সময়চক্র

অমৃতা কোনার

অলংকরণ:অঙ্কিতা

(১)

পঁচিশ তলা উঁচু বিল্ডিংটার একেবারে উপরের ঘরটিতে একটি অত্যাধুনিক ফ্লাইং চেয়ারে চোখ বন্ধ করে বসে আছেন বছর সাতাত্তরের এক ভদ্রলোক। তাঁর কপালে একটি চেরা দাগ।

     পিছনের স্বচ্ছ কাঁচের দেওয়াল ভেদ করে দেখা যাচ্ছে কিঞ্চিৎ ধূসর রঙের আকাশটা। সেই আকাশের বুকে অনবরত টহল দিচ্ছে কয়েকটি ‘ই.আর.জি ৪৫’। এক্সট্রা অর্ডিনারি রোবোটিক গার্ড। ২০৪৫ সালের সেরা আবিষ্কার। আকাশে বহু উঁচু থেকেই তারা সমস্ত কিছু নজর রাখতে পারে তাদের উচ্চমানের ক্যামেরার সাহায্যে। আর সেই ডাটা কয়েক সেকেন্ডেই ট্রান্সফার হয়ে যায় মেন অফিসে। কিন্তু না, সেখান থেকে এই ‘ই.আর.জি ৪৫’ কে কন্ট্রোল করার কোনও প্রয়োজন হয় না। এদের মধ্যে এমন ভাবেই প্রোগ্রামিং করা আছে যে তাদের আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্সির সাহায্যে তারা কোনও বিপদ দেখলেই উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারে।

     লোকটার চেয়ারটা এতক্ষণ মেঝে থেকে এক হাত উপরে ছিল। এইবার চেয়ারের ডান দিকের হাতলে লাল রঙের একটি সুইচ টিপে চেয়ারটিকে নীচে নামালেন। সামনের টেবিলে পড়ে থাকা বহু পুরানো কোনও জার্নাল আর কিছু নিউজ পেপার কাটিং এর উপর হাত রাখলেন তিনি। তারপর সযত্নে সেগুলি হাতে নিয়ে মেলে ধরলেন চোখের সামনে। এক হাত দিয়ে চোখের টেকনো গ্লাসটাকে অন করলেন। একটি জীর্ণ হয়ে যাওয়া পেপার কাটিং এ চোখ রাখলেন তিনি। বড়ো বড়ো করে লেখা হেডলাইন ‘বিজ্ঞানীর রহস্যময় মৃত্যু’। ভুরু কুঁচকে গেছে তাঁর। হাত মুঠো হয়ে এসেছে। যেন অতি পুরানো কোনও ক্ষত আবার দগদগে ঘায়ে পরিণত হয়েছে। তাঁর চিন্তায় ছেদ ফেলে ঘরে ঢুকলো একটি অল্প বয়স্ক ছেলে।

     ‘এসো এসো! তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।’ ভদ্রলোকের ঠোটের কোণে একটা হাসির রেখা ফুটে উঠলো।

     টেবিলের অপর প্রান্তে থাকা চেয়ারটির দিকে ইশারা করে ছেলেটিকে বসতে বললেন তিনি। ছেলেটিও বিনা বাক্যব্যয়ে চেয়ারে বসে পড়লো। 

     ‘মনে আছে তো কি বলেছিলাম? ওই ফাইলটা কিন্তু খুব সাবধানে আমার স্টাডিরুমে রেখে আসতে হবে। ওটা কিন্তু আমার চাই।’ চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে তার। ‘তোমাকে এই কয়েকদিনে সম্পূর্ণ ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। এখন তুমি পুরোপুরি প্রস্তুত। আজ রাতেই শুরু হবে তোমার যাত্রা।’ ছেলেটির হাতে একটি ফাইল ধরিয়ে দিয়ে আবার বললেন ‘যদিও তুমি সব জানো তবুও এই ফাইলটায় সমস্ত ডিটেলস রয়েছে তোমার কাজের। বেস্ট অফ্ লাক্!’

