ্গলে পাঠিয়ে দেব”

        আমাদের এক মামাতো দাদা ছিল, মলয়দা, ছোটবেলায় মামাবাড়ীতে আমরা কয় ভাইবোনের খেলার পান্ডা, অর্থাৎ কি না ‘কেল্টুদা’ টাইপের মানুষ ছিল সে। আমাদের ওপর রেগে গেলেই সে এই ভয়ের কথাটি শোনাত। আর খুব খুশি হলেই ক্রমাগত বলে যেত – অলিম্পাস, অলিম্পাস, অলিম্পাস…

        না, সে পাগল নয়। পাড়াগাঁয়ে থাকা [আরো পড়ুন]

Read more

মহাদ্রুম

লেখক – সাগরিকা রায়

অলংকরণ – সুমন দাস

পালঙ্কের সূক্ষ কারুকাজের দিকে তাকিয়ে সময় কেটে যায়। ইদানিং বাড়ির লোকজন সময় পায় না। এ ঘরে এসে তার সঙ্গে দেখা করার মতো সময় কোথায়? সবারই কাজকর্ম আছে। পড়াশোনা আছে। মাঝে মধ্যে বড় ছেলে এসে দেখা করে যায়। ক্লান্ত গলায় কৈফিয়ত দেয়—অফিসে যা কাজের চাপ! বলে পকেট থেকে রুমাল বের করে ‘এঃ হেঃ’ শব্দ করে ঘাড় গলা মুছতে [আরো পড়ুন]

Read more

অগ্নিপথ ৮ : অগ্নিযোগ

স্থানঃ ভবিষ্যৎ

কালঃ অজ্ঞাত

পাত্রঃ সুমন

সুমনার নোটবইতে আর কোনও গল্প লেখা ছিল না। সেইবার ওর সামনে দাঁড়িয়ে আর কোনও কথা হয়নি। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমায় ফিরে আসতে হয় কথা অসমাপ্ত রেখে। ডায়রীতে এই কথাগুলো বাদেও রয়ে যায় কিছু নোটস… সেগুলো সংক্ষেপে লেখা। আর সঙ্গে কিছু ছবি… আমি সেগুলোই পড়তে শুরু করলাম…

|| ৮ক ||

        প্রায় দুই হাজার খ্রীষ্টপূর্বাব্দে [আরো পড়ুন]

Read more

হুয়ানের বইটা

কুয়াশায় চারদিক জড়িয়ে থাকলেও সকাল সকাল প্লেন ধরবার তাড়া ছিল। ঘুম থেকে উঠেই তৈরী হয়ে ছুটলাম। ঘুম চোখেই এয়ারপোর্টের তিন নম্বর টার্মিনালের গেট ঠেলে ঢোকবার আগে মনে হল পুরো জায়গাটা আবছা সাদা পর্দায় কেউ ঢেকে দিয়েছে। গেটে আইডেন্টিটি চেক-এর পর ঢুকে পড়লাম ভেতরে। সিকিওরিটি চেক, লাগেজ ফাগেজের ঝামেলা মিটিয়ে লাউঞ্জের দিকে এগোতে থাকলাম। এখন একটা কড়া কফি চাই। ঘুম ঘুম ভাবটা কাটাতে হবে।

[আরো পড়ুন]

Read more

পূর্ণিমা

কটা লালচে ধুলোর ঝড় পেছনে নিয়ে জিপটা চলে গেল বিশাল একটা অশ্বত্থের নিচে তাদের দুজনকে আর তাদের দুটো সুটকেস, এক ক্রেট জলের বোতল আর শুকনো খাবারের প্যাকেটে ঠাসা একটা কার্টন নামিয়ে দিয়ে।

     জিপের শব্দটা মিলিয়ে যেতেই এক মুহূর্তের জন্য রাহুলের ভেতরটা ছমছম করে উঠল। একটা অজানা শঙ্কা পলকের জন্য তাকে ছুঁয়ে গেল যেন। এই গহন ঝিম জঙ্গলে আগামী সাত দিনের জন্য তারা [আরো পড়ুন]

Read more

অগ্নিপথ ২ – আলোকবর্তিকা

স্থানঅজ্ঞাত 

কাল: ৮০,০০০ বি.সি.ই.