     ‘থ্যাংক ইউ স্যার!’ ছেলেটি চেয়ার ছেড়ে উঠে উঠে দাঁড়ালো। তারপর একটি মৃদু হাসি হেসে ঘরটি থেকে বেরিয়ে গেলো।

***

‘সেদিন আমার ওখানে পৌঁছানোর আগে কে যে ফাইলটা সরিয়ে নিয়েছিল? আমার সব প্ল্যান মাটি করে দিয়েছিল!’ বিড়বিড় করতে থাকেন ভদ্রলোক। রাগে তার কপালের শিরাগুলো ফুলে উঠেছে। এক হাতে সেই পেপার কাটিংটা এখনও ধরা আছে। সেটা আবার চোখের সামনে রাখলেন। বহু বছর আগের পেপার কাটিংটা সযত্নে রেখে দিয়েছেন তিনি।

     পেপারের লেখাটা কিছুটা এইরকম –

     সাতদিন আগে নিজের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল প্রফেসর অম্লান রায়চৌধুরীর মৃতদেহ। প্রাথমিকভাবে ডাক্তারেরা জানিয়েছেন হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু। পুলিশ যদিও তদন্ত করছে। এখনও পর্যন্ত সে বিষয়ে কিছু জানা না গেলেও সামনে এসেছে এক নতুন তথ্য। বিখ্যাত সায়েন্টিস্ট ড: সজল চ্যাটার্জী জানিয়েছেন অম্লান রায়চৌধুরী তার ছাত্র ছিলেন। তিনি এটাও জানিয়েছেন যে প্রফেসার রায়চৌধুরী এক যুগান্তকারী বিষয়ের উপর রিসার্চ করছিলেন। যাতে থিওরিটিক্যালি তিনি সফল হয়েছেন। ড: চ্যাটার্জী কয়েকদিন পরেই একটি প্রেস কনফারেন্স ডেকেছেন। সেখানেই বিস্তারিত সব জানাবেন। তিনি এটাও বলেছেন ‘তার দেখানো পথেই রিসার্চ শুরু হবে আবার। আমি নিশ্চিত এ কাজে সফলতা পাওয়া যাবেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে। সারা পৃথিবী জানবে তার নাম।’ কিন্তু এতো কিছুর পরেও জন্ম নিয়েছে এক নতুন রহস্য। ড: চ্যাটার্জী জানিয়েছেন প্রফেসার অম্লান রায়চৌধুরীর মৃত্যুর দুদিন পরে একটি ফাইল তিনি নিজের বাড়ির ড্রপ বক্সে পেয়েছেন। সেই ফাইল থেকেই প্রফেসার রায়চৌধুরীর সমস্ত রিসার্চের কথা তিনি জানতে পারেন। কিন্তু এটা এখনও জানা যায়নি যে কে তার কাছে এই ফাইলটি পৌঁছে দিয়েছ। তাহলে কি এর সঙ্গে প্রফেসারের মৃত্যুর কোনও যোগ আছে? পুলিশ এব্যাপারে তদন্ত চালাচ্ছে।

(২) 

২০শে জুলাই, ২০১৮:

     কাল আমার সব থেকে কাছের মানুষটাকে হারিয়েছি আমি। আমার ছাত্র, আমার সহকর্মী – সর্বোপরি আমার সব থেকে বিশ্বস্ত বন্ধুটিকে হারিয়েছি আমি। নিখিল। আমার সন্তানের মতো, আমার ছায়ার মতো সবসময় আমার পাশে থাকতো সে। আমার ভালো মন্দের খেয়াল রাখতো সে। আমার রিসার্চের কাজ প্রায় শেষের পথে। অথচ এমন একটা আঘাত সহ্য করা আমার পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। নিখিল যেভাবে আমাকে প্রতিনিয়ত রিসার্চের কাজে সাহায্য করেছে তা ভোলার নয়। একমাত্র সেই আমার উপর ভরসা রেখেছিল। সে বিশ্বাস করতো আমি যা ভাবছি, আমার থিওরি, আমার ক্যালকুলেশন সব সঠিক পথেই এগোচ্ছে। আর কেউ তো কোনওদিন আমার কথায় আমল দেয়নি। সকলে বরং ভেবেছে আমি এক মিথ্যের পিছনে ছুটে চলেছি। সব নাকি আমার ফ্যান্টাসি – আমার অলীক কল্পনা।’

     এই পর্যন্ত লেখা হয়েছে। ঠিক তখনই দরজায় কলিং বেলের আওয়াজ। ডায়েরি লেখায় এই অব্দি ইতি টেনে উঠে দাঁড়ালেন প্রফেসার অম্লান রায়চৌধুরী। বয়স পঁয়ত্রিশ। খানিকটা শুকিয়ে যাওয়া চেহারা। চোখে সরু ফ্রেমের চশমা। মাথা ভর্তি এলোমেলো সাদা কালো চুল। তাঁকে দেখলে মনে হয় চল্লিশ পার করে ফেলেছেন। ইউনিভার্সিটির ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের নাম করা প্রফেসার তিনি। অথচ চেহারা বা হাবে-ভাবে তা বুঝতে দেন না মোটেই। সাধারণ পোশাকে সাধারণ জীবনযাপনেই বিশ্বাসী তিনি।

     কলিং বেলের আওয়াজে খানিকটা চমকে উঠলেন প্রফেসার। এই সময় তো কারুর আসার কথা নয় তাঁর বাড়িতে। তাছাড়া আজ তিনি ইউনিভার্সিটি যাবেন না একথা জানেও না কেউ। এমনিতেই মন ভালো নেই তাঁর। 

     চোখের চশমাটা এক হাতে ঠিক করে দরজাটা খুললেন অম্লান রায়চৌধুরী। দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে একটি অল্প বয়স্ক ছেলে। বয়স সাতাশ আঠাশ হবে। এক মাথা ঘন কালো চুল। গায়ের রঙ বেশ ফর্সা। চোখে রিমলেস চশমা। ব্ল্যাক শার্ট আর ব্লু জিন্স পরে দাঁড়িয়ে আছে সে। ছেলেটিকে দেখে একটু কি যেন ভাবলেন প্রফেসার রায়চৌধুরী। তারপর তার দিকে তাকিয়ে বললেন ‘তোমাকে তো ঠিক চিনতে পারলাম না। ওহ্ ইউনিভার্সিটি থেকে পাঠিয়েছে বুঝি? মোবাইলে ফোন করে পায়নি তাই! আমি জানি আজ একটা সেমিনার আছে। কিন্তু বিশ্বাস করো আমার মন মেজাজ কিছুই ভালো নেই। তুমি এইচ.ও.ডি কে গিয়ে বলো আজ সেমিনারটা এম.এস স্যার অ্যাটেন্ড করবেন। আমার তাঁর সঙ্গে কথা হয়ে গেছে। যদিও তাঁর আজকে অফ ডে। তাও তিনি পৌঁছে যাবেন ঠিক সময়।’ কথাগুলো একটানা বলে হাঁফ ছাড়লেন তিনি।

     ছেলেটি অদ্ভুতভাবে নিস্পলক দৃষ্টিতে অম্লান রায়চৌধুরীকে দেখে চলেছে এতোক্ষণ ধরে। তারপর হঠাৎ করে তাঁকে একটা প্রণাম করে সে বলে ‘আমাকে ইউনিভার্সিটি থেকে পাঠানো হয়নি স্যার। আমি নিখিলের বন্ধু। অয়ন।’

     ‘নিখিলের বন্ধু?’ চমকে ওঠেন প্রফেসার রায়চৌধুরী।

     ‘হ্যাঁ স্যার। কিছু কথা আছে আপনার সঙ্গে রিসার্চের বিষয়ে ……’ অয়নকে মাঝপথে থামিয়েই প্রফেসার রায়চৌধুরী বলে ওঠেন ‘ভিতরে এসো। এসব কথা বাইরে দাঁড়িয়ে বলার নয়।’

***

‘এবার বলো কি বলছিলে তুমি?’ অয়নের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন প্রফেসার রায়চৌধুরী।

     ‘আমি নিখিলের বন্ধু। ওর এভাবে মৃত্যুটা মেনে নেওয়া যায় না স্যার। সামান্য কার অ্যাক্সিডেন্টে… এই অল্প বয়সেই চলে গেলো।’ অয়নের মুখে কালো বিষাদের ছায়া নেমে আসে। প্রফেসরের উল্টো দিকে একটি সোফায় বসে আছে সে।

     ‘হ্যাঁ! আমার ও আর কাছের বলতে কেউ রইলো না। ওর এভাবে চলে যাওয়াটা আমিও মেনে নিতে পারছিনা।’ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন অম্লান রায়চৌধুরী।

     ‘আমি সব জানি স্যার। নিখিল আমাকে সব বলেছে। আপনার ব্যাপারে, আপনার রিসার্চের ব্যাপারে।’ মাথা নীচু করে নেয় অয়ন।

     ‘রিসার্চের ব্যাপারে বলেছে? কি বলছো কি তুমি? এটা তো খুবই কনফিডেনসিয়াল। খুব কম লোকেই জানে এর বিষয়ে।’ ভুরু কুঁচকে গেছে প্রফেসার রায়চৌধুরীর।

     ‘ভাববেন না স্যার। আমিও সেই বিশ্বস্ত লোকেদের মধ্যেই থাকবো। আসলে নিখিল আমাকে খুব বিশ্বাস করতো। তাই এই সবকিছু শেয়ার করেছে আমার সঙ্গে। ও আপনাকে যেমন শ্রদ্ধা করতো তেমন বড্ডো ভালোও বাসতো। আর আপনার উপর ওর ভরসা ছিল অগাধ। তাই আপনার রিসার্চের বিষয়টাকেও সে সত্যিই বিশ্বাস করতো।’ মাথা তুলে এইটুকু বলেই অয়ন থামলো।