পাত্র: নিও

 

|| ২ক ||

মুদ্রের আওয়াজটা বড় মধুর লাগে নিও’র। সে তীরে বসেই অনেকটা সময় কাটিয়ে দেয়। এই সমুদ্রের একটা জায়গায় একটা বড়ো প্রাকৃতিক খাল তৈরী হয়ে মিশে গেছে গভীর অরণ্যের মধ্যে। জোয়ারের সাথে সাথে জল ঢুকে পড়ে খালের মধ্যে। খাল উপচে তীর ছাপিয়ে যায়। অনেক মাছ খেলা করতে করতে উঠে আসে ডাঙায়। মাছরাঙা আসে, আসে আরোও [আরো পড়ুন]

Read more

অগ্নিপথ

স্থান: কেনিয়া

কাল: ৫,০০০,০০০ বি.সি.ই.

পাত্র: মুসা (পিকিং মানব)

[“Seek wood already touched by fire. It is not then so very hard to set alight” ~ African Proverb]

||১ক||

[আরো পড়ুন]

আকাশ লাল, বাতাস ভারী, ভোর অস্নিগ্ধ। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখী উড়ে যাচ্ছে চীৎকার করতে করতে। অনতিদূরের বন থেকে দলে দলে পশুরা ছুটে পালাচ্ছে যতটা দূরে পারা যায়। বাঘের পাশে হরিণ, হাতির পাশে গণ্ডার, খরগোশের মাথার ওপর দিয়ে বন্য কুকুর। আর যে বড় গুহা-শ্রেণীর [আরো পড়ুন]

Read more

অগ্নিপথ ৭ – অগ্নিকন্দুক

স্থানঃ হালিশহর

কালঃ ২০১৮

পাত্রঃ সুমন ও সুমনা

|| ৭ক ||

     -কে তুমি?

     আমার সামনে যে আছে সে আমার দিকে বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে। চেয়ার উলটে পড়ে গেছে মেঝেতে। সে টেবিলের দিকে পিছন করে ঝুঁকে। আমি যদি তাকে এই মুহূর্তে আক্রমণ করি তাঁর বাধা দেওয়ার মত শক্তিও যে নেই সেটা বোঝাই যাচ্ছে। হত চকিত হওয়ার কারণ আছে। আমিও কম হত চকিত নই। কারণ আমার সামনে যে দাঁড়িয়ে আছে সে আমারই অতীত, [আরো পড়ুন]

Read more

সময়ের আতঙ্কে

ছোটোছোটো বাচ্চাদের কম্পিউটার শেখায় মৃদুল। পড়াশুনা বেশিদূর করতে পারেনি সে। কোনও রকমে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে পড়াশুনা ছেড়ে দিয়েছিল। ভাগ্যিস কম্পিউটারের ব্যবহারটা ভালো করে শিখে নিয়েছিল! তাইতো আজ কোনও রকমে তার হাত-খরচটা উঠে আসে।

        বাচ্চাদের খুব যত্ন করে শেখায় ও। তাই এ ব্যাপারে পসারটা বেশ ভালোই জমেছে। এছাড়াও কম্পিউটার হার্ডওয়্যার-এর কাজ, মোবাইল [আরো পড়ুন]

Read more

এ অনন্ত চরাচরে – দ্বিতীয় পর্ব

আশ্চর্যবৎ পশ্যতি কশ্চিদেন্মাশ্চর্যবদ্‌ বদতি তথৈব চান্যঃ।

আসচর্যবচ্চৈনমন্যঃ শৃণোতি শ্রুত্বাপ্যেনং বেদ ন চৈব কশ্চিৎ।।২৯।।

কেহ ইহাকে আশ্চর্যবৎ কিছু বলিয়া বোধ করেন, কেহ ইহাকে আশ্চর্যবৎ কিছু বলিয়া বর্ণনা করেন, কেহ বা আশ্চর্যবৎ কিছু, এই প্রকার কথাই শুনেন। কিন্তু শুনিয়াও কেহ ইহাকে জানিতে পারেন না।

~ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – ২য় অধ্যায়

[আরো পড়ুন]

জলের মাছ কি [আরো পড়ুন]

Read more

প্রবাহ প্রহরী

“ক্রিং… ক্রিং…।” কলকাতার উত্তর শহরতলির একদম শেষ প্রান্তে এক প্রাচীন অথচ আশ্চর্য রকম জনবিরল এলাকা। প্রায় পরিত্যক্ত একটা বাড়ির অন্ধকার কোণে এতক্ষণ আত্মগোপন করে থাকা ঘরটা হঠাৎ যেন কোন অদৃশ্য অনুসন্ধিৎসুর সামনে অস্তিত্ব প্রকাশ হয়ে পড়ার একরাশ বিরক্তিতে কর্কশ আস্ফালন করে উঠল। ঘরের একক বাসিন্দা প্রাণীটার অবশ্য কোন ভাবান্তর ঘটল না। [আরো পড়ুন]

Read more

বাড়ি

গুজরাটে থাকার সময় বিল্ডার মিরচন্দানি নিজের জীবন নিয়ে একটা ঘটনা আমায় বলেছিলেন। যেহেতু ব্যাপারটার সত্যাসত্য নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না, তাই সেটা গল্প হিসেবেই লিখলাম, ওনার বয়ানে।

     “বিল্ডাররা যে লাইনটাকে বিজ্ঞাপন হিসেবে সবথেকে বেশি ব্যবহার করে সেটা হল – আপনার স্বপ্নের বাড়ি এবার আপনার সাধ্যের মধ্যে। কিন্তু স্বপ্নের বাড়ি জিনিসটা ঠিক কী?

     আমরা সবাই [আরো পড়ুন]

Read more

অগ্নিপথ ৬ – অগ্নিবিন্দু

|| ৬ক ||

স্থানঃ ঢাকেশ্বরী রেস্টুরেন্ট, কল্যাণী

কালঃ ২০০৭

পাত্রঃ সেই যুবক ও সেই যুবতী*

নিউক্লিয় ফিশন একটি নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া যেখানে পারমাণবিক নিউক্লিয়াসের ভাঙন ঘটে এবং তা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়। এক্ষেত্রে নিউক্লিয়াস নিউট্রন এবং অপেক্ষাকৃত কম ভরবিশিষ্ট নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। এই নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার [আরো পড়ুন]

Read more

অগ্নিপথ ৫ – স্বপ্রভ অনল

।। ৫ক ।।

স্থানঃ ঢাকেশ্বরী রেস্টুরেন্ট, কল্যাণী

কালঃ ২০০৭

পাত্রঃ একটি যুবক ও আমাদের চেনা এক যুবতী*

কটি রেস্টুরেন্ট, কপোত কপোতী। কপোতীটি আমাদের চিরপরিচিত সেই ছাত্রীটি, যার ছাত্রীকে নিয়ে সে ব্যতিব্যস্ত ছিল আগের প্রায় সব ক’টি পর্ব জুড়ে। সেই ছাত্রীর কাকার সঙ্গে আমাদের এই ছাত্রীটি এসেছেন একটি বিখ্যাত রেস্তোরাঁয়। তাদের পরিচয় সাত বছরের।

     -এই নাও। যুবকটি [আরো পড়ুন]

Read more

অগ্নিপথ ৪ – নিষ্প্রভ অনল

স্থানঃ নৈহাটী

কালঃ ২০১৭

পাত্রঃ প্রফেসর, ছাত্রী

কেমন আছো?

     ভালো আছি স্যার। আপনি কেমন আছেন?