     ‘ঠিক কতোটা জানো তুমি?’ প্রফেসার একটু কৌতূহলেই প্রশ্নটা করলেন।

     ‘এটাই যে প্যারালাল ইউনিভার্সের এক্সিস্টেন্সে আপনার বিশ্বাস। টাইম ট্রাভেলের থ্রু অন্য ইউনিভার্সের অন্য কোনও সময়ে যাওয়া সম্ভব আবার নিজের ইউনিভার্সের ক্ষেত্রেও সেটা সম্ভব এটাও আপনার বিশ্বাস। আর টাইম ট্রাভেল যে পসিবল এটা প্রুফ করে দেখানোই আপনার উদ্দেশ্য।’ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে অয়ন। সে খেয়াল করে জ্বলজ্বল করছে প্রফেসারের চোখ দুটো।

     ‘হুম্! বুঝলাম। এবার বলো তুমি আমার কাছে কেন এসেছ?’ পাশের টেবিলে রাখা নিখিলের ছবিটার দিকে তাকালেন প্রফেসার রায়চৌধুরী।

     ‘আমি আপনাকে অ্যাসিস্ট করতে চাই।’ ছবিতে নিখিলের নির্মল হাসির দিকে তাকিয়ে উত্তর দিলো অয়ন।

     ‘কি? না না তুমি পারবেনা। তাছাড়া আমি চাইনা আর কেউ আমার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ুক।’ প্রফেসার রায়চৌধুরী স্বল্প বিরক্তি প্রকাশ করলেন। তার মন এই মুহূর্তে খুবই দুর্বল। আর এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে এখন তার মোটেই ভালো লাগছেনা। তাই আর একটুও কথা না বাড়িয়ে উঠে দাঁড়ালেন তিনি। তারপর অয়নের দিকে তাকিয়ে বললেন ‘তুমি বরং এসো। আমার কাউকে প্রয়োজন নেই।’

     ‘স্যার প্লিজ! আমি ছাড়া এই মুহূর্তে আপনাকে আর কেউ বিশ্বাস করবে না সেটা আমি জানি। নিখিল ছাড়াও আপনার এক সহকর্মী বন্ধু মৃনাল সান্যাল মানে প্রফেসার এম.এস ও আপনার এই রিসার্চের ব্যাপারে অল্প জানেন। কিন্তু তিনিও আপনার কথায় বিশ্বাস করেন না। কেউ বিশ্বাস করেনা যে টাইম ট্রাভেল সম্ভব! সবাই শুধু এটাকে কল্প বিজ্ঞান ভেবে নেয় স্যার। এটা আপনিও জানেন। আমিও জানি। কিন্তু নিখিল বিশ্বাস করতো আপনাকে। সে মানতো এই সব কিছু। আর তারই শেষ ইচ্ছাতে আমি এখানে এসেছি।’ একটানা কথাগুলো বলে যায় অয়ন। সে সত্যিই এখন উত্তেজিত হয়ে পড়েছে।

     থমকে গেলেন প্রফেসার রায়চৌধুরী। নিখিলের শেষ ইচ্ছা! এই শেষ কথাটা তাকে নাড়িয়ে দিলো ভীষণ। নিজেকে সামলাতে না পেরে বসে পড়লেন সোফায়। আর সত্যিই তো তার কথায় কেউ বিশ্বাস করেনা। ছেলেটি ঠিকই তো বলছে। ভাবতে থাকেন তিনি।

     অয়ন আবার বলতে শুরু করে ‘কাল আমি হসপিটালে গেছিলাম। নিখিলের কাছ থেকে আপনাদের রিসার্চের কথা আমি আগেই জেনেছিলাম। কাল সে আমাকে জানায় এই মুহূর্তে আপনাকে অ্যাসিস্ট করার মতো আর কেউ নেই। আমাকে সে বিশ্বাস করে এই দায়িত্ব দিয়েছিল স্যার। জীবনের শেষ সময়ে এসেও সে আপনার কথাই ভেবেছিল। আর তার এই শেষ ইচ্ছাকে সম্মান জানাতেই আমার এখানে আসা।’

     অয়নের কথাগুলো ভাবিয়ে তোলে প্রফেসারকে। ক্ষাণিকক্ষণ দুপক্ষই চুপ থাকার পর প্রশ্ন করলেন তিনি ‘আমার এখানে থাকতে কোন সমস্যা হবেনা তো তোমার?’

     ‘একদমই না স্যার। আমি জানি খুব তাড়াতাড়িই আপনার কাজ শেষ হয়ে যাবে। বড়জোর আর কটা দিন। তারপর আমার ছুটি।’ অয়নের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো।

     ‘এটাও বুঝি নিখিল বলেছে যে আমার রিসার্চ প্রায় শেষের দিকে?’ প্রফেসার অল্প হাসলেন। তারপর আবার বলতে লাগলেন ‘জানিনা আর কটা দিন লাগবে! হতেই পারে একদিন কিংবা একমাস অথবা এক বছর। আবার যদি কোনওদিন শেষই না করতে পারি! জানিনা! একটা ইকুয়েশন কিছুতেই মেলাতে পারছিনা। ওটা মেলাতে পারলেই…’ চুপ করে যান তিনি।

     ‘আপনি পারবেন স্যার। নিখিলের জন্য আপনাকে পারতে হবে। আমার বিশ্বাস আছে আপনার উপর। তবে আমার একটা কথা ছিল।’ অল্প হেসে কথাটা বললো অয়ন।

     ‘কি কথা?’ প্রফেসার রায়চৌধুরী একটু অবাক হলেন।

     ‘আমি যে আপনাকে অ্যাসিস্ট করছি সেটা আমি আর আপনি ছাড়া আর কেউ জানবে না। এটা আমার রিকোয়েস্ট! প্লিজ!’ খানিক দন্দ্ব নিয়েই কথাটা বললো অয়ন।

     ‘কেন? এরম শর্তের কারণ?’ প্রফেসারের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

     ‘না না তেমন কিছুই না। এটা একটু ব্যক্তিগত কারণেই আর কি! তবুও আপনি যদি একান্তই কারণ জানতে চান….’ অয়নকে থামিয়ে দিয়েই তিনি বলে ওঠেন ‘না থাক! ব্যক্তিগত কিছু আমি জানতে চাইনা।’

***

‘কি হয়েছে বলোতো অম্লান? আজকাল সারাক্ষণ তুমি অন্যমনস্ক থাকো। এভাবে তো তুমি ক্লাসেও তোমার বেষ্টটা দিতে পারছো না! স্টুডেন্টরা তোমার আচরণ নিয়ে কথা বলছে। এইচ.ও.ডি ও কিন্তু তোমার উপর বেশ অসন্তুষ্ট। মানছি নিখিলের চলে যাওয়াতে তুমি অনেকটা শক পেয়েছো। জানি ও তোমার প্রিয় স্টুডেন্ট ছিল। কিন্তু দশ দিন পেরিয়ে গেছে অম্লান। এবার আস্তে আস্তে নিজেকে সামলে নিতে হবে তো!’ অম্লান রায়চৌধুরীর কাঁধে একটা হাত রেখে তাকে শান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেন প্রফেসার মৃনাল সান্যাল। অম্লান রায়চৌধুরীর প্রায় সমবয়সীই বলা চলে। দু এক বছরের পার্থক্য। চাকরিতে জয়েনও করেছেন প্রায় একই সময়ে। ডিপার্টমেন্টের ল্যাবে বসে আছেন দুজনে। এই সময়টা কোনও ইয়ারের প্র‍্যাকটিক্যাল ক্লাস নেই। তাই ল্যাবটা ফাঁকাই আছে।

     ‘হুঁ? না না সে কথা ঠিক না মৃনাল। জাস্ট ওই ক্যালকুলেসাশানটা মিলছেনা। কিছু একটা আমি মিস করে যাচ্ছি।’ প্রফেসার রায়চৌধুরী নিজের মনেই বলে উঠলেন। যেন প্রফেসার সান্যালের কথা তার কানেই ঢোকেনি।

     ‘ইকুয়েশন? কিসের ইকুয়েশন? ওহ্ তোমার সেই রিসার্চ। দেখো অম্লান। অল্প বিশ্বাস আমিও করি যে টাইম ট্রাভেল পসিবল। কিন্তু তা বলে অল্প বিশ্বাস নিয়ে অন্ধকার হাতড়ে সারাটা জীবন কাটিয়ে দেওয়ার মতো পাগলামোও তো করতে পারিনা। এইবার এসব ছাড়ো!’ মৃনাল সান্যাল উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন।

     হঠাৎ ল্যাবে ঢুকলেন আরেকজন বছর চল্লিশের ভদ্রলোক। ইনি প্রফেসার পরিমল সেন। প্রফেসার রায়চৌধুরী কিছু উত্তর দিতে যাচ্ছিলেন কিন্তু প্রফেসার সেনের এখানে আসাতে চুপ করে যান তিনি। প্রফেসার সেন লোকটা মোটেই সুবিধার নন। এমনকি প্রফেসার রায়চৌধুরীর উপর যে তার একটা চাপা রাগ আছে তাও ভালোই বোঝা যায়। প্রফেসার রায়চৌধুরীকে স্টুডেন্টরা একটু বেশীই পছন্দ করায় তার এই অসন্তোষ।