     আমিও ভাল, তারপর বলো, তোমার ছাত্রীকে পড়াতে কেমন লাগছে?

     খুবই ভালো স্যার। খুব স্মার্ট আর বুদ্ধিমতী।

     তা ওঁকে নাকি আজকাল আগুনের ইতিবৃত্ত নিয়ে গল্প বলছ? (অগ্নিপথ এর আগের পর্বগুলো দ্রষ্টব্য)

     হ্যাঁ স্যার, আর ওইজন্যেই আজ আপনার কাছে আসা। আমার কিছু কিছু ব্যাপার জানার আছে আপনার কাছ থেকে।

[আরো পড়ুন]

Read more

অগ্নিপথ ৩ – আলোকচুল্লি

স্থানঃ হালিশহর

কালঃ ২০১৭

পাত্রঃ ছাত্রী ও শিক্ষিকা

|| ৩ক ||

     – আজ কীসের গল্প বলবে?

     – আজ কোন গল্প নেই।

     – মুসা বা নিমোর মতন কেউ নেই? (অগ্নিপথঅগ্নিপথ ২ প্রবন্ধে দ্রষ্টব্য)

     – না।

     – তুমি ভুলে গেছ?

     – কী ভুলব?

     – কীসের গল্প আজ শোনাবে সেটা?

     – আরে আজ কোন গল্পই বলব না। তোমার কাকা আজ তোমায় নিতে আসবে বলছিলে না?

     – হ্যাঁ, সে তো দেরী আছে।

     – বেশি দেরী নেই।

[আরো পড়ুন]

Read more

অস্তিত্ব-বর্ণ

দীর্ঘ দুমাস নিস্তরঙ্গ ভাবে ভেসে আসা বিষ্ণুবাহন-৫ মহাকাশযানটা অবশেষে একটা মৃদুস্পন্দন তুলে হঠাৎ যেন জেগে উঠল। যানের যাত্রী পাঁচজন কিন্তু ইতিমধ্যেই উত্তেজনায় সজাগ। ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক অভিযানের শরিক এই পাঁচজন। ক্রমশ মহাকাশযানের গতিবেগ কমে এল আর মহাকাশযানের স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তার গতিপথ সংশোধন করে তাদের গন্তব্যের [আরো পড়ুন]

Read more

পৈশাচিক খিদে

কোন কারণ নেই।

     কেন সবসময় কারণ থাকতেই হবে? মানুষ শুধু কারণ খোঁজে, কিন্তু আসল কারণ গুলোর পেছনের যুক্তিকে কখনোই ব্যাখ্যা করা যায় না। এই যে মানুষের সমস্ত জীবন কেন এরকম? কেন শুধু এইভাবেই চলে, অন্য কোনভাবে কেন নয়?

     এই ধরনের প্রশ্নকে কি কেউ কোনদিন ব্যাখ্যা করতে পেরেছে?

****

     প্রচন্ড আক্রোশে দাঁতে দাঁত চেপে জানলার বাইরে তাকিয়ে মানুষটা ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। কখনো [আরো পড়ুন]

Read more

এ অনন্ত চরাচরে

“নাহং মনো সুবেদেতি নো ন বেদেতি বেদ চ।

যো নস্তদ্বেদ তদ্বেদ নো ন বেদেতি বেদ চ।।”

সম্যক জেনেছি এমন কথা মনে করি না। জানি না তাও নয়, আবার জানি – তাও বলতে পারি না। উপরিউক্ত বাক্যের অর্থ যিনি জানেন তিনিই সঠিক জানেন।

– কেনোপনিষদ (দ্বিতীয় খণ্ড, দ্বিতীয় শ্লোক)

 ই অনন্ত চরাচরে, স্বর্গ মর্ত্য ছেয়ে কোন অমৃতের বরপুত্র এ মহাবিশ্বকে প্রত্যক্ষ করেছে? [আরো পড়ুন]

Read more
error: Content is protected !!