     ‘আজ আমি আসি মৃনাল। শরীরটা ভালো নেই।’ এটুকু বলেই ল্যাব থেকে বেরিয়ে গেলেন অম্লান রায়চৌধুরী।

(৩)

অয়ন প্রফেসর রায়চৌধুরীকে অ্যাসিস্ট করছে বেশ কিছুদিন হয়েগেছে। ইতিমধ্যে নিখিলের মতোই সেও যে প্রফেসারের বিশ্বস্ত সঙ্গী হয়ে উঠেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। দুদিন হলো প্রফেসার ইউনিভার্সিটি যাননি। তার রিসার্চ তাকে অস্থির করে তুলেছে আরো। কয়েক দিন রাতে ভালো করে ঘুমোননি তিনি। আর তার সংগে সতর্ক প্রহরীর মতো জেগে থেকেছে অয়ন।

 

(৯ই আগস্ট,২০১৮, সন্ধ্যে সাতটা)

     প্রফেসার অম্লান চৌধুরীর ফোনটা বেজে ওঠে। ফোনটা ধরতেই ওপাশ থেকে ভেসে আছে একটা চেনা কন্ঠস্বর ‘হ্যালো! অম্লান? তুমি ইউনিভার্সিটি আসছো না কেন ক’দিন? মোবাইলটাও অফ রেখেছিলে। এইচ.ও.ডি কিন্তু ভীষণ রেগে আছেন তোমার উপর।’

     ‘মৃনাল! আমি পেরেছি! পেরেছি আমি!’ উত্তেজনাভরা কন্ঠে চিৎকার করে ওঠেন প্রফেসার চৌধুরী।

     ‘কি পেরেছো? আমি কিছু বুঝতে পারছিনা অম্লান!’

     ‘আমার রিসার্চ মৃনাল! আমার রিসার্চ! আমি সাকসেসফুল হয়েছি। তুমি ভাবতে পারবেনা আমার কি আনন্দ হচ্ছে। এই মাত্র ঠিক কিছুক্ষণ আগেই এই মিরাকেলটা হয়েছে মৃনাল।’

     এতোটুকু বলার পরেই ফোনটা কেটে গেল। মাঝে মাঝেই নেটওয়ার্ক প্রবলেম হয়। হয়তো সে কারনেই কেটে গেছে ফোনটা। 

 

(রাত ন’টা)

     ‘সত্যি অয়ন তুমি না থাকলে আমি হয়তো এতো তাড়াতাড়ি সফলতা পেতাম না। ঠিক নিখিলের মতো আমার পাশে ছিলে তুমি প্রতি মুহূর্তে। আমার জন্য, নিখিলের বন্ধুত্বের জন্য তুমি যা করলে তা কেউ করত না।’ এক প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠেছে প্রফেসারের ঠোঁটের কোণে।

     ‘না স্যার আমি কিন্তু কিছুই করিনি। আসলে আমার কিছু করার কোনও অধিকার ছিল না। কারন ওটা আপনার রিসার্চ। আমি শুধু আপনাকে সাহায্য করেছি। আপনি যা করতে বলেছেন সেটুকুই করে গেছি।’ অয়নের মুখে এক মৃদু হাসি লেগে আছে।

     ‘আজ বহুদিন পর আমি খুব ভালো করে ঘুমোতে পারব। তুমিও আজ আর রাত না করে ঘুমিয়ে পড়বে কিন্তু। কাল থেকে তোমার ছুটি অয়ন।’ কথাটা বলে অম্লান রায়চৌধুরী তার শোবার ঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন।

(রাত দশটা)

     প্রায় এক ঘন্টা ধরে বসে আছে অয়ন বসার ঘরের সোফাটায়। সে এক অদ্ভুত সংকটে পড়ে আছে। আর এক ঘন্টার মধ্যেই তাকে বেরিয়ে পড়তে হবে এখান থেকে। কিন্তু প্রফেসারকে ছেড়ে যেতে তার মন চাইছেনা। অথচ তাকে যে যেতেই হবে। নাহলে যে অনেক বড়ো সমস্যা দেখা দেবে। আর সেটা সে কিছুতেই হতে দিতে পারেনা। অয়ন ধীরে ধীরে প্রফেসারের শোবার ঘরে এসে দাঁড়ায়। প্রফেসার ঘুমিয়ে পড়েছেন নিশ্চিন্তে। অনেক কিছু মনে আসে তার। কিন্তু বলতে পারেনা। কারন তার বলা বারণ। প্রফেসারের পা দুটো ছুঁয়ে একটা প্রণাম করে সে। আরো কিছুক্ষণ স্থির চোখে তাকিয়ে থাকে সে প্রফেসারের দিকে। তারপর ধীর পায়ে সেই ঘর থেকে বেরিয়ে সোজা চলে আসে প্রফেসারের স্টাডিরুমে। এসে দাঁড়ায় স্টাডিরুমের লকারটার সামনে। এই লকারের সিক্রেট কোডটা তার জানা। সে দেখে নিয়েছে আড়াল থেকে যখন প্রফেসার লকটা খুলেছিলেন। লকারটা খুলে অতি সন্তর্পণে ফাইলটা বের করে নেয় অয়ন। তার এখানে আসার উদ্দেশ্য তাকে পূরণ করতেই হবে।

(৪) 

(৯ই আগস্ট, রাত বারোটা)

     প্রফেসার অম্লান রায়চৌধুরীর বাড়ি থেকে দ্রুত গতিতে বেরিয়ে আসছে কালো কোট পড়া এক ব্যক্তি। মুখটা কালো কাপড়ে ঢেকে রাখার কারনে ভালো করে দেখা যাচ্ছে না তার মুখ। 

     এই ব্যক্তিই কিছুক্ষণ আগে লুকিয়ে প্রবেশ করেছিল প্রফেসারের বাড়িতে। খুব সাবধানে প্রফেসারের শোবার ঘরে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিল সে। আর তারপর ঘুমিয়ে থাকা প্রফেসার রায়চৌধুরীর শরীরে প্রয়োগ করেছে এক সাংঘাতিক বিষ। যে বিষের কোনও হদিস পাওয়া যায় না রক্তে। পরীক্ষা করলে শুধু প্রমাণিত হবে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে প্রফেসারের। প্রফেসার জানতেও পারলেন না ঘুমের গভীরেই তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন চিরতরে। কেবল বিষটা প্রয়োগের সময় একটু নড়ে উঠেছিল তার শরীরটা। কিন্তু একটি বারের জন্যও কাঁপেনি এই খুনী লোকটার হাত। কি ভয়ানক মানসিকতার এক ঠান্ডা মাথার খুনী এই ব্যক্তি। কিন্তু শুধু এই খুনটাই তো তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল না! আরো একটা খারাপ উদ্দেশ্য ছিল তার। প্রফেসারকে খুন করে লোকটা ছুটে এসেছিল স্টাডিরুমে। স্টাডিরুমের লকারটা খোলাই ছিল। লকারের ভিতরটা পাগলের মতো খুঁজেছে লোকটা। কিন্তু লাভ হয়নি কিছুই। সেখানে কিছু না পেয়ে গোটা স্টাডিরুমের বাকি জায়গা, শোবার ঘর, বসার ঘর সব তন্য তন্য করে খুঁজে ফেলেছে সে। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি সেই ফাইল। যার উদ্দেশ্যে তার এখানে আশা।

     উত্তেজিতভাবে দ্রুতগতিতে বাড়িটা থেকে বেরিয়ে আসছে সেই ব্যক্তি। বিড়বিড় করতে থাকে ‘তবে কি মিথ্যে ছিল খবরটা!’ প্রফেসারের বাড়ির মেইন গেটের সামনে আসতেই অসাবধানতায় এক পাথরে হোঁচট খেয়ে আছড়ে পড়লো সে। আর ঠিক তখনি! তখনি তার মাথাটা গিয়ে লাগে একটা ভাঙা ইঁটের কোনায়। আচমকা ঝটকায় সরে গেছে মুখের কালো কাপড়। কপালে সৃষ্টি হয়েছে গভীর একটা চেরা দাগ। আর সেখান থেকে বয়ে যাচ্ছে লাল রক্তের ধারা। সেই রক্তের বয়ে যাওয়া সত্ত্বেও স্পষ্ট চেনা যাচ্ছে লোকটাকে। ইনি আর কেউ না মৃনাল সান্যাল! হ্যাঁ অম্লান রায়চৌধুরীর সেই সহকর্মী যাকে কয়েক ঘন্টা আগেই তিনি জানিয়েছিলেন তার সফলতার কথা।

***

বৃষ্টি নেমেছে হঠাৎ। অসময়ের ঝিরঝিরে বৃষ্টি। এর মধ্যেই দৃঢ়ভাবে দ্রুত গতিতে হেঁটে চলেছে একটি ছেলে। সে যে ঠিক কি করতে চলেছে তা সে ছাড়া আর কেউ জানেনা। কাউকে জানানোর অনুমতি তাকে দেওয়া হয়নি। অন্ধকার রাস্তায় বৃষ্টি ভেজা কলকাতা নগরীতে এক মনে হেঁটে চলেছে ছেলেটি। হাতে শক্ত করে ধরা রয়েছে সেই ফাইলটা। যেটা একটু আগেই সে নিয়ে এসেছে প্রফেসার রায়চৌধুরীর বাড়ি থেকে।

     ‘আপনি জানেন না স্যার! আপনার এই রিসার্চ ভবিষ্যতে সত্যিই কার্যকরী হতে চলেছে। সত্যিই টাইম ট্রাভেল সম্ভব হয়েছে। আর সেটা হয়েছে আপনারই দেখানো পথে। আপনি আমাদের কাছে ঈশ্বরসম। তাছাড়া বিজ্ঞানের সঙ্গে এতো বড়ো অন্যায় আমি করতে পারবোনা। আপনার মতো এক বিজ্ঞানীর সঙ্গে আমি বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারবো না। আপনার সঙ্গে আমার শেষ দেখাটা হলো না স্যার। আমাকে যে সঠিক জিনিসটা সঠিক স্থানে পৌঁছে দিতে হবে। যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব আমার কাজটা আমাকে করতেই হবে। তারপর ফিরে যেতে হবে নিজের সময়ে।’ মনে মনে বলে চলেছে ছেলেটি।

     পরের দিন নিউজ চ্যানেলগুলোয় একটা খবর বার বার টেলিকাস্ট হচ্ছে ‘আজ সকালে মধ্যকলকাতার বাসিন্দা প্রফেসার অম্লান রায়চৌধুরীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে তার মৃতদেহ। তার পরিচিত মহল থেকে জানা গেছে তার সঙ্গে সর্বদা থাকত তার এক ছাত্র। সেও কিছুদিন আগেই মারা গেছে। বর্তমানে প্রফেসার রায়চৌধুরী নিজের বাড়িতে একাই থাকতেন। প্রফেসারের মৃত্যুটা স্বাভাবিক নাকি এর পিছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনও রহস্য তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।’

     ঘটনার দুদিন পর আরেকটি খবর ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে। প্রফেসার অম্লান রায়চৌধুরীর স্যার ড: সজল চ্যাটার্জী জানিয়েছেন তার কাছে একটি ফাইল এসে পড়েছে যেটা অম্লান রায়চৌধুরীর। তার বাড়ির ড্রপবক্সে কেউ রেখে গেছে সেটা। ড: চ্যাটার্জীর কথাতেই স্পষ্ট হয়েছে যে প্রফেসার অম্লান রায়চৌধুরী কোনও রিসার্চের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তিনি তাতে সফল হয়েছেন। উনি এটাও বলেছেন যে প্রফেসার রায়চৌধুরীর দেখানো পথেই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সফলতা পাবে। কিন্তু কে সেই ব্যক্তি যিনি প্রফেসারের মৃত্যুর পর দায়িত্বসহকারে সেই মূল্যবান ফাইলটি ড : চ্যাটার্জীর বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে এইব্যাপারে তিনি কিছুই জানতে পারেননি।

     বিভিন্ন নিউজ চ্যানেলের খবর থেকে শেষ যেটুকু জানা যায় তা হলো এই যে প্রফেসারের মৃত্যু হয়েছে হার্ট অ্যাটাকে। আর তার ফাইলটি কিভাবে ড: চ্যাটার্জীর বাড়িতে পাওয়া গেলো সে বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে চলেছে।

 (৫)

এখন সাল ২০৬০। পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেছে। অনেক নতুন নতুন আবিষ্কার হয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু এই অত্যাধুনিক পৃথিবীর আকাশটা আর নীল নেই। এখন তার রঙ কিঞ্চিৎ ধূসর।

     এখন টাইম ট্রাভেল সম্ভব হয়েছে। সম্ভব হয়েছে বিজ্ঞানী অম্লান রায়চৌধুরীর দেখানো পথেই। আর এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জনক হিসাবে গোটা পৃথিবীর বিজ্ঞানী মহল তাকে শ্রদ্ধা করে।

     পঁচিশতলা উঁচু বিল্ডিংটার সবথেকে উপরের ঘরটিতে একটি অত্যাধুনিক ফ্লাইং চেয়ারে বসে আছেন মৃনাল সান্যাল। তার বয়স সাতাত্তর ছুঁয়েছে। চেহারার আমূল পরিবর্তন ঘটে গেছে। কিন্তু কপালের চেরা দাগটা তার এখনও মিলিয়ে যায়নি। না মিলিয়ে যায়নি বলা ভুল। তিনিই চাননি সেটা মিলিয়ে যাক। হাতে ধরা আছে বহু বছর আগের সেই পেপার কাটিংটা। চোখ বন্ধ করে এখনও ভেবে চলেছে মৃনাল সান্যাল ‘সেদিন আমার আগে কে সেখানে পৌঁছেছিল? কে সরিয়েছিল ফাইলটা? উফ্! একবার যদি জানতে পারতাম!’

(সমাপ্ত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